অর্থনীতি

ডিসিসিআই সমকাল চ্যানেল টোয়েন্টিফোর প্রাক-বাজেট আলোচনা

করহারে ছাড় আসছে

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮

 করহারে ছাড় আসছে

শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিসিসিআই, সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোর আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ অতিথিরা -সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

আগামী অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট করহার কমানোর ঘোষণা একাধিকবার দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত এ দুই কারিগর শনিবার করপোরেট করহারের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, আগামী বাজেট অধিকতর বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব হবে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রচুর তরুণ এখন কর দিচ্ছেন। তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেই তিনি করপোরেট করহার কমাচ্ছেন। সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী বাজেট পেশের পর এটি পর্যালোচনা করা হবে।

শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), সমকাল এবং চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের যৌথ আয়োজনে দীর্ঘ ২ ঘণ্টা প্রাক-বাজেট আলোচনায় তারা আগামী বাজেট নিয়ে সরকারের নানা ভাবনা তুলে ধরেন। সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান। আলোচনায় কর ও ভ্যাট, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজার- এই চারটি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। প্রত্যেক বিষয়ে প্যানেল আলোচনার পর সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নতুন শিল্পকে এখনও সংরক্ষণ করছে সরকার। এ কারণে এবারও আমদানি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক থাকবে। তবে ধীরে ধীরে এ সংরক্ষণমূলক অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে বেরোতে হবে। কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর একাধিকবার কর আরোপ না করার যে দাবি ব্যবসায়ীরা তুলেছেন, তা সমাধানে কাজ চলছে। অগ্রিম আয়কর যাতে ঠিকমতো রিফান্ড বা ফেরত পায় তার উদ্যোগ থাকবে। সঞ্চয়পত্র প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার একটু বেশি রাখা সরকারের নীতি। তবে এখন তা অনেক বেশি হয়ে গেছে। বাজেট পেশের পর এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বাজেটে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। আয়করে কিছু নতুন বিষয় আসবে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ছাড় দেওয়া হবে। মোবাইল ফোনের ফোর জি প্রযুক্তি বিকাশে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ও হালকা প্রকৌশল খাতকে উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ পদক্ষেপ থাকবে বিনিয়োগ বাড়াতে। তিনি জানান, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। অন্যান্য বছরের তুলনায় আগামী বাজেট ভালো হবে।

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার অনুষ্ঠানের সামপনী অংশে সংবাদপত্রের নিউজপ্রিন্টের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংবাদপত্র শিল্প বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে আছে। নিউজপ্রিন্টের দাম এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। এ শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। তিনি আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

কর ও ভ্যাট: কর ও ভ্যাট বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ। ব্যক্তিশ্রেণি করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমানে বার্ষিক আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকায় উন্নীত করা, লভ্যাংশের ওপর মাল্টিপল কর প্রত্যাহার, আগামী তিন বছর করপোরেট করহার পর্যায়ক্রমে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ কমানোসহ কিছু প্রস্তাব করেন তিনি।

আলোচনায় এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব ভালো। তবে অনেক বেশি কমানো ঠিক হবে না।

গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কম। দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে এগিয়ে নিতে হলে এ অনুপাত অনেক বাড়াতে হবে। তিনি ভ্যাট আইনে সংস্কারের দাবি করেন।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, আমদানিতে অগ্রিম আয়কর দিয়ে এ অর্থ শেষ পর্যন্ত 'রিফান্ড' পাওয়া যায় না। তিনি এ হার ২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি করেন।

আইসিএবির সাবেক সভাপতি আদিব এইচ খান বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে তার দায়ভার নিয়োগকারী সংস্থা কেন নেবে বলে প্রশ্ন তোলেন। তিনি এ নিয়ম বাতিলের দাবি করেন।

ফরেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, শিল্প খাতে কর্মসংস্থান আগের চেয়ে কমে গেছে। এটা উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হাজি আবদুস সালাম প্যাকেজ ভ্যাটের পরিমাণ বছরে ২৮ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৪ হাজার টাকা ও দোকানপাটে ইসিআর মেশিন না বসানোর প্রস্তাব দেন।

প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী কোম্পানির কর্মকর্তারা আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি করার যে নিয়ম করা হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া লভ্যাংশের ওপর একাধিক স্তরে কর আরোপ প্রত্যাহারের দাবি নিয়েও এনবিআর কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব তুলে ধরেন সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম। আলোচনায় বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, আমদানি করা এলএনজি ও বিদ্যুতের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। শোনা যাচ্ছে, এলএনজির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া হবে। কিন্তু দেশীয় গ্যাসের ওপর ১০০ শতাংশ কর আছে। যদি দেশীয় গ্যাসের ওপর কর তুলে নিয়ে শুধু ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে দুই গ্যাসের মিশ্রণ করা হয় তাহলে গ্রাহক পর্যায়ে দাম সহনীয় থাকবে। এতে অবশ্য সরকারের কিছু রাজস্ব কমবে। তবে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা হবে। শিল্প-কারখানার প্রসার ঘটবে।

ডিসিসিআইর পরিচালক হুমায়ুন রশিদ বলেন, একটা পর্যায়ে বাংলাদেশে ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এজন্য স্থানীয় ইপিসি কন্ট্রাক্টরদের (বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাতা কোম্পানি) সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কিন্তু ট্যাক্স-ভ্যাটের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পিডব্লিউসি বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো অর্থায়ন মাত্র জিডিপির ২ শতাংশ। এটাকে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ জন্য বেশি প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগের। তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে প্রচলিত আইন-কানুনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে।

কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান করিম বলেন, বিদ্যুতের মতো অন্যান্য খাতেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে হবে। দেশে কিছু অবকাঠামো পণ্য তৈরি হচ্ছে, বাইরের বিভিন্ন দেশে এসবের চাহিদা রয়েছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারের কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বাড়ানো হলে খরচও বেড়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্প শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। অথচ এখন শোনা যাচ্ছে, এর সংস্কারের জন্য আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হবে। এর মানে, প্রকল্প বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হয়নি। তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী এ পর্বে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয় সত্য। তবে আগের চেয়ে কিছু কিছু উন্নতি হয়েছে। গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ আছে। অবস্থার উন্নতিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে পায়রা বন্দর প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না। এ বছর ডিসেম্বর নাগাদ হবে।

শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্য: এ অধিবেশনে ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব তুলে ধরেন সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। এজন্য শিল্পে ও ব্যবসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা বাড়াতে হবে। সুদহার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে হবে। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, এখন সময় এসেছে মোটরগাড়ি তৈরিতে নীতিমালা করার। মোটরগাড়ি বিষয়ক নীতিমালা না থাকায় অনেক বিদেশি বিনিয়োগ পার্শ্ববর্তী ভারত, মিয়ানমার, কম্বোডিয়ায় চলে গেছে। নীতিমালা করা হলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিস্কণ্টক জমি না-পাওয়ার কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। এজন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এখন অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। বন্দরের সঙ্গে এসইজেডের সংযোগ থাকতে হবে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র ইকোনমিস্ট মাশরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশকে এখন এলডিসি-পরবর্তী সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এজন্য দরকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে তা করা যেতে পারে। এজন্য শুধু বাজেট নয়, অন্যান্য নীতিমালায়ও রফতানি বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন এফআইসিসিআইর সভাপতি শেহজাদ মুনিম বলেন, নিম্ন ক্ষমতার প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশ এখন উচ্চ ক্ষমতার প্রযুক্তিতে যাচ্ছে। কিন্তু উচ্চ কারিগরি প্রযুক্তিজ্ঞান আনতে ব্যয় হচ্ছে অনেক বেশি। এক্ষেত্রে ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর রয়েছে। তিনি এ কর কমানোর প্রস্তাব করেন। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন রাবার বোর্ডের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি রাবারকে কৃষিপণ্য বিবেচনা করে এর রফতানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দাবি করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন করা হয়েছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নতুন করে গঠন করা হয়েছে। এখন উদ্যোক্তারা বিডায় আসবেন। এ কারণে বিনিয়োগে গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবে শুরু হয়েছে, এখন আমাদের দেখতে হবে। মোটরগাড়ির জন্য নীতিমালা করা হবে বলে জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বাংলাদেশের রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক খাত আছে যেখানে এআইটি নেওয়া না হলে নজরের বাইরে চলে যায়। এনবিআর ট্যাক্স রিফান্ডের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথভাবে হিসাব করে যারা ট্যাক্স রিফান্ড পাবে তাদের জুনের পরে ফেরত দেওয়া হবে।

বিনিয়োগ, আর্থিক খাত ও শেয়ারবাজার: বিষয়ের ওপর উপস্থাপনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ঋণ প্রদানে ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণের মাধ্যমে খেলাপি বা মন্দ ঋণের পরিমাণ কমাতে হবে। আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ বেশি নেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা। সামাজিক সুরক্ষার নামে এটা অপচয়। এ মুহূর্তে সঞ্চয়পত্রের সুদহার সংশোধন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ৩০০ কোম্পানি আছে; কিন্তু খুব বেশি ভালো কোম্পানি নেই। বিদেশিরা বিনিয়োগ করার জন্য ২০ থেকে ২৫টির বেশি কোম্পানি খুঁজে পান না। সরকারি, বহুজাতিক ও বেসরকারি খাতের ভালো ও বড় কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে কী ধরনের উৎসাহ দিলে কাজ করবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি বলেন, মাত্র ২১ শতাংশ ব্যবহারকারী মোবাইল ডাটা ব্যবহার করেন। এটা করহার সংক্রান্ত নীতি সংশোধন করে সহজেই ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এখন ভাবার সময় হয়েছে, অধিক সংখ্যক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মোবাইল ফোন ব্যবহার আরও সহজলভ্য করা ভালো, নাকি উচ্চ কর নেওয়া ভালো।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ কিছু গ্রুপের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এভাবে কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বড় ব্যবসায়িক গ্রুপ এখন মুড়িও বানায়, আবার গাড়িও বানায়। ফলে ছোট ব্যবসায়িক গ্রুপগুলো প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, অধিক সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ তহবিল অন্তত ৫০০ কোটি টাকা হোক। তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের সুদহার বড় বিষয় নয়। জামানতবিহীন ঋণ পাওয়াটা বড় বিষয়।

সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, অর্থনীতির অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও একটি বড় সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ। এ সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াকার এ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখনও কার্যকর বন্ড বাজার নেই। আবার সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদহার থাকলে কার্যকর বন্ড বাজার তৈরি করাও সহজ হবে না।

এ পর্বে মির্জ্জা আজিজ বলেন, আর্থিক খাতে বড় সমস্যা ব্যাংক খাতের উচ্চ মাত্রার খেলাপি ঋণ। কিছু ব্যাংকে ঋণ কেলেঙ্কারি হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের অভ্যন্তরীণ ও কর্মীদের দক্ষতা নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে বিচারিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। পুঁজিবাজারে সরকারি কোম্পানি আনার উদ্যোগ পিছিয়ে গেছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ফোরজি মোবাইল অপারেশন ও অটোমোবাইল শিল্পের জন্য কিছু ছাড় থাকবে। সঞ্চয়পত্রকে অটোমেশন প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে, যাতে বড় বিনিয়োগকারীরা আসতে না পারে। ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতের একটি বড় সমস্যা হলো, পরিচালকদের মধ্যে যোগসাজশে ঋণ বিতরণ, যেখানে অনেক সময় অনিয়ম হয়। খেলাপি ঋণ আদায় প্রসঙ্গে বলেন, বিচারিক ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্যের সমস্যা আছে। তিনি বলেন, সরকারি কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পুঁজিবাজারে সংস্কার কর্মসূচি চলার কারণে প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ২৬টি কোম্পানির তালিকা করা হয়েছে। এখন এ বিষয়ে নজর দেবেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

পোশাক শিল্প এলাকায় শনিবার ব্যাংক খোলা


আরও খবর

অর্থনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে আগামী শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোশাক কারখানা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোকে এসব এলাকায় তাদের শাখা পূর্ণ দিবস খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। 

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত সকল ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে। রফতানি বাণিজ্য সচল রাখাও এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য।

এর আগে পোশাক শিল্পের মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ১৬ আগস্টের মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়।

বিজিএমইএর দাবি অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় তিন হাজার পোশাক কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৪৪ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছেন। এর মধ্যে কিছু কারখানা সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে বেতন পরিশোধ করে। আর বড় অংশই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে শ্রমিকদের নগদে বেতন পরিশোধ করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শিগগিরই গঠন করা হবে স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড


আরও খবর

অর্থনীতি

  অনলাইন ডেস্ক

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব) এর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। সম্প্রতি রাজধানীর বিএসইসি কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান ও ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার শামীম আহসান।

বৈঠকে আইপিও’র মাধ্যমে স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানির ফান্ড বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করতে আগামী ১-২ মাসের মধ্যে স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। স্মল ক্যাপিটাল বোর্ডের সুপারিশ সাপেক্ষে একটি কোম্পানি সর্বনিম্ন পেইড-আপ ক্যাপিটাল ৫ কোটি টাকা থাকলেই আইপিও’র জন্য আবেদন করতে পারবে। কোম্পানিটি কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) এর মাধ্যমে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা পেইড-আপ ক্যাপিটাল থেকে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ফান্ড তৈরি করতে পারবে। আগে একটি কোম্পানিকে আইপিও’র জন্য আবেদন করতে হলে বিভিন্ন শর্তের পাশাপাশি ৩০ কোটি টাকা পেইড-আপ ক্যাপিটাল এবং ৩ বছর কোম্পানির লাভজনক অবস্থায় থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।

বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানির জন্য কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের নীতিমালা বাস্তবায়নে পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আমাদের দিক থেকে আমরা গেজেট প্রকাশ করেছি এবং বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটকে বৃদ্ধি করবে।

ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান শামীম আহসান বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপের জন্য ব্যাংক ঋণ সুবিধা না থাকায় তাদের জন্য অ্যাক্সেস টু ফিন্যান্স সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। যেহেতু আইটি কোম্পানিগুলোর পেইড-আপ ক্যাপিটাল কম এবং লাভের চেয়ে কোম্পানির অগ্রগতির দিকে বেশি নজর থাকে, তাই এসব কোম্পানির জন্য আইপিওতে যাওয়া কঠিন। স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলোর টেকসই নির্গমন কৌশল থাকছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও লাভজনক করে তুলবে।

এ সময় বিএসইসি’র কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, এফসিএমএ, নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদ, পরিচালক মো. মাহমুদুল হক ও উপ-পরিচালক মো. এমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পরের
খবর

ঈদ সামনে রেখে নতুন নোট বিনিময় শুরু


আরও খবর

অর্থনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময় শুরু হয়েছে। সোমবার মতিঝিলসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব শাখা অফিস থেকে নতুন নোট ছাড়া হয়। রাজধানীর ১৪টি শাখার বিশেষ কাউন্টার থেকেও বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নোট নেওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত নোট বিনিময় করা যাবে। অবশ্য প্রথম দিন খুব একটা ভিড় ছিল না বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কোনো ব্যক্তি ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের একটি করে প্যাকেট নিতে পারবেন। এর মানে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। তবে কাউকে একই মূল্যমানের একটির বেশি প্যাকেট তথা ১০০ পিস নোটের বেশি দেওয়া হবে না। কেউ চাইলে যে কোনো অংকের ধাতব মুদ্রা নিতে পারবেন। একই ব্যক্তি যেন একই মূল্যমানের একাধিক বান্ডিল নিতে না পারেন, সে লক্ষ্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে টোকেন সংগ্রহ করে নতুন নোট দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নোট দিতে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে যাত্রাবাড়ীর ন্যাশনাল ব্যাংক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের অগ্রণী ব্যাংক, বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখার সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ধানমণ্ডিতে ব্যাংক এশিয়া, উত্তরায় ঢাকা ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের আবদুল গণি রোডে অবস্থিত করপোরেট শাখা, সিটি ব্যাংকের মিরপুর শাখা, মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বনানী শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের মহাখালী শাখায় নতুন টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর