অর্থনীতি

বিআরটিসি আসছে শেয়ারবাজারে

 মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত আইনের খসড়া উঠছে আজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিআরটিসি আসছে শেয়ারবাজারে

  ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

এক হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে শেয়ারবাজারে আসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এই মূলধন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে একশ' কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত করা হবে। বার্ষিক সাধারণ অথবা বিশেষ সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুমোদিত ও পরিশোধিত এই মূলধনের পরিমাণ বাড়ানো যাবে। এমন প্রস্তাবনা রেখে 'বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) আইন ২০১৯'-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।

সড়ক পরিবহন বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে সমকালকে বলেন, খসড়া আইনে করপোরেশনের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বার্ষিক সাধারণ অথবা বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে তা কোনো অবস্থাতেই অনুমোদিত মূলধনের চেয়ে বেশি হবে না। পরিশোধিত মূলধনের শেয়ারের মধ্যে নূ্যনতম শতকরা ৫১ ভাগ শেয়ার সরকারের মালিকানায় থাকবে। অবশিষ্ট শেয়ার পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও সরকারের অনুমতি নিয়ে জনসাধারণের কাছে বিক্রি করা যাবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ খসড়া আইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের আদেশ-নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সেবা পরিবহন খাতে দক্ষ জনবল তৈরি ও যানবাহন মেরামত সুবিধা সরকার আরও সম্প্রসারণ করবে।

খসড়া আইনে করপোরেশনের নিজস্ব আয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকারের দেওয়া মঞ্জুরি, অনুদান ও ভর্তুকিসহ সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে কোনো অধিদপ্তর অথবা কর্তৃপক্ষ অথবা সংস্থা অথবা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অনুদান দিয়ে তহবিল গঠন করা যাবে। বৈদেশিক ঋণ অথবা অনুদান, অভ্যন্তরীণ ঋণ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থসহ বৈধ উৎস থেকেও করপোরেশন তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। এতে কার্যাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে করপোরেশন সারাদেশে  আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ছাড়াও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট/কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন মেরামত কারখানা স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। পরিবহন সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে টার্মিনাল, ডিপো ও যাত্রী ছাউনিসহ অন্যান্য অবকাঠামোও সৃষ্টি করতে পারবে। ইজারার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে যাত্রীবাহী বাস বা পণ্যবাহী ট্রাক পরিচালনা করতে পারবে করপোরেশন।

খসড়া আইনে করপোরেশন পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই পরিষদে সভাপতি হবেন করপোরেশনের চেয়ারম্যান। সদস্য থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের একজন করে পরিচালক, সওজের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বিআরটিএর একজন পরিচালক, করপোরেশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগ এবং কারিগরি বিভাগের একজন করে পরিচালক, প্রত্যেক প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একজন মনোনীত বেসরকারি সদস্য (এর মধ্যে আবার নূ্যনতম তিনজন নারী)। পরিষদের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন করপোরেশনের প্রশাসন ও অপারেশনের পরিচালক। তা ছাড়া থাকবেন শেয়ার হোল্ডারদের পক্ষ থেকে নির্বাচিত পরিচালক। পর্ষদ নির্ধারিত সময় ও স্থানে প্রতি বছর অন্তত চারটি সভা করবে।

এ ছাড়াও প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত বেসামরিক কর্মচারীদের মধ্য থেকে সরকার চাকরির শর্তসহ একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইনে যা-ই থাকুক, বিআরটিসির বাস ও ট্রাকবহরের মোটরযানের জন্য কোনো বীমা করতে হবে না। তবে করপোরেশনের কর্মচারী এবং প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহূত মোটরযানের জন্য মোটরযান আইন অনুযায়ী বীমা করতে হবে। করপোরেশনের কোনো যান দুর্ঘটনায় পড়লে উপযুক্ত আদালতের আদেশ বা পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করপোরেশন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বা নেওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।

আজকের মন্ত্রিসভায় মানব পাচার রোধ আইনও অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে পারে।

মন্তব্য


অন্যান্য