অর্থনীতি

আরও কর ছাড় পেল পোশাক খাত

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

আরও কর ছাড় পেল পোশাক খাত

ফাইল ছবি

  আবু কাওসার

তৈরি পোশাক খাতের রফতানিকে উৎসাহিত করতে আরও কর ছাড় দিয়েছে সরকার। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে এ খাতের উৎসে কর কমানো হয়েছিল। দুই মাসের মাথায় জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আবারও বড় ধরনের কর প্রণোদনা দেওয়া হলো। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, শতভাগ পোশাক শিল্পের জন্য এবার পরিবহন ব্যয়, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সিকিউরিটি সার্ভিস, ল্যাবরেটরি টেস্টসহ নানা সেবায় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে আদেশ জারি করে তা কার্যকর করেছে। এ ছাড়া পোশাক খাতের পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস বিলের ওপর ভ্যাট পরিশোধের নিয়ম আরও শিথিল ও সহজ করা হয়।

এনবিআর বলেছে, এসব সেবার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে পোশাক খাতের খরচ আরও কমবে, বাড়বে রফতানি আয়। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এতে সেবায় ভ্যাট পরিশোধের ক্ষেত্রে হয়রানি ও এ খাতের খরচ কমবে।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে পোশাক খাতের উৎসে কর ১ শতাংশ কমিয়ে দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে এ খাতের করপোরেট কর ১৫ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ এবং যারা সবুজ শিল্প স্থাপন করবে, তাদের করপোরেট কর ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। দেশের মোট রফতানি আয়ের শতকরা ৮০ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয় ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ।

বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, জাতীয় রফতানি নীতিমালায় পোশাক খাতের সব সেবায় ভ্যাট অব্যাহতির কথা বলা আছে। তারপরও বেশ কয়েকটি খাতে ভ্যাট আরোপ ছিল। পোশাক মালিকরা দীর্ঘসময় ধরে ওইসব সেবা থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। বিলম্বে হলেও সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এক ভ্যাট কমিশনার বলেন, এসব সেবা থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়ার ফলে পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ কমবে। এতে সামগ্রিকভাবে রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জানা যায়, আগে পোশাক মালিকরা বন্দর থেকে ফ্যাক্টরিতে মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য পরিবহনের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতেন। এখন থেকে পরিবহন ব্যয়ে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। ফলে পোশাক খাতের পরিবহন ব্যয় কমবে। আগে পোশাক কারখানায় ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইনসহ যে কোনো তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো। এনবিআর বলেছে, এখন থেকে পোশাক খাতে ব্যবহূত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে কোনো ধরনের ভ্যাট দিতে হবে না।

পোশাক পণ্য তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল দেশ-বিদেশ থেকে কিনে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে হয়। এ পরীক্ষার জন্য পোশাক মালিকদের ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো। গতকাল এনবিআরের অদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবরেটরিতে যে কোনো কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য মালিকদের এখন আর ভ্যাট দিতে হবে না।

অনেক কারখানা মালিক শ্রমিকদের বিনোদনের জন্য খরচ করে থাকেন। এতদিন বিনোদনের জন্য ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। এখন থেকে পোশাক খাতের যে কোনো ধরনের বিনোদনকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পোশাক মালিকরা তাদের শ্রমিকদের কল্যাণে পোশাক-পরিচ্ছদ, জুতা, প্যান্ট ইত্যাদি সরবরাহ করে থাকেন। আগে এসব পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো। এখন আর দিতে হবে না।

অনেক পোশাক মালিক সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে থাকেন। এ নিরাপত্তা সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। এনবিআরের নতুন আদেশে এ সেবার ওপর পুরোপুরি ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে। কোনো পোশাক প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে হলে জোগানদারের বিলের বিপরীতে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো। এখন জোগানদার সেবায় কোনো ভ্যাট লাগবে না।

বর্তমানে পোশাক কারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি (ওয়াসা সেবা) ইত্যাদি সেবা বাবদ যে বিল হয় তার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট মওকুফ সুবিধা রয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে বেশ জটিলতা ও হয়রানি পোহাতে হয়। এনবিআরের অধীনে প্রত্যর্পণ অধিদপ্তরের (ডেডো) মাধ্যমে এ সুবিধা ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু এ সুবিধা নিতে হলে রফতানিকারকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। গতকাল এনবিআর যে নিয়ম করেছে, তাতে বলা হয়েছে- রফতানিকারকরা সরাসরি এ সুবিধা পাবেন। এর জন্য ডেডো দপ্তরে যেতে হবে না।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

অনলাইনে ‘এসএন্ডএম’ ব্র্যান্ডের জিন্স


আরও খবর

অর্থনীতি

‘এসএন্ডএম’ ব্র্যান্ডের জিন্স প্যান্ট

  অনলাইন ডেস্ক

শীতের কনকনে ঠান্ডায় জিন্স এর জুড়ি নেই। জিন্স তরুনদের পাশাপশি আজকাল তরুনীরাই বেশি পছন্দ করে পরছেন। শীতে স্কিনি জিন্সের চাহিদাই বেশি। ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে জিন্স এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বিভিন্ন কাট ও ধরনের জিন্স পাওয়া যায় বাজারে। বাংলাদেশে জিন্স প্যান্ট তৈরিতে জনপ্রিয়তায় রয়েছে ‘এসএন্ডএম’। যারা নিজেদের কারখানায় সেরা কাঁচামাল, দক্ষ কারিগর দ্বারা তৈরি করে থাকে স্টাইলিশ জিন্স। 

যাদের রয়েছে ২৪ ধরনের ওয়াশ জিন্স। বাংলাদেশের মানুষের জিন্স কেনার পর কাটা ছাড়া ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব। জিন্স যাতে কাটতে হয় নাই সে জন্য ‘এসএন্ডএম’ব্র্যান্ড একটি সাইজের মধ্যে মধ্যে ৩ ধরণের গঠন নিয়ে এসেছে। এই গঠন থাকার কারণে সহজে কারো জিন্স কাটতে হবে না। ৬ ফিট উচ্চতার মানুষের সামঞ্জস্য হয় এমন করেই জিন্স তৈরি করা হয়েছে। 

৩২ থেকে ৪৩ পর্যন্ত সাইজের মধ্যে পাওয়া যাবে জিন্সগুলো। ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০০ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে এগোলো। নীল, লীল- কালো, ধূসর ছাড়াও নানা রঙের জিন্সে  রয়েছে।

দেশে জিন্স প্যান্ট নিয়ে কাজ করছে ‘এসএন্ডএম’। ব্র্যান্ডটি অফলাইনে বিক্রি পুরপুরি না শুরু করলেও অনলাইনে বিক্রি করছে। অনলাইনে কিনতে ক্লিক করুন  

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পরের
খবর

সদরপুরে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ১২০তম শাখা উদ্বোধন


আরও খবর

অর্থনীতি

সোমবার ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ১২০তম শাখা উদ্বোধন করেন ব্যাংকটির পরিচালক এ.কে. আজাদ। ছবি: সমকাল

  ফরিদপুর অফিস

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ১২০তম শাখার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে ব্যাংকটির পরিচালক এ.কে. আজাদ ফিতা কেটে ওই শাখা ও এটিএম বুথের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি এ.কে. আজাদ বলেন, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেশের সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যুব সমাজের বেকারত্ব ঘোঁচাতে ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। সদরপুরের নদী ভাঙন-কবলিত অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের এই শাখাটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন এ.কে. আজাদ।

ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এম শহীদুল ইসলাম বলেন, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক সমাজের সর্বস্তরের জনগণের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, কর কমিশনার বোরহান উদ্দিন, শিল্পপতি সোয়েব চৌধুরী, সদরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান প্রমুখ। 

উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের সাধারণ সেবা বিভাগের প্রধান মাহবুবুর রশীদসহ সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ফরিদপুর শাখার ব্যাবস্থাপকেরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামসুদ্দোহা শিমু।

পরের
খবর

বেস্ট ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি পেল 'স্পীড'


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ২০১৮-এর অনুষ্ঠানে দেশসেরা ব্র্যান্ড স্পীড কার্বোনেটেড সফট্‌ ড্রিংকস (অল্টারনেটিভ) ক্যাটাগরিতে দেশের বেস্ট ব্র্যান্ড নির্বাচিত হয়েছে। 

শনিবার রাজধানী ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ এর পক্ষে  অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন চীফ মার্কেটিং অফিসার ড: হিন্দোল রায়, এজিএম (মার্কেটিং) মাইদুল ইসলাম এবং অ্যাসিস্টেন্ট ব্র্যান্ড ম্যানেজার মুনতাসির মামুন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি