অর্থনীতি

রমজানে সহনীয় মুনাফার পরামর্শ বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮

রমজানে সহনীয় মুনাফার পরামর্শ বাণিজ্যমন্ত্রীর

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আসন্ন রমজান মাসে মুনাফা সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীদের চাহিদা মোতাবেক সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে। সরবরাহ যাতে ঠিক থাকে সেজন্য আমদানি পণ্য দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রমজান মাসে ব্যবসায়ীরাও দায়িত্বশীল হবেন। দেশের মানুষ স্বাভাবিক পরিবেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। 

রোববার  এক বৈঠকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং মূল্য বৃদ্ধির কারসাজি রোধে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বৈঠকের আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আমদানিকারক, পাইকারি খাতের ব্যবসায়ী এবং মট্যারিফ কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ, এনবিআর, টিসিবিসহ সংশ্নিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

চিনি ও পেঁয়াজ ছাড়া সব ধরনের পণ্যের বাজারদর স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের নিত্যপণ্য মজুদ অনেক বেশি রয়েছে। তাই রমজানে পণ্যের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। তার পরও যদি কোনো ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করে দাম বাড়ায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কঠোরভাবে বাজার মনিটর করবে। 

চিনির বাজার সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, চিনির দাম বিশ্ববাজারে ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। তাই চিনির দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। রোজায় পণ্যের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সবাই রোজা শুরুর আগেই ১৫ দিনের বাজার করে ফেলে। এজন্য প্রথম দিকেই বাজারে চাপ পড়ে। ১৫ দিন পরে আবার বিক্রেতারাই তাড়াহুড়া করে বিক্রির চেষ্টা করে। বিক্রি করতে না পারলে তো নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং প্রথম রোজার দাম দিয়ে সারা মাসের দাম বিচার করা ঠিক হবে না। 

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খালাস দ্রুত করতে হবে। পাশাপাশি এসব পণ্যবাহী পরিবহনকে সহজে চলাচলের ব্যবস্থা করে নিতে হবে। ভোজ্যতেল ও চিনি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিলগেট থেকে দ্রুত পণ্য ছাড় করার ব্যবস্থা করতে হবে। ম

এদিকে ব্যবসায়ীরা  মহয়রানি বোধ করেন এমন কার্যক্রম থেকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ব্যবসায়ীরা বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বাজারে গিয়ে হয়রানি করছেন। তারা বলছেন, ৫০ কেজির বস্তায় মোড়কীকরণ করা যাবে না, ৩০ কেজি করে মোড়ক করতে হবে। বস্তার গায়ে দাম লিখতে হবে। এ ধরনের বস্তা না থাকলে জরিমানা করার হুমকি দিচ্ছেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে উদ্দেশ করে বলেন, রমজান মাসে আপনারা দাম ও ওজনের বিষয়ে খোঁজ-খবর মরাখেন। অন্যান্য বিষয়ে রমজানের পরে দেখা যাবে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম লস্কর কিছু বলেননি। ম 

বৈঠকে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ঈদ সামনে রেখে নতুন নোট বিনিময় শুরু


আরও খবর

অর্থনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময় শুরু হয়েছে। সোমবার মতিঝিলসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব শাখা অফিস থেকে নতুন নোট ছাড়া হয়। রাজধানীর ১৪টি শাখার বিশেষ কাউন্টার থেকেও বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নোট নেওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নোট বিনিময় করা যাবে। অবশ্য প্রথম দিন খুব একটা ভিড় ছিল না বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কোনো ব্যক্তি ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের একটি করে প্যাকেট নিতে পারবেন। এর মানে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। তবে কাউকে একই মূল্যমানের একটির বেশি প্যাকেট তথা ১০০ পিস নোটের বেশি দেওয়া হবে না। কেউ চাইলে যে কোনো অংকের ধাতব মুদ্রা নিতে পারবেন। একই ব্যক্তি যেন একই মূল্যমানের একাধিক বান্ডিল নিতে না পারেন, সে লক্ষ্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে টোকেন সংগ্রহ করে নতুন নোট দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নোট দিতে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে যাত্রাবাড়ীর ন্যাশনাল ব্যাংক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের অগ্রণী ব্যাংক, বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখার সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ধানমণ্ডিতে ব্যাংক এশিয়া, উত্তরায় ঢাকা ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের আবদুল গণি রোডে অবস্থিত করপোরেট শাখা, সিটি ব্যাংকের মিরপুর শাখা, মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বনানী শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের মহাখালী শাখায় নতুন টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বঙ্গবন্ধু থাকলে দেশ হতো 'প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড'


আরও খবর

অর্থনীতি
বঙ্গবন্ধু থাকলে দেশ হতো 'প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড'

অর্থনীতি সমিতির সেমিনার

প্রকাশ : ১৩ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ 'প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড' হবে বলে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি জীবিত থাকলে তা এতদিনে বাস্তবায়ন হতো। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে ৮ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত আর কখনও হয়নি। গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে 'বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কতদূর যেত' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধকার ছিলেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। 


বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। খুব কাছে থেকে তাকে দেখেছেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার দুটি লক্ষ্য ছিল- স্বাধীনতা অর্জন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া। তিনি একেবারেই শূন্য হাতে শুরু করেছিলেন। কোনো গুদামে খাবার ছিল না, ব্যাংকে টাকা ছিল না; যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না। তার মধ্যেও অল্প দিনের মধ্যে যমুনা সেতু, সমুদ্রসীমা, স্যাটেলাইট- সব নিয়েই তিনি ভেবেছেন। 


তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে সামরিক শাসন। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের সময়ে। এর পর যারা বাংলাদেশের জন্ম চায়নি তাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। 


মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার পর যারা মনে করত- বাংলাদেশ টিকবে না, তারাই এখন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্ময় প্রকাশ করছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। 


মূল প্রবন্ধে আবুল বারকাত বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক আগেই আধুনিক মালয়েশিয়াকে ছাড়িয়ে যেত বাংলাদেশ। ১৯৯৪-৯৫ সালেই মাথাপিছু জিডিপিতে দেশটিকে ছাড়িয়ে যেত বাংলাদেশ। ২০১১ সালে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় দাঁড়াত ৪২ হাজার ৫১৪ কোটি ডলার। ওই সময় মালয়েশিয়ার মোট জাতীয়  আয় ১৫ হাজার ৪২৬ কোটি ডলার ছিল। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে ১৯৭৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতো। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কারণে ১৯৭৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩৬ বছরে দেশের অর্থনীতির পুঞ্জীভূত ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার। 


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এখন ২৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার দুই মাস আগে বলেছেন, 'আমি অনেক রাজা-উজিরের সাক্ষাৎ পাই। তবে এতদিনে একজনই জাতির পিতার (বঙ্গবন্ধু) সাক্ষাৎ পেয়েছি।'


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো মহামানবের প্রয়াণ না হলে দেশ আরও এগিয়ে যেত। 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শনের মূল বিষয় ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তার দর্শন অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলের যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে যেতে পারেনি। 


অর্থনীতি সমিতির সহসভাপতি এজেডএম সালেহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। 

পরের
খবর

পোশাক খাতের অর্থায়নে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি


আরও খবর

অর্থনীতি

বিআইবিএমের প্রতিবেদন

পোশাক খাতের অর্থায়নে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি

প্রকাশ : ১২ আগষ্ট ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতে ব্যাংকের অর্থায়নে সবচেয়ে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠানো সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ শতাংশ ব্যাংকার এমন ধারণা পোষণ করেন। রফতানিকারকরা সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন না করার কারণে অর্থায়নে জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করেন ৫৩ শতাংশ ব্যাংকার।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ব্যাংকের মাধ্যমে 'তৈরি পোশাকে বাণিজ্য সহজীকরণ : ঝুঁকি ও তা মোকাবেলার কৌশল' নামে এক কর্মশালায় প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। মূল প্রবন্ধে বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ব্যাংকে বৈদেশিক বাণিজ্য সেবার মান আগের চেয়ে ভালো। তবে পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স মানা হচ্ছে কি-না, তা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। স্বাগত বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী ব্যাংকিং কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেবায় কমপ্লায়েন্স পুরোপুরি পরিপালনের ওপর গুরুত্ব দেন।


বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, রফতানিকেন্দ্রিক জালিয়াতি কমাতে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে বিআইবিএমে নতুন কোর্স চালুর সুযোগ রয়েছে। এ প্রশিক্ষণ বৈদেশিক বাণিজ্যে জালিয়াতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে ঝুঁকি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। পোশাক রফতানিতে ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা সাব-কন্ট্রাক্ট। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাব-কন্ট্রাক্ট বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, দেশ থেকে ঋণের নামে অর্থ পাচার করা বড় অপরাধ। ব্যাংক কর্মকর্তারা জেনেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু করতে পারে না। একটি অপরাধ ফাঁস হলে তখন অন্য ঘটনা সামনে চলে আসে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাংককে উদ্যোগ নিয়ে নজরদারি করতে হবে।

এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমুদ হোসেন বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। রফতানিকারকদেরও নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।

বিকেএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ৬৫ শতাংশ রফতানি নির্দিষ্ট সময়ে করা সম্ভব হয় না নানা কারণে। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। পোশাক খাতের দক্ষ শ্রমিক সংকটের কারণে এ দেরি হয়।

ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন বলেন, পোশাক খাতের বাণিজ্য অনেকটা বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। সব নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে সবকিছু করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে জেনে-বুঝে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।