অর্থনীতি

অবৈধভাবে বেচাকেনা বাড়ছে

আড়াই বছরে অর্ধশতাধিক উদ্যোক্তা-পরিচালক বিনা ঘোষণায় ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধভাবে বেচাকেনা বাড়ছে

  আনোয়ার ইব্রাহীম

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ঘোষণা ছাড়া শেয়ার কেনাবেচা বেড়েই চলেছে। আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, ঘোষণা ছাড়া উদ্যোক্তা-পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। কিন্তু সমকালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত আড়াই বছরে অন্তত ৫৮ উদ্যোক্তা-পরিচালক বিনা ঘোষণায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন অবৈধ শেয়ার কেনাবেচা বাড়ছে। মালিকরা এভাবে ঘোষণা ছাড়া গোপন শেয়ার বিক্রি করায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, গত আড়াই বছরে সিএনএটেক্স, ফ্যামিলিটেক্স এবং এমারেল্ড অয়েলের মতো রুগ্‌ণ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা তাদের অধিকাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ সিএনএটেক্স এবং এমারেল্ড অয়েলের। বর্তমান কমিশনের অনুমোদনেই গত তিন থেকে পাঁচ বছরে কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। গত এক বছর সিএনএটেক্স শেয়ারহোল্ডিং তথ্য দিচ্ছে না। ফলে এর মালিকপক্ষ কতটা শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে গেছে, তাও জানা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্নেষকরা জানান, কোম্পানিগুলো লোকসানি হওয়ায় এবং পরিস্থিতি উত্তরণে কোনো পথ না থাকার কারণেই হয়তো তারা শেয়ার বিক্রি করে থাকতে পারেন। আবার শেয়ার  কেনাবেচার মাধ্যমে মুনাফা করতেও এমন শেয়ার কেনাবেচা করেন তারা।

আইন অনুযায়ী, হিসাব বছর শেষ হওয়ার দুই মাস আগে থেকে লভ্যাংশ ঘোষণার আগ পর্যন্ত উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ নেই। অন্য সময় শেয়ার কেনাবেচা করতে আগাম ঘোষণা প্রদান বাধ্যতামূলক। তবে কেনার ঘোষণা দিলে শেয়ারদর বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে বড় মুনাফা করার সম্ভাবনা কমে যায়। একইভাবে ঘোষণা দিয়ে শেয়ার বিক্রি করলে দরপতনেরও শঙ্কা থাকে। এ কারণেই গোপনে শেয়ার কেনাবেচা করেন তারা। আবার যারা কোম্পানি ছাড়তে চান, তারা বিষয়টি গোপনেই সারতে চান।

তবে এমন অবৈধ শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে কি-না, তা কঠোরভাবে নজরদারির ব্যবস্থা বিএসইসির নেই। স্টক এক্সচেঞ্জ বিচ্ছিন্নভাবে এ বিষয়টি নজরদারি করে এবং বিএসইসিকে তথ্য দেয়। কিন্তু সংস্থাটি ত্বরিত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে- এমন নজির খুব কম।

বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় উদ্যোক্তা-পরিচালকের শেয়ার পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনো উদ্যোক্তা-পরিচালক বিনা ঘোষণায় শেয়ার কেনাবেচা করলেন কি-না, তা ধরা কঠিন। শেয়ারের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সিডিবিএলকে বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এমন তথ্য সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা বলে এড়াতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

শেয়ারবাজার বিশ্নেষক ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ব্যবসায় অনুষদ বিভাগের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মূসা এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, নজরদারির ব্যবস্থা না থাকলে অবৈধ শেয়ার লেনদেন কখনই বন্ধ হবে না। আবার ধরা পড়লেও এ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন না করায় এমন লেনদেনে সাহস পাচ্ছেন মালিকপক্ষ। কমিশনের নিষ্ফ্ক্রিয়তাই এ ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমানের দাবি, শেয়ারবাজারের সব অনিয়ম বন্ধে তৎপর আছে বিএসইসি। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ব্যবস্থা কখনও নেওয়া হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিনা ঘোষণায় শেয়ার লেনদেনের দায়ে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ জানকে গত ১১ জুলাই সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই কারণে এমারেল্ড অয়েলের পরিচালক মনিরুল ইসলাম ও নারায়ণ চন্দ্র পাল এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা-পরিচালক সাইদুর রহমান খানকেও সতর্কপত্র দেওয়া হয়েছে।

তবে সমকালের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈয়দ মোহাম্মদ জান বিনা ঘোষণায় শেয়ার কেনাবেচা করেছিলেন ২০১৫ সালে। এ ঘটনার তিন বছর পর চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাকি দুইজন তারও আগে শেয়ার কেনাবেচা করেন। ঘটনার তিন বছর পর সতর্ক করে চিঠি দেওয়া যথেষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কি-না এবং এর মাধ্যমে এমন অবৈধ লেনদেন বন্ধ হবে কি-না- এমন প্রশ্নে সাইফুর রহমান বলেন, কমিশনের আইনে সতর্কপত্র ইস্যুও একটি শাস্তি। অবৈধভাবে শেয়ার কেনাবেচার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না- জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, 'শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। এতে কিছুটা সময় লাগে।'

এদিকে সমকালের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে অন্তত ১৬ কোম্পানির ২২ জন, ২০১৭ সালে অন্তত ২০ কোম্পানির ৩১ জন এবং চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট কোম্পানির ১৪ উদ্যোক্তা-পরিচালক বিনা ঘোষণায় শেয়ার কেনাবেচা করেছেন।

একজনেরই পাঁচ দফায় শেয়ার বিক্রি : জানা গেছে, সিএনএ টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান রোকসান মোরশেদ গত বছর তার শেয়ারের বড় অংশ বিক্রি করেছেন। মোট চার দফায় ৫ কোটি ১৮ লাখ শেয়ার প্রায় ৫৬ কোটি টাকায় বিক্রি করেন তিনি। প্রথম দফায় গত বছরের জানুয়ারিতে ৭৯ লাখ ৪ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন পৌনে দশ কোটি টাকায়। এ নিয়ে জবাবদিহি করতে হয়নি বলে দ্বিতীয় দফায় মার্চে একই পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেন, তৃতীয় দফায় গত বছরেরই এপ্রিলে ৪০ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার এবং অক্টোবরের একদিনে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৩৯ হাজার শেয়ার প্রায় ৩৩ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন।

শুধু সিএনএ টেক্সটাইলেরই নয়, ফ্যামিলি টেক্সটাইলের শেয়ারও বিনা ঘোষণায় বিক্রি করেছেন রোকসানা মোরশেদ। তিনি এ কোম্পানিরও উদ্যোক্তা-পরিচালক। গত বছরের অক্টোবরে এ কোম্পানির ৯২ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার সাড়ে সাত কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন। জানা গেছে, তিনি এখন দেশেই থাকেন না।

চেয়ারম্যানের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন অন্যরা : শুধু রোকসানা মোরশেদই নন, তার সাবেক স্বামী ও ফ্যামিলি টেক্সটাইলের উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোরশেদও গত বছরের অক্টোবরে সোয়া ২৩ কোটি টাকার বিক্রি করেন। এছাড়া সিএনএ টেক্সটাইলের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মধ্যে রোকসানা মোরশেদসহ গাজি গোলাম জাকারিয়া জ্যোতি, ইফতেখার আব্দুল হাই, শারমিন আক্তার লাভলি এবং বাংলাদেশ সুজ তাদের প্রায় ছয় কোটি শেয়ার ৬৫ কোটি টাকায় বিক্রি করেন।

বন্ধ কোম্পানি এমারেল্ড অয়েলের ক্ষেত্রেও ঘটেছে এমন ঘটনা। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা গীতা সাহা, প্রশান্ত কুমার সাহা এবং অঞ্জনা বসাক তাদের সমুদয় শেয়ার ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বিক্রি করেন বিনা ঘোষণায়। বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি মামলায় কোম্পানিটির মূল উদ্যোক্তা সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিব পলাতক।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানও আছে এ তালিকায় : শুধু ব্যক্তি নয়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও তাদের উদ্যোক্তা শেয়ার বিনা ঘোষণায় বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের এপ্রিলে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের ১০ লাখ শেয়ার সাড়ে নয় কোটি টাকায় বিক্রি হয় ভারতের মুম্বাইভিত্তিক ব্যাংক এইচডিএফসির কাছে। তালিকায় এ রকম আরও বন্ধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এ ছাড়া কেডিএস এক্সেসরিজ কোম্পানির করপোরেট উদ্যোক্তা কেডিএস গার্মেন্টস বিনা ঘোষণায় শেয়ার কেনাবেচা করেছে। একই অভিযোগ এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং কেয়া কসমেটিক্সের করপোরেট উদ্যোক্তা কেয়া ইয়ার্নের বিরুদ্ধে। পরিমাণে অল্প হলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুডস ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন তালিকাভুক্ত শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ার বিক্রি করেছে বিনা ঘোষণায়।

অভিযুক্ত যা বললেন : ফ্যামিলি টেক্সটাইল কোম্পানির চেয়ারম্যান মেরাজ-ই-মোস্তফা গত বছরের ১১ অক্টোবর তার নিজ নামের ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৬ হাজার শেয়ার বিনা ঘোষণায় বিক্রি করেছেন, যা ওইদিনে ডিএসইতে কোম্পানিটির বিক্রি হওয়া শেয়ারের প্রায় ৯৩ শতাংশ। ডিএসইতে ওইদিন ১ কোটি ৮২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৭টি শেয়ার বিক্রি হয়েছিল। বিনা ঘোষণায় শেয়ার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, 'ঘোষণা দিয়ে এত শেয়ার বিক্রি করলে বড় দরপতন হতো। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।' অন্যদিকে সংশ্নিষ্ট এক ব্রোকারেজ হাউস জানিয়েছে, তারা জানতেনই না যিনি শেয়ার কেনাবেচা করছেন তিনি উদ্যোক্তা-পরিচালক।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

এবার বাড়ল ডালের দাম


আরও খবর

অর্থনীতি
এবার বাড়ল ডালের দাম

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মিরাজ শামস

চড়া চালের বাজারের পাশাপাশি এবার বাড়ল ডালের দাম। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা এ পণ্যের মূল্য হঠাৎ অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আর অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কম দামি ডাল অ্যাঙ্করের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দেশে উৎপাদিত ডালের মৌসুম ফুরিয়ে আসায় দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা বেশিরভাগ ডালই বিক্রি হওয়ায় আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যাওয়ায় ডালের দাম দেশেও বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজার মিরপুর-১ নম্বরের শাহআলী মার্কেটের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ফয়জুর রহমান ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সমকালকে জানান, গত তিন দিনে পাইকারিতে মসুর ডালের দাম বস্তায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে খুচরা বাজারে ডালের দামও বেড়ে গেছে।

এসব বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি সরু মসুর ডাল ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ডাল তিন দিন আগেও ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এ ছাড়া দেশি হাইব্রিড মাঝারি মসুর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা বড় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে। এ ডাল ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডাল আমদানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ। অর্থবছরের এ সময় ১২ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা এক হাজার কোটি টাকার বেশি দামের ডাল আমদানি করা হয়। আগের বছরের এ সময় ১০ কোটি ডলারের ডাল আমদানি করা হয়। এর পরও এবার কম দামে আমদানি করা ডাল দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত বছর মসুর ডালের দাম দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল বলে জানান ডাল আমদানিকারকরা। একই কথা জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। গত ডিসেম্বরে প্রতি কেজি মোটা বড় মসুর ডাল ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা এবং সরু মসুর ডাল মানভেদে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় নেমে আসে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি সরু মসুর ডালের মৌসুম শেষ পর্যায়ে থাকায় ডিসেম্বরের শেষ দিকে এর দাম কিছুটা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এ সময় অন্যান্য ডালের দাম স্থিতিশীল ছিল। এবার হঠাৎ করে সব ধরনের মসুর ডাল ও অ্যাঙ্কর ডালের দাম বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ লেনটিল অ্যান্ড ক্রাশি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক বিকাশ চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, গত বছর জুনেই ডালের দাম অনেক কম ছিল। বছরের শেষভাগে ডালের দাম কমে গত এক যুগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম কমে যাওয়ায় তখন দেশেও কমে যায়। তখন কয়েকটি শিল্প গ্রুপ হঠাৎ অতিরিক্ত ডাল আমদানি করে ক্ষুদ্র আমদানিকারকদের পথে বসিয়েছেন। এর পর প্রচলিত আমদানিকারকরা লোকসান দিয়ে আমদানির ব্যবসা থেকে সরে যান। এখন বড় গ্রুপের হাতে ডালের বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে। আমদানিও কম হয়েছে। এ কারণে বড় আমদানিকারকরা ডালের বাজার নিয়ে খেলা করছেন। এতে হঠাৎ ডালের দাম বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারেও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সরু মসুর ডাল আসে ভারত থেকে। সেখানে ডালের দাম বেড়েছে। এ কারণে এ দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে।

দেশের বড় ডালের মোকাম নারায়ণগঞ্জে। এই পাইকারি আড়তে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। নারায়ণগঞ্জের আড়তে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি বড় মসুর ডাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা ও দেশি সরু মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯১ টাকা এবং মাঝারি মসুর ডাল ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাঙ্কর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকায়। এ ডাল পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জে কেজিতে আরও ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারের ক্রেতাদের একই মসুর ডাল কিনতে ২০ টাকা বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গড়ে প্রতিবছর ডালজাতীয় শস্য উৎপাদন আট লাখ টনের কাছাকাছি। এর মধ্যে দেশে গড়ে এক লাখ ৭০ হাজার টন মসুর ডাল উৎপাদন হয়। প্রতিবছর মসুর ডালের চাহিদা আড়াই লাখ টনের বেশি। উৎপাদন ছাড়া বাকি চাহিদা আমদানি মিটছে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, মসুর ডাল আমদানির পরিমাণ চাহিদার চেয়ে অর্ধেকের বেশি।

পরের
খবর

কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা


আরও খবর

অর্থনীতি
কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা

চালের দাম কমেনি

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মিরাজ শামস

সম্প্রতি দেশে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৭ টাকা। গত বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে ধান ও চাল ব্যবসায়ীরা এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু কথা রাখেননি ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহ পার হলেও চালের দাম কমেনি। সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে সব শ্রেণিপেশার মানুষের।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের প্রাক্কালে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। মনিটরিং জোরদার না থাকার সুযোগে বছরের শুরুতেই চালের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখাচ্ছেন, অতি বৃষ্টিতে উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি বোরো মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমন মৌসুমে ধান এলেও সরকার বেশি দামে ধান-চাল কিনছে। এ কারণে বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে চালের দামও বেড়েছে।

যদিও এখন আমন মৌসুমের পর্যাপ্ত ধান রয়েছে। বাজার পর্যায়ে ধান ও চালের প্রচুর সরবরাহ আছে। ফলে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন ক্রেতারা।

বাজারে দাম বৃদ্ধির কয়েক দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। গত ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মিল মালিক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দেন চালের দাম কমানো হবে। ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের ভিত্তিতে দুই মন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে বেড়ে যাওয়া চালের দাম কমে আসবে। কিন্তু চালের বাজার আগের মতোই চড়া।

গত সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তার দপ্তরে এ বিষয়ে আলাপকালে সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে চালের দামে প্রভাব পড়েছে। চালের দাম কমবে। কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। চাল মজুদ রেখে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি-না খুঁজে দেখা হবে। চালের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এর পরেও দাম কেন বাড়ল তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এখনও রাজধানীর খুচরা বাজারে চড়া দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। খুচরা চাল বিক্রেতা মিরপুর-১ নম্বর বাজারের জহিরুল ইসলাম, পীরেরবাগের মো. মানিক ও কারওয়ান বাজারের মো. ইউনুস আলী সমকালকে জানান, খুচরায় চালের দাম কমেনি। পাইকারি বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

খুচরা বাজারে এখনও কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়ে যাওয়া সরু চাল মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা ও নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চাল বিআর-২৮ আমন মৌসুমের নতুন চাল ৩ টাকা বাড়তি দরে ৪০ থেকে ৪২ টাকা ও বোরো মৌসুমের চাল ৫ টাকা বেড়ে যাওয়া দর ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মোটা চালে ৪ টাকা বেড়ে স্বর্ণা ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ও গুটি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা বেড়ে এখন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কমাতো দূরের কথা, আরও বেড়েছে। সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে গড়ে ২ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ টাকা। এর মধ্যে মোটা চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি স্বর্ণার দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাঝারি চাল বিআর-২৮-এর দাম বেড়েছে ৫ টাকা ও মোটা চাল স্বর্ণার দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা বেড়েছে।

পাইকারি চালের আড়ত মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের জাহান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম স্বপন সমকালকে বলেন, মিল মালিকরা যে হারে দাম বাড়িয়েছেন সে তুলনায় দাম মোটেই কমাননি। সামান্য দাম কমালেও এখনও কম দামের চাল বাজারে আসেনি। প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম ২৫ থেকে ৫০ টাকা কমিয়েছেন। অন্যান্য চাল মিল থেকে বাড়তি দামেই আনতে হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে বস্তায় চালের দাম বেড়েছিল ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা।

এ হিসাবে মিল পর্যায়ে শুধু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা দাম কমেছে। তবে রাইস মিল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কেজিতে দুই-এক টাকা কমে মিল থেকে মিনিকেট চাল ৪৬ থেকে ৫০ টাকা এবং বিআর-২৮ চাল ৪১ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা কমেছে।

বাংলাদেশ অটো-মেজর ও হাসকিং রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও রশিদ এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ সমকালকে বলেন, 'মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চালের দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলাম। সে অনুযায়ী মিল পর্যায়ে সব চালের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে না কমলে সে ক্ষেত্রে মনিটরিং জোরদার করা উচিত।' তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে হঠাৎ বাজারে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ধানের চাহিদা বেড়ে যায়। বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিলগুলোতে চালের দাম সামান্য বাড়ানো হয়। কিন্তু খুচরায় তুলনামূলক অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন বাজারে চালের চাহিদা স্বাভাবিক হয়েছে। ধানের দামও কমছে। তাই মিলগুলোতে চালের দামও কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাল উৎপাদন বেড়েছে। গত মৌসুমে আমন চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার টন। এবার উৎপাদন আরও বেশি হবে। গত মৌসুমে বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টন ও আউশ চাল উৎপাদন হয়েছে ২৭ লাখ টন। তিন মৌসুমে চালের উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে চালের মজুদ রয়েছে ১২ লাখ ২৯ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার টন। ২০১৭ সালে বন্যায় হাওরে ফসল নষ্ট হওয়ায় সরকারি হিসাবে ৯ লাখ টন ঘাটতি ছিল। তখন ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল ২০ লাখ টন উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে আমদানিতে শুল্ক্ক কমানোয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৩৯ লাখ টন। এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক্ক ও কর পুনরায় আরোপ করা হয়। যাতে কৃষকদের ধান-চালের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়। তখন এক দফায় ব্যবসায়ীরা মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়িয়েছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) ড. মো. আবদুল মুঈদ সমকালকে বলেন, কৃষিপণ্যের যৌক্তিক মূল্যে কেনাবেচা হওয়া প্রয়োজন। যাতে কৃষকরা উৎপাদন খরচ পান। তারা যৌক্তিক দাম না পেলে আবাদে নিরুৎসাহিত হবেন। আবার বাজারে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হলেও এর সুবিধা কৃষকরা পান না। উল্টো ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ে। এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিকেজি ধানের গড় উৎপাদন খরচ ২৫ টাকা ৩০ পয়সা ও চালের গড় উৎপান খরচ ৩৭ টাকা ৯০ পয়সা। এই হিসাবে যৌক্তিক বাজার দাম হওয়া প্রয়োজন।

কয়েকদিন ধানের দাম কমেছে। এখন কৃষকরা বিক্রি করে স্বর্ণা জাতের ধানে মণপ্রতি ৭৩০, বিআর-২৮ জাতের ধান ৯২০ ও সরু ধানের দাম ১ হাজার ১০০ টাকা পাচ্ছেন। এ হিসাবে ধানের কেজিতে বর্তমান গড় দাম ২২ টাকা ৮৮ পয়সা। এ দামে ধান বিক্রিতে কৃষকরা প্রতি কেজি ধানে উৎপাদন খরচের চেয়ে গড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা কম পাচ্ছেন। কৃষকরা কম পেলেও ক্রেতাদের অনেক চড়া দামেই চাল কিনতে হচ্ছে। নানা হাত ঘুরে এর বাড়তি মুনাফা তুলছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারী গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে অনুষ্ঠিত হয়েছে  বেস্ট ইলেকট্রনিক্সের বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেস্ট ইলেক্ট্রনিক্সের  চেয়ারপার্সন শারমিন মমতাজ। 

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান,পরিচালক সেলস সৈয়দ আশহাব জামান, পরিচালক মার্কেটিং সৈয়দ তাহমিদ জামান এবং সকল শোরুমের ব্যাবস্থাপক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। 

উক্ত সম্মেলনে ২০১৯ সালকে ঘোষণা করা হয়েছে সবুজ বছর হিসেবে। দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়বিদ্যুৎ ব্যবহারেও সাশ্রয়ী হতে হবে।

এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিস্তৃত ১১৮টি শোরুম এবং ২০০এরও বেশি ডিলার পয়েন্টেবিশ্ব নন্দিত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সব ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নিয়ে এসেছে বেস্টইলেক্ট্রনিক্স।

এ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী বেস্ট ইলেকট্রনিক্স ২০১৯ সালের মধ্যে ১৫০টি নিজস্ব শোরুম এবং ৫০০ডিলারপয়েন্ট স্থাপনকরার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তি