অর্থনীতি

‘ওয়াশ’ খাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট বরাদ্দের আহ্বান

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮

‘ওয়াশ’ খাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট বরাদ্দের আহ্বান

সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত অতিথিরা

  অনলাইন ডেস্ক

কাউকে পেছনে ফেলে নয়, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতের উন্নয়নে সবস্থানে সকলের প্রয়োজন বিবেচনায এনে সাম্যতা ও নায্যতার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াশ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত বিশিষ্ট গবেষকগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ ওয়াশ নেটওয়ার্কিং সংস্থাসমূহ। 

ওয়াশ খাতের  উন্নয়নে স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশপাশি অঞ্চলভিত্তিক বরাদ্দ বৈষম্য দূর করার সরকারের মনোযোগ আকর্ষন করতে রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে, ওয়াটারএইড, ইউনিসেফ, পিপিআরসি, ফানসা-বিডি, ডব্লিউএসএসসিসি-বি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল এবং ওয়াশ অ্যালায়েন্স- এই সংবাদ সন্মেলন আয়োজন করে। সকলের জন্য নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের অগ্রগতি যে কঠিন হয়ে পড়বে এই বিষয়ে তারা আলোচনা করেন।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পিপিআরসির চেয়ারম্যান ডঃ হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক অবস্থান বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াশ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে যে অসমতা, সেটা আমাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আমরা দেখেছি, স্থানভেদে ওয়াশ কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিরাজমান। ছোট শহর, চর, উপকূলীয় ও পাহাড়ী অঞ্চলের তুলনায় মহানগরগুলো অধিক বরাদ্দ পাচ্ছে। ওয়াশ খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট ও ব্যয়ের ধরন থেকে এটা পরিষ্কার যে বরাদ্দকৃত অর্থও সঠিক পরিমাণে ব্যয় হয়না।’ 

উল্লেখ্য, ওয়াটারএইড ও ইউনিসেফের সহযোগিতায়, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার(পিপিআরসি) এর করা একটি গবেষণায় (বাজেট বিশ্লেষণে) দেখা গিয়েছে যে  বাংলাদেশে সরকার ওয়াশ প্রোগ্রাম-এর উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং তা প্রতিফলন দেখা গেছে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হলেও গত ৬ অর্থবছরে অন্যান্য খাতের সামগ্রিক অর্থ বরাদ্দের তুলনায় বেশ কম। ২০১৭-২০১৮ চলতি অর্থ বছরে এই খাতে অর্থ বরাদ্দ ৬,৫০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে যা ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে ছিল ২,৫৬৩ কোটি টাকা। তবে গত ৬ অর্থ বছরে (২০১১-২০১২ থেকে ২০১৬-২০১৭) ক্রমবর্ধমান জিডিপি ও বর্ধিত জাতীয় বাজেটের বৃদ্ধির তুলনায় এই বরাদ্দকৃত অর্থ বেড়েছে মাত্র ৩.৩%, যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। 

শেষে ওয়াশ সেক্টর নেটওয়ার্ক সম্মিলিতভাবে নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ উল্লেখ করে সমাপ্তি করেনঃ 

-টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-০৬ অর্জন করবার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে। পিছিয়ে থাকা গ্রাম ও অবহেলিত অঞ্চলগুলোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

-সবাস্থ্যবিধি, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যথাযথ অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

-সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সুধীসমাজের অংশীদারিত্বে জনসচেতনতা তৈরি করা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

-টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ০৬ অর্জনের জন্য সূচকগুলোর আলোকে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সঠিক পরিবীক্ষণ, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় দরকার।

-সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও কার্যক্রমের অগ্রগতি অর্থনৈতিক কোডসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পেশ করা চালু করতে হবে। 

-পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য প্রস্তুতকৃত সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা (২০১১-২০২৫) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ঈদ সামনে রেখে নতুন নোট বিনিময় শুরু


আরও খবর

অর্থনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময় শুরু হয়েছে। সোমবার মতিঝিলসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব শাখা অফিস থেকে নতুন নোট ছাড়া হয়। রাজধানীর ১৪টি শাখার বিশেষ কাউন্টার থেকেও বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নোট নেওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নোট বিনিময় করা যাবে। অবশ্য প্রথম দিন খুব একটা ভিড় ছিল না বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কোনো ব্যক্তি ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের একটি করে প্যাকেট নিতে পারবেন। এর মানে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। তবে কাউকে একই মূল্যমানের একটির বেশি প্যাকেট তথা ১০০ পিস নোটের বেশি দেওয়া হবে না। কেউ চাইলে যে কোনো অংকের ধাতব মুদ্রা নিতে পারবেন। একই ব্যক্তি যেন একই মূল্যমানের একাধিক বান্ডিল নিতে না পারেন, সে লক্ষ্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে টোকেন সংগ্রহ করে নতুন নোট দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নোট দিতে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে যাত্রাবাড়ীর ন্যাশনাল ব্যাংক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের অগ্রণী ব্যাংক, বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখার সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ধানমণ্ডিতে ব্যাংক এশিয়া, উত্তরায় ঢাকা ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের আবদুল গণি রোডে অবস্থিত করপোরেট শাখা, সিটি ব্যাংকের মিরপুর শাখা, মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বনানী শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের মহাখালী শাখায় নতুন টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বঙ্গবন্ধু থাকলে দেশ হতো 'প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড'


আরও খবর

অর্থনীতি
বঙ্গবন্ধু থাকলে দেশ হতো 'প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড'

অর্থনীতি সমিতির সেমিনার

প্রকাশ : ১৩ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ 'প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড' হবে বলে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি জীবিত থাকলে তা এতদিনে বাস্তবায়ন হতো। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে ৮ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত আর কখনও হয়নি। গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে 'বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কতদূর যেত' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধকার ছিলেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। 


বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। খুব কাছে থেকে তাকে দেখেছেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার দুটি লক্ষ্য ছিল- স্বাধীনতা অর্জন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া। তিনি একেবারেই শূন্য হাতে শুরু করেছিলেন। কোনো গুদামে খাবার ছিল না, ব্যাংকে টাকা ছিল না; যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না। তার মধ্যেও অল্প দিনের মধ্যে যমুনা সেতু, সমুদ্রসীমা, স্যাটেলাইট- সব নিয়েই তিনি ভেবেছেন। 


তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে সামরিক শাসন। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের সময়ে। এর পর যারা বাংলাদেশের জন্ম চায়নি তাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। 


মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার পর যারা মনে করত- বাংলাদেশ টিকবে না, তারাই এখন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্ময় প্রকাশ করছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। 


মূল প্রবন্ধে আবুল বারকাত বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক আগেই আধুনিক মালয়েশিয়াকে ছাড়িয়ে যেত বাংলাদেশ। ১৯৯৪-৯৫ সালেই মাথাপিছু জিডিপিতে দেশটিকে ছাড়িয়ে যেত বাংলাদেশ। ২০১১ সালে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় দাঁড়াত ৪২ হাজার ৫১৪ কোটি ডলার। ওই সময় মালয়েশিয়ার মোট জাতীয়  আয় ১৫ হাজার ৪২৬ কোটি ডলার ছিল। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে ১৯৭৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতো। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কারণে ১৯৭৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩৬ বছরে দেশের অর্থনীতির পুঞ্জীভূত ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার। 


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এখন ২৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার দুই মাস আগে বলেছেন, 'আমি অনেক রাজা-উজিরের সাক্ষাৎ পাই। তবে এতদিনে একজনই জাতির পিতার (বঙ্গবন্ধু) সাক্ষাৎ পেয়েছি।'


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো মহামানবের প্রয়াণ না হলে দেশ আরও এগিয়ে যেত। 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শনের মূল বিষয় ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তার দর্শন অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলের যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে যেতে পারেনি। 


অর্থনীতি সমিতির সহসভাপতি এজেডএম সালেহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। 

পরের
খবর

পোশাক খাতের অর্থায়নে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি


আরও খবর

অর্থনীতি

বিআইবিএমের প্রতিবেদন

পোশাক খাতের অর্থায়নে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি

প্রকাশ : ১২ আগষ্ট ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতে ব্যাংকের অর্থায়নে সবচেয়ে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠানো সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ শতাংশ ব্যাংকার এমন ধারণা পোষণ করেন। রফতানিকারকরা সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন না করার কারণে অর্থায়নে জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করেন ৫৩ শতাংশ ব্যাংকার।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ব্যাংকের মাধ্যমে 'তৈরি পোশাকে বাণিজ্য সহজীকরণ : ঝুঁকি ও তা মোকাবেলার কৌশল' নামে এক কর্মশালায় প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। মূল প্রবন্ধে বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ব্যাংকে বৈদেশিক বাণিজ্য সেবার মান আগের চেয়ে ভালো। তবে পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স মানা হচ্ছে কি-না, তা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। স্বাগত বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী ব্যাংকিং কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেবায় কমপ্লায়েন্স পুরোপুরি পরিপালনের ওপর গুরুত্ব দেন।


বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, রফতানিকেন্দ্রিক জালিয়াতি কমাতে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে বিআইবিএমে নতুন কোর্স চালুর সুযোগ রয়েছে। এ প্রশিক্ষণ বৈদেশিক বাণিজ্যে জালিয়াতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে ঝুঁকি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। পোশাক রফতানিতে ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা সাব-কন্ট্রাক্ট। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাব-কন্ট্রাক্ট বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, দেশ থেকে ঋণের নামে অর্থ পাচার করা বড় অপরাধ। ব্যাংক কর্মকর্তারা জেনেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু করতে পারে না। একটি অপরাধ ফাঁস হলে তখন অন্য ঘটনা সামনে চলে আসে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাংককে উদ্যোগ নিয়ে নজরদারি করতে হবে।

এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমুদ হোসেন বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। রফতানিকারকদেরও নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।

বিকেএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ৬৫ শতাংশ রফতানি নির্দিষ্ট সময়ে করা সম্ভব হয় না নানা কারণে। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। পোশাক খাতের দক্ষ শ্রমিক সংকটের কারণে এ দেরি হয়।

ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন বলেন, পোশাক খাতের বাণিজ্য অনেকটা বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। সব নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে সবকিছু করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে জেনে-বুঝে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।