অর্থনীতি

একনেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার ২৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮

একনেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার ২৮ প্রকল্প অনুমোদন

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়— পিআইডি

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২৮টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এরমধ্যে সরকারের তহবিল থেকে প্রকল্পগুলোতে ২৪ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দাতাদের থেকে ঋণ ও অনুদান হিসেবে আসবে ৪ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সংস্থার অর্থায়ন থাকছে ৫৩৯ কোটি টাকা। এ নিয়ে বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে এক হাজার ৩৯০টি প্রকল্প অনুমোদন পেল।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা-পরবর্তী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, মূল একনেক সভায় ২০টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। দেশের মানুষের জন্য বিশেষ জরুরি বিবেচনায় আরও ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, 'পরিকল্পনা কমিশন অনেক গতিশীল হয়েছে, যে কারণে প্রয়োজনীয় সকল প্রকল্প অনুমোদন করা সম্ভব হলো। আরও কিছু প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু সামনে নির্বাচন। আমাদের নির্বাচন করতে হবে। আর একনেক হবে না তা বলা হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের কারণে সময় পাওয়া যাবে কি-না তার নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধিতে সাংঘর্ষিক না হলে একনেক সভা হতে পারে। সাংঘর্ষিক হলে তা করা হবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'অনেকে বলে থাকেন সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প অনুমোদন করছে। অবশ্যই সরকার তা করছে। কারণ, সরকার রাজনীতি করে জনগণের, দেশের উন্নয়নের জন্য। যেসব প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে তা সবই দেশের ও মানুষের স্বার্থে করা হয়েছে। এখন রফতানি বাড়ছে। এর পেছনে সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফল। সরকারের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে চলতি অর্থবছর শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে।'

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'সরকার এত উন্নয়ন করেছে যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিতে গেলে মানুষের হাত কাঁপবে।'

বুধবার একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে নেত্রকোনায় প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গবেষণা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়াতে ২৬৩ কোটির প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ৩ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ প্রকল্প। এক হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে বহদ্দারহাট বাড়ৈপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চা বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। ৭৪৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন, ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সারাদেশে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খননে নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, র‌্যাব ফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, সোনাগাজী ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ৭৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ, চট্টগ্রামে ৩৬ পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি চাকুরদের আবাসিক ফ্ল্যাট, আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ বিশেষ ধরনের পন্টুন নির্মাণ, বৃহত্তর নোয়াখালীর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃহত্তর রাজশাহীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রোহিঙ্গাদের জন্য বহুমুখী সেবা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

৩৬ টাকা দরে ছয় লাখ টন আমন চাল কিনবে সরকার


আরও খবর

অর্থনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ছয় লাখ টন আমন চাল সংগ্রহ করবে সরকার। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস চলবে সিদ্ধ আমন চাল সংগ্রহ কর্মসূচি। 

রোববার সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 

খাদ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ কমিটির সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য আধিদফতর এবং খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকার গত বছর ৩৯ টাকা দরে ৬ লাখ টন আমনের চাল সংগ্রহ করেছিল।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় লাখ টন আমন চাল সংগ্রহ করা হবে। চাল সংগ্রহ সন্তোষজনক হলে পরবর্তীতে আরও ২-৩ লাখ টন সংগ্রহ করা হবে। তবে সেটা পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে চালের দাম একটু কম। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে প্রতি কেজি চালের দাম ৩৩ টাকা থেকে ৩৪ টাকা। কৃষককে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অংশ হিসেবেই ৩৬ টাকায় চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারিভাবে চাল সাধারণত চুক্তির মাধ্যমে মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। 

আমন চালের উৎপাদন খরচ কত পড়েছে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন খরচ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন খরচের মধ্যে একটু হেরফের আছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন খরচ কোনো অবস্থাতেই ৩৫ টাকার বেশি হয় না। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন খরচটা একটু বেশি ধরা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ-খবর নিয়ে আমরা আমনের ক্রয়মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছি।

সভায় খাদ্য পরিস্থিতি ও মজুদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি খাদ্য গুদামে চাল ও গমসহ ১২ লাখ ১৮ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। এরমধ্যে চাল ৯ লাখ ৬৮ হাজার টন। এটা সর্বোচ্চ মজুদ।

১৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমন উৎপাদন ব্যয় প্রাক্কলন সংক্রান্ত এক সভায় প্রতি কেজি আমন ধানের উৎপাদন ব্যয় ২৫ টাকা ৩০ পয়সা ও চালের উৎপাদন ব্যয় ৩৭ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

পরের
খবর

কোথায় যাচ্ছে এত টাকা


আরও খবর

অর্থনীতি
কোথায় যাচ্ছে এত টাকা

নির্বাচনের আগে আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার বাড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আবু কাওসার ও ওবায়দুল্লাহ রনি

শিল্প স্থাপনে ব্যবহূত মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) আমদানি বেড়েছে ব্যাপকভাবে। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধিও ভালো। এই পরিসংখ্যানের হিসাবে দেশে বিনিয়োগে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করার কথা। বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। নতুন শিল্প স্থাপন নেই বললেই চলে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র অনেকটা হতাশাজনক। আবার আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। শিল্প স্থাপনের নামে কোটি কোটি ডলারের এলসি খোলা হলেও বিনিয়োগ সে অনুযায়ী হচ্ছে না। অর্থনৈতিক বিশ্নেষকদের প্রশ্ন- তাহলে এত টাকা যাচ্ছে কোথায়!

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সাধারণত নির্বাচনের বছরে নানা শঙ্কা ও ভয়ের কারণে দেশ থেকে অর্থ পাচার বাড়ে। অধিকাংশ দেশেই কমবেশি এ প্রবণতা দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা বেশি। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় বিনিয়োগ হয়নি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার অভাবে সম্পদশালী ব্যক্তিদের অনেকে অর্থ বিদেশে পাঠিয়ে দিতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিদর্শনেও অর্থ পাচারের নানা তথ্য উঠে এসেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশ থেকে টাকা পাচারের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে অর্থ পাচার সংক্রান্ত ৩২টি ঘটনার অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সূত্র বলছে, রফতানি না করেও এর বিপরীতে শত শত কোটি টাকা নগদ সহায়তা নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আবার আমদানির নামে এলসি খুলে বিল পরিশোধ করলেও অনেক ক্ষেত্রে পণ্য দেশে আসছে না। কর ফাঁকির মাধ্যমেও টাকা পাচার হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনের আগে এ প্রবণতা বাড়ছে। এভাবে নানা উপায়ে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। যদিও সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার বেড়েছে। অর্থ পাচারের দিক থেকে শীর্ষ ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০তম। এনবিআর সূত্র বলেছে, উচ্চ করহারের কারণে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি-রফতানির আড়ালে বিপুল অর্থ পাচার হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব উভয়ই কমেছে। আলোচ্য সময়ে দেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকার, যা আগের অর্থবছরের একই সময় ছিল প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। অপরদিকে একই অর্থবছরের ফেব্র্রুয়ারি পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে ৯৩০ কোটি ডলারের। অথচ গত অর্থবছরের এই সময়ে ছিল দেড় হাজার কোটি ডলার।

সম্প্রতি বাংলাদেশে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হলেও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি থেমে নেই। আসলে পণ্য আমদানি হচ্ছে, নাকি আমদানির আড়ালে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে- এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এটা বন্ধ হচ্ছে না। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার মূল্যের আমদানি হয়। এর মধ্যে শুধু মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি দেখানো হয়েছে এক হাজার ৪৫৬ ডলার। অর্থাৎ এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমদানির ২৫ শতাংশ। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। যেখানে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশের বেশি। সামগ্রিক আমদানির তুলনায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরেও একই প্রবণতা অব্যাহত আছে। গত জুলাই-আগস্টে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অথচ মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। এ সময়ে ২৪৯ কোটি ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি দেখানো হয়েছে, যা মোট আমদানির ২৬ শতাংশের বেশি। এদিকে বিপুল পরিমাণের আমদানি দায় মেটাতে গিয়ে চাপে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ কমে নেমে এসেছে ৩২ বিলিয়নে, যা গত বছর ৩৩ বিলিয়নের ওপরে ছিল।

ব্যাংকাররা জানান, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়লে সাধারণত শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ ব্যাপক বাড়ে। কিন্তু তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। গত মার্চ পর্যন্ত শিল্প খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশের কম। অথচ সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ শতাংশ। ঋণ প্রবৃদ্ধির এ অসামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বৃদ্ধির মানে নতুন কারখানা স্থাপন বা কারখানা সম্প্রসারণ। আর এ রকম হলে ব্যাংক খাতে ঋণ চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। তবে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির নামে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে তার ধারণা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৫ শতাংশ বেশি। অবশ্য গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ০৬ শতাংশে উঠেছিল। তবে ঋণের নামে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে- এ রকম অভিযোগ ওঠার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়। গত বছরের জানুয়ারিতে এক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত কমিয়ে দেওয়া হয়।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি যেভাবে বেড়েছে সে হারে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এই প্রবণতার অর্থই হচ্ছে মূলধনী যন্ত্রপাতির আড়ালে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের সংশ্নিষ্ট সংস্থার তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সাবেক এই গভর্নর মনে করেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ থাকলে এত টাকা পাচার হতো না। তার মতে, নির্বাচন এলেই টাকা পাচার হয়। এ জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃৃতির উন্নয়ন প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক কর্মকর্তা ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এটা অনেককে অর্থ পাচারে প্ররোচিত করে। তিনি আরও বলেন, আমদানি পর্যায়ে পাচারকৃত অর্থের বড় একটি অংশ যায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে। কারণ এসব পণ্য আমদানিতে নূ্যনতম শুল্ক্কহার থাকে। ফলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক্ক ফাঁকির মাধ্যমে টাকা পাচার করা সহজ।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অবকাঠামো খাতের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কিছু বাড়তে পারে। কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে তা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের বিষয়টি যৌথভাবে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ঋণ বৃদ্ধির বিষয়টি সন্দেহজনক। ঋণের টাকা নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সম্প্রতি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এখানে বেশি মূল্য দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

এনবিআর সূত্র বলছে, সাধারণত শূন্য শুল্ক্ক বা যেসব পণ্যের শুল্ক্কের হার কম থাকে, সেসব পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা বেশি হয়। বর্তমানে শিল্পে ব্যবহূত ক্যাপিটাল মেশিনারিজ বা মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক্ক ১ শতাংশ। এনবিআরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, শিল্প স্থাপনের নামে যে পরিমাণ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।

জানা যায়, টাকা পাচার বন্ধে আইনের সংস্কার হলেও তা কমেনি, বরং বেড়েছে। দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদকের তিনটি আইন থাকলেও টাকা পাচার অব্যাহত রয়েছে। মূলত এই তিনটি সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় এসব আইনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনটি ২০১২ সালে আরও শক্তিশালী করা হয়। এতে টাকা পাচার সংক্রান্ত যে কোনো ঘটনা তদন্তের যুগপৎ ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এনবিআর ও দুদক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়। কিন্তু সুফল মিলছে না।

পরের
খবর

'ক্যালেন্ডার গার্লস' প্রতিযোগিতার আবেদন ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

এই প্রজন্মের সম্ভাবনাময়ী তরুণীরা সর্বদা নিজেদেরকে প্রমাণ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের সুপ্ত প্রতিভাগুলো বিকশিত করার লক্ষ্যে এসিআই স্যান্ডালসোপ 'ক্যালেন্ডার গার্লস ২০১৯' নামে দেশব্যাপী একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে।

আগ্রহী প্রতিযোগীরা প্রাথমিকভাবে তাদের সেরা ছবিগুলো এসিআই স্যান্ডাল সোপ-এর ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রাম পেইজে জমা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন গ্রুমিং সেশন এর মাধ্যমে ছয়জন বিজয়ী ঘোষণা করা হবে; যারা সুযোগ পাবে এসিআই স্যান্ডাল সোপ-এর এক্সক্লুসিভ ক্যালেন্ডার-এ নিজেদের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে।

অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর এবং বয়স সীমা ১৮-২৬ বছর। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেজ facebook.com/acisandalsoap/এবং ইন্সটাগ্রাম পেজ instagram.com/acisandalsoap/। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি