অর্থনীতি

২০১৮-১৯ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ছিল মূল্যস্ফীতি

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯

২০১৮-১৯ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ছিল মূল্যস্ফীতি

   সমকাল প্রতিবেদক

সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যেই ছিল মূল্যস্ফীতি। গত অর্থবছরে গড়ে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এদিকে গত অর্থবছরের শেষ মাসে অর্থাৎ জুন মাসে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এ সময় সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৬৩ ভাগ। গত বছরের জুন মাসে এ হার হয়েছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনটি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মূল্যস্ফীতি কমে আসার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ বেশি ছিল। এ কারণে মূল্যস্ফীতি কম হয়েছে। খাদ্যপণ্য বিশেষ করে চাল ও পেঁয়াজের অসাধারণ ফলন হওয়ায় দেশের চাহিদার চেয়ে জোগান বেড়েছে। মোটকথা, পণ্যের ঘাটতি ছিল না। এ কারণে দাম কমেছে। একই কারণে বছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি সরকারের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত বছরের জুনে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত বছরের জুনে ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাল, ডাল, শাকসবজির দাম মে মাসের তুলনায় কমেছে। জুন মাসে গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। জুনে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মে মাসে এটি ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত মাসে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার একই ছিল। ২০১৮ সালের জুনে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

এদিকে শহর এলাকায় জুন মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে শহরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুনে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৫ দশমকি শূন্য ৯ শতাংশ। জুন শেষে শহরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, এটি মে মাসে ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মজুরি হার কিছু কমে হয়েছে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

মন্তব্য


অন্যান্য