অন্যান্য

বেসিক ব্যাংকে অর্থমন্ত্রী

ঠিকানাবিহীন কোনো ঋণ থাকবে না

প্রকাশ : ০২ আগষ্ট ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঠিকানাবিহীন কোনো ঋণ থাকবে না

  সমকাল প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বেসিক ব্যাংকে অনেক ঠিকানাবিহীন ঋণ আছে। আগামীতে কেউ আর ঠিকানাবিহীন থাকবে না। এদের খুঁজে বের করে প্রত্যেকের পেছনে একজন করে এজেন্সির লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে যারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া টানা তিন বছর লোকসানে থাকা সব শাখা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিদ্যমান বেতন কমানো এবং যেসব কর্মকর্তা কথা না শুনে তাদের বিদায় করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হককে নিয়ে বেসিক ব্যাংকে যান অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ. মজিদ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আলম ব্যাংকের ২০০৯ থেকে ২০১৪ এবং বর্তমান পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা টাকা নিয়ে গেছে, এদের চিনি না এটা হতে পারে না। যাদের ঠিকানা আছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে দেবেন। এরপর এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় দেখব। আইনি প্রক্রিয়ায় কী করা যায়, দেখা হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া হবে না। তবে কেউ টাকা না দিলে তার জীবন শান্তিতে রাখা হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে যারা টাকা নিয়ে গেছে, ব্যাংকাররা বিভিন্ন কারণে তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। তবে আমরা বের করব। কেউ অন্যায় করে যদি স্বীকার করে, তাহলে তাদের মাফ করে দেওয়া হবে। তবে টাকা নিয়ে যারা ফুর্তি করেছে, তাদের কোনো মাফ নেই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংক ভালো ব্যাংক ছিল। রাতারাতি তলানিতে পৌঁছেছে। একটা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। এখন আপনাদের সামনে দুটি অপশন আছে। চালু রাখা অথবা বন্ধ করা। সরকার ও দেশের জনগণ যেখানে মালিক, সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান বসে যাক, সেটা কেউ চাইবে না। ছোট একটি ব্যাংক, এখানে ২ হাজার ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কী কাজ জানি না। আর ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালে হঠাৎ করে ব্যাংকটিতে ধস নামল। এখানে ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় গা ভাসিয়ে দিয়েছে, নাকি বাধ্য হয়ে অনিয়মে সহযোগিতা করেছে, সবকিছু দেখা হবে। কর্মকর্তাদের মধ্যে কারা গ্রাহকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, সই না রেখে ঋণ দিয়ে দিয়েছেন, ঋণ গ্রহীতার ঠিকানা ছাড়াই কাকে ঋণ দিয়েছেন- সব দেখা হবে। যদি মনে করেন তারা পার পেয়ে যাবেন, এটা ঠিক না। এ জন্য ব্যাংকের ওপর একটি বিশেষ নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সবার যাবতীয় কর্মকাণ্ড দেখা হচ্ছে। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ওই দুস্কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন রেহাই নেই। যেসব কর্মকর্তাকে কাজ দিলে ঠিকমতো করেন না, তাদের বিদায় করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গত বছর ৩৫৪ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ২০০৯ সাল থেকে পুঞ্জিভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬ কোটি টাকা। এখন আপনারাই চিন্তা করে দেখেন, কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়। এখানকার কর্মকর্তারা অন্য সব ব্যাংকের চেয়ে বেশি বেতন নিচ্ছেন। যেটা মোটেই উচিত না। এখন স্বেচ্ছায় বসে বেতন কমানোর একটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলেন। তাতে লোকসান কিছুটা হলেও কমবে। মুস্তফা কামাল বলেন, যে করেই হোক সব শাখাকে মুনাফা করতে হবে। নিজের শাখার খরচ নিজেদের আয় দিয়ে মেটাতে হবে। এ বছর যদি মুনাফা হয়, তাহলে আগের ১০ বছর লোকসান হলেও সে শাখা চালু থাকবে। তবে এ বছরসহ টানা তিন বছর লোকসানে থাকা শাখা বন্ধের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এমডি ও চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলন, এক্সিট প্ল্যানের আওতায় ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে চার হাজার ৬০০ কোটি টাকা পুনঃতফসিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটা একটা ভালো খবর। এ ছাড়া ব্যাংকটি চলার জন্য কিছু তহবিল জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ জন্য একটি লিখিত পরিকল্পনা জমা দিতে বলেন। এ ছাড়া পুরাতন গ্রাহকদের আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এরা খারাপ ছিল না। ব্যবস্থাপনার কারণে খারাপ হয়েছে। মনে রাখতে হবে, অর্থের অভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় না। বন্ধ হয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, খারাপ অবস্থার পাঁচ বছর পার হলেও ব্যাংকের কোনো উন্নতি হয়নি। কর্মকর্তারা তৎপর থাকলে এ অবস্থা হতো না। যারা টাকা নিয়েছেন, তারা তো দেশেই আছেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বেসিক ব্যাংক থেকে অনেক সম্পদ চলে গেছে। এটা হতে পারে না। এটা জনগণের সম্পদ।

মন্তব্য


অন্যান্য