অর্থনীতি

শেষ হচ্ছে রিহ্যাব মেলা

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শেষ হচ্ছে রিহ্যাব মেলা

রিহ্যাব মেলায় দর্শনার্থীরা- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রিতে আশা জাগিয়ে রোববার শেষ হচ্ছে রিহ্যাব মেলা।

মেলায় ফ্ল্যাট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগসহ একেবারে তৈরি ফ্ল্যাটের লিফলেট বিতরণ করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আগাম গ্রাহক ধরতে সদ্য অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পও তুলে ধরছে।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত তৈরি ফ্ল্যাট বিক্রির অফার নিয়ে হাজির হয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। আছে প্রস্তুত প্লট বিক্রির অফারও। ঝামেলা এড়াতে তৈরি ফ্ল্যাট ও প্লটেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি বলে জানালেন বিক্রয় কর্মীরা।

শনিবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, স্টলগুলোতে বেশিরভাগ ক্রেতা তৈরি ফ্ল্যাট খুঁজছেন। এবারের মেলায় তৈরি ফ্ল্যাটের জোগানও ভালো। মেলায় অংশ নেওয়া ১০৮টি আবাসন প্রতিষ্ঠান দুই হাজার তৈরি ফ্ল্যাট প্রদর্শন করছে।

রিহ্যাবের সহসভাপতি কামাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, আবাসন খাতের কেনাবেচায় বাড়তি গতি এনেছে রিহ্যাব মেলা। মেলায় যেমন মাঝারি ও তৈরি ফ্ল্যাটের বেশি চাহিদা রয়েছে, তেমনি এতদিন বেচাকেনা মন্দা থাকায় তৈরি ফ্ল্যাট বিক্রির অফারও বেশি। ঋণ সুবিধা থাকায় ক্রেতাদেরও তৈরি ফ্ল্যাটে আগ্রহ বেশি বলে জানান তিনি। তাছাড়া নির্মাণে জটিলতা ও প্লট কিনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে চান না ক্রেতারা।

তিনি বলেন, গত চার দিনে প্রায় ২০ হাজারের বেশি ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছেন।

মেলায় মেগা প্রকল্পের ফ্ল্যাট ও প্লটের বুকিংও নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। শুধু দুটি বড় প্রকল্প নিয়ে এসেছে রাকিন ডেভেলপমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ব্যবস্থাপক সৈয়দ আরশাদ মাহমুদ তামিম সমকালকে বলেন, মিরপুর ১৩ নম্বর সেক্টরে ৫০ বিঘার জমিতে ৬০ শতাংশ খালি রেখে তৈরি তাদের মেগা আবাসন প্রকল্পে এক হাজার ৯৫০টি ফ্ল্যাট করা হয়েছে। তৈরি করা এসব ফ্ল্যাটের ৯২ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। এখানে ছয়টি খেলার মাঠ, আলাদা লেডিস ও জেন্টস সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, বাস্কেট বল গ্রাউন্ড, ১২ তলা বাণিজ্যিক ভবন, ছয় তলা মসজিদ, ১২ তলা ক্লাব হাউস, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও ওয়াসার পাম্পসহ নানা সুবিধা রয়েছে। এ প্রকল্পে ১৫৫৩ বর্গফুট থেকে এক হাজার ৯৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ছয় হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা বর্গফুটে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া কাঁচপুরে ১২০ বিঘা জমিতে আরেকটি প্রকল্পে ৬২ শতাংশ খালি জায়গা রেখে ফ্ল্যাট করা হবে। এ ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের মূল্য চার হাজার ৫০০ টাকা। মেলা উপলক্ষে ছাড় দিয়ে তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

মেলায় ১০ লাখ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট ও প্লটে ভিন্ন সুদ হারে ঋণ দিচ্ছে। সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে।

ডিবিএইচের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, যারা মেলায় ঋণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করছে তারা আগামী এক মাস কম সুদে ঋণ পাবেন। মেলায় ৯০টির মতো প্রাথমিক আবেদন জমা পড়েছে। এগুলোর অধিকাংশ তৈরি ফ্ল্যাটের।

মন্তব্য


অন্যান্য