অর্থনীতি

আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৮

আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। একই সঙ্গে এডিপিতে বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে সাত হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা ব্যয় করার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে এনইসি। ফলে আগামী অর্থবছরে এডিপিতে মোট এক লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা নিল সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় আসন্ন অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন পায়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের পর্যালোচনা ও আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপির লক্ষ্য নির্ধারণ করার জন্যই এনইসির এ সভা বসেছিল।

পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম আগামী অর্থবছরের এডিপি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করেন। আর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো সংবলিত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সমস্যা সমাধানে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছে। আইএমইডির পক্ষে এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরকে বেঞ্চ মার্ক হিসেবে ধরে মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি আমলে শেষ বাজেটে এডিপির আকার ছিল ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বর্তমান সরকার অল্প সময়ে অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। এখন এক লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে উন্নয়ন কার্যক্রম অনেক বেড়েছে। যার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ৯ বছরের প্রথম ছয় বছর সাড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শেষ তিন বছরে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কোনো দেশে প্রবৃদ্ধি হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে তা হয়নি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এখন তা ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। 

মুস্তফা কামাল বলেন, এতদিন শিক্ষা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও মানুষের আয় বাড়ানোর চেষ্টা ছিল সরকারের। সেগুলো হয়েছে। এখন আর কোনো শিশু নেই যে স্কুলে যায় না। বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াট পার হয়েছে। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল এবং দেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এখন সরকার উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে চায়। শিক্ষা ব্যবস্থাসহ অনেক ক্ষেত্রেই মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। এখন সে পরিবর্তন আনা হবে। এ জন্য অনেক সংস্কার করা হবে। বর্তমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে উন্নয়ন মূল লক্ষ্য। ২০২০ সালে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী শেষ হবে। এর পরের পঞ্চবার্ষিকীতে থাকবে সংস্কার কার্যক্রম। এখন একটা হাসপাতাল তৈরি করতে শিক্ষা, গণপূর্ত, ওয়াসাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত থাকে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আবার দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে বিটুমিন খাপ না খেলেও সড়ক বানানো হচ্ছে বিটুমিন দিয়ে। এ অবস্থা থেকে সরকার বের হয়ে নতুন ব্যবস্থায় কার্যক্রম করতে চায়। এ জন্য সব মন্ত্রণালয়কে একটা আউটলাইন দেওয়া হয়েছে যে, এখন উন্নয়ন কার্যক্রম কোন পর্যায়ে আছে, আগামীতে কোথায় যেতে চায় সরকার। 

পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম জানান, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এক হাজার ৪৫২টি প্রকল্প থাকছে। এর মধ্যে এক হাজার ২২৭টি বিনিয়োগ প্রকল্প। আর ১১৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, দুটি জাপানের সহায়তার প্রকল্প এবং ১০৫টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর প্রকল্প। এ ছাড়া এক হাজার ৩৩৮টি বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত প্রকল্প থাকছে। এর মধ্যে ৩২৬টি বৈদেশিক সহায়তার প্রকল্প।

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য লক্ষ্যে ৭৮টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা সচিব বলেন, আগামী অর্থবছরে ৪৪৬টি প্রকল্প শেষ করা হবে। এর মধ্যে ৪৩০টি প্রকল্প বিনিয়োগ প্রকল্প আর ১৬টি কারিগরি প্রকল্প। ২১০টি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প চিহ্নিত করে আগামী এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ৫২টি প্রকল্প যেগুলো চলতি অর্থবছরে শেষ করার কথা ছিল, কিন্তু শেষ হয়নি, এসব প্রকল্পকে প্রতীকী বরাদ্দ দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

জিইডি সদস্য শামসুল আলম বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে আইএমইডি সাতটি সমস্যা পেয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানে আইএমইডি কিছু সুপারিশ করেছে। এনইসি সভা সুপারিশগুলোকে অনুমোদন করেছে।

তিনি বলেন, সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, স্থানীয় সরকারকে প্রকল্পগুলোকে সম্পৃক্ত না করা, রেকারিং ব্যয়ের বরাদ্দ না থাকা এডিপি বাস্তবায়নের অন্যতম সমস্যা। এ ছাড়া প্রকল্পগুলো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কোন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পৃক্ত তা প্রকল্প দলিলে থাকে না। এখন থেকে এ বিষয়টিসহ এসডিজির কোনো লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত তা প্রকল্প দলিলে উল্লেখ করতে হবে। প্রকল্প যে কারণে নেওয়া হয় তা অর্জিত হচ্ছে কি-না সেগুলো দেখতে হবে। 


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মূমানু পলিয়েস্টারের সঙ্গে ব্যবসায় আগ্রহী থাই উদ্যোক্তারা


আরও খবর

অর্থনীতি

   সমকাল প্রতিবেদক

দেশের একটি পলিয়েস্টার কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছেন থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা। মানিকগঞ্জের মূমানু পলিয়েস্টার ইন্ডাস্ট্রিজের বিষয়ে ঢাকা সফররত থাই প্রতিনিধি দলের আগ্রহের কারণ কোম্পানিটি প্লাস্টিকের পুরনো বোতল থেকে তুলা তৈরি করে।

রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার মূমানু পলিয়েস্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান। সভায় মূমানু পলিয়েস্টারের এমডি আবুল কালাম মোহাম্মদ মূসা কারখানার কার্যক্রম তুলে ধরেন। পরিবেশবান্ধব এ কারখানার পণ্য দেখে থাই ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাইয়ে ১৪ সদস্যের থাইল্যান্ডের এই প্রতিনিধি দল ছয় দিনের সফরে ঢাকায় এসেছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইটিডি) নির্বাহী পরিচালক মানু সিথিপ্রাসাসান। মূমানু পলিয়েস্টারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মানু সিথিপ্রাসাসান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তুলা তৈরির কারখানার সম্ভাবনা দেখে তারা মুগ্ধ। ভবিষ্যতে তারা পরিবেশবান্ধব এ কারখানার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন। থাইল্যান্ডের বাজারে এ তুলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অবস্থিত মূমানু পলিয়েস্টার প্লাস্টিকের পুরনো বোতল থেকে দৈনিক প্রায় ৪০ টন তুলা উৎপাদন করছে। এ তুলা থেকে সুতা বানিয়ে রঙবেরঙের পলেস্টার কাপড় তৈরি হচ্ছে। চীন, ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে এ ধরনের কারখানা থাকলেও বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে তুলা উৎপাদনের এটিই প্রথম কারখানা।

পরের
খবর

হুন্ডি প্রতিরোধের সুফল মিলেছে প্রবাসী আয়ে


আরও খবর

অর্থনীতি
হুন্ডি প্রতিরোধের সুফল মিলেছে প্রবাসী আয়ে

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  ওবায়দুল্লাহ রনি

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স টানা দুই অর্থবছর পর আবারও বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে এসেছে ১৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই মাসের তুলনায় যা ১৮ শতাংশ বেশি। সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স বাড়ছে। ডলার এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিও রেমিট্যান্স বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে। ব্যাংকগুলোও ডলার সংগ্রহে তৎপরতা বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্স বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সব পক্ষকে তৎপর থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির ধারা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকার পর ছন্দপতন ঘটে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স তখন ২৪ কোটি ডলার বা এক দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে এক হাজার ৪২৩ কোটি ডলারে নেমে আসে। অবশ্য পরের অর্থবছরে তা আবার বাড়ে। সেবার এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে যা ছিল সর্বোচ্চ। তবে পরের দুই অর্থবছর রেমিট্যান্স ব্যাপক কমে যায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার বা দুই দশমিক ৫২ শতাংশ কমে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলারে নেমে আসে। পরের বছর আরও ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলারে।

এ অবস্থায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডির ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কমছে। দীর্ঘদিন ধরে ডলারও স্থিতিশীল থাকছে। এ অবস্থায় হুন্ডি ঠেকাতে তৎপরতা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশে ও দেশের বাইরে পরিদর্শন করে পাওয়া অনিয়মের আলোকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে হুন্ডি ঠেকাতে মানি লন্ডারিং আইনের শক্ত প্রয়োগ করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশের বাইরে কেউ যেন বাংলাদেশি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন দূতাবাসে চিঠি দেওয়া হয়। একই সময়ে দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের বেশ কিছু এজেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়। অন্য মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে এরকম কোনো লেনদেন হচ্ছে কি-না, তা-ও কঠোরভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দৈনিক লেনদেন সীমা কমানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স বাড়লেও আমদানি যে হারে বাড়ছে, রফতানি বাড়ছে সে তুলনায় কম। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এক ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাজার সামলাতে গত অর্থবছর বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ২৩১ কোটি ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারের টানাটানির ফলে এক দিকে ডলারের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বরং কমে আসছে। এ অবস্থায় রেমিট্যান্স না বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিতে ২৫ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও রফতানি বেড়েছে ছয় শতাংশের কম। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২ দশমিক শূন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। গত ৩০ জুনও যা ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। গত বছরের ২২ জুন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বর্তমানে প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতি ডলারে তিন টাকা পাঁচ পয়সা বা তিন দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। একজন প্রবাসী ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠিয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতি ডলারে চার থেকে পাঁচ টাকা বেশি পাচ্ছেন। বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়াতে না পারলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

পরের
খবর

বঙ্গবন্ধু নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের 'ইতিহাসে'


আরও খবর

অর্থনীতি
বঙ্গবন্ধু নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের 'ইতিহাসে'

আছে আইয়ুব খানের ছবি

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

অনেক দিনের চেষ্টায় 'বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস' নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত বইটিতে তিনটি ছবি ছাপা হয়েছে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের। অথচ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার নায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছাপা হয়নি কোথাও। শেখ হাসিনা আগের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ৩০ তলা ভবনের উদ্বোধনের যে ছবি ছাপা হয়েছে, তাও খুব অস্পষ্ট। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় পুনর্মুদ্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গ্রন্থটি।

ড. আতিউর রহমান গভর্নর থাকা অবস্থায় গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের মার্চে তার পদত্যাগের পর প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটি। এটির প্রকাশকাল উল্লেখ রয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর। আনুষ্ঠানিকভাবে গত ২৫ মার্চ মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকর বর্তমান গভর্নর ফজলে কবির। গ্রন্থ প্রকাশের আগে কয়েক দফা সম্পাদক পরিবর্তনের পর সর্বশেষ সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা। তার আগে সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন আরেক নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান। শুভঙ্কর সাহা ও মাহফুজুর রহমান অবসরে গেলেও ২৫ মার্চের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তারাসহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি শুভঙ্কর সাহা। আর ম. মাহফুজুর রহমান দেশের বাইরে থাকায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি তার।

গ্রন্থটি প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে এর বিতরণ। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার মুখে গতকাল সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার সিদ্ধান্ত হয় ২০১৩ সালের জুন মাসে। এ বিষয়ে তখন উপদেষ্টা কমিটি ও সম্পাদনা নামে দুটি কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি দুটি পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করার পর গ্রন্থটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরপরই এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হওয়ায় গভর্নর ফজলে কবির এর বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গ্রন্থটি পর্যালোচনার জন্য একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, পর্যালোচনা কমিটি এরই মধ্যে দুটি সভা করে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অন্যতম হলো- গত আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশদ্বারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে তার ছবিসহ গ্রন্থটিতে জাতির জনকের অবদানের যে ধারাবাহিক বর্ণনা (পৃষ্ঠা ৫১, ৭৭ ইত্যাদি) রয়েছে, তার ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো সন্নিবেশ করা হবে সেখানে। গ্রন্থটির অ্যালবাম অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত বিভিন্ন টাকার নোটের ছবি সংযোজন করা হবে। এ ছাড়া গ্রন্থটির সব অধ্যায় পুনরায় সম্পাদিত হবে এবং বাদ দেওয়া হবে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও ছবি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস গ্রন্থ পর্যালোচনা কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, অসামঞ্জস্যতার বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর ফজলে কবিরের নির্দেশনায় এর বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রন্থে যেসব অসঙ্গতি রয়েছে, তা দূর করে নতুন করে মুদ্রণের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

৩৬১ পৃষ্ঠার বইটি দুই পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্ব ১ থেকে ৩৪২ পৃষ্ঠাজুড়ে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, স্মৃতিচারণ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ইতিহাস রয়েছে। আর ৩৪৩ থেকে ৩৬১ পৃষ্ঠায় রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি। এর মধ্যে ছবি পর্বের প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে আইয়ুব খানের দুটি ছবি। আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের একটি গ্রুপ ছবি। ৩৪৩ পৃষ্ঠায় আইয়ুব খানের প্রথম ছবির নিচে ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে- 'স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের, ঢাকার মতিঝিলস্থ প্রধান ভবনের পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান (১০ ডিসেম্বর ১৯৬৮)।' একই পৃষ্ঠায় দ্বিতীয় ছবির ক্যাপশনে রয়েছে- 'পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান ও স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, ঢাকার প্রধান ভবনের কর্মকর্তারা (সন ১৯৬৮)।' বইয়ের প্রথম পর্বের ৮২ পৃষ্ঠায় রয়েছে আইয়ুব খানের অন্য একটি ছবি। ছবির নিচে ক্যাপশনে লেখা আছে- 'পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান ১০ ডিসেম্বর ১৯৬৮ তারিখে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, ঢাকার নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।' পরের পৃষ্ঠায় ছবি রয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খানের।

বইয়ের ৮৪ পৃষ্ঠায় শেখ হাসিনা প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ৩০ তলা ভবনের উদ্বোধনের একটি ছবি ছাপা হলেও তা অস্পষ্ট। এ ছাড়া গ্রন্থটিতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ ইউনূস, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, শাহ এএমএস কিবরিয়া ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছবি ছাপা হয়েছে। স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর আ.ন.ম. হামিদুল্লাহ, সাবেক গভর্নর নুরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, ড. ফখরুদ্দিন আহমদ, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, ড. আতিউর রহমান ও বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরের ছবি।

বইটির প্রকাশনা প্রকল্পের উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. সনৎকুমার সাহা, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেম. আবু হেনা মোহা. রাজি হাসান ও এসকে সুর চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। সম্পাদকমণ্ডলী হিসেবে নাম রয়েছে শুভঙ্কর সাহা, ম. মাহাফুজুর রহমান, ড. আবুল কালাম আজাদ, নাসিরুজ্জামান, এফএম মোকাম্মেল হক, গোপাল চন্দ্র দাস, আনোয়ারুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, জোবায়দা আফরোজ ও ইন্দ্রানী হকের।

সংশ্লিষ্ট খবর