অর্থনীতি

দেশজুড়ে চলছে ওয়ালটনের বিক্রয় উৎসব

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৯

দেশজুড়ে চলছে ওয়ালটনের বিক্রয় উৎসব

  অনলাইন ডেস্ক

চলছে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৪। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে জমে উঠেছে বিক্রয় উৎসব। চলছে ব্যাপক প্রচার, র‌্যালি, আনন্দ মিছিল এবং শোডাউন। কোথাও বানানো হচ্ছে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যানার। কোথাও বা আবার ক্যাম্পেইনের র‌্যালি ছাড়িয়ে যাচ্ছে শত কিলোমিটার এলাকা। 

ওয়ালটন পণ্য কিনে ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে রেজিস্ট্রেশন করে ক্রেতারাও নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। মিলছে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচারসহ হাজার হাজার ফ্রি পণ্য।

অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে 'কাস্টমার ডাটাবেজ' তৈরির প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চারের লক্ষে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। ক্যাম্পেইনের সিজন ফোর বা চতুর্থ পর্ব শুরু হয়েছে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। এর আওতায় ওয়ালটন ফ্রিজ, টিভি, এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ওয়াশিং মেশিন, জেনারেটর ও মাইক্রোওয়েব ওভেন কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই ক্রেতারা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। আছে মোটরসাইকেল, এয়ার কন্ডিশনার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, এলইডি টিভি, ওভেনসহ অসংখ্য পণ্য ফ্রি পাওয়ার সুযোগ। এসব না মিললেও রয়েছে নিশ্চিত ক্যাশব্যাক। এ সুবিধা থাকছে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত্ম।

ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ঘিরে ওয়ালটন শোরুমকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। এ উপলক্ষে নেয়া হয়েছে ব্যাপক পদক্ষেপ। প্রতিদিনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে র‌্যালি, আনন্দ মিছিল এবং শোডাউন। যাতে অংশ নিচ্ছেন নারী-পুরষ-শিশুসহ সব বয়সের মানুষ।

ওয়ালটনের ক্রিয়েটিভ এ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে ক্রেতা আকর্ষণ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দুই ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রথমত, দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনের পক্ষে জোর প্রচার চলছে। এজন্য সব ওয়ালটন পতাজা ও পরিবেশক শোরম্নম সাজানো হয়েছে রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনে। জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। চলছে মাইকিং। সুসজ্জ্বিত হাতি, ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি, লঞ্চ, ট্রাক, পিক-আপ, অটোরিপা, ভ্যান, মোটরসাইকেল যোগে চলছে র‌্যালি এবং রোড শো।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে ওয়ালটন পণ্য রেজিস্ট্রেশন করলে ক্রেতাদের দেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকার ক্যাশ ভাউচার। এর আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরইমধ্যে অনেকেই এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পেয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিনই হাজার হাজার ক্রেতা অসংখ্য পণ্য ফ্রি পাচ্ছেন। এসব না মিললেও সবার জন্য থাকছে সর্বনিম্ন ২০০ টাকার ক্যাশ ভাউচার।

ওয়ালটনের সেলস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এমদাদুল হক সরকার জানান, গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই ক্যাম্পেইন। ক্রেতারা ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পণ্য কিনে তা রেজিস্ট্রেশন করছেন। ফলে, কাস্টমার ডাটাবেজ তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়া হচ্ছে আরো দ্রম্নত।

ওয়ালটনের বিভিন্ন জোনের এরিয়া ম্যানেজারগণ জানান, ৪ মার্চ পর্যন্ত্ম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিস্তি ও নগদ টাকায় ওয়ালটন পণ্য কিনে রেজিস্ট্রেশন করে এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পেয়েছেন ১২ জন। যা দিয়ে পূরণ হয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের লালিত অনেক স্বপ্ন। কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য পণ্য কিনছেন, কেউ বা আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের দিচ্ছেন নানা উপহার।

তাদের মতে, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন উপলক্ষে ওয়ালটন পতাজা এবং পরিবেশক শোরুমগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ। হবিগঞ্জে ওয়ালটন পণ্যের পরিবেশক টি. আর ইলেকট্রো মার্ট তৈরি করেছে ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ব্যানার। যা নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১ হাজার মানুষ পুরো হবিগঞ্জ শহর প্রদক্ষিণ করেছেন। এছাড়াও, হাতি, ঘোড়া এবং মোটরসাইকেলে করে অনেকেই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পিক-আপ এবং ভ্যানে করে বিভিন্ন ওয়ালটন পণ্য নিয়ে চলে শোডাউন। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ধান-চাল ঝাড়ার কুলায় ওয়ালটন লেখা নিয়ে হলুদ রঙের শাড়িতে শতাধিক নারী এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

এদিকে মৌলভীবাজার সাইক্লিং সোসাইটির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের বাইসাইকেল র‌্যালী। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ওয়ালটন পণ্যের এপক্লুসিভ ডিলার স্বর্ণা ইলেকট্রনিক্স-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা।

ওয়ালটনের নওগাঁ জোনের আয়োজনে ছিলো ১০০ কিলোমিটার ব্যাপী র‌্যালি। যা শান্তাহার ওয়ালটন পতাজা থেকে শুরু করে নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর, নজিপুর, মাতাজি, বদলগাছি হয়ে নওগাঁ সদরে এসে শেষ হয়। এতে ব্যান্ড পার্টিসহ বেশ কয়েকটি পিক-আপ, ৫০টি অটোরিকশা এবং ৩০টি মোটরসাইকেল যোগে ওয়ালটনের লোগো-সম্বলিত টি-শার্ট গায়ে দিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর সারা দেশে ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের তিনটি সিজন চলেছিলো। সেসময় অনেক ক্রেতা পেয়েছেন নতুন গাড়ি, আমেরিকা অথবা রাশিয়ার ফ্রি বিমান টিকিট, লাখ টাকার খ্যাশ ভাউচার, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি, এলইডি ও স্মার্ট টিভিসহ অসংখ্য পণ্য ফ্রি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ফার্স্ট ফ্লাশ গ্রিন টি ও হোয়াইট টি নিয়ে আসছে হালদা ভ্যালী


আরও খবর

অর্থনীতি

   অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের চা-প্রেমীদের কথা মাথায় রেখে বিশ্বমানের ফার্স্ট ফ্লাশ চা নিয়ে এবার আসছে হালদা ভ্যালী। আগামী ২১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বাজারে পাওয়া যাবে দু’রকমের চা- ফার্স্ট ফ্লাশ ড্রাগন ওয়েল গ্রিন টি- ৭৫ ও ৫৫ গ্রামের প্যাকেটে এবং ফার্স্ট ফ্লাশ সিলভার নিডল হোয়াইট টি- ৫৫ গ্রামের প্যাকেটে।

চীনের চা বিশেষজ্ঞ লু জিয়াং হালদা ভ্যালীর সাথে বিগত কয়েক বছর যাবত কাজ করছেন আন্তর্জাতিক বাজার ও মান-নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা হিসেবে। প্রতিবছরই তিনি আসেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিখ্যাত হালদা নদী তীরের অবস্থিত হালদা ভ্যালীর চা-বাগান পর্যবেক্ষণে। সাম্প্রতিক এক ভ্রমণে তিনি ফার্স্ট ফ্লাশ চা উৎপাদন সরজমিনে দেখেন এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

গত ১৮ মার্চ হালদা ভ্যালীর গুলশান অফিসে ফার্স্ট ফ্লাশ চায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চা বিশেষজ্ঞ লু জিয়াং ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হালদা ভ্যালী ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শামীম খান, হেড অফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট আশিক পাশা, ব্র্যান্ড ম্যানেজার আজমাঈন রহমানসহ আরও অনেকে।

ঢাকায় মিনা বাজার (ধানমণ্ডি ২৭), স্বপ্ন (গুলশান ১), ইউনিমার্ট (গুলশান ২, ধানমণ্ডি), মেহেদি মার্ট (বসুন্ধরা), ঢালী সুপারশপ (গুলশান ২) ও আগোরা (গুলশান ২, সীমান্ত স্কয়ার) এবং চট্টগ্রামে আগোরা ও খুলশি মার্টে পাওয়া যাচ্ছে হালদা ভ্যালীর ফার্স্ট ফ্লাশ চা। আর যারা ঘরে বসেই পেতে চান এই চা, তারা অর্ডার করতে পারেন দেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইটগুলোতে। হালদা ভ্যালীর ফেসবুক পেজ (facebook.com/haldavalley/) ও ওয়েবসাইট (haldavalley.com/value-you/) থেকে বিস্তারিত জানা যাবে তাদের যাবতীয় চা নিয়ে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ওয়ালটন বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করে: এনবিআর চেয়ারম্যান


আরও খবর

অর্থনীতি

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়াকে শুভেচ্ছা স্মারক দিচ্ছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম

   অনলাইন ডেস্ক

'আগে যা শুনেছিলাম, আজকে যা দেখলাম; তাতে বলা যায় বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করছে ওয়ালটন। ওয়ালটন কারখানায় এসে আমি আনন্দিত ও অভিভূত। এখানে ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি সরকারের রাজস্বের বড় উৎস হবে ওয়ালটন।'

কথাগুলো বলেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। শনিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনে এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ওয়ালটনকে নিয়ে আমি গর্ব করি। বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের নেতৃত্বে রয়েছে ওয়ালটন। কাঁচামাল থেকে শুরু করে যাবতীয় যন্ত্রাংশ ওয়ালটন তৈরি করছে। তাদের কারখানায় ফ্রিজ ও এসির প্রধান যন্ত্রাংশ কম্প্রেসর তৈরি হচ্ছে। যা বিশ্বের খুব কম দেশেই রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ওয়ালটন এখন একটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এখন সময় এসেছে রপ্তানিকারক হিসেবে বহিঃর্বিশ্বে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। এক্ষেত্রে এনবিআরের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। রফতানির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাতের মতো ইলেকট্রনিক্স খাতেও সমান প্রণোদনা দেয়া হবে।

এর আগে সকালে এনবিআর চেয়ারম্যান এবং তার সফরসঙ্গীরা ওয়ালটন কারখানা কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাদেরকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম এবং পরিচালক এস এম রেজাউল আলম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম, তাহমিনা আফরোজ তান্না এবং রাইসা সিগমা হিমা, নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার হাওলাদার, এসএম জাহিদ হাসান, কর্নেল (অব.) শাহাদাত আলম, শোয়েব হোসেন নোবেল, উদয় হাকিম, গোলাম মুর্শেদ, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফিরোজ আলম প্রমূখ।

এনবিআর চেয়ারম্যানের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিনী মাহফুজা বেগম, এনবিআর সদস্য (মূসকনীতি) মো. রেজাউল হাসান, সদস্য (শুল্কনীতি ও আইসিটি) মো. ফিরোজ শাহ আলম, সদস্য (করনীতি) কানন কুমার রায়, ঢাকা উত্তর কাস্টমস কমিশনার জাকিয়া সুলতানা ও গাজীপুরের কমিশনার (আয়কর) মো. আলী আজগরসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, এখন দেশের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান প্রয়োজন, শিল্পায়ন প্রয়োজন। এনবিআর চেয়ারম্যানের দিক-নির্দেশনায় আমরা কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাব।

কারখানা প্রাঙ্গনে পৌঁছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরিদর্শন টিম প্রথমে ওয়ালটনের বিশাল কর্মযজ্ঞের উপর নির্মিত ভিডিও ডক্যুমেন্টারি উপভোগ করেন। এরপর তারা ওয়ালটনের সুসজ্জিত প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন।

এ সময় তারা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন ওয়ালটনের বিশ্বমানের রেফ্রিজারেটর উৎপাদন প্রক্রিয়া। এছাড়া অতিথিরা ওয়ালটনের কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনার, এলইডি টেলিভিশন, কম্পিউটার-ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন হোম, কিচেন ও ইলেকট্রিক্যাল এ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বমানের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ওয়ালটন একটি প্রশংসিত নাম। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হিসেবে প্রতিবছর পুরস্কার পেয়ে আসছে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া নিয়মিত আয়কর দিয়ে এনবিআর-এর সেরা করদাতার তালিকায় রয়েছে ওয়ালটন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জিডিপি বেড়ে হবে ৮.১৩ শতাংশ


আরও খবর

অর্থনীতি

  সমকাল প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) সাময়িক হিসেবে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। বাংলাদেশে কখনও ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৯০৯ ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এই হিসাব মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিবিএস চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পরিসংখ্যান ব্যবহার করে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব করেছে। এ হিসাব চূড়ান্ত হবে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর। সাধারণত সাময়িক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত হিসাবে খুব বেশি পার্থক্য হয় না। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে ছিল ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৭৫১ ডলার।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করে। এ হিসেবে সরকারের প্রাক্কলনের চেয়েও প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৭ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। এদিকে মঙ্গলবার রাতে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.৫%।

মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছরের বাংলাদেশে জিডিপির আকার বেড়ে হয়েছে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। রফতানি, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বেড়েছে। এ কারণে প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। আগামী তিন বছর পর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এই প্রবৃদ্ধি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। মূলধনী যন্ত্রের আমদানি বাড়েনি। বেসরকারি ঋণপ্রবাহ কম। তবে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রবাসী আয়ও বেড়েছে। বিনিয়োগ ছাড়া কীভাবে এত প্রবৃদ্ধি হলো তা প্রশ্নসাপেক্ষ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বিনিয়োগ হার ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে বিনিয়োগের হার ছিল ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ, যার মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ আর সরকারি বিনিয়োগ হার ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। গত অর্থবছরের এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এছাড়া সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত অর্থবছর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।