অর্থনীতি

মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে কর ফাঁকির অভিনব কৌশল

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে কর ফাঁকির অভিনব কৌশল

  রাশেদ মেহেদী

বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিনব পদ্ধতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এ পদ্ধতিতে তিনটি চীনা ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে গত এক বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কর ফাঁকির নতুন পদ্ধতির কারণে দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে যাওয়া আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মুখ থুবড়ে পড়বে দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন শিল্প। বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, তারাও কর ফাঁকির অভিনব পদ্ধতি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে আরও অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যে পদ্ধতিতে কর ফাঁকি :এই অভিনব পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায় সম্প্রতি বিটিআরসিতে জমা পড়া একটি অভিযোগ থেকে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশে মোবাইল  হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও আমদানিকারকদের সংগঠন 'বিএমপিআই'।

ওই অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ ও দলিল সংযুক্ত করে বলা হয়, বাংলাদেশে কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অবৈধ কার্যকলাপের মাধ্যমে শুল্ক্ক ফাঁকি দিয়ে মোবাইল ফোন আমদানি করছে। অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকরা মূল কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি আমদানি না করে অজানা তৃতীয় পক্ষের কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করছে। অভিযোগে বলা হয়, মূল কোম্পানি 'অপো ইলেকট্রনিক করপোরেশন'-এর কাছ থেকে আমদানি না করে 'সিনসিয়ার ওর্থ' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অপো ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট আমদানি করছে 'অপো বাংলাদেশ'। একইভাবে ভিভো বাংলাদেশ 'ভিভো টেকনোলজি'র পরিবর্তে 'কালার টাইফুন গ্লোবাল' এবং হুয়াওয়ে ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট 'এডা হোল্ডিংস লিমিটেড, হংকং' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মূল ওপো, ভিভো কিংবা হুয়াওয়ের সম্পর্ক নেই এবং এগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক পরিচিতি কোনো স্বীকৃত মাধ্যমে পাওয়া যায় না। এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেবলমাত্র বাংলাদেশেই তিনটি ব্র্যান্ডের পণ্য রফতানির জন্য খোলা হয়েছে।

এ অভিযোগের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, মূলত কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই আন্তর্জাতিকভাবে অচেনা কোম্পানির নাম ব্যবহার করা হচ্ছে হ্যান্ডসেট আমদানির জন্য। এই তিনটি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট আমদানির ক্ষেত্রেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সামনে প্রকৃত আমদানি মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখানো হচ্ছে। কম মূল্য দেখিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক খুচরো মূল্য হিসেবেই দাম নেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে সাম্প্রতিক সময়ে অপো ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট আমদানির তথ্য থেকে দেখা যায়, অপো এফ৯(৬/৬৪ জিবি) হ্যান্ডসেট আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ১১১ টাকা ১০ পয়সা, অথচ এই হ্যান্ডসেটটির বাজারে খুচরো মূল্য ৩১ হাজার ৯৯০ টাকা। ফলে আমদানি মূল্য এবং খুচরো বিক্রয় মূল্যের মধ্যে পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ১৮৭ শতাংশ। কিন্তু সাধারণভাবে এ দুটি দামের পার্থক্য হওয়ার কথা ৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ। কারণ আমদানি মূল্যের সঙ্গে সরকারি শুল্ক্ক ও কর এবং বাজারজাতকরণে অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে আমদানি মূল্যের চেয়ে খুচরো মূল্য ৬৫ শতাংশ বেশি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক হিসেবে অপোর এই হ্যান্ডসেটটির আমদানি মূল্য হওয়ার কথা ছিল ২০ হাজার ৭৯৩ টাকা থেকে ২২ হাজার ৩৯৩ টাকার মধ্যে। কিন্তু আমদানি মূল্য ১৭ হাজার ১১১ টাকা দেখানোর ফলে প্রতি হ্যান্ডসেটে কমপক্ষে এক হাজার টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিভো ওয়াই৯ মডেলের হ্যান্ডসেট আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ১১ হাজার ১১১ টাকা ৪২ পয়সা, আর বাজারে খুচরো মূল্য ২২ হাজার ৯৯০ টাকা। অর্থাৎ, আমদানি মূল্য এবং খুচরো মূল্যের মধ্যে পার্থক্য ২২১ শতাংশ। অথচ খুচরো মূল্য অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মে এই হ্যান্ডসেটের আমদানি মূল্য হওয়ার কথা ১৪ হাজার ৯৯৩ টাকা। এক্ষেত্রেও আমদানি মূল্য প্রায় চার হাজার টাকা কম দেখিয়ে এক হাজার টাকার বেশি কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

চীনা অপর ব্র্যান্ডের একটি মডেলের হ্যান্ডসেটের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ৩২ হাজার ৪৭৯ টাকা, অথচ বাজারে এর খুচরো মূল্য ৮৯ হাজার ৯৯০ টাকা, অর্থাৎ, আমদানি ও খুচরো মূল্যের পার্থক্য ২৭৭ শতাংশ!

অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনটি চীনা ব্র্যান্ডের গত বছরে প্রায় ১৩ লাখ হ্যান্ডসেট বাংলাদেশে এসেছে। প্রতি হ্যান্ডসেটে এক হাজার টাকা কর ফাঁকি দিলে বছরে কর ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।

দায় এড়ানোর কৌশল :  বিটিআরসি সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের স্থানীয় পরিবেশক নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো প্রতিষ্ঠান হতে পারে। কিন্তু পরিবেশক আমদানি করে সরাসরি মূল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে, এটাই দীর্ঘদিনের রীতি। কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খুলে আমদানি করার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ কারণেই বিটিআরসি বিএমপিআইর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধান করছে। এক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্নিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, মূল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে এভাবে প্রকৃত আমদানি মূল্যের তথ্য গোপন করে কম মূল্য দেখানো যায় না। এ কারণেই কৌশল হিসেবে তৃতীয় আর একটি কোম্পানি খোলা হয়েছে যার আন্তর্জাতিক পরিচিতি নেই। কখনও এসব তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকির তথ্য প্রকাশ হলে তার দায় মূল প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়বে না। আসলে কর ফাঁকির দায় এড়ানোর জন্যই অস্বাভাবিকভাবে মূল প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খোলা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতে হ্যান্ডসেট আমদানির ক্ষেত্রে বন্দরেই শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মডেলের হ্যান্ডসেটের খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে হয়। কর্তৃপক্ষ খুচরা মূল্য থেকে আমদানিকারকদের অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ বাদ দিয়ে প্রকৃত আমদানি মূল্য নির্ধারণ করে কর ধার্য করে। কিন্তু বাংলাদেশে আমদানি পর্যায়ে খুচরো মূল্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই।

সংশ্নিষ্টদের বক্তব্য :  এ বিষয়ে জানতে চাইলে অপো বাংলাদেশের ইমপোর্ট ইনচার্জ (কমার্শিয়াল) মোহাম্মদ ইকবাল পাটোয়ারি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে অপো বাংলাদেশে 'অপো' ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট বাজারজাত করছে। আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সব নিয়ম-নীতি এবং প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আমদানি সম্পর্কে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে 'অপো'র আমদানি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। সেখানেও অপো স্বচ্ছতার সঙ্গে সব তথ্য দিয়েছে। অপো সম্পর্কে অন্যান্য কর্তৃপক্ষও তথ্য চাইলে তা দেওয়া হবে। আমদানি প্রক্রিয়ায় অপো সব সময়ই স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করে।

এ ব্যাপারে ভিভো বাংলাদেশের কর্মকর্তা তানজীব আহমেদ সমকালকে বলেন, বৈধ এবং লাইসেন্সড অংশীদারের কাছ থেকেই ভিভো ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে। আমদানির ক্ষেত্রে ভিভো বাংলাদেশের স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করে। আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভিভো সর্বোচ্চ নীতি অনুসরণ করে গ্রাহককের কাছে সেরা পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বার বার যোগাযোগের পরও হুয়াওয়ের আমদাকিারক এডা ট্রেডিং, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারী গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে অনুষ্ঠিত হয়েছে  বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেস্ট ইলেক্ট্রনিক্সের  চেয়ারপার্সন শারমিন মমতাজ। 

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান,পরিচালক সেলস সৈয়দ আশহাব জামান, পরিচালক মার্কেটিং সৈয়দ তাহমিদ জামান এবং সকল শোরুমের ব্যাবস্থাপক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। 

উক্ত সম্মেলনে ২০১৯ সালকে ঘোষণা করা হয়েছে সবুজ বছর হিসেবে। দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়বিদ্যুৎ ব্যবহারেও সাশ্রয়ী হতে হবে।

এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিস্তৃত ১১৮টি শোরুম এবং ২০০এরও বেশি ডিলার পয়েন্টেবিশ্ব নন্দিত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সব ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নিয়ে এসেছে বেস্টইলেক্ট্রনিক্স।

এ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী বেস্ট ইলেকট্রনিক্স ২০১৯ সালের মধ্যে ১৫০টি নিজস্ব শোরুম এবং ৫০০ডিলারপয়েন্ট স্থাপনকরার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পরের
খবর

৬ গ্রেডে মজুরি বাড়ল পোশাক শ্রমিকদের


আরও খবর

অর্থনীতি

ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

পোশাক শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরি বেড়েছে ছয় গ্রেডে। প্রথম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেসিক বা মূল মজুরিও বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন হারে। সপ্তম গ্রেডে মজুরি বোর্ড ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মজুরি পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে রোববার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশোধিত মজুরি কাঠামো গত ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর ধরা হবে। আগামী মাসের মজুরির সঙ্গে বকেয়া হিসেবে বাড়তি অর্থ পাবেন শ্রমিকরা।

কমিটির বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এক ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন গ্রেডের মজুরি পরিবর্তনের তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী এখন থেকে সব মিলিয়ে ন্যূনতম মোট ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় যা ছিল ১৭ হাজার ৫১০ টাকা। ২০১৩ সালের কাঠামো অনুযায়ী গত ৫ বছর ধরে এই গ্রেডের নূ্যনতম মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডের ন্যূতম মজুরি এখন ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা, যা মজুরি বোর্ড নির্ধারণ করেছিল ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা। গত ৫ বছর ধরে এই গ্রেডের মজুরি ছিল ১০ হাজার ৯০০ টাকা।

পর্যালোচনায় তৃতীয় গ্রেডের ন্যূনতম মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় ছিল ৯ হাজার ৫৯০ টাকা। গত ৫ বছর ধরে এ গ্রেডের মজুরি ছিল ৬ হাজার ৮০৫ টাকা। একইভাবে চতুর্থ গ্রেডের মোট মজুরি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় ছিল ৯ হাজার ২৪৫ টাকা। গত ৫ বছর ধরে ছিল ৬ হাজার ৪২০ টাকা। পঞ্চম গ্রেডে ন্যূনতম মজুরি ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় ছিল ৮ হাজার ৮৫৫ টাকা। গত ৫ বছর ধরে ছিল ৬ হাজার ৪২ টাকা। ষষ্ঠ গ্রেডে নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় ছিল ৮ হাজার ৪০৫ টাকা। গত ৫ বছর ধরে ছিল ৫ হাজার ৬৭৮ টাকা। পর্যালোচনায় সপ্তম অর্থাৎ সবচেয়ে নিচের গ্রেডে মজুরি বোর্ড ঘোষিত ৮ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কার্যকর হবে গত ডিসেম্বর থেকে। জানুয়ারিতে নতুন কাঠামোয় মজুরি পাওয়ার পর রাজধানী এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকদের অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার মালিকপক্ষের ৫ জন, শ্রমিকপক্ষের সমসংখ্যক সদস্য এবং শ্রম ও বাণিজ্য সচিবসহ মোট ২০ সদস্য নিয়ে মজুরি পর্যালোচনায় ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে সরকার। গোয়েন্দা সংস্থা এসবি, এনএসআই, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও শিল্প পুলিশের প্রতিনিধি রয়েছেন কমিটিতে। রোববারের বৈঠকে কমিটির প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, চলমান সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন গ্রেডের মজুরি সমন্বয়ে গত শনিবার রাতে নির্দেশ দেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, শ্রম সচিব এবং বিজিএমইএ নেতাদের গণভবনে ডাকেন। সেখানে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন তিনি। আলোচনা শেষে গ্রেডভিত্তিক সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

শ্রম অসন্তোষের পেছনে শ্রমিকদের অন্যতম আপত্তি ছিল ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের বেসিক নিয়ে। বেসিক বাড়লে বোনাস, ওভারটাইমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ে। শ্রমিকদের দাবি, নতুন মজুরি কাঠামোয় বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যে হারে বেড়েছে; বেসিক সে হারে বাড়েনি।

রোববারের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনায় ছয় গ্রেডের বেসিকই বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম গ্রেডের বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় যা ছিল ১০ হাজার ৪৪০ টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের ৮ হাজার ২২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৪৪ টাকা করা হয়েছে। তৃতীয় গ্রেডে ৫ হাজার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৩০ টাকা করা হয়েছে। চতুর্থ গ্রেডে বেসিক ৪ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৯৩০ টাকা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ হাজার ৬৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০৫ টাকা ও ষষ্ঠ গ্রেডে ৪ হাজার ৩৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৮০ টাকা হয়েছে। সপ্তম গ্রেডের বেসিক মজুরি বোর্ড নির্ধারিত ৪ হাজার ১০০ টাকা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মার্সেল পণ্য কিনে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার সুযোগ


আরও খবর

অর্থনীতি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইভা রিজওয়ানা, মো. এমদাদুল হক সরকার, এসএম জাহিদ হাসান ও মোহাম্মদ রায়হান, হেড অব সেলস ড. মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরিফুল আম্বিয়া

  অনলাইন ডেস্ক

নতুন বছর ও বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে দেশব্যাপী আবারও ডিজিটাল ক্যাম্পেইন শুরু করেছে মার্সেল। এবার চলছে সিজন-ফোর। এর আওতায় মার্সেল পণ্য কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই ক্রেতারা পেতে পারেন লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। পেতে পারেন মোটরসাইকেল, এয়ার কন্ডিশনার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, এলইডি টিভিসহ হাজার হাজার পণ্য একেবারে বিনামূল্যে। বাণিজ্য মেলার পুরো মাস জুড়ে সারাদেশে মিলবে এই সুবিধা। 

শনিবার রাজধানীতে মার্সেল করপোরেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৪' এর ডিক্লারেশন প্রোগ্রামে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইভা রিজওয়ানা, মো. এমদাদুল হক সরকার, এসএম জাহিদ হাসান ও মোহাম্মদ রায়হান, হেড অব সেলস ড. মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরিফুল আম্বিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে তারা জানান, অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় এনে বিক্রয়োত্তর সেবাকে আরও সহজ করতে কাস্টমার ডাটাবেজ তৈরি করছে মার্সেল। এই প্রক্রিয়ায় ক্রেতা অংশগ্রহণ উদ্বুদ্ধ করতে গত বছর দেশব্যাপী ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের তিনটি সিজন চালানো হয়েছে। সে সময় গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ক্রেতারা পণ্য কিনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বছর ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯ উপলক্ষ্যে সারা দেশে ক্যাম্পেইনের সিজন-ফোর শুরু করলো মার্সেল।

এই ক্যাম্পেইনের আওতায় বাণিজ্য মেলায় মার্সেল প্যাভিলিয়নসহ দেশের যে কোনো পরিবেশক শোরুম থেকে ফ্রিজ, টিভি ও  এসি কিনে মোবাইল ফোনে এসএসএম এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করলেই ক্রেতারা পাবেন ৩০০ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। এছাড়াও পেতে পারেন মোটরসাইকেল, এয়ার কন্ডিশনার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, এলইডি টিভিসহ অসংখ্য পণ্য ফ্রি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংশ্লিষ্ট খবর