অর্থনীতি

বাজেট আলোচনা

মন্ত্রীদের বাড়তি কথা না বলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মন্ত্রীদের বাড়তি কথা না বলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি

  শাহেদ চৌধুরী

বাজেট আলোচনায় মন্ত্রীদের বাড়তি কথা না বলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বাড়তি নয়, দরকারি কথা বলতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, বর্তমান সংসদ অবৈধ হলে বিএনপিও অবৈধ। আর বিএনপি যদি সংসদকে অবৈধই মনে করে, তাহলে তারা সংসদে কেন এলো?

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সমকালকে জানিয়েছেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যই নতুন।

মন্ত্রী হিসেবে বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও নেই অনেকের। এ কারণে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনা নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কেউ কেউ বাজেটের আলোচনায় কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো খেই হারিয়ে ফেলেন। ফলে বাজেট বক্তব্য ঠিকমতো হয় না। বাজেট নিয়ে সংসদে যুক্তিনির্ভর কথা বলতে হবে। বাজেটের মধ্যে আলোচনা সীমিত রাখতে হবে। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ও আলোচনায় থাকতে হবে। তবে কিছুতেই অযাচিত কথা বলা যাবে না। প্রয়োজনের বাইরে কোনো কথা বলার প্রয়োজনও নেই।

সংসদ অবৈধ হলে বিএনপিও অবৈধ :মন্ত্রিসভার বৈঠকে গত রোববার একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির তিন সদস্যের বাজেট আলোচনার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়েছে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সংসদ নিয়ে বিএনপি সদস্যদের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

বিএনপির তিন সদস্য মোশাররফ হোসেন, হারুন অর রশীদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা গত রোববার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদকে অবৈধ অভিহিত করার পাশাপাশি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তারা বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত কি-না, তা নিয়ে বিবেকের কাছে প্রশ্ন করারও আহ্বান জানিয়েছেন। এমন তির্যক বক্তব্য নিয়ে সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হয়েছিল। কিন্তু তারা তেমন একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

এ প্রসঙ্গে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদে বিএনপি এসেছে। তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে, এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু তারা সেটা করছে না। অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিচ্ছে। অকারণে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে সরকারের সমালোচনা করছে। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগদলীয় সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, বিএনপি সংসদে যা খুশি বলুক। তাই বলে তাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলা যাবে না। গঠনমূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপির বক্তব্যের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য