অন্যান্য

রফতানিতে উৎসে কর কমলো

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

রফতানিতে উৎসে কর কমলো

  বিশেষ প্রতিনিধি

নতুন বছরের শুরুতে তৈরি পোশাকসহ রফতানি খাতের জন্য একটি সুখবর দিয়েছে সরকার। শতভাগ রফতানিমুখী শিল্পে 'উৎসে কর' আরও কমে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে পোশাকসহ অন্যান্য রফতানিকারকরা পণ্য রফতানি করে ১০০ টাকা আয় করলে এর বিপরীতে সরকারকে কর দেবেন শূন্য দশমিক ২৫ টাকা। এর আগে কর দিতে হতো শূন্য দশমিক ৬০ টাকা। অর্থাৎ আগের চেয়ে কর কমেছে ৫৮ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কর ছাড়ের এই সুবিধা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি থেকে।

তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সুবিধা দেওয়া হলেও এনবিআর বলেছে, পোশাকসহ অন্যসব রফতানিমুখী শিল্পে সমতা আনতে একই হারে উৎসে করহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, সরকার এমন এক সময় কর সুবিধা দিল, যখন পোশাক খাতের নতুন মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ চলছে। সর্বশেষ, বিষয়টি নিয়ে ফয়সালার জন্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চলছে। বিজিএমইএ নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, শিগগিরই নতুন মজুরি নিয়ে চলমান অসন্তোষ দূর হবে। এরই মধ্যে পোশাকশিল্পে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন হয়েছে।

কর ছাড়ের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পোশাক রফতানিকারকরা বলেছেন, এতে করে পোশাক খাতের ওপর আর্থিক চাপ কমবে। বিজিএমইএর পরিচালক আ ন ম সাইফউদ্দিন সমকালকে বলেন, মজুরি বৃদ্ধির এ মুহূর্তে উৎসে কর হ্রাসের সরকারি সিদ্ধান্ত পোশাক খাতের জন্য বড় ধরনের সুবিধা বয়ে আনবে। বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি মানের কারখানা উপকৃত বেশি হবে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, পোশাক খাতের নূ্যনতম মজুরি মাসিক ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ একজন শ্রমিক কোনো পোশাক কারখানায় চাকরি পেলে শুরুতেই বেতন পাবেন ৮ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা। ফলে নতুন বেতন কাঠামোতে গড়ে বেতন বেড়েছে ৫১ শতাংশ।

নতুন এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে কর কমানোর দাবি করে বিজিএমইএ। এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিজিএমইএ বলে, শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি দিতে হলে পোশাক মালিকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। এ চাপ কমাতে হলে আরও কর প্রণোদনা দিতে হবে। তা না হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) 'উৎসে কর' কমানোর বিষয়ে সার-সংক্ষেপ লিখে পাঠায় অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। পরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেন অর্থমন্ত্রী। এটি কার্যকর করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় ভেটিংয়ের জন্য। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করে তা কার্যকর করে এনবিআর গতকাল।

সর্বশেষ, পোশাকসহ রফতানি খাতে 'উৎসে কর' কমানো হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। তখন ১ টাকা থেকে ৬০ পয়সা (০.৬০%) নির্ধারণ করা হয়।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জিডিপি বেড়ে হবে ৮.১৩ শতাংশ


আরও খবর

অন্যান্য

  সমকাল প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) সাময়িক হিসেবে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। বাংলাদেশে কখনও ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৯০৯ ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এই হিসাব মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিবিএস চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পরিসংখ্যান ব্যবহার করে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব করেছে। এ হিসাব চূড়ান্ত হবে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর। সাধারণত সাময়িক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত হিসাবে খুব বেশি পার্থক্য হয় না। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে ছিল ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৭৫১ ডলার।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করে। এ হিসেবে সরকারের প্রাক্কলনের চেয়েও প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৭ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। এদিকে মঙ্গলবার রাতে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.৫%।

মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছরের বাংলাদেশে জিডিপির আকার বেড়ে হয়েছে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। রফতানি, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বেড়েছে। এ কারণে প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। আগামী তিন বছর পর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এই প্রবৃদ্ধি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। মূলধনী যন্ত্রের আমদানি বাড়েনি। বেসরকারি ঋণপ্রবাহ কম। তবে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রবাসী আয়ও বেড়েছে। বিনিয়োগ ছাড়া কীভাবে এত প্রবৃদ্ধি হলো তা প্রশ্নসাপেক্ষ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বিনিয়োগ হার ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে বিনিয়োগের হার ছিল ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ, যার মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ আর সরকারি বিনিয়োগ হার ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। গত অর্থবছরের এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এছাড়া সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত অর্থবছর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

পরের
খবর

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প এগোচ্ছে না ঠিকমতো


আরও খবর

অন্যান্য
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প এগোচ্ছে না ঠিকমতো

৮ মাসে বরাদ্দের ৩% ব্যয় পদ্মা রেল সংযোগে, ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

ফাস্ট ট্র্যাক বা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া কয়েকটি প্রকল্পে এখনও ধীরগতি চলছে। চলতি অর্থবছরের আট মাস পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যয়ের হার খুবই নগণ্য। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বেশিরভাগ প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের হার সন্তোষজনক নয়। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে এ সময়ে বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রকল্পে গতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প থেকে যথাযথ সুফল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যমতে, পদ্মা রেল সংযোগ, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে কম হারে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় হয়েছে ওই আট মাসে। তবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ এরই মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, পদ্মা সেতুর জন্য ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইলিং নকশা নতুন করা হয়েছে। যথাসময়ে ঠিকাদারকে পাইলের নকশা সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বিলম্ব হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি করতেও অনেক দেরি হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে  ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের ভূমির দখল না পাওয়ায় অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও ডিপো ওয়ার্কশপ ও নিয়ন্ত্রণ ভবনের শুধু পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪৪৮টি পিয়ারের মধ্যে কেবল ২১২টি নির্মাণ হয়েছে।

ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সমকালকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামী ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

পদ্মা রেল সংযোগে মাত্র ৩%: আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা খরচ করার কথা। অথচ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ নয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পে আর্থিক অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ। ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্পটি ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৩%: সম্ভাব্য ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে হলে আগামী আট মাসে ব্যয় করতে হবে ১১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ বা এক হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ: চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬৩ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২২ শতাংশ। বেশ কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

জানতে চাইলে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ার-উল-হক সমকালকে বলেন, নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বিলম্ব হওয়ায় অর্থ ব্যয়ে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় ভূমির মালিকরা বাধা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসক থেকে ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি। এতে প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে না।

মেট্রোরেল: চলতি অর্থবছরে রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে তিন হাজার ৯০২ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এর ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৭ শতাংশ।

প্রকল্পের উপপরিচালক মো, আবদুল ওয়াদুদ জানান, কর্মপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থ ব্যয়ের গতি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫০০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা বা ৩১%। শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: ১২০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য ছিল। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট অর্থ খরচ হয়েছে তিন হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ২০২০ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

৮৪% ব্যয় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে: ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অর্থ ব্যয়ের গতি বেশ ভালো। দুই হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বা ৮৪ %।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চলতি অর্থবছরে এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ১৫ শতাংশ।

পরের
খবর

ঋণে চক্রবৃদ্ধি সুদহার প্রথা থাকবে না


আরও খবর

অন্যান্য
ঋণে চক্রবৃদ্ধি সুদহার প্রথা থাকবে না

ব্যাংক পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিশ্বের কোথাও চক্রবৃদ্ধি হারে সুদহার হিসাব করা হয় না। বাংলাদেশেও ব্যাংক ঋণের সুদহার হিসাবের ক্ষেত্রে আগামীতে চক্রবৃদ্ধি প্রথা থাকবে না। সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল রোববার ব্যাংকের পরিচালক ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকে যে প্রক্রিয়ায় পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আগামীতে তা থাকবে না। ব্যাংকের পরিচালক হতে হলে তাকে কমপক্ষে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে আসতে হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি আগামী বাজেটের আগে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ বলে জানানো হয়। বৈঠকে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিচালকদের আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। বৈঠকে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিদ্যমান ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা সহজ করতে হবে। ডাউনপেমেন্ট ও মেয়াদের শর্ত শিথিল এবং খেলাপি ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে সময় বাড়াতে হবে। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে জানানো হয়, এ দাবিগুলোর বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবে চলতে পারে না। যেভাবে পর্ষদ গঠিত হচ্ছে, এটাও হতে পারে না। এখানে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সত্যিকারভাবে যারা ব্যাংকিং বোঝে তাদের পর্ষদে নিয়োগ দেওয়া হবে। চাকরি নেই বলে একটি ব্যাংকের পরিচালক বানিয়ে দিলাম, সেটা আর হবে না। এ জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে। আগামীতে পরিচালক করার আগে যারা প্রকৃতভাবে কাজ করতে পারবেন, ব্যাংকিং, হিসাববিজ্ঞান বা আইন বোঝেন, তাদের  মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, এসব বিষয়ে সুপারিশ নিয়ে আমার কাছে আসবেন না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে কিছু ক্রটি-বিচ্যুতি আছে। এটা পাঁচ বা সাত বছরে হয়েছে তেমন না। অনেক আগে থেকে বাড়তে বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে। এটা পরিস্কার করার জন্য এখন হাত দেওয়া হবে। আর এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকে বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যালেন্সশিটে কী পরিমাণ সম্পদ দেখানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা জানার জন্য এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যাংকে বিশেষ অডিট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ অডিটের মাধ্যমে জানা যাবে, যারা ঋণ নিয়েছে তাদের মধ্যে ভালো গ্রাহক কারা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কারা। ভালো ব্যবসায়ীদের সরকার সহযোগিতা করবে। খারাপদের সঙ্গে আপস করা হবে না। যেভাবেই হোক সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথাও বলেন, যারা বড় বড় কথা বলেন, তারা ১০ জনকে চাকরি দিতে পারেন না। আর ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নেন তারাই দেশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাংকিং খাতকে সাজানো। আগামী বাজেটে সেসব বিষয় আনা হবে। এ ছাড়া কোনো একজনের একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে সব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে একটার সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মিল করা যাবে না। একটা প্রতিষ্ঠানের কারণে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো যে অন্যায়গুলো করা হচ্ছে, তা আর হবে না।

ব্যাংক খাতের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক দেশেই ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। ব্যাংক একেবারে খারাপ হলে অর্থনীতি এভাবে এগোত না। সুতরাং ব্যাংক নিয়ে যা শোনা যায়, সব সঠিক না। এখানে হিসাবায়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। আবার কিছু ক্রটি-বিচ্যুতিও আছে। অর্থায়ন সমস্যার সমাধানে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে। বন্ড মার্কেটে ভালো ব্যবস্থা থাকলে অর্থায়নে কোনো সমস্যা হতো না। পৃথিবীর কোনো দেশে স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হয় না বলেও জানান তিনি।

তার মতে, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ৬২টি ব্যাংক আছে। এটা বেশি না। কেননা, এখানকার বেসরকারি সব ব্যাংকের বিনিয়োগের সমান দেশের বাইরে একটি ব্যাংক। সুতরাং সংখ্যা বড় বিষয় না। যদি ঠিকভাবে চালানো যায় কোনো সমস্যা না। এ ছাড়া শস্যবীমা চালু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পে অর্থায়নে আগামী বাজেটে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।