অর্থনীতি

আমানতের যথার্থ ব্যবহার করছে না গ্রামীণ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমানতের যথার্থ ব্যবহার করছে না গ্রামীণ ব্যাংক

  শেখ আবদুল্লাহ

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘদিন ব্যাংকটি সে লক্ষ্য অনুযায়ী দরিদ্রদের অর্থায়ন করে আসছিল। দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা পালন করে আসছিল ব্যাংকটি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে দেখা  যাচ্ছে ব্যাংকটির মোট অর্থের একটি বড় অংশ গ্রাহকদের মাঝে ঋণ হিসেবে বিতরণ না করে সহজে মুনাফা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ব্যাংকটি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা দরিদ্রদের ঋণ হিসেবে না দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছে। এতে ব্যাংকটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের দরিদ্র মানুষ। সহজ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদে মুনাফা বাড়ানোর জন্য ক্ষুদ্রঋণের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক বিনিয়োগ করছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গ্রামীণ ব্যাংকের ২০১৭ সালের কার্যক্রমের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরে সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের সুশাসনেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকা, ২০১৭ সালে পর্ষদের কোনো সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া, প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়ে ব্যাংক পরিচালনার কারণে সুশাসনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালকরা।

সম্প্রতি পরিদর্শন শেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ব্যাংকটির আমানত, ঋণ বিতরণ, মুনাফার মতো খাতগুলোতে উন্নতি হয়েছে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ, পুঞ্জিভূত কু-ঋণ বেড়েছে। ২০১১ সালের মে মাসে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর থেকে এ পর্যন্ত ব্যাংকটি চলছে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়ে। এ ছাড়া ঋণ গ্রহীতা সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নির্বাচনও হয়নি সময়মতো। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মামলা। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। ২০১৬ সালে দেশব্যাপী বড় বন্যা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সময়ে গ্রামীণ ব্যাংক প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থায়ন করা এবং পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিছিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল শেষে গ্রামীণ ব্যাংকের মোট সম্পদের ৩২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ৭ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা হয়েছে। ওই সময়ে ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে প্রতীয়মান হয় গ্রামীণ ব্যাংক তার সংগ্রহ করা আমানতের বড় একটা অংশ আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সদস্যদের মধ্যে ঋণ হিসেবে বিতরণ না করে ব্যাংকসহ লাভজনক খাতে জমা রেখে লাভের পরিমান স্ম্ফীত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থা ব্যাংকটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করছে। এ জন্য সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ বাড়াতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যদিও গ্রামীণ ব্যাংক দাবি করেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যে টাকা জমা রাখা হয়েছে, তা মুনাফা বাড়ানোর জন্য নয়। ঋণ বিতরণের সুযোগ না থাকায় এ অর্থ জমা রাখা হয়েছে। ব্যাংকের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা এবং ঋণ চাহিদার ঘাটতির কারণে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অনেক তহবিল জমা হয়েছিল। ওইসব তহবিল অলস ফেলে না রেখে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক নিজে ঋণ বিতরণ করলে সরল হারে ১০ শতাংশ বা ক্রমহ্রাসমান ভিত্তিতে ২০ শতাংশ হারে সুদ পায়। কিন্তু কোনো ব্যাংক বা অন্য প্রতিষ্ঠানে এত মুনাফা পাওয়া যায় না। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকে জমা রাখা গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য বেশি লাভজনক হয় না।

এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতেই গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আবার ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ঋণের চাহিদাও তুলনামূলক কম ছিল। যে কারণে ঋণ বিতরণ কমে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে কিছু অর্থ অন্য খাতে বিনিয়োগ করতে হয়েছে। সম্প্রতি এটা কমে এসেছে। তিনি বলেন, সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই। বরং ঋণ বিতরণ বাড়ানোর জন্য বর্তমানে নতুন সদস্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বর্তমান সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনে ঘাটতি : ২০১৭ সালে ব্যাংকটিতে পরিচালনা পর্ষদের কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পরিচালনা পর্ষদও নেই। নেই স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকও। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ জন্য স্থায়ীভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও এরই মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্য থেকে ৯ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারও তিনজন পরিচালক মনোনয়ন দিয়েছে। কয়েক বছর পরে গঠিত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম সভা করে।

মুনাফা যথেষ্ট নয় : ২০১৭ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ২২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি। তবে আয়কর রেয়াত ও ব্যয় বিবেচনায় ব্যাংকটির এই মুনাফা যথেষ্ট নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যান্য ব্যাংকে যে অর্থ জমা রাখা হয়েছে তা না করে সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ বাড়িয়ে মুনাফা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সুদহার কমানোর পরামশ : গ্রামীণ ব্যাংক চার ধরনের ঋণ দেয়। উৎপাদনশীল খাতে বিতরণ করা ঋণের সুদহার সরল হারে ১০ শতাংশ বা ক্রমহ্রাসমান ভিত্তিতে ২০ শতাংশ। গৃহ নির্মাণ সুদহার ৮ শতাংশ। শিক্ষা ঋণের সুদহার শিক্ষা শেষে ৫ শতাংশ। আর ভিক্ষুকদের জন্য ঋণের সুদহার শূন্য শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদহারের তুলনায় গ্রামীণ ব্যাংকের সুদহার অনেক বেশি। গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যেতে পারে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ও কু-ঋণ বেড়েছে : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংকটির মোট আমানত ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর মোট ঋণ ও অগ্রিম (কর্মচারী ঋণ বাদে) বেড়েছে ২২ দশমিক ২১ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ধার ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩৭ কোটি টাকা। এসবের পাশাপাশি ব্যাংকটির মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণও আড়াই শতাংশ বেড়ে ২৩৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে অবলোপনকৃত অনাদায়ী পুঞ্জিভূত কু-ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১৬৭ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে অবলোপনকৃত অনাদায়ী কু-ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। মেয়াদোত্তীর্ণ ও কু-ঋণ কমানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, সামগ্রিকভাবে ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থার অদক্ষতার কারণে এ ধরনের ঋণ বাড়ছে।

বেড়েছে প্রতারণা, জাল জালিয়াতি ও তহবিল তছরুপ :  ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে গ্রামীণ ব্যাংকে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির ঘটনা বেশি ঘটেছে। ২০১৭ সালে সারাদেশে ৪৬৪টি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত অর্থের পরিমাণ ৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ ঘটনাকে আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব অর্থ আদায়ে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত এমডিকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব পর্ষদের : গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ১০৪তম সভায় ব্যাংকের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত এমডি বাবুল সাহাকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে পরিচালকরা একমত প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এক চিঠিতে বাবুল সাহাকে পূর্ণাঙ্গ এমডির দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল বলেন, ভারপ্রাপ্ত এমডির এখন অবসর প্রস্তুতি ছুটিতে থাকার কথা। পর্ষদের সুপারিশে তিনি ছুটি বাতিল করে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত হলে সব কাজ যথাযথভাবে করার স্বাধীনতা থাকে না। নিজস্ব উদ্ভাবন, চিন্তা প্রয়োগে নানা সীমাবদ্ধতা থাকে। এতে সামগ্রিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হয়। এ জন্য ব্যাংকের স্বার্থে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

এবার বাড়ল ডালের দাম


আরও খবর

অর্থনীতি
এবার বাড়ল ডালের দাম

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মিরাজ শামস

চড়া চালের বাজারের পাশাপাশি এবার বাড়ল ডালের দাম। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা এ পণ্যের মূল্য হঠাৎ অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আর অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কম দামি ডাল অ্যাঙ্করের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দেশে উৎপাদিত ডালের মৌসুম ফুরিয়ে আসায় দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা বেশিরভাগ ডালই বিক্রি হওয়ায় আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যাওয়ায় ডালের দাম দেশেও বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজার মিরপুর-১ নম্বরের শাহআলী মার্কেটের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ফয়জুর রহমান ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সমকালকে জানান, গত তিন দিনে পাইকারিতে মসুর ডালের দাম বস্তায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে খুচরা বাজারে ডালের দামও বেড়ে গেছে।

এসব বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি সরু মসুর ডাল ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ডাল তিন দিন আগেও ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এ ছাড়া দেশি হাইব্রিড মাঝারি মসুর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা বড় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে। এ ডাল ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডাল আমদানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ। অর্থবছরের এ সময় ১২ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা এক হাজার কোটি টাকার বেশি দামের ডাল আমদানি করা হয়। আগের বছরের এ সময় ১০ কোটি ডলারের ডাল আমদানি করা হয়। এর পরও এবার কম দামে আমদানি করা ডাল দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত বছর মসুর ডালের দাম দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল বলে জানান ডাল আমদানিকারকরা। একই কথা জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। গত ডিসেম্বরে প্রতি কেজি মোটা বড় মসুর ডাল ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা এবং সরু মসুর ডাল মানভেদে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় নেমে আসে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি সরু মসুর ডালের মৌসুম শেষ পর্যায়ে থাকায় ডিসেম্বরের শেষ দিকে এর দাম কিছুটা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এ সময় অন্যান্য ডালের দাম স্থিতিশীল ছিল। এবার হঠাৎ করে সব ধরনের মসুর ডাল ও অ্যাঙ্কর ডালের দাম বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ লেনটিল অ্যান্ড ক্রাশি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক বিকাশ চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, গত বছর জুনেই ডালের দাম অনেক কম ছিল। বছরের শেষভাগে ডালের দাম কমে গত এক যুগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম কমে যাওয়ায় তখন দেশেও কমে যায়। তখন কয়েকটি শিল্প গ্রুপ হঠাৎ অতিরিক্ত ডাল আমদানি করে ক্ষুদ্র আমদানিকারকদের পথে বসিয়েছেন। এর পর প্রচলিত আমদানিকারকরা লোকসান দিয়ে আমদানির ব্যবসা থেকে সরে যান। এখন বড় গ্রুপের হাতে ডালের বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে। আমদানিও কম হয়েছে। এ কারণে বড় আমদানিকারকরা ডালের বাজার নিয়ে খেলা করছেন। এতে হঠাৎ ডালের দাম বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারেও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সরু মসুর ডাল আসে ভারত থেকে। সেখানে ডালের দাম বেড়েছে। এ কারণে এ দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে।

দেশের বড় ডালের মোকাম নারায়ণগঞ্জে। এই পাইকারি আড়তে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। নারায়ণগঞ্জের আড়তে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি বড় মসুর ডাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা ও দেশি সরু মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯১ টাকা এবং মাঝারি মসুর ডাল ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাঙ্কর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকায়। এ ডাল পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জে কেজিতে আরও ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারের ক্রেতাদের একই মসুর ডাল কিনতে ২০ টাকা বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গড়ে প্রতিবছর ডালজাতীয় শস্য উৎপাদন আট লাখ টনের কাছাকাছি। এর মধ্যে দেশে গড়ে এক লাখ ৭০ হাজার টন মসুর ডাল উৎপাদন হয়। প্রতিবছর মসুর ডালের চাহিদা আড়াই লাখ টনের বেশি। উৎপাদন ছাড়া বাকি চাহিদা আমদানি মিটছে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, মসুর ডাল আমদানির পরিমাণ চাহিদার চেয়ে অর্ধেকের বেশি।

পরের
খবর

কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা


আরও খবর

অর্থনীতি
কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা

চালের দাম কমেনি

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মিরাজ শামস

সম্প্রতি দেশে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৭ টাকা। গত বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে ধান ও চাল ব্যবসায়ীরা এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহ পার হলেও চালের দাম কমেনি। সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে সব শ্রেণিপেশার মানুষের।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের প্রাক্কালে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। মনিটরিং জোরদার না থাকার সুযোগে বছরের শুরুতেই চালের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখাচ্ছেন, অতি বৃষ্টিতে উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি বোরো মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমন মৌসুমে ধান এলেও সরকার বেশি দামে ধান-চাল কিনছে। এ কারণে বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে চালের দামও বেড়েছে।

যদিও এখন আমন মৌসুমের পর্যাপ্ত ধান রয়েছে। বাজার পর্যায়ে ধান ও চালের প্রচুর সরবরাহ আছে। ফলে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন ক্রেতারা।

বাজারে দাম বৃদ্ধির কয়েক দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। গত ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মিল মালিক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দেন চালের দাম কমানো হবে। ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের ভিত্তিতে দুই মন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে বেড়ে যাওয়া চালের দাম কমে আসবে। কিন্তু চালের বাজার আগের মতোই চড়া।

গত সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তার দপ্তরে এ বিষয়ে আলাপকালে সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে চালের দামে প্রভাব পড়েছে। চালের দাম কমবে। কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। চাল মজুদ রেখে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি-না খুঁজে দেখা হবে। চালের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এর পরেও দাম কেন বাড়ল তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এখনও রাজধানীর খুচরা বাজারে চড়া দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। খুচরা চাল বিক্রেতা মিরপুর-১ নম্বর বাজারের জহিরুল ইসলাম, পীরেরবাগের মো. মানিক ও কারওয়ান বাজারের মো. ইউনুস আলী সমকালকে জানান, খুচরায় চালের দাম কমেনি। পাইকারি বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

খুচরা বাজারে এখনও কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়ে যাওয়া সরু চাল মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা ও নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চাল বিআর-২৮ আমন মৌসুমের নতুন চাল ৩ টাকা বাড়তি দরে ৪০ থেকে ৪২ টাকা ও বোরো মৌসুমের চাল ৫ টাকা বেড়ে যাওয়া দর ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মোটা চালে ৪ টাকা বেড়ে স্বর্ণা ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ও গুটি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা বেড়ে এখন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কমাতো দূরের কথা, আরও বেড়েছে। সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে গড়ে ২ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ টাকা। এর মধ্যে মোটা চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি স্বর্ণার দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাঝারি চাল বিআর-২৮-এর দাম বেড়েছে ৫ টাকা ও মোটা চাল স্বর্ণার দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা বেড়েছে।

পাইকারি চালের আড়ত মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের জাহান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম স্বপন সমকালকে বলেন, মিল মালিকরা যে হারে দাম বাড়িয়েছেন সে তুলনায় দাম মোটেই কমাননি। সামান্য দাম কমালেও এখনও কম দামের চাল বাজারে আসেনি। প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম ২৫ থেকে ৫০ টাকা কমিয়েছেন। অন্যান্য চাল মিল থেকে বাড়তি দামেই আনতে হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে বস্তায় চালের দাম বেড়েছিল ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা।

এ হিসাবে মিল পর্যায়ে শুধু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা দাম কমেছে। তবে রাইস মিল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কেজিতে দুই-এক টাকা কমে মিল থেকে মিনিকেট চাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা এবং বিআর-২৮ চাল ৪১ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা কমেছে।

বাংলাদেশ অটো-মেজর ও হাসকিং রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও রশিদ এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ সমকালকে বলেন, 'মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চালের দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলাম। সে অনুযায়ী মিল পর্যায়ে সব চালের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে না কমলে সে ক্ষেত্রে মনিটরিং জোরদার করা উচিত।' তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে হঠাৎ বাজারে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ধানের চাহিদা বেড়ে যায়। বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিলগুলোতে চালের দাম সামান্য বাড়ানো হয়। কিন্তু খুচরায় তুলনামূলক অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন বাজারে চালের চাহিদা স্বাভাবিক হয়েছে। ধানের দামও কমছে। তাই মিলগুলোতে চালের দামও কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাল উৎপাদন বেড়েছে। গত মৌসুমে আমন চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার টন। এবার উৎপাদন আরও বেশি হবে। গত মৌসুমে বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টন ও আউশ চাল উৎপাদন হয়েছে ২৭ লাখ টন। তিন মৌসুমে চালের উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে চালের মজুদ রয়েছে ১২ লাখ ২৯ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার টন। ২০১৭ সালে বন্যায় হাওরে ফসল নষ্ট হওয়ায় সরকারি হিসাবে ৯ লাখ টন ঘাটতি ছিল। তখন ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল ২০ লাখ টন উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে আমদানিতে শুল্ক্ক কমানোয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৩৯ লাখ টন। এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক্ক ও কর পুনরায় আরোপ করা হয়। যাতে কৃষকদের ধান-চালের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়। তখন এক দফায় ব্যবসায়ীরা মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়িয়েছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) ড. মো. আবদুল মুঈদ সমকালকে বলেন, কৃষিপণ্যের যৌক্তিক মূল্যে কেনাবেচা হওয়া প্রয়োজন। যাতে কৃষকরা উৎপাদন খরচ পান। তারা যৌক্তিক দাম না পেলে আবাদে নিরুৎসাহিত হবেন। আবার বাজারে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হলেও এর সুবিধা কৃষকরা পান না। উল্টো ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ে। এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিকেজি ধানের গড় উৎপাদন খরচ ২৫ টাকা ৩০ পয়সা ও চালের গড় উৎপান খরচ ৩৭ টাকা ৯০ পয়সা। এই হিসাবে যৌক্তিক বাজার দাম হওয়া প্রয়োজন।

কয়েকদিন ধানের দাম কমেছে। এখন কৃষকরা বিক্রি করে স্বর্ণা জাতের ধানে মণপ্রতি ৭৩০, বিআর-২৮ জাতের ধান ৯২০ ও সরু ধানের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা পাচ্ছেন। এ হিসাবে ধানের কেজিতে বর্তমান গড় দাম ২২ টাকা ৮৮ পয়সা। এ দামে ধান বিক্রিতে কৃষকরা প্রতি কেজি ধানে উৎপাদন খরচের চেয়ে গড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা কম পাচ্ছেন। কৃষকরা কম পেলেও ক্রেতাদের অনেক চড়া দামেই চাল কিনতে হচ্ছে। নানা হাত ঘুরে এর বাড়তি মুনাফা তুলছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারী গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে অনুষ্ঠিত হয়েছে  বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেস্ট ইলেক্ট্রনিক্সের  চেয়ারপার্সন শারমিন মমতাজ। 

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান,পরিচালক সেলস সৈয়দ আশহাব জামান, পরিচালক মার্কেটিং সৈয়দ তাহমিদ জামান এবং সকল শোরুমের ব্যাবস্থাপক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। 

উক্ত সম্মেলনে ২০১৯ সালকে ঘোষণা করা হয়েছে সবুজ বছর হিসেবে। দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়বিদ্যুৎ ব্যবহারেও সাশ্রয়ী হতে হবে।

এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিস্তৃত ১১৮টি শোরুম এবং ২০০এরও বেশি ডিলার পয়েন্টেবিশ্ব নন্দিত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সব ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নিয়ে এসেছে বেস্টইলেক্ট্রনিক্স।

এ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী বেস্ট ইলেকট্রনিক্স ২০১৯ সালের মধ্যে ১৫০টি নিজস্ব শোরুম এবং ৫০০ডিলারপয়েন্ট স্থাপনকরার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তি