অন্যান্য

টাকা পাচারকারীরা রেহাই পাবে না: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯

টাকা পাচারকারীরা রেহাই পাবে না: অর্থমন্ত্রী

আ হ ম মুস্তফা কামাল- ফাইল ছবি

  বিশেষ প্রতিনিধি

অর্থপাচারকারীদের সতর্ক করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, যারা টাকা পাচার করবে, সন্ত্রাসে অর্থায়ন করবে, কেউই রেহাই পাবে না। এ জন্য বর্তমান আইন সংশোধন করে আরও কঠোর করা হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মানি লন্ডারিং সম্পর্কিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মুস্তফা কামাল বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন উভয়ই অপরাধ। দুটোই রোধ করতে হবে। কারণ এ প্রক্রিয়ায় বড় দুনীর্তি হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরো বলেন, এ জন্য মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য থাকলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে। বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কারো বিরুদ্ধে না। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন। সরকার ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। আমাদের বার্তা পরিস্কার। দুনীর্তিবাজরা পার পাবে না। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

মুদ্রা পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা ও রাজস্ব ফাঁকি এই দুই মাধ্যমে প্রধানত অর্থ পাচার হয়। আমদানি-রফতানির আড়ালে আন্ডার এবং ওভার ইনভয়েসের (পন্য মুল্য কম ও বেশি দেখানো) মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচার হয় বেশি। এটি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ জন্য বন্দরে মালামাল শতভাগ পরীক্ষার জন্য আধুনিক স্ক্যানার মেশিন বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া পন্য মুল্য সঠিকভাবে জানার জন্য প্রাক জাহজীকরণ ব্যবস্থা বা পিএসআইএর আদলে বিকল্প নতুন কোম্পানি করা হবে। তারা নেটের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পণ্যের দাম জানবে। ঘোষিত দাম সহনীয় থাকলে সমস্যা হবে না। তবে দামের পার্থক্য বেশি হলে ধরা হবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এই অপরাধের জন্য শুধু জরিমানা করা হয়। আগামীতে জরিমানার পাশাপাশি মামলা করা হবে। এ জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধন করে আরও কঠোর করা হবে বলে জানান তিনি। বিদেশী কোম্পাণির কর ফাঁকি নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো থেকে রাজস্ব পাওয়া যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব কোম্পাণির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্ত্রী বলেন, বিদেশী কোম্পানি এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। কারন এককভাবে কাজ করা বিদেশি কোম্পানি থেকে আমরা রাজস্ব পাইনা। তাই বেদেশি কোনো কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করতে হলে তাদেরকে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে করতে হবে। এটা করা হলে আমাদের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী। 

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত বর্তমান আইনগুলো অনেক দুর্বল ও পুরাতন। এসব আইন কী সংশোধন করা হবে-একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, প্রয়োজন হলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে। যেখানে যেখানে দরকার, সেখানে শিগগিরই পরিবর্তন করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য


অন্যান্য