অর্থনীতি

সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেল ১২ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮

সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেল ১২ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান

বছরের সেরা সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা বিভাগে বিজয়ী হয়েছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রুহুল মতিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় -সমকাল

   সমকাল প্রতিবেদক

বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় ১২ উদ্যোক্তা ও দুই প্রতিষ্ঠান সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেয়েছে। শনিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কারের ভারপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপারসন রোকেয়া আফজাল রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংক এনএ বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসার এন. রাজাশেকারান (শেখর), সাজেদা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদা ফিজ্জা কবির, ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ফোরামের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল আউয়ালসহ বিশিষ্টজনেরা।

সিটি ফাউন্ডেশন ১৩তম বারের মতো এ পুরস্কার প্রদান করে।

চারটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের প্রত্যেককে ক্রেস্ট ও অর্থ মূল্য তুলে দেন অতিথিরা। উদ্যোক্তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে বিজয়ীকে পুরস্কার হিসাবে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাকি তিন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীরা প্রত্যেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে পেয়েছেন। এছাড়া প্রত্যেক কাটাগরিতে প্রথম রানার-আপ দেড় লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানার-আপ পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে।

বছরের সেরা সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা বিভাগে বিজয়ী হয়েছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ও বছরের সেরা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা হয়েছে মমতা। সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রুহুল মতিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এবার শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুরের মাসুমা খানম। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন পাবনার আটঘরিয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম ও দ্বিতীয় রানার-আপ মো. সলিম উদ্দিন। শ্রেষ্ঠ নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়েছেন ফরিদপুরের টেপাখোলার খালেদা আক্তার, প্রথম রানার-আপ হয়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জের মিলি খাতুন ও দ্বিতীয় রানার-আপ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের জাকিয়া আফরিন মুক্তা। শ্রেষ্ঠ তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়েছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মো. শাহিনুর রহমান। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন মেহেরপুরের মুজিবনগরের সাহিদা খাতুন ও দ্বিতীয় রানার-আপ ঢাকার উম্মে শায়লা রুমকী।

শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তা হয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার মো. সাইফুল্লাহ গাজী। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন কুষ্টিয়া সদরের বিউটি বেগম ও দ্বিতীয় রানার-আপ রাঙ্গামাটির তবলছড়ির শ্যামল বসু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সব চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ক্ষুদ্র শ্রেণির ব্যক্তিরা। যদিও তারা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মানবকল্যাণমুখী সংগঠন সিটি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সিটি ব্যাংক এনএ ছাড়াও সাজেদা ফাউন্ডেশন ও ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) উদ্যোগে সহায়তা করে। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে অবদান রাখছে তার স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা এ পুরস্কারের প্রধান লক্ষ্য।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ঈদ সামনে রেখে নতুন নোট বিনিময় শুরু


আরও খবর

অর্থনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময় শুরু হয়েছে। সোমবার মতিঝিলসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব শাখা অফিস থেকে নতুন নোট ছাড়া হয়। রাজধানীর ১৪টি শাখার বিশেষ কাউন্টার থেকেও বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নোট নেওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নোট বিনিময় করা যাবে। অবশ্য প্রথম দিন খুব একটা ভিড় ছিল না বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কোনো ব্যক্তি ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের একটি করে প্যাকেট নিতে পারবেন। এর মানে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। তবে কাউকে একই মূল্যমানের একটির বেশি প্যাকেট তথা ১০০ পিস নোটের বেশি দেওয়া হবে না। কেউ চাইলে যে কোনো অংকের ধাতব মুদ্রা নিতে পারবেন। একই ব্যক্তি যেন একই মূল্যমানের একাধিক বান্ডিল নিতে না পারেন, সে লক্ষ্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে টোকেন সংগ্রহ করে নতুন নোট দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নোট দিতে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে যাত্রাবাড়ীর ন্যাশনাল ব্যাংক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের অগ্রণী ব্যাংক, বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখার সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ধানমণ্ডিতে ব্যাংক এশিয়া, উত্তরায় ঢাকা ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের আবদুল গণি রোডে অবস্থিত করপোরেট শাখা, সিটি ব্যাংকের মিরপুর শাখা, মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বনানী শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের মহাখালী শাখায় নতুন টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

পোশাক খাতের অর্থায়নে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি


আরও খবর

অর্থনীতি

বিআইবিএমের প্রতিবেদন

পোশাক খাতের অর্থায়নে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি

প্রকাশ : ১২ আগষ্ট ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতে ব্যাংকের অর্থায়নে সবচেয়ে বড় বাধা বিলম্বে রফতানি। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠানো সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ শতাংশ ব্যাংকার এমন ধারণা পোষণ করেন। রফতানিকারকরা সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন না করার কারণে অর্থায়নে জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করেন ৫৩ শতাংশ ব্যাংকার।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ব্যাংকের মাধ্যমে 'তৈরি পোশাকে বাণিজ্য সহজীকরণ : ঝুঁকি ও তা মোকাবেলার কৌশল' নামে এক কর্মশালায় প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। মূল প্রবন্ধে বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ব্যাংকে বৈদেশিক বাণিজ্য সেবার মান আগের চেয়ে ভালো। তবে পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স মানা হচ্ছে কি-না, তা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। স্বাগত বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী ব্যাংকিং কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেবায় কমপ্লায়েন্স পুরোপুরি পরিপালনের ওপর গুরুত্ব দেন।


বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, রফতানিকেন্দ্রিক জালিয়াতি কমাতে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে বিআইবিএমে নতুন কোর্স চালুর সুযোগ রয়েছে। এ প্রশিক্ষণ বৈদেশিক বাণিজ্যে জালিয়াতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে ঝুঁকি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। পোশাক রফতানিতে ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা সাব-কন্ট্রাক্ট। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাব-কন্ট্রাক্ট বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, দেশ থেকে ঋণের নামে অর্থ পাচার করা বড় অপরাধ। ব্যাংক কর্মকর্তারা জেনেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু করতে পারে না। একটি অপরাধ ফাঁস হলে তখন অন্য ঘটনা সামনে চলে আসে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাংককে উদ্যোগ নিয়ে নজরদারি করতে হবে।

এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমুদ হোসেন বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। রফতানিকারকদেরও নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।

বিকেএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ৬৫ শতাংশ রফতানি নির্দিষ্ট সময়ে করা সম্ভব হয় না নানা কারণে। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। পোশাক খাতের দক্ষ শ্রমিক সংকটের কারণে এ দেরি হয়।

ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন বলেন, পোশাক খাতের বাণিজ্য অনেকটা বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। সব নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে সবকিছু করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে জেনে-বুঝে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পরের
খবর

এলসি খোলার পরদিনই এলো আমদানি পণ্য!


আরও খবর

অর্থনীতি
এলসি খোলার পরদিনই এলো আমদানি পণ্য!

বিডিবিএলে ২৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি

প্রকাশ : ১২ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হকিকত জাহান হকি

এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরদিনই আমদানি পণ্য হাতে পাওয়ার মতো অবিশ্বাস্য জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বিডিবিএলে (বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড)। এরপর ওই আমদানি পণ্যের বিপরীতে টাকার জন্য আবেদন করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ কোটি টাকা ছাড় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে ওই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ঢাকা ট্রেডিং হাউস নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের নিরীক্ষা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া কাগজপত্রে অর্থ লোপাটের তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে ওই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেশ করা হলে কমিশন সেটি যাচাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

দুদকের অনুসন্ধানে জালিয়াতি করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ওই ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। এই কর্মকর্তা এরই মধ্যে জালিয়াতিপূর্ণ ওই ঋণ-সংক্রান্ত ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন, সংশ্নিষ্ট অন্যান্য নথি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন।

বিডিবিএলের বর্তমান এমডি মনজুর আহমদ সমকালকে বলেন, ২০১২ সালের ওই ঋণ প্রস্তাবটির ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও তাদের ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন সর্বাংশে সত্য। দুটি প্রতিবেদনেই ঋণ জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই ঋণ জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

২০১২ সালে ওই জালিয়াতির সময়ের এমডি (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ড. মো. জিল্লুর রহমান সমকালকে বলেন, বিদেশ থেকে গম কেনার জন্য ঋণের আবেদনের সঙ্গে ঢাকা ট্রেডিং হাউস খাদ্য অধিদপ্তর থেকে যে সমঝোতা স্মারকটি এনেছিল, সেটি সঠিক ছিল না। এ ছাড়া ব্যাংকের সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনে ঋণটি প্রদান করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না। গ্রাহকের কাছ থেকে যথাযথভাবে জামানতও গ্রহণ করা হয়েছিল। ব্যাংক-কাস্টমার সম্পর্কও ছিল চমৎকার।

জিল্লুর রহমান ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিডিবিএলের এমডির দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।

দুদক সূত্র জানায়, ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও গ্রাহক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত ওই ব্যাংকটির ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা ট্রেডিং হাউস জালিয়াতি করে ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে খাদ্য অধিদপ্তরকে  ৫০ হাজার টন গম সরবরাহের একটি ভুয়া সমঝোতা চুক্তি তৈরি করেছিল। চুক্তিটি এই অধিদপ্তরের অনুকূলে ইস্যু দেখানো হয়েছিল ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল।

খাদ্যপণ্য ক্রয়ের বিপরীতে ৩০ কোটি টাকা ঋণের আবেদন জানিয়ে চুক্তিপত্রটি বিডিবিএলের ঢাকার মতিঝিলের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চে পেশ করা হয়েছিল ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল। পরে ওই শাখা থেকে চুক্তিপত্রটি যাচাই না করে গ্রাহকের দাবিকৃত ৩০ কোটি টাকার এলটিআর (লোন ট্রাস্ট রিসিপ্ট) তৈরি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

২০১২ সালের ৪ জুন প্রস্তাবটির বিপরীতে ঋণ-সংক্রান্ত মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। এর পরের দিন ৫ জুন ওই ৫০ হাজার টন গমের মধ্যে ১৫ হাজার টনের আমদানি এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়। আবার এর পরের দিন ৬ জুন এলসির বিপরীতে মালামাল বুঝে পেয়েছেন উল্লেখ করে অর্থছাড়ের জন্য শাখায় লিখিত অনুরোধ জানান ঢাকা ট্রেডিং হাউসের মালিক টিপু সুলতান। এরপর ১৫ হাজার টন গমের বিপরীতে ২৫ কোটি টাকা ছাড় করা হয়। এই সময় মতিঝিলের বিডিবিএলের প্রধান কার্যালয়ের নিচতলায় ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চের দায়িত্বে ছিলেন সে সময়ের ডিজিএম সৈয়দ এনআর কাদরী। পরে তিনি জিএম হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে অবসরে আছেন।

দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এলসি খোলার পর ৩০ দিনের মধ্যে মালপত্র সরবরাহের কথা উল্লেখ ছিল ঋণ প্রস্তাবটিতে। এ ক্ষেত্রে আগের দিন এলসি খুলে পরের দিন মালপত্র বুঝে পাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক, অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, ওই ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের পেছনে পুরো ঘটনাই ছিল সাজানো।

দুদক জানায়, ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটি ঋণ-সংক্রান্ত নীতিমালা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম-কানুন মেনে ঋণ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিল। ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে ছয় কোটি টাকার সিকিউরিটি মানি (এফডিআর লিয়েন) রাখা ও আগের পাওনা থাকলে তা পরিশোধের কথাও বলা হয়েছিল। ক্রেডিট কমিটির মতামত উপেক্ষা করে ব্যাংকের ওই সময়কার এমডি জিল্লুর রহমান প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করেছিলেন। ক্রেডিট কমিটির আপত্তি থাকা সত্ত্বেও পর্ষদ সভায় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক।

জানা গেছে, অডিট ফার্ম জি. কিবরিয়া অ্যান্ড কোং নিরীক্ষা করে খাদ্য অধিদপ্তরের নামে ইস্যু করা ওই সমঝোতা চুক্তিপত্র জাল বলে প্রমাণ পায়। ঋণ প্রস্তাবের নথিপত্রেও জাল-জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। নিরীক্ষকরা খাদ্য অধিদপ্তরে গিয়ে ওই সমঝোতা চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা ট্রেডিং হাউসের সঙ্গে গম সরবরাহের চুক্তি হয়নি বলে জানানো হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও ওই ঋণের নথিপত্রে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

ওই ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে বিডিবিএলের পাঁচ কর্মকর্তাকে গত ৫ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। পর্যায়ক্রমে ওই সময়কার সংশ্নিষ্ট আরও কর্মকর্তা, এমডি ড. মো. জিল্লুর রহমান ও পর্ষদ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। গত ৫ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান। জিজ্ঞাসাবাদ করা পাঁচ কর্মকর্তা হলেন- ব্যাংকের সাবেক জিএম সৈয়দ এনআর কাদরী, এজিএম দেওয়ান মোহাম্মদ ইসহাক, এসপিও দীনেশ চন্দ্র সাহা, তাহমিনা বানু ও কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কনসালট্যান্ট মাহে আলম।