অর্থনীতি

একনেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার ২৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮

একনেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার ২৮ প্রকল্প অনুমোদন

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়— পিআইডি

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২৮টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এরমধ্যে সরকারের তহবিল থেকে প্রকল্পগুলোতে ২৪ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দাতাদের থেকে ঋণ ও অনুদান হিসেবে আসবে ৪ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সংস্থার অর্থায়ন থাকছে ৫৩৯ কোটি টাকা। এ নিয়ে বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে এক হাজার ৩৯০টি প্রকল্প অনুমোদন পেল।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা-পরবর্তী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, মূল একনেক সভায় ২০টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। দেশের মানুষের জন্য বিশেষ জরুরি বিবেচনায় আরও ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, 'পরিকল্পনা কমিশন অনেক গতিশীল হয়েছে, যে কারণে প্রয়োজনীয় সকল প্রকল্প অনুমোদন করা সম্ভব হলো। আরও কিছু প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু সামনে নির্বাচন। আমাদের নির্বাচন করতে হবে। আর একনেক হবে না তা বলা হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের কারণে সময় পাওয়া যাবে কি-না তার নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধিতে সাংঘর্ষিক না হলে একনেক সভা হতে পারে। সাংঘর্ষিক হলে তা করা হবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'অনেকে বলে থাকেন সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প অনুমোদন করছে। অবশ্যই সরকার তা করছে। কারণ, সরকার রাজনীতি করে জনগণের, দেশের উন্নয়নের জন্য। যেসব প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে তা সবই দেশের ও মানুষের স্বার্থে করা হয়েছে। এখন রফতানি বাড়ছে। এর পেছনে সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফল। সরকারের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে চলতি অর্থবছর শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে।'

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'সরকার এত উন্নয়ন করেছে যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিতে গেলে মানুষের হাত কাঁপবে।'

বুধবার একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে নেত্রকোনায় প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গবেষণা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়াতে ২৬৩ কোটির প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ৩ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ প্রকল্প। এক হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে বহদ্দারহাট বাড়ৈপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চা বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। ৭৪৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন, ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সারাদেশে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খননে নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, র‌্যাব ফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, সোনাগাজী ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ৭৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ, চট্টগ্রামে ৩৬ পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি চাকুরদের আবাসিক ফ্ল্যাট, আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ বিশেষ ধরনের পন্টুন নির্মাণ, বৃহত্তর নোয়াখালীর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃহত্তর রাজশাহীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রোহিঙ্গাদের জন্য বহুমুখী সেবা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

এবার বাড়ল ডালের দাম


আরও খবর

অর্থনীতি
এবার বাড়ল ডালের দাম

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মিরাজ শামস

চড়া চালের বাজারের পাশাপাশি এবার বাড়ল ডালের দাম। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা এ পণ্যের মূল্য হঠাৎ অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আর অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কম দামি ডাল অ্যাঙ্করের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দেশে উৎপাদিত ডালের মৌসুম ফুরিয়ে আসায় দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা বেশিরভাগ ডালই বিক্রি হওয়ায় আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যাওয়ায় ডালের দাম দেশেও বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজার মিরপুর-১ নম্বরের শাহআলী মার্কেটের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ফয়জুর রহমান ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সমকালকে জানান, গত তিন দিনে পাইকারিতে মসুর ডালের দাম বস্তায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে খুচরা বাজারে ডালের দামও বেড়ে গেছে।

এসব বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি সরু মসুর ডাল ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ডাল তিন দিন আগেও ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এ ছাড়া দেশি হাইব্রিড মাঝারি মসুর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা বড় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে। এ ডাল ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডাল আমদানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ। অর্থবছরের এ সময় ১২ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা এক হাজার কোটি টাকার বেশি দামের ডাল আমদানি করা হয়। আগের বছরের এ সময় ১০ কোটি ডলারের ডাল আমদানি করা হয়। এর পরও এবার কম দামে আমদানি করা ডাল দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত বছর মসুর ডালের দাম দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল বলে জানান ডাল আমদানিকারকরা। একই কথা জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। গত ডিসেম্বরে প্রতি কেজি মোটা বড় মসুর ডাল ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা এবং সরু মসুর ডাল মানভেদে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় নেমে আসে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি সরু মসুর ডালের মৌসুম শেষ পর্যায়ে থাকায় ডিসেম্বরের শেষ দিকে এর দাম কিছুটা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এ সময় অন্যান্য ডালের দাম স্থিতিশীল ছিল। এবার হঠাৎ করে সব ধরনের মসুর ডাল ও অ্যাঙ্কর ডালের দাম বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ লেনটিল অ্যান্ড ক্রাশি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক বিকাশ চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, গত বছর জুনেই ডালের দাম অনেক কম ছিল। বছরের শেষভাগে ডালের দাম কমে গত এক যুগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম কমে যাওয়ায় তখন দেশেও কমে যায়। তখন কয়েকটি শিল্প গ্রুপ হঠাৎ অতিরিক্ত ডাল আমদানি করে ক্ষুদ্র আমদানিকারকদের পথে বসিয়েছেন। এর পর প্রচলিত আমদানিকারকরা লোকসান দিয়ে আমদানির ব্যবসা থেকে সরে যান। এখন বড় গ্রুপের হাতে ডালের বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে। আমদানিও কম হয়েছে। এ কারণে বড় আমদানিকারকরা ডালের বাজার নিয়ে খেলা করছেন। এতে হঠাৎ ডালের দাম বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারেও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সরু মসুর ডাল আসে ভারত থেকে। সেখানে ডালের দাম বেড়েছে। এ কারণে এ দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে।

দেশের বড় ডালের মোকাম নারায়ণগঞ্জে। এই পাইকারি আড়তে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। নারায়ণগঞ্জের আড়তে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি বড় মসুর ডাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা ও দেশি সরু মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯১ টাকা এবং মাঝারি মসুর ডাল ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাঙ্কর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকায়। এ ডাল পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জে কেজিতে আরও ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারের ক্রেতাদের একই মসুর ডাল কিনতে ২০ টাকা বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গড়ে প্রতিবছর ডালজাতীয় শস্য উৎপাদন আট লাখ টনের কাছাকাছি। এর মধ্যে দেশে গড়ে এক লাখ ৭০ হাজার টন মসুর ডাল উৎপাদন হয়। প্রতিবছর মসুর ডালের চাহিদা আড়াই লাখ টনের বেশি। উৎপাদন ছাড়া বাকি চাহিদা আমদানি মিটছে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, মসুর ডাল আমদানির পরিমাণ চাহিদার চেয়ে অর্ধেকের বেশি।

পরের
খবর

কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা


আরও খবর

অর্থনীতি
কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা

চালের দাম কমেনি

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মিরাজ শামস

সম্প্রতি দেশে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৭ টাকা। গত বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে ধান ও চাল ব্যবসায়ীরা এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহ পার হলেও চালের দাম কমেনি। সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে সব শ্রেণিপেশার মানুষের।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের প্রাক্কালে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। মনিটরিং জোরদার না থাকার সুযোগে বছরের শুরুতেই চালের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখাচ্ছেন, অতি বৃষ্টিতে উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি বোরো মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমন মৌসুমে ধান এলেও সরকার বেশি দামে ধান-চাল কিনছে। এ কারণে বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে চালের দামও বেড়েছে।

যদিও এখন আমন মৌসুমের পর্যাপ্ত ধান রয়েছে। বাজার পর্যায়ে ধান ও চালের প্রচুর সরবরাহ আছে। ফলে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন ক্রেতারা।

বাজারে দাম বৃদ্ধির কয়েক দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। গত ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মিল মালিক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দেন চালের দাম কমানো হবে। ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের ভিত্তিতে দুই মন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে বেড়ে যাওয়া চালের দাম কমে আসবে। কিন্তু চালের বাজার আগের মতোই চড়া।

গত সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তার দপ্তরে এ বিষয়ে আলাপকালে সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে চালের দামে প্রভাব পড়েছে। চালের দাম কমবে। কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। চাল মজুদ রেখে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি-না খুঁজে দেখা হবে। চালের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এর পরেও দাম কেন বাড়ল তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এখনও রাজধানীর খুচরা বাজারে চড়া দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। খুচরা চাল বিক্রেতা মিরপুর-১ নম্বর বাজারের জহিরুল ইসলাম, পীরেরবাগের মো. মানিক ও কারওয়ান বাজারের মো. ইউনুস আলী সমকালকে জানান, খুচরায় চালের দাম কমেনি। পাইকারি বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

খুচরা বাজারে এখনও কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়ে যাওয়া সরু চাল মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা ও নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চাল বিআর-২৮ আমন মৌসুমের নতুন চাল ৩ টাকা বাড়তি দরে ৪০ থেকে ৪২ টাকা ও বোরো মৌসুমের চাল ৫ টাকা বেড়ে যাওয়া দর ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মোটা চালে ৪ টাকা বেড়ে স্বর্ণা ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ও গুটি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা বেড়ে এখন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কমাতো দূরের কথা, আরও বেড়েছে। সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে গড়ে ২ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ টাকা। এর মধ্যে মোটা চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি স্বর্ণার দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাঝারি চাল বিআর-২৮-এর দাম বেড়েছে ৫ টাকা ও মোটা চাল স্বর্ণার দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা বেড়েছে।

পাইকারি চালের আড়ত মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের জাহান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম স্বপন সমকালকে বলেন, মিল মালিকরা যে হারে দাম বাড়িয়েছেন সে তুলনায় দাম মোটেই কমাননি। সামান্য দাম কমালেও এখনও কম দামের চাল বাজারে আসেনি। প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম ২৫ থেকে ৫০ টাকা কমিয়েছেন। অন্যান্য চাল মিল থেকে বাড়তি দামেই আনতে হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে বস্তায় চালের দাম বেড়েছিল ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা।

এ হিসাবে মিল পর্যায়ে শুধু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা দাম কমেছে। তবে রাইস মিল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কেজিতে দুই-এক টাকা কমে মিল থেকে মিনিকেট চাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা এবং বিআর-২৮ চাল ৪১ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা কমেছে।

বাংলাদেশ অটো-মেজর ও হাসকিং রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও রশিদ এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ সমকালকে বলেন, 'মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চালের দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলাম। সে অনুযায়ী মিল পর্যায়ে সব চালের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে না কমলে সে ক্ষেত্রে মনিটরিং জোরদার করা উচিত।' তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে হঠাৎ বাজারে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ধানের চাহিদা বেড়ে যায়। বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিলগুলোতে চালের দাম সামান্য বাড়ানো হয়। কিন্তু খুচরায় তুলনামূলক অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন বাজারে চালের চাহিদা স্বাভাবিক হয়েছে। ধানের দামও কমছে। তাই মিলগুলোতে চালের দামও কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাল উৎপাদন বেড়েছে। গত মৌসুমে আমন চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার টন। এবার উৎপাদন আরও বেশি হবে। গত মৌসুমে বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টন ও আউশ চাল উৎপাদন হয়েছে ২৭ লাখ টন। তিন মৌসুমে চালের উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে চালের মজুদ রয়েছে ১২ লাখ ২৯ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার টন। ২০১৭ সালে বন্যায় হাওরে ফসল নষ্ট হওয়ায় সরকারি হিসাবে ৯ লাখ টন ঘাটতি ছিল। তখন ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল ২০ লাখ টন উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে আমদানিতে শুল্ক্ক কমানোয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৩৯ লাখ টন। এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক্ক ও কর পুনরায় আরোপ করা হয়। যাতে কৃষকদের ধান-চালের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়। তখন এক দফায় ব্যবসায়ীরা মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়িয়েছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) ড. মো. আবদুল মুঈদ সমকালকে বলেন, কৃষিপণ্যের যৌক্তিক মূল্যে কেনাবেচা হওয়া প্রয়োজন। যাতে কৃষকরা উৎপাদন খরচ পান। তারা যৌক্তিক দাম না পেলে আবাদে নিরুৎসাহিত হবেন। আবার বাজারে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হলেও এর সুবিধা কৃষকরা পান না। উল্টো ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ে। এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিকেজি ধানের গড় উৎপাদন খরচ ২৫ টাকা ৩০ পয়সা ও চালের গড় উৎপান খরচ ৩৭ টাকা ৯০ পয়সা। এই হিসাবে যৌক্তিক বাজার দাম হওয়া প্রয়োজন।

কয়েকদিন ধানের দাম কমেছে। এখন কৃষকরা বিক্রি করে স্বর্ণা জাতের ধানে মণপ্রতি ৭৩০, বিআর-২৮ জাতের ধান ৯২০ ও সরু ধানের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা পাচ্ছেন। এ হিসাবে ধানের কেজিতে বর্তমান গড় দাম ২২ টাকা ৮৮ পয়সা। এ দামে ধান বিক্রিতে কৃষকরা প্রতি কেজি ধানে উৎপাদন খরচের চেয়ে গড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা কম পাচ্ছেন। কৃষকরা কম পেলেও ক্রেতাদের অনেক চড়া দামেই চাল কিনতে হচ্ছে। নানা হাত ঘুরে এর বাড়তি মুনাফা তুলছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারী গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে অনুষ্ঠিত হয়েছে  বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেস্ট ইলেক্ট্রনিক্সের  চেয়ারপার্সন শারমিন মমতাজ। 

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান,পরিচালক সেলস সৈয়দ আশহাব জামান, পরিচালক মার্কেটিং সৈয়দ তাহমিদ জামান এবং সকল শোরুমের ব্যাবস্থাপক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। 

উক্ত সম্মেলনে ২০১৯ সালকে ঘোষণা করা হয়েছে সবুজ বছর হিসেবে। দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়বিদ্যুৎ ব্যবহারেও সাশ্রয়ী হতে হবে।

এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিস্তৃত ১১৮টি শোরুম এবং ২০০এরও বেশি ডিলার পয়েন্টেবিশ্ব নন্দিত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সব ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নিয়ে এসেছে বেস্টইলেক্ট্রনিক্স।

এ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী বেস্ট ইলেকট্রনিক্স ২০১৯ সালের মধ্যে ১৫০টি নিজস্ব শোরুম এবং ৫০০ডিলারপয়েন্ট স্থাপনকরার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তি