অর্থনীতি

আজ আয়কর দিবস

অনলাইনে সাড়া কম

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইনে সাড়া কম

  বিশেষ প্রতিনিধি

আয়কর বিভাগে সংস্কার শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের পর। যদিও সেই সংস্কারের সুফল তেমন একটা মেলেনি। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সংস্কার হয়। তার পরও অর্থবহ কোনো সুফল আসেনি। কারণ ওই সব সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবসম্মত ছিল না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আয়কর থেকে রাজস্ব প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। এমন বাস্তবতায় আজ আয়কর দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

আয়কর খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে ২০১৬ সালে। ওই বছরের নভেম্বরে অনলাইনে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। যদিও এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। তখন পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় এটি। তখন থেকেই ডিজিটাল বা ই-টিআইএন প্রদান শুরু হয়। মূলত ই-টিআইএন পদ্ধতি চালু করার মধ্য দিয়ে কর বিভাগে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে।

এনবিআর দাবি করেছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে ঘরে বা অফিসে বসেই আয়কর রিটার্ন জমা, একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করের টাকা পরিশোধ করা যাবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে- অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া গেলেও ই-পেমেন্টে কর পরিশোধ নিশ্চিত হয়নি এখনও। করের টাকা জমা দেওয়ার জন্য আগের মতো প্রচলিত প্রথায় ব্যাংকে যেতে হয়। ফলে এর পুরোপুরি সুফল করদাতারা পাননি এখনও।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়ে করদাতার আগ্রহ এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। মাঠ পর্যায়ে একাধিক কর কমিশনার সমকালকে বলেছেন, তাদের অফিসে করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে আসেন না। সবাই ম্যানুয়াল বা প্রচলিত প্রথায় রিটার্ন জমা দেন। কারণ এই প্রযুক্তি ব্যবহার প্রসঙ্গে অভ্যস্ত নন করদাতারা। আরও সময় লাগবে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অনলাইন পদ্ধতিতে খুব কমসংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দেন। ২০১৭-১৮ করবর্ষে মোট ১৮ লাখ আয়কর রিটার্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র ৪৩ হাজার আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়া হয়। মোট জমা পড়া রিটার্নের এটি মাত্র ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর আগের করবর্ষে অনলাইনে জমা দেন মাত্র পাঁচ হাজার। চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত মোট রিটার্ন জমা পড়েছে প্রায় ১৬ লাখ। পুরো হিসাব পেতে আরও সময় লাগবে। তবে সদ্য শেষ হওয়া আয়কর মেলার তথ্য অনুযায়ী চার লাখ ৮৮ হাজার করদাতার মধ্যে মাত্র তিন হাজার ৭৭০ জন অনলাইনে সাড়া দেন। উপরোক্ত পরিসংখ্যানের হিসাবে এটা স্পষ্ট যে, অনলাইনের প্রতি করদাতাদের সাড়া এখনও তেমন মিলছে না। উন্নত বিশ্বে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মালয়েশিয়ায় যে সংখ্যক আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়, তার ৫০ শতাংশের বেশি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় দেওয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে এই চিত্র খুবই হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস উদযাপন করে এনবিআর। এ জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এনবিআর। যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ করদাতাদের উদ্দেশে সমকালকে বলেন, নির্ভয়ে কর পরিশোধ করুন। একই সঙ্গে সরকারকে নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ সম্পদের নিশ্চিত মালিক হওয়ার জন্য করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এনবিআরের মাধ্যমে আদায় করা মোট রাজস্বে আয়করের অংশ বর্তমানে ৩২ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট আয়কর আহরণ হয় ৬৫ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। কত আদায় হয়েছে সে হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সমকালকে বলেন, যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের সবাইকে কর প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য এ এস এম জহির মোহাম্মদ বলেন, কর আদায় বাড়াতে হলে ইতিমধ্যে যাদের ই-টিআইএন আছে তাদের সবাইকে রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যারা জমা দেন না, তারা কেন দেন না, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

জানা যায়, কর প্রশাসনকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক উৎসে কর ব্যবস্থা প্রবর্তন, আধুনিক কর তথ্য ইউনিট গঠন, আন্তর্জাতিক করের জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো সৃজন, গুরুত্বপূর্ণ জেলাসহ পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এখনও।

২ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে :আজ আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় হলেও আরও দু'দিন সময় পাওয়া যাবে। এনবিআর বলেছে, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া রোববার ২ ডিসেম্বর কর্মদিবসে রাত পর্যন্ত করদাতারা তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বইমেলায় বিকাশ


আরও খবর

অর্থনীতি
বইমেলায় বিকাশ

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইয়ের কেনা-বেচা জমে উঠেছে। নগদ টাকা দিয়ে যেমন বই কিনছেন পাঠক তেমনি বিকাশেও পেমেন্ট দিচ্ছেন। বইমেলা উপলক্ষে ক্যাশব্যাক অফার দিচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

বিকাশ অ্যাপে পেমেন্ট করলে ৩২% ছাড়া পাচ্ছেন ক্রেতা। প্রকাশকের দেয়া ২৫% ছাড়ের পরে বিকাশ অ্যাপ পেমেন্টে মিলছে ১০% ক্যাশব্যাক। ফলে একটি বই কিনতে ৩২% ছাড়া পাচ্ছেন ক্রেতা।

একজন প্রকাশক জানান, তাদের স্টলের ৫০ ভাগের বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের পেমেন্ট হচ্ছে বিকাশে।

বইমেলায় বই কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তপতী বলেন, এবারের বই মেলায় আমার পছন্দের চারটি বই কিনতে ৬০০ টাকার মত লেগেছে। বিকাশে পেমেন্ট করে ৬০ টাকা ক্যাশব্যাক পেয়েছি। ক্যাশব্যাকের টাকা দিয়ে একটি কবিতার বই কিনেছি।

মেলা প্রাঙ্গনে আছে বিনামূল্যে বিকাশ একাউন্ট খোলার সুবিধাও। বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা নাজনীন আখতার জানান, এখন বিকাশে কেনাকাটায় নানান ধরনের ক্যাশব্যাক থাকে। বইমেলায় এসে দেখলাম ছবি তুলেই একাউন্ট খুলে দিচ্ছে। এখানেই একাউন্ট খুলে ফেললাম।

বিকাশ সূত্রে জানা যায়, সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট থাকলে একাউন্ট খোলা যাচ্ছে সহজেই। বুথেই ছবি তুলে এবং পরিচয়পত্রের ফটোকপি করে একাউন্ট খোলা হচ্ছে। বুথের কর্মীরা বিকাশের ব্যবহার এবং ক্যাশব্যাক অফারের তথ্যগুলোও উপস্থাপন করছেন গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য মেলায় ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউটের ব্যবস্থাও রয়েছে। একজন ক্রেতা বিকাশ পেমেন্টে মেলা চলাকালীন সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পেতে পারেন।

বইমেলা উপলক্ষে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতেও ক্যাশব্যাক অফার রয়েছে। যারা সময় সুযোগ করে বইমেলায় এসে পছন্দের বইগুলো কিনতে পারছেন না তারা রকমারি অনলাইন শপে বই কিনে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়েতে পেমেন্ট করে একই সুযোগ পাবেন। অনলাইনে বই কেনাতেও বিকাশ পেমেন্টে থাকছে ১০ শতাংশ ক্যাশব্যক।

পরের
খবর

দেশে গাড়ি বানাবে নিটল টাটার যৌথ কোম্পানি


আরও খবর

অর্থনীতি

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। ভারতের বিখ্যাত মোটর গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরসের সঙ্গে যৌথভাবে কারখানা স্থাপন করবে তারা। এ জন্য যৌথ মালিকানায় নিটা নামে একটি কোম্পানি গঠন করেছে। 

এ কোম্পানি কিশোরগঞ্জে ইতিমধ্যে মিনি ট্রাক তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব ব্যাটারিচালিত ব্যক্তিগত গাড়ি তৈরিও করবে এ কোম্পানি। নিটল-নিলয় গ্রুপের উদ্যোগে ৯১ একর জমিতে স্থাপিত কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।

সোমবার কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত সনদ দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ইজেডের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহ্মাদের হাতে লাইসেন্স তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সবধরনের সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে শিগগির ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হবে। বিনিয়োগকারীদের তখন আর জটিলতায় পড়তে হবে না। তিনি বিনিয়োগকারীদের আগের প্রযুক্তি না এনে আগামী দিনের প্রযুক্তি আনার আহ্বান জানান।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বেজার এখন ৪০ হাজার একরের ল্যান্ড ব্যাংক। এসব জমিতে দেশ-বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে এসেছেন। দেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়লেও সহজে ব্যবসা পরিচালনা এখনও বড় বাধা। এটি সমাধান হচ্ছে। 

তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এ ইজেডের জন্য একটি ট্রেড লাইসেন্সের কারণে চূড়ান্ত সনদ পেতে ৬ মাস দেরি হয়েছে। এখন থেকে ইজেডের ট্রেড লাইসেন্স কয়েক মিনিটে দেবে বেজা। এ বিষয়ে গেজেট হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ২০টি আইন থেকে বেজাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যাতে বিনিয়োগকারীদের সহজে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে সার্টিফিকেট দিচ্ছে। তাদের সংস্থা সব কারিকুলাম ঠিক করে দেবে ও সার্টিফিকেট দেবে, যা দিয়ে দেশে ও বিদেশে কাজ পাওয়া সহজ হবে।

নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ বলেন, দেশের ক্ষতি হবে এমন ব্যবসা তারা করবেন না। দূষণমুক্ত গাড়ি তৈরি করতে নতুন ইজেডে কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জ ইজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুসাব্বির আহমাদ বলেন, এ ইজেডে যারা নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসবে তাদের ভাড়া দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ জোনের অর্ধেক জমি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি জমি ভাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের কোম্পানি মোটরসাইকেল উৎপাদন করছে। এখন গাড়ি তৈরি করা হবে। 

অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব ও টাটা মোটরসের কান্ট্রি ম্যানেজার জিতেন্দ্র বাহাদুরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহ্মাদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বাজার আর গাড়ি আমদানিনির্ভর থাকবে না। এখন দেশে তৈরি গাড়ি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা হবে। তিনি বলেন, পিকআপ তৈরির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যাটারিচালিত ব্যক্তিগত গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এ গাড়িতে জাপানে তৈরি ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে। এতে একবার চার্য দিলে ২০০ কিলোমিটার যাতায়াত করা যাবে। এ গাড়ির দাম পড়বে ১২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, কারখানায় গাড়ির যন্ত্রাংশ, বডিসহ সব কিছুই দেশে তৈরি করা হবে। বর্তমানে যৌথ মালিকানার কোম্পানি নিটার যশোরে একটি বাস ও ট্রাক সংযোজন কারখানা রয়েছে।


পরের
খবর

প্রয়োজন আছে বলেই নতুন ব্যাংক অনুমোদন: অর্থমন্ত্রী


আরও খবর

অর্থনীতি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল । ফাইল ছবি

  বিশেষ প্রতিনিধি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রয়োজন আছে বলেই তিনটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তারা সম্পূর্ণ বিচার বিশ্নেষণের ভিত্তিতে নতুন ব্যাংকগুলো অনুমোদন দিয়েছেন।

সোমবার সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে যোগদানের আগে বেসরকারি খাতে অনুমোদন পাওয়া নতুন তিন ব্যাংকের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কয়টি ব্যাংক আছে সেটা বড় কথা নয়। ব্যাংকগুলো যদি স্বাভাবিকভাবে চলে, নিয়মনীতি মেনে চলে এবং ব্যাংক যে উদ্দেশ্যে করা সে অনুযায়ী যদি গ্রাহকদের সেবা দিতে পারে, আর নিয়মের মধ্যে থাকতে পারে তাহলে সংখ্যা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। 

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সভায় নতুন তিনটি ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো: বেঙ্গল কমার্শিয়াল, দ্যা সিটিজেন ও পিপলস ব্যাংক। এর একদিন পর এ বিষয়ে উপরোক্ত মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

২০১২ সালেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় ১২টি বেসরকারি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার পর সমালোচনা হয়েছিল। এরপর গত কয়েক বছর ধরেই বিপুল পরিমাণ খেলাপিঋণ, আর্থিক কেলেংকারি, অনিয়ম আর তারল্য সঙ্কটের কারণে বারবারই আলোচনায় এসেছে দেশের ব্যাংক খাত। 

তারপরও গত সরকারের সময় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চাপ ছিল। যদিও আগের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ব্যাংক খাতের আকার বড় হয়ে যাওয়ায় তা সংকোচনের কথা বলেছিলেন। আর অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা দেশে নতুন কোনো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই বলে আসছিলেন। 

কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রায় দেড় মাসের মাথায়ই নতুন তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তিনটিসহ দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৬২ তে উন্নীত হতে যাচ্ছে। নতুন তিন ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংশ্নিষ্টতা রয়েছে।

সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে আমি নতুন তিন ব্যাংক নিয়ে পুরোপুরি অবহিত নই। তিনটি ব্যাংক সম্পর্কে আগে জানতে হবে। আমি এখনও ভালো জানি না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবো। তারপর আপনাদের জানাবো। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেহেতু অনুমোদন দিয়েছে, প্রয়োজন না থাকলে এ কাজ করতো না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়তো প্রয়োজন অনুভব করেই অনুমোদন দিয়েছে। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের যে ব্যাংকগুলো আছে তাদের পরিশোধিত মূলধন ৪শ' থেকে ৫শ' কোটি টাকা। এটা কিছুই নয়। বিদেশি কোনো ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চের যে মূলধন আছে তা আমাদের বিশটি ব্যাংকেরও নেই। ফলে ব্যাংকের সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করলে চলবে না। বিবেচনা করতে হবে ব্যাংকের চাহিদা আছে কি-না।

খেলাপিঋণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপিঋণ দীর্ঘদিন ধরেই হয়ে আসছে। এসব খেলাপিঋণ থেকে কিভাবে অব্যাহতি পেতে পারি সে বিষয়ে আমরা কথা বলছি। আমার মনে হয়, সহসাই একটি সমাধানে আসতে পারবো। খেলাপিঋণ যতই বেড়ে যায় ততই ব্যাংকের খরচ বাড়ে। বাড়ে ব্যাংক সুদ হার। এটা আমাদের কমাতেই হবে। এ জন্য বিশেষ অডিটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর