অর্থনীতি

'আমার দারাজ আলোক'

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮

'আমার দারাজ আলোক'

  অনলাইন ডেস্ক

দেশের সেরা ই-কমার্স  প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ সম্প্রতি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য 'আমার দারাজ আলোক' নামে একটি নতুন শিক্ষা প্রকল্প শুরু করেছে। আমার দারাজের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন।

এই বিশেষ শিক্ষা প্রকল্পের আলোকে প্রধান নীতি গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে জীবন যাত্রার স্বাভাবিক মান এবং সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত শিশুদের জন্য মান-সম্মত শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমার দারাজ বিভিন্ন এনজিওর সাথে কাজ করছে, যারা শিক্ষণ অক্ষমতায় আক্রান্ত শিশুদের বিনা মূল্যে শিক্ষাপ্রদান করে থাকে।

দারাজ বাংলাদেশ স্থানীয় এনজিও - ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) এর তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি শুরু করেছে, যারা শিশুদের ভবিষ্যৎ আলোকিত করার লক্ষ্যে তাদেরকে বিনামূল্যে শিক্ষা, সাধারণ চিকিৎসা সেবা এবং দক্ষতা মূলক প্রশিক্ষণ সেবা সরবরাহ করে 'আমারদারাজ' বছরব্যাপী প্রকল্প হিসেবে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এডিডি,  এডিএইচডি এবং ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য অর্থায়ন করবে, যা তাদের মৌলিক প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি শিক্ষকের বেতন, এবং স্বাস্থ্যকর খাবারসহ স্কুলের সকল প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধানি শ্চিত করবে।

শিশুদের জন্যে কাজ করার পাশাপাশি আইএইচএফ সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন রকমের কারিগরি প্রশিক্ষণও প্রদান করে থাকে।সম্প্রতি দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের বনানী সদরদপ্তরে আমার দারাজ আলোক ও আইএইচএফ-এর মধ্যেএ বিষয়ে চুক্তি সাক্ষরিত হয়। 

এ সময় দারাজের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক (ম্যানেজিং ডিরেক্টর), সৈয়দ আহমেদ আবরার হাসনাইন (হেড অব মার্কেটিং), তাঞ্জিলা রহমান (হেড অব সাস্টেনিবিলিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিএসআর) এবং নুঝাত সেবা (এক্সিকিউটিভ,সাস্টেনিবিলিটি ভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিএসআর)।

ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মাদ আদনান হোসেন (ফাউন্ডার অ্যান্ড চেয়ারম্যান) এবং ফাতেমা তুজ জোহরা (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর)।

এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সাথে রয়েছে আকিজ প্ল্যাস্টিকস, ম্যাটাডর, অ্যালেক্স ফার্নিচার এবং কাদামাটি প্রোডাকশন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সুদহারের উল্টো যাত্রা


আরও খবর

অর্থনীতি
সুদহারের উল্টো যাত্রা

ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  ওবায়দুল্লাহ রনি

ঋণের সুদহার কমানোর জন্য গত বছর ব্যাংকগুলোকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয়। ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের দাবির মুখে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেয় সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা বা সিআরআর সংরক্ষণের হার কমানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প মেয়াদে ধারের ব্যবস্থা 'রেপো'র সুদহারও কমানো হয়। এসব সুবিধা দেওয়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল তুলনামূলক কম সুদে ঋণের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। আর নানা সুবিধা পাওয়ার পর ব্যাংকের উদ্যোক্তারা গত বছরের জুন মাসে সিঙ্গেল ডিজিট বা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেন। এর পর থেকে ৯ শতাংশ না হলেও সুদহার কমে আসছিল। তবে সম্প্রতি ঋণের সুদহারের উল্টো যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন করে সুদহার বাড়ানোর প্রবণতাকে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মনে করছেন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।

সংশ্নিষ্টরা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের চাপে সাময়িকভাবে সুদহার সামান্য কমিয়েছিল ব্যাংক। এখন আবার বাড়াতে শুরু করেছে। শিল্পের মেয়াদি ও চলতি মূলধন ঋণের সুদহার এখন ১১ থেকে ১৬ শতাংশ। অবশ্য আমানতের সুদহারও বাড়ছে। কোনো কোনো ব্যাংক ১০ শতাংশ সুদেও মেয়াদি আমানত নিচ্ছে। ব্যাংকারদের মতে, নির্বাচনের পর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ার লক্ষণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে আগামী মার্চের মধ্যে ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) নতুন সীমায় নামিয়ে আনার বাধ্যবাধকতার ফলে সুদহার বাড়ছে।

জানতে চাইলে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, ৯ থেকে ১০ শতাংশ সুদে আমানত নিয়ে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ সম্ভব নয়। আস্তে আস্তে ঋণের চাহিদা বাড়ার ফলে তারল্যের ওপর এখন চাপ আরও বাড়ছে। এ ছাড়া আগামী মার্চের মধ্যে এডিআর সমন্বয়ের নির্দেশনা রয়েছে। সব মিলিয়ে সুদহার বাড়ছে।

কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংকের তুলনায় সরকারের ঋণ নেওয়ার মাধ্যম সঞ্চয়পত্রে সুদহার অনেক বেশি। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে। এতে সার্বিকভাবে ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক ব্যাংককে আমানতের সুদহার বাড়াতে হচ্ছে। আর আমানতের সুদহার বাড়লে ঋণের সুদহার বাড়া স্বাভাবিক।

বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, শিল্পের মেয়াদি ঋণে অধিকাংশ ব্যাংক ১১ থেকে ১৬ শতাংশ সুদ নিচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ঋণে সুদ নেওয়া হচ্ছে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। বাড়ি-গাড়ি কেনার ঋণে এখন ১১ থেকে ১৬ শতাংশ সুদ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা তথা ট্রেডিংয়ে সুদ দিতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। আর ক্রেডিট কার্ডে অধিকাংশ ব্যাংকের সুদহার রয়েছে ২৪ থেকে ২৭ শতাংশ। ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ঠেকাতে গত বছরের এক নির্দেশনায় বছরে ১ শতাংশের বেশি সুদ না বাড়ানোর নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একবার বাড়ানোর জন্যও অন্তত তিন মাস আগে গ্রাহককে নোটিশ দিতে বলা হয়। অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডে অন্য যে কোনো ঋণের সর্বোচ্চ সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি সুদ না নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অধিকাংশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে গ্রাহকদের কাছ থেকে উচ্চহারে সুদ নিচ্ছে। আর ব্যাংকগুলোর নিজেদের ঠিক করা 'সিঙ্গেল ডিজিট' তো মানাই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা কয়েক মাস ঋণের সুদহার সামান্য কমার পর আবার বাড়ছে। গত বছর জুনে ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জুলাইতে কমে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে নামে। এভাবে প্রতি মাসে কমতে কমতে অক্টোবরে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশে নামে। তবে নভেম্বরে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ হয়েছে। আর জুনে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার ছিল ১০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুলাইতে তা ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশে নামে। অক্টোবরে আরও কমে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ হয়। তবে নভেম্বরে বেড়ে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশে ওঠে। এদিকে গত জুনে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদে আমানত নেয়। ঋণের সঙ্গে আমানতের ধারাবাহিক সুদহার কমে অক্টোবরে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়। নভেম্বরে আবার বেড়ে তা ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে। ডিসেম্বরের গড় সুদহারের পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুদহার বাড়ানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিনিয়োগ বাড়াতে চাইলে ঋণের সুদহার কমানোর কোনো বিকল্প নেই। সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণের কথা বললেও অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক এখনও তা কার্যকর করেনি। উল্টো এখন সুদহার বাড়ছে। এ প্রবণতা বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, নতুন অর্থমন্ত্রী দায়িত্বে এসেছেন। আশা করি, সুদহার বাড়া থামাতে অর্থমন্ত্রী এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব পক্ষ কাজ করবে।

ব্যাংক খাতসংশ্নিষ্টরা জানান, ঘোষণার আলোকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করার অন্যতম শর্ত ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে ব্যাংকে আমানত রাখবে। সরকারি ব্যাংকগুলোও উদ্বৃত্ত তহবিল বেসরকারি ব্যাংকে রাখার ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি সুদ নেবে না। তবে কেউই তা মানছে না। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এখন আমানত নিতে ৯ শতাংশের বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। আবার ব্যাংকের মুনাফা বাড়ানোর জন্য ব্যাংকারদের ওপর চাপ রয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমলে ব্যাংকারদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে। এ ধরনের বাস্তবতায় সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর সম্ভব নয়।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি ঋণের সুদহার বাড়ার ফলে এমনিতেই দেশীয় ব্যবস্থায় ঋণের ওপর একটা চাপ রয়েছে। আবার সঞ্চয়পত্রে বেশি সুদের কারণে আমানত সংগ্রহেও বেশি ব্যয় হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের ঘোষণার পর অনেক ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণের কথা বললেও বাস্তবে কেউ করেছে বলে তার জানা নেই। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে ভালো ব্যবসা করতে না পারা এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি কমাসহ বিভিন্ন কারণে মুনাফা কমবে বলে তাদের ধারণা ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে মুনাফা বেড়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানার অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম সমকালকে বলেন, সুদহার বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করে বাজার চাহিদার ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ চাহিদা বাড়ার ফলে সুদহার বাড়ছে। অবশ্য সরকারের নির্দেশনা মেনে সরকারি ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ এবং ঋণে ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এখন বাড়তির দিকে থাকলেও তা নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে। তবে অনেক বেসরকারি ব্যাংক এ নির্দেশনা পরিপালন করেনি।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে ঋণ চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন অনেক ব্যাংক ডাবল ডিজিট সুদে আমানত নিতে শুরু করে। এ রকম পরিস্থিতিতে সুদহার কমানোর কথা বলে বিভিন্ন সুবিধা নেন ব্যাংক উদ্যোক্তারা। গত ১ এপ্রিল ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠক থেকে সিআরআর সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিআরআর কমানোর ফলে বিনা সুদে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পায় ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নেওয়ার 'রেপো' সুদহার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়। এ ছাড়া সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। এর পর প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার আলোকে গত ২০ জুন ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির বৈঠক থেকে জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এক মাসে পেঁয়াজের দাম অর্ধেক


আরও খবর

অর্থনীতি
এক মাসে পেঁয়াজের দাম অর্ধেক

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

   সমকাল প্রতিবেদক

নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় দামও কমেছে। এখন বাজারে এক কেজি ভালো মানের দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগের তুলনায় পেঁয়াজের দাম কমে অর্ধেকে নেমেছে। এদিকে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪ টাকায়।

বাজারে পেঁয়াজের দাম কমায় দীর্ঘদিন পর স্বস্তি এসেছে। এবার প্রায় বছরজুড়েই পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ ছিল। এতে ক্রেতাদের বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে রান্নার অন্যতম অনুসঙ্গ এই পণ্যটি কিনতে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ ডিসেম্বর থেকে আসা শুরু হলেও তখন বেশি দামেই বিক্রি হয়। এখন নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, চাহিদার চেয়ে এখন সরবরাহ বেশি। আমদানি করা পেঁয়াজও বাজারে পর্যাপ্ত রয়েছে। এতে দাম কমেছে। আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে থাকলে দাম আরও কমবে বলে জানান তারা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেশি মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পুরাতন হালিকাটা (বীজের পেঁয়াজ) পেঁয়াজ এখনও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে এর সরবরাহ খুবই কম। এ ছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজও ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ডিসেম্বরেও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় এখন প্রায় তিনগুণ কম দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি। গত বছর এই সময়ে প্রতি কেজি দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ সমকালকে বলেন, এবার দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দাম কমেছে।

পাবনা ও ফরিদপুর অঞ্চলে বেশি পেঁয়াজের চাষ হয়। গত বছর মৌসুমে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। এবার সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়েছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে দিনাজপুরের কৃষকরা মাঠ থেকে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এই পেঁয়াজ রাজধানীর বাজারে পাঁচগুণ বেশি দামে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পরের
খবর

পাঁচ বছরে দেশে ধনী বাড়বে ১১.৪ শতাংশ: প্রতিবেদন


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশে ধনী (উচ্চ সম্পদশালী) মানুষের সংখ্যা বাড়বে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড আল্ট্রা ওয়েলথ রিপোর্ট ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল দেশের তালিকায় ধনী জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি পাওয়ার হিসেবে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। খবর ইউএনবির

এর আগে ওয়েলথ-এক্সের ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অতি-উচ্চ সম্পদশালী (ইউএইচএনডব্লিউ) জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশ ছিল সবার উপরে। ২০১২-১৭ মেয়াদে বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেট ১০ লাখ থেকে ৩ কোটি মার্কিন ডলার সম্পদের মালিক ব্যক্তিরা উচ্চ সম্পদশালী এবং যাদের ৩ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি নেট সম্পদ রয়েছে তারা অতি-উচ্চ সম্পদশালী।

সাধারণত প্রাথমিক বাসস্থান, সংগ্রহে থাকা জিনিসপত্র ও ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যক্তিগত সম্পদ বাদ দিয়ে যাদের সর্বোচ্চ ৩ কোটি মার্কিন ডলারের মতো বিনিয়োগ উপযোগী সম্পদ রয়েছে তাদের উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে বিশ্বে উচ্চ সম্পদশালী জনগোষ্ঠী ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ২৪ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। আর সব উচ্চ সম্পদশালীর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ধনী জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশাপাশি আর মাত্র চারটি দেশ দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সেগুলো হলো- নাইজেরিয়া (১৬ দশমিক ৩ শতাংশ), মিসর (১২ দশমিক ৫ শতাংশ), ভিয়েতনাম (১০ দশমিক ১ শতাংশ) ও পোল্যান্ড (১০ শতাংশ)।

তালিকায় থাকা প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাকি পাঁচটি দেশ হলো- চীন (৯ দশমিক ৮ শতাংশ), কেনিয়া (৯ দশমিক ৮ শতাংশ), ভারত (৯ দশমিক ৭ শতাংশ), ফিলিপাইন (৯ দশমিক ৪ শতাংশ) ও ইউক্রেন (৯ দশমিক ২ শতাংশ)।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ধনী মানুষ থাকা শীর্ষ ১০ দেশ হলো- যুক্তরাষ্ট্র (৮৬ লাখ ৮০ হাজার অতি-উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি), চীন (১৮ লাখ ৮০ হাজার), জাপান (১৬ লাখ ২০ হাজার), জার্মানি (১০ লাখ ২ হাজার), যুক্তরাজ্য (৮ লাখ ৯৩ হাজার ৯০৫), ফ্রান্স (৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮০), কানাডা (৫ লাখ ৫ হাজার ১০), দক্ষিণ কোরিয়া (৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৫), অস্ট্রেলিয়া (৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০) ও ইতালি (৪ লাখ ১৮ হাজার ৯০)।

সংশ্লিষ্ট খবর