অর্থনীতি

ঋণ অবলোপন নীতিমালায় শিথিলতা

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঋণ অবলোপন নীতিমালায় শিথিলতা

  সমকাল প্রতিবেদক

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সহজ পথ বের করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ অবলোপন নীতিমালায় শিথিলতার মাধ্যমে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো মাত্র তিন বছর পর মন্দ মানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করে ব্যালান্স শিট বা স্থিতিপত্র থেকে বাদ দিতে পারবে। এতে করে ঋণ আদায় না হলেও কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণ কমবে। আবার অবলোপন করার জন্য আগের মতো শতভাগ প্রভিশন লাগবে না। দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপনে মামলা করতে হবে না।

এতদিন কোনো ঋণ মন্দমানে শ্রেণিকৃত হওয়ার পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে তা অবলোপন করা যেত না। মামলা না করে অবলোপন করা যেত ৫০ হাজার টাকা। আর শতভাগ প্রভিশন বা ওই ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখা লাগত।

ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালান্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন বলে। যদিও এ ধরনের ঋণ গ্রহীতা পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তা প্রকৃত অর্থে খেলাপি ঋণ। ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা শিথিলের এ সিদ্ধান্তের ফলে এক ধাক্কায় খেলাপি ঋণ অনেক কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয়ে সরব খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অবলোপন নীতিমালা শিথিল করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, অবলোপন হলে শুধু ব্যাংক তার স্থিতিপত্র থেকে বাদ দিয়ে আলাদাভাবে হিসাব করতে পারে। গ্রহীতা মাফ পান না। ফলে অবলোপন বাড়লে প্রকৃত পক্ষে খেলাপি ঋণ কমবে না।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় জোরদারে একদিকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কমিটি করছে। অন্যদিকে অবলোপনের নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। এটা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। এতে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে। কেননা ঋণ খেলাপিরা মনে করবে খেলাপি হলে মামলা হবে এবং তা দীর্ঘদিন চলবে।

সার্কুলারে বলা হয়, অবলোপনের আগে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি বা গ্যারান্টার থেকে পাওনা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। আর সংশ্নিষ্ট ঋণ থেকে স্থগিত সুদ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট স্থিতির সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। আগে পুরো দায়ের বিপরীতে প্রভিশন করতে হতো। তবে আগের মতোই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।

অবলোপনের পরও ঋণ আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখা, সম্পূর্ণ দায় পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। অবলোপন করা ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন করা যাবে না।

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে মন্দ মানের খেলাপি ৮২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। মোট খেলাপি ঋণের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশই মন্দ মানের। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এতে অবলোপন করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। অবলোপন বিবেচনায় নিলে ব্যাংক খাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ এক লাখ ৩৭ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা।

আরও পডুন

মন্তব্য


অন্যান্য