অর্থনীতি

সেরা হতে রোড ম্যাপ তৈরি করেছে ওয়ালটন

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮

সেরা হতে রোড ম্যাপ তৈরি করেছে ওয়ালটন

  অনলাইন ডেস্ক

ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ড হতে রোড ম্যাপ তৈরি করেছে ওয়ালটন। এই লক্ষ্য অর্জনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি কর্ম-পরিকল্পনা, যেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশী ব্র্যান্ড ওয়ালটন। প্রথমধাপে ওয়ালটন আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। 

পরবর্তী ধাপে আগামী বছর বিশ্বের সবচেয়ে দামী বা গ্লোবাল মডেলের ফ্রিজ তৈরি করতে যাচ্ছে তারা। সেইসঙ্গে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সব প্রতিযোগিতা এবং শীর্ষ বাণিজ্য মেলাগুলোতে। 

রোড ম্যাপ  বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সেখানে অংশ নিয়েছেন বিদেশী খ্যাতনামা প্রযুক্তিবিদগণ। তাদের সঙ্গে ছিলেন ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর আরএনডি বা গবেষণা ও উন্নয়ন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল (কিউসি), প্রোডাকশন, সোর্সিং ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল আরএনডি, মোল্ড ও ডাই প্রোডাকশন, ইনজেকশন মোল্ডিং, প্রসেস ডেভলপমেন্ট, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ইউনিটসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলী ও প্রতিনিধিরা।

সম্মেলনের সমন্বয়ক ওয়ালটনের ফার্স্ট সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর আব্দুর রউফ জানান, দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও ডিজাইনাররা ফ্রিজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব লেটেস্ট প্রযুক্তির সংযোজন; মানোয়ন্নয়ন; সৃজনশীল ডিজাইন, প্রতিযোগি মূল্য সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা বিশ্বের সবচেয়ে দামী তথা গ্লোবাল মডেলের ফ্রিজ তৈরির ক্ষেত্রে সময়োপযোগি ও বাস্তবসম্মত দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। 

সূত্রমতে, গ্লোবাল মডেলের ফ্রিজ তৈরি করে আগামী বছর পুরস্কার অর্জন করার টাগেট রয়েছে ওয়ালটনের। 

ওয়ালটন আন্তর্জাতিক বিজনেস ইউনিটের প্রধান এডওয়ার্ড কিম বলেন, নিঃসন্দেহে ওয়ালটন বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারে শীর্ষ ব্র্যান্ড। এখন সময় হয়েছে- গ্লোবাল মডেলের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব বাজারের সেরা ব্র্যান্ড হওয়ার এই যাত্রা শুরু করলো ওয়ালটন।

কিম আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে টেকসই সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছি। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক অংশীদারদের সর্বোচ্চ গুণগতমানের পণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়ার পাশাপাশি ওইএম (অরিজিনাল ইক্যুইপমেন্ট ম্যানফ্যাকচারার) এর মাধ্যমে বিজনেস ভলিউম বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছি। 

এ ধরনের নতুন ও উদ্ভাবনী ধারণাই ওয়ালটনকে ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

ওয়ালটনের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম জানান, দেশের গন্ডী পেরিয়ে 'মেইড ইন বাংলাদেশ' খ্যাত ওয়ালটন পণ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এবার ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত বিশ্বের বাজারে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানির বৃহৎ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজনেস কনফারেন্স ও পণ্য প্রদর্শীতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে ওয়ালটন। চীনের ক্যান্টন ফেয়ার, নাইজেরিয়ার লাগোস ফেয়ার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইলেকট্রনিক্স ফেয়ারসহ অতি সম্প্রতি জার্মানির চিলভেন্টা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তারা বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। 

কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স এবং হোম অ্যাপ্লায়ান্সে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেলা বার্লিনের 'আইএফএ ফেয়ার' ও যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের 'সিইএস ফেয়ার' এ অংশ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প এগোচ্ছে না ঠিকমতো


আরও খবর

অর্থনীতি
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প এগোচ্ছে না ঠিকমতো

৮ মাসে বরাদ্দের ৩% ব্যয় পদ্মা রেল সংযোগে, ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

ফাস্ট ট্র্যাক বা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া কয়েকটি প্রকল্পে এখনও ধীরগতি চলছে। চলতি অর্থবছরের আট মাস পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যয়ের হার খুবই নগণ্য। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বেশিরভাগ প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের হার সন্তোষজনক নয়। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে এ সময়ে বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রকল্পে গতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প থেকে যথাযথ সুফল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যমতে, পদ্মা রেল সংযোগ, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে কম হারে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় হয়েছে ওই আট মাসে। তবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ এরই মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, পদ্মা সেতুর জন্য ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইলিং নকশা নতুন করা হয়েছে। যথাসময়ে ঠিকাদারকে পাইলের নকশা সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বিলম্ব হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি করতেও অনেক দেরি হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে  ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের ভূমির দখল না পাওয়ায় অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও ডিপো ওয়ার্কশপ ও নিয়ন্ত্রণ ভবনের শুধু পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪৪৮টি পিয়ারের মধ্যে কেবল ২১২টি নির্মাণ হয়েছে।

ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সমকালকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামী ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

পদ্মা রেল সংযোগে মাত্র ৩%: আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা খরচ করার কথা। অথচ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ নয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পে আর্থিক অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ। ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্পটি ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৩%: সম্ভাব্য ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে হলে আগামী আট মাসে ব্যয় করতে হবে ১১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ বা এক হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ: চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬৩ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২২ শতাংশ। বেশ কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

জানতে চাইলে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ার-উল-হক সমকালকে বলেন, নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বিলম্ব হওয়ায় অর্থ ব্যয়ে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় ভূমির মালিকরা বাধা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসক থেকে ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি। এতে প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে না।

মেট্রোরেল: চলতি অর্থবছরে রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে তিন হাজার ৯০২ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এর ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৭ শতাংশ।

প্রকল্পের উপপরিচালক মো, আবদুল ওয়াদুদ জানান, কর্মপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থ ব্যয়ের গতি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫০০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা বা ৩১%। শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: ১২০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য ছিল। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট অর্থ খরচ হয়েছে তিন হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ২০২০ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

৮৪% ব্যয় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে: ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অর্থ ব্যয়ের গতি বেশ ভালো। দুই হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বা ৮৪ %।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চলতি অর্থবছরে এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ১৫ শতাংশ।

পরের
খবর

ঋণে চক্রবৃদ্ধি সুদহার প্রথা থাকবে না


আরও খবর

অর্থনীতি
ঋণে চক্রবৃদ্ধি সুদহার প্রথা থাকবে না

ব্যাংক পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিশ্বের কোথাও চক্রবৃদ্ধি হারে সুদহার হিসাব করা হয় না। বাংলাদেশেও ব্যাংক ঋণের সুদহার হিসাবের ক্ষেত্রে আগামীতে চক্রবৃদ্ধি প্রথা থাকবে না। সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল রোববার ব্যাংকের পরিচালক ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকে যে প্রক্রিয়ায় পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আগামীতে তা থাকবে না। ব্যাংকের পরিচালক হতে হলে তাকে কমপক্ষে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে আসতে হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি আগামী বাজেটের আগে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ বলে জানানো হয়। বৈঠকে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিচালকদের আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। বৈঠকে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিদ্যমান ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা সহজ করতে হবে। ডাউনপেমেন্ট ও মেয়াদের শর্ত শিথিল এবং খেলাপি ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে সময় বাড়াতে হবে। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে জানানো হয়, এ দাবিগুলোর বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবে চলতে পারে না। যেভাবে পর্ষদ গঠিত হচ্ছে, এটাও হতে পারে না। এখানে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সত্যিকারভাবে যারা ব্যাংকিং বোঝে তাদের পর্ষদে নিয়োগ দেওয়া হবে। চাকরি নেই বলে একটি ব্যাংকের পরিচালক বানিয়ে দিলাম, সেটা আর হবে না। এ জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে। আগামীতে পরিচালক করার আগে যারা প্রকৃতভাবে কাজ করতে পারবেন, ব্যাংকিং, হিসাববিজ্ঞান বা আইন বোঝেন, তাদের  মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, এসব বিষয়ে সুপারিশ নিয়ে আমার কাছে আসবেন না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে কিছু ক্রটি-বিচ্যুতি আছে। এটা পাঁচ বা সাত বছরে হয়েছে তেমন না। অনেক আগে থেকে বাড়তে বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে। এটা পরিস্কার করার জন্য এখন হাত দেওয়া হবে। আর এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকে বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যালেন্সশিটে কী পরিমাণ সম্পদ দেখানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা জানার জন্য এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যাংকে বিশেষ অডিট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ অডিটের মাধ্যমে জানা যাবে, যারা ঋণ নিয়েছে তাদের মধ্যে ভালো গ্রাহক কারা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কারা। ভালো ব্যবসায়ীদের সরকার সহযোগিতা করবে। খারাপদের সঙ্গে আপস করা হবে না। যেভাবেই হোক সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথাও বলেন, যারা বড় বড় কথা বলেন, তারা ১০ জনকে চাকরি দিতে পারেন না। আর ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নেন তারাই দেশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাংকিং খাতকে সাজানো। আগামী বাজেটে সেসব বিষয় আনা হবে। এ ছাড়া কোনো একজনের একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে সব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে একটার সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মিল করা যাবে না। একটা প্রতিষ্ঠানের কারণে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো যে অন্যায়গুলো করা হচ্ছে, তা আর হবে না।

ব্যাংক খাতের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক দেশেই ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। ব্যাংক একেবারে খারাপ হলে অর্থনীতি এভাবে এগোত না। সুতরাং ব্যাংক নিয়ে যা শোনা যায়, সব সঠিক না। এখানে হিসাবায়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। আবার কিছু ক্রটি-বিচ্যুতিও আছে। অর্থায়ন সমস্যার সমাধানে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে। বন্ড মার্কেটে ভালো ব্যবস্থা থাকলে অর্থায়নে কোনো সমস্যা হতো না। পৃথিবীর কোনো দেশে স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হয় না বলেও জানান তিনি।

তার মতে, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ৬২টি ব্যাংক আছে। এটা বেশি না। কেননা, এখানকার বেসরকারি সব ব্যাংকের বিনিয়োগের সমান দেশের বাইরে একটি ব্যাংক। সুতরাং সংখ্যা বড় বিষয় না। যদি ঠিকভাবে চালানো যায় কোনো সমস্যা না। এ ছাড়া শস্যবীমা চালু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পে অর্থায়নে আগামী বাজেটে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিদেশি অবৈধ সুতা, কাপড়ের দাপটে মার খাচ্ছে দেশি বস্ত্র


আরও খবর

অর্থনীতি
বিদেশি অবৈধ সুতা, কাপড়ের দাপটে মার খাচ্ছে দেশি বস্ত্র

শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আবু হেনা মুহিব

রফতানিমুখী তৈরি পোশাক উৎপাদনে ব্যবহার করা সুতা কিংবা কাপড় আমদানিতে কোনো ধরনের শুল্ক্ক দিতে হয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বন্ড লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোই শুল্ক্কমুক্ত এই আমদানির সুবিধা পেয়ে থাকে। এর বাইরে দেশীয় বাজারের জন্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সুতা-কাপড় আমদানিতে গড়ে ৬২ শতাংশ শুল্ক্কারোপ রয়েছে। বন্ড লাইসেন্স অপব্যবহারের মাধ্যমে এই পরিমাণ শুল্ক্ক ফাঁকি দিয়ে বাজার দখলে নিয়েছে অবৈধ সুতা এবং কাপড়। এতে একদিকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে বিপর্যয়ের কবলে পড়ছে দেশীয় বস্ত্রশিল্প।

এনবিআরের তথ্য মতে, গত ছয় মাসে বাণিজ্যিক সুতা এবং কাপড় আমদানি বলতে গেলে হয়নি। অথচ বিদেশি সুতা-কাপড়ে দেশীয় বাজার সয়লাব। হাত বাড়ালেই বিদেশি কাপড় এবং সুতা পাওয়া যাচ্ছে। শুল্ক্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আনা সুতা-কাপড়েই চলছে দেশীয় বাজার। দামে সস্তা হওয়ায় বিদেশি কাপড়ের প্রতিই পাইকারি ক্রেতাদের ঝোঁক। কারণ, তুলা আমদানি করে দেশে উৎপাদিত সুতা কিংবা সুতা আমদানি করে উৎপাদিত কাপড়ের দাম সঙ্গত কারণেই একটু বেশি। এতে দেশি সুতা-কাপড় বেচা-বিক্রি একরকম বন্ধ।

বস্ত্র কল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারের জন্য উৎপাদিত সুতা-কাপড় অবিক্রীত পড়ে আছে গুদামে। অবিক্রীত এই দুই পণ্যের দাম অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলার কারণে বাধ্য হয়ে এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে সুতা-কাপড় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। সাধারণত স্থানীয় বাজারের জন্য ঈদের আগের তিন মাসকে ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। আসছে ঈদ সামনে রেখে এ অবস্থা এখন চরম আকার নিয়েছে। ফলে বিদেশি অবৈধ সুতা-কাপড়ের দাপটে মার খাচ্ছে দেশীয় তাঁত ও বস্ত্রশিল্প।

এ পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে এনবিআর এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে চিঠি দিয়েছে বিটিএমএ। এনবিআরকে বিষয়টি জানানোর পর কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ হয়নি। চিঠিতে পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত ঘোষণার ভিত্তিতে সুতা ও কাপড় আমদানির পর খালাস, আমদানি পর্যায়ে সুতা-কাপড়ের বাস্তবভিত্তিক শুল্ক্ক নির্ধারণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া বন্ড সুবিধা অর্থাৎ শুল্ক্কমুক্ত সুবিধায় আনা সুতা-কাপড়ের মোড়কে সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকতে হবে 'রফতানি পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের জন্য এবং বিক্রির জন্য নয়।' আমদানি পর্যায়ে এরকম কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয় চিঠিতে।

জানতে চাইলে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন সমকালকে বলেন, শুল্ক্কমুক্ত আমদানি সুবিধার অপব্যবহারের কারণে দেশে এক লাখের মতো তাঁতের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ এখন বন্ধ। রফতানিমুখী সুতা এবং কাপড় উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত মিলগুলোও চোরাই পথে আমদানি করা সুতার কারসাজিতে বিপদে পড়েছে। এসব কারণে উৎপাদন ক্ষমতার ৬০ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে সংশ্নিষ্ট মিলগুলো। তিনি জানান, ২০টির মতো প্রতিষ্ঠান এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তবে কোনো মিলের নাম উল্লেখ করতে রাজি হননি তিনি।

এছাড়া বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ। অথচ তাদের বন্ড লাইসেন্স ব্যবহার করেও আমদানি চলছে। সাধারণত রোজার ঈদ সামনে রেখে সুতা এবং কাপড় তৈরির মিলগুলো উৎপাদনমুখর থাকে। কিন্তু শুল্ক্কমুক্ত আমদানির অপব্যবহারের কারণে এ বছর মিলগুলোর সব কার্যক্রম স্থবির। তিনি বলেন, দেশীয় বস্ত্রশিল্প রক্ষায় সরকার কঠোর না হলে বিদেশি বস্ত্রের বাজারে পরিণত হবে দেশ। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হবে। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।

রফতানিমুখী পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বস্ত্রের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ১৭ কোটি মানুষের বস্ত্রের চাহিদা পূরণ করে আসছে বিটিএমএর কারখানাগুলো। গত বেশ কিছু দিন ধরে বিদেশি কাপড়, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজসহ সব চাহিদার সব ধরনের বস্ত্র অবৈধ অনুপ্রবেশ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শুল্ক্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানি করা এসব পণ্য বাজারজাত হচ্ছে। সরকারকে ভ্যাট, ট্যাক্স দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় স্থানীয় মিলে উৎপাদিত সুতা-কাপড় চোরাই বিদেশি কাপড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বিশেষ করে দুই ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এ বছরও স্থানীয় পোশাক বাজার শুল্ক্ক ফাঁকি দিয়ে আনা কাপড়ের দখলে চলে যাচ্ছে। এই দুই উৎসবে পোশাকের বাজার ৩০ হাজার কোটি টাকার। এতে বিশাল অঙ্কের অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ স্থানীয় মিলগুলো বন্ধ হচ্ছে।

বন্ড লাইসেন্সের অপব্যবহার কীভাবে হচ্ছে তার ব্যাখ্যায় নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একজন উদ্যোক্তা সমকালকে জানান, রফতানিমুখী তৈরি পোশাক রফতানিকারকের বন্ড লাইসেন্সের বিপরীতে শতভাগ শুল্ক্কমুক্ত সুবিধায় কাপড় আমদানি করছেন অসাধু কিছু ব্যবসায়ী। সেটা স্থানীয় বাজারে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সংশ্নিষ্ট বন্ড লাইসেন্সধারী রফতানিকারক এবং শুল্ক্ক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সমকালকে বলেন, এরকম কোনো ফাঁকির সুযোগ নেই। তারপরও কেউ একরম অন্যায় করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। দায়ী কোনো উদ্যোক্তার পক্ষ নেবেনা বিজিএমইএ।

কার্যকর তদারকি জোরদার করলেই বন্ড লাইসেন্সের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া বাজারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চালানো, সীমান্ত হাটের ওপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কথা বলেছেন তারা।