অর্থনীতি

‘ওয়াশ’ খাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট বরাদ্দের আহ্বান

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮

‘ওয়াশ’ খাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট বরাদ্দের আহ্বান

সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত অতিথিরা

  অনলাইন ডেস্ক

কাউকে পেছনে ফেলে নয়, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতের উন্নয়নে সবস্থানে সকলের প্রয়োজন বিবেচনায এনে সাম্যতা ও নায্যতার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াশ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত বিশিষ্ট গবেষকগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ ওয়াশ নেটওয়ার্কিং সংস্থাসমূহ। 

ওয়াশ খাতের  উন্নয়নে স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশপাশি অঞ্চলভিত্তিক বরাদ্দ বৈষম্য দূর করার সরকারের মনোযোগ আকর্ষন করতে রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে, ওয়াটারএইড, ইউনিসেফ, পিপিআরসি, ফানসা-বিডি, ডব্লিউএসএসসিসি-বি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল এবং ওয়াশ অ্যালায়েন্স- এই সংবাদ সন্মেলন আয়োজন করে। সকলের জন্য নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের অগ্রগতি যে কঠিন হয়ে পড়বে এই বিষয়ে তারা আলোচনা করেন।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পিপিআরসির চেয়ারম্যান ডঃ হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক অবস্থান বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াশ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে যে অসমতা, সেটা আমাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আমরা দেখেছি, স্থানভেদে ওয়াশ কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিরাজমান। ছোট শহর, চর, উপকূলীয় ও পাহাড়ী অঞ্চলের তুলনায় মহানগরগুলো অধিক বরাদ্দ পাচ্ছে। ওয়াশ খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট ও ব্যয়ের ধরন থেকে এটা পরিষ্কার যে বরাদ্দকৃত অর্থও সঠিক পরিমাণে ব্যয় হয়না।’ 

উল্লেখ্য, ওয়াটারএইড ও ইউনিসেফের সহযোগিতায়, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার(পিপিআরসি) এর করা একটি গবেষণায় (বাজেট বিশ্লেষণে) দেখা গিয়েছে যে  বাংলাদেশে সরকার ওয়াশ প্রোগ্রাম-এর উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং তা প্রতিফলন দেখা গেছে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হলেও গত ৬ অর্থবছরে অন্যান্য খাতের সামগ্রিক অর্থ বরাদ্দের তুলনায় বেশ কম। ২০১৭-২০১৮ চলতি অর্থ বছরে এই খাতে অর্থ বরাদ্দ ৬,৫০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে যা ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে ছিল ২,৫৬৩ কোটি টাকা। তবে গত ৬ অর্থ বছরে (২০১১-২০১২ থেকে ২০১৬-২০১৭) ক্রমবর্ধমান জিডিপি ও বর্ধিত জাতীয় বাজেটের বৃদ্ধির তুলনায় এই বরাদ্দকৃত অর্থ বেড়েছে মাত্র ৩.৩%, যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। 

শেষে ওয়াশ সেক্টর নেটওয়ার্ক সম্মিলিতভাবে নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ উল্লেখ করে সমাপ্তি করেনঃ 

-টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-০৬ অর্জন করবার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে। পিছিয়ে থাকা গ্রাম ও অবহেলিত অঞ্চলগুলোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

-সবাস্থ্যবিধি, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যথাযথ অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

-সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সুধীসমাজের অংশীদারিত্বে জনসচেতনতা তৈরি করা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

-টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ০৬ অর্জনের জন্য সূচকগুলোর আলোকে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সঠিক পরিবীক্ষণ, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় দরকার।

-সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও কার্যক্রমের অগ্রগতি অর্থনৈতিক কোডসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পেশ করা চালু করতে হবে। 

-পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য প্রস্তুতকৃত সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা (২০১১-২০২৫) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জাতীয় বাজেটে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি


আরও খবর

অর্থনীতি

সংবাদ সন্মেলনে জাতীয় বাজেটে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানান বক্তারা- ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় বাজেটে (২০১৮-১৯) শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে শিশু সংগঠন 'ন্যাশনাল চিলড্রেন'স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ)। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে 'জাতীয় বাজেটে শিশুদের ভাবনা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

এ সময় আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাফায়াত জামিল নওশাদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন 'ন্যাশনাল চিলড্রেন'স টাস্কফোর্স-এর ঢাকা জেলার সভাপতি ফারিয়া মেহজাবিন, 'ন্যাশনাল চিলড্রেন'স টাস্কফোর্সের সদস্য জাহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস নাইন, মারিয়া আক্তার জীম, তাইফা রহমান, ইয়াসমিন আক্তার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিক্ষা শিশুর অধিকার। কিন্তু আমাদের দেশের শিশুদের একটা অংশ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না, যেমন এতিম শিশু, পথে বসবাসকারী শিশু, দরিদ্র শিশু, শ্রমিক শিশু। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেই। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা দিনের ৬-৭ ঘণ্টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকলেও তাদের জন্য মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা নেই। গ্রামের অনেক এলাকায় শিশুদের অনেক দূর পথ অতিক্রম করে ক্লাস করতে হয়। এতে করে অনেক শিশু শারীরিক ও মানসিক চাপে শিক্ষা থেকে ঝরে পরে। এ ছাড়া দুর্গম চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও হাওর এলাকায় পর্যাপ্ত স্কুল নেই। যা আছে তাতে শিক্ষকরা ঠিকমতো উপস্থিত থাকেন না। এসব সমস্যা শিশুদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠা ও শিক্ষিত সমাজ গঠনের অন্তরায়। তাই আগামী প্রজন্মকে মেধাবী ও শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবি জানান তারা। 

এ সময় তারা সমগ্র বাংলাদেশ থেকে শিশুদের বাজেট প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রকল্প প্রস্তাবনাগুলো হলো- চর ও হাওর এলাকায় শিশুদের বিদ্যালয় ও হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো এবং সেখানে শিক্ষক ও ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা; প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিদ্যালয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা; সকল কমিউনিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে একদিনের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞ নিশ্চিৎ করা; সারাদেশে শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা; মাদক ও বাল্যবিয়ে বন্ধে সারাদেশে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা; শিশুর প্রতি সহিংসতা ও শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা বাড়ানোয় প্রকল্প গ্রহণ; ইন্টারনেটে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিৎকরণে আইসিটি প্রকল্প গ্রহণ; কোন কোন বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি নেই, তার তালিকা করে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেট ২০১৮-১৯কে সামনে রেখে 'ন্যাশনাল চিলড্রেন'স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) সারাদেশের ৬৪ জেলায় ৪৮০০ শিশুর সঙ্গে আলোচনা করে। সেখানে বাজেট নিয়ে তাদের ভাবনা তুলে ধরেন তারা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নির্বাচনী বছরে গুরুত্ব পাবে মেগা প্রকল্প


আরও খবর

অর্থনীতি
নির্বাচনী বছরে গুরুত্ব পাবে মেগা প্রকল্প

৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আবু কাওসার ও শেখ আবদুল্লাহ

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অবকাঠামো খাতের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে এসব প্রকল্পে বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব থাকছে। রাজধানীর গুলশানে ২০১৬ সালের জুনে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর মেট্রোরেল, মাতারবাড়ীসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন গতিহীন হয়ে পড়ে। অবশ্য সে অবস্থা এখন আর নেই। বর্তমানে আগ্রাধিকারমূলক মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে পদ্মা সেতুর কাজ। স্বপ্নের মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয়েছে গত বছর থেকে। নানা দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার পর পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে একনেকে। এরই মধ্যে অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে চীন। অন্যান্য মেগা প্রকল্পের কাজও হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে মেগা প্রকল্পগুলো গতি পেয়েছে। আরও দ্রুতগতিতে কাজ করে যথাসময়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিদিরা বলেছেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এসব প্রকল্প নেওয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে :দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়িয়ে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা। সে জন্য আগামী বাজেটে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেগা প্রকল্পের জন্য আলাদা বাজেট করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এটি ঘোষণা করে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্প জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে 'গতি সঞ্চালক' হিসেবে কাজ করবে।

যোগাযোগ করা হলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সরকার সার্বিক বাজেট বাড়চ্ছে। যদিও বাস্তবায়ন সেভাবে হচ্ছে না। প্রতিবছর মূল বাজেটে বরাদ্দ বেশি থাকে। পরে সংশোধিত বাজেটে কমানো হয়, কিন্তু সেই কমানো অঙ্কও পুরোটা খরচ হয় না। প্রাধিকারপ্রাপ্ত মেগা প্রকল্পের বেলায়ও তাই হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক, বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত বলেন, নির্বাচনী বছরে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ বেশি রাখা হচ্ছে। সরকার চাইবে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এসব প্রকল্পের অনেক কাজ এগিয়ে নিয়ে মানুষের সামনে দৃশ্যমান করতে। এটা খারাপ কিছু নয়, এতে প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। তবে বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, সরকার মূল বাজেটের ৮২/৮৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করে। সংশোধিত বাজেটের ৯৫ ভাগ হয়। হঠাৎ করে তো সরকারের বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়বে না। ফলে বরাদ্দ বেশি দিলেও বাস্তবায়ন মোটামুটি একই রকম হবে। কিছু প্রকল্প আছে, যেগুলোর কারিগরি কারণে হঠাৎ একসঙ্গে অনেক ব্যয় হতে পারে। তবে দৃশ্যমান কাজের গতি একই ধরনের থাকবে।

সূত্র জানায়, মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ফাস্টট্র্যাকভুক্ত (দ্রুততম সময়ে) প্রকল্পগুলো মেগা প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়। প্রথম দিকে ১০ প্রকল্প এর আওতায় থাকলেও পরবর্তী সময়ে এলএনজি টার্মিনাল ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পায়রা বন্দরকে গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন থেকে সরে এসেছে সরকার। এর বাইরে অন্যান্য প্রকল্প হচ্ছে :পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে ঘুমদুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প।

পদ্মা সেতু :৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৫৩ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় চার হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ ৬ শতাংশ বাড়িয়ে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হচ্ছে।

মেট্রোরেল :২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। নকশা প্রণয়ন, জমি অধিগ্রহণসহ মেট্রোরেলের মূল কাজ চলছে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৪০ কোটি টাকা। মেট্রোরেলের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়ে চার হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র :প্রায় সোয়া এক লাখ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ প্রকল্পে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৬০০ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ :ঢাকা-ভাঙ্গা ও ভাঙ্গা-যশোর রেললিংক (পদ্মা সেতু রেল সংযোগ) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এই রেলপথ নির্মাণ সম্পন্ন হলে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত দূরত্ব হবে ১৬৬ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে যশোর যেতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা। আসন্ন বাজেটে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

দোহাজারী-ঘুমদুম রেল প্রকল্প :দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের ঘুমদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটির সার্ভে করতেই শত বছরের বেশি সময় চলে গেছে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এডিবি দেবে ১৪ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা দেবে সরকার। চলতি বাজেটে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৩২ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

পায়রা সমুদ্রবন্দর :দক্ষিণাঞ্চলে পটুয়াখালী জেলায় পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয় ৪৫০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এর বাইরে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নাধীন। জানা যায়, আগামী বাজেটে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র্রের জন্য দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বরাদ্দের পরিমাণ জানা যায়নি। কারণ, কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

পরের
খবর

চট্টগ্রামে লেদারের পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করল এনেক্স বাংলাদেশ


আরও খবর

অর্থনীতি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

লেদারের তৈরি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করেছে এনেক্স বাংলাদেশ। নগরীর মিমি সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় মঙ্গলবার বিকেলে লেদার পণ্যে সাজানো বিশেষায়িত এ শো-রুম উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এ সময় মেয়র বলেন, 'দেশিয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে পরিচিত করতে পারে তরুণ উদ্যোক্তারা। তারা যদি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তবে দূর হবে দেশের বেকার সমস্যাও।' শুধু লেদারের পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশেষায়িত এ শো-রুম জনপ্রিয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উদ্বোধনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনেক্স বাংলাদেশের উদ্যোক্তা মো. মোস্তফা দিপু, তোফাজ্জল হোসেন, আরিফ মৃধা, শোয়েব তানবির, সাখাওয়াত হোসেন, অনিক তানভীর প্রমুখ। এ সময় উদ্যোক্তা মোস্তফা দিপু বলেন, 'চট্টগ্রামে এনেক্স বাংলাদেশের এটি প্রথম শো-রুম। এর আগে আমাদের আরও দুটি শো-রুমের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ঢাকায়। আশা করছি চট্টগ্রামে জনপ্রিয় হবে লেদার পণ্য।'