অন্যান্য

জাতীয় রফতানি ট্রফি পেল ৫৬ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮

জাতীয় রফতানি ট্রফি পেল ৫৬ প্রতিষ্ঠান

হা-মীম গ্রুপের রিফাত গার্মেন্টস স্বর্ণপদক ও হা-মীম গ্রুপের দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে রফতানি ট্রফি নিচ্ছেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ -সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

রফতানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় রফতানি ট্রফি পেয়েছে ৫৬ প্রতিষ্ঠান। স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ এ তিন শ্রেনীতে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য এ মর্যাদা পেল এসব প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন খাতে রফতানির পরিমাণসহ আরও সূচকের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ পদকের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্রফি তুলে দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পদকের জন্য প্রধান ২৫ ধরনের পণ্যের রফতানি আয় ও প্রক্রিয়া বিবেচনায় নেওয়া হয়। এগুলো হলো তৈরি পোশাকের ওভেন ও নিট, সব ধরনের সুতা, বস্ত্র, হোম টেপটাইল, হিমায়িত খাদ্য, কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, চা, কৃষি পণ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফুল, হস্তশিল্প, মেলামাইন, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিকস, হালকা প্রকৌশল পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং ওষুধ।

স্বর্ণ পদক পেল ২৫ প্রতিষ্ঠান : সবচেয়ে বেশি রফতানি আয় করায় সেরা রফতানিকারক ট্রফি পেল জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিপ। প্রতিষ্ঠানটি আলাদা করে স্বর্ণ পদক পেয়েছে। এছাড়া স্বর্ণপদক পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হা-মীম গ্রুপের রিফাত গার্মেন্টস, স্কয়ার ফ্যাশনস, স্কয়ার টেপটাইল, স্কয়ার ফার্মা, এনভয় টেপটাইল, নোমান টেরিটাওয়েল, সী মার্ক বিডি, উত্তরা পাট সংস্থা, আকিজ জুট মিলস, পিকার্ড বাংলাদেশ, বে-ফুটওয়্যার, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং, প্রমি এগ্রো ফুড, রাজধানী এন্ট্রাপ্রাইজ, কারুপণ্য রংপুর, আরএফএল গ্রুপের বঙ্গ প্লাস্টিক, শাইন পুকুর সিরামিকস, ইউনিগ্লোরী সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, মেরিন সেফটি সিস্টেম, সার্ভিস ইঞ্জিন, ইউনিভার্সেল জিন্স, আরএম ইন্টারলাইনিংস এবং মন ট্রিমস।

রৌপ্য পদক : রৌপ্য পদক পাওয়া ১৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অনন্ত গার্মেন্টস, ফোর এইচ ফ্যাশনস, জোবায়ের স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেপটাইল, জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস, জনতা জুট মিলস, আর এম এম লেদার, এফবি ফুটওয়্যার, হেরিটেজ এন্টারপ্রাইজ, স্কয়ার ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, ক্লাসিক্যাল হ্যান্ড মেইড বিডি, বেঙ্গল প্লাস্টিক, বিএসআরএম স্টিলস, ইনসেপ্টা ফার্মা, গ্রাফিক পিপল, প্যাসিফিক জিনস ও ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং।

ব্রোঞ্জ পদক : ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া ১৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হা-মীম গ্রুপের দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার, জিএমএস কম্পোজিট, জাবের স্পিনিং মিলস, নোমান টেপটাইল, কুলিয়ার চর সী ফুডস, রহমান জুট স্পিনার্স, লেদারেপ ফুটওয়্যার, আকিজ ফুটওয়্যার, সবজিআনা, কোর দি জুট ওয়ার্কস, ডিউরেবল পল্গাস্টিকস, বেপিমকো ফার্মা, জিন্স ২০০০ ও ডিবি টেপ।

রফতানি বাণিজ্যে উৎসাহ দেওয়া এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন খাতের এসব প্রতিষ্ঠানকে রফতানি পদক দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে রফতানি আয়, আয়ের প্রবৃদ্ধি, নুতন পণ্য সংযোজন, নতুন বাজার ও পরিবেশসম্মত উৎপাদন পরিবেশকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি এসব সূচক বিশ্নেষণের মাধ্যমে জাতীয় রফতানি ট্রফির জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করে। ইপিবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, (এনবিআর) বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), এফবিসিসিআইসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী চেম্বারের প্রতিনিধিরা এ কমিটির সদস্য।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ভাষার মাসে ওয়ালটন টিভিতে শতভাগ ক্যাশব্যাকের সুযোগ


আরও খবর

অন্যান্য

  অনলাইন ডেস্ক

চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। এ উপলক্ষে এলইডি ও স্মার্ট টেলিভিশনে ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক অফার’ দিচ্ছে বাংলাদেশী মাল্টিন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটন। চলবে পুরো মাস জুড়ে। 

এর আওতায় এরইমধ্যে ওয়ালটন টিভি কিনে শতভাগ ক্যাশব্যাক পেয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা। চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৪ এর আওতায় যে কোনো প্লাজা ও পরিবেশক শোরুম থেকে ওয়ালটন টিভি কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই ক্রেতারা পাচ্ছেন নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার।এছাড়া অনলাইন ক্রেতারা মডেল ভেদে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ছাড় ও ফ্রি হোম ডেলিভারি সুবিধা পাচ্ছেন ওয়ালটন ই-প্লাজায়।    

এসব সুবিধার পাশাপাশি নতুন বছর উপলক্ষে টেলিভিশনের দাম কমিয়েছে ওয়ালটন। ক্রেতারা এখন ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি আগের চেয়ে কম দামে ১৭ হাজার ৫’শ টাকায় কিনতে পারছেন। আবার এ মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত ভাষা দিবসের বিশেষ ছাড়ে ওয়ালটন ই-প্লাজা থেকে এই মডেলের টিভি কেনা যাচ্ছে ১৬ হাজার ৬২৫ টাকায়। 

জানা গেছে, বাজারে ‘এন্ড্রয়েড ৭’যুক্ত অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্ট টিভির দামও কমিয়েছে ওয়ালটন। ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভির দাম ৩’শ টাকা কমিয়ে ২৩ হাজার ৫’শ টাকা নির্ধারণ করেছে। ৩৯ ও ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট টিভির দাম কমিয়েছে ১ হাজার টাকা। এখন স্মার্ট টিভির ৩৯ ইঞ্চি ৩৩ হাজার ৯’শ ও ৪৩ ইঞ্চি ৩৬ হাজার ৯’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্মার্ট টিভির ৪৯ ইঞ্চি ৬৫ হাজার ৯’শ এবং ৫৫ ইঞ্চি ৬৯ হাজার ৯’শ টাকায় পাচ্ছেন ক্রেতারা। 

এ বছর সম্পূর্ণ ইএলইডি ব্যাকলাইটসমৃদ্ধ মেটালিক বডি, ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড, হাই কন্ট্রাস্ট ও স্লিম ডিজাইনের ৪৩ ইঞ্চির নতুন মডেলের স্মার্ট টিভি বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। যার দাম ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার ৯’শ টাকা। একই সাইজের নতুন মডেল এসেছে আগামী প্রজম্মের কোয়ান্টাম ডট প্লাস টেকনোলজীর সর্বোচ্চ কালার প্রদর্শন ক্ষমতাসম্পন্ন স্পেকট্রা কিউ স্মার্ট টিভির। দাম ৬৫ হাজার ৯’শ টাকা। এসব স্মার্ট টিভির প্রতিটিতে রয়েছে ১ জিবি র্যাম ও ৮ জিবি বিল্ট-ইন মেমোরি। ওয়ালটন ই-প্লাজা থেকে স্মার্ট টিভি কেনার ক্ষেত্রে অনলাইনের ক্রেতারা ৫৫ ও ৪৯ ইঞ্চিতে ৮ শতাংশ এবং ৩২, ৩৯ ও ৪৩ ইঞ্চিতে ৫ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন। 

এদিকে স্থানীয় বাজারে ব্লুটুথ স্পিকারযুক্ত ওয়ালটনের ২০ ইঞ্চি বুম বক্স টিভির দাম ১২ হাজার ৪’শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি ১২ হাজার ৯৯০ টাকায় ২৪ ইঞ্চি, ১৬ হাজার ৯’শ টাকায় ২৮ ইঞ্চি,  ২৮ হাজার ৯’শ টাকায় ৩৯ ইঞ্চি, ৩৩ হাজার ৯’শ টাকায় ৪৩ ইঞ্চি, ৪৯ হাজার ৯’শ টাকায় ৪৯ ইঞ্চি ও ৫৯ হাজার ৯’শ টাকায় ৫৫ ইঞ্চি এলইডি টিভি দিচ্ছে। তবে, ই-প্লাজা’র ক্রেতারা ৫৫ ও ৪৯ ইঞ্চিতে ১০ শতাংশ, ৪৩ ও ৩৯ ইঞ্চিতে ৮ শতাংশ এবং অন্যান্যা সাইজের এলইডি টিভিতে ৫ শতাংশ মূল্য ছাড় পাচ্ছেন। 

ওয়ালটন টেলিভিশন সেলস বিভাগের প্রধান মারুফ হাসান জানান, স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের টিভি গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে। তার মতে- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ফিচার, উচ্চ গুণগতমান, আকর্ষণীয় আউটলুক, সাশ্রয়ী মূল্য, দেশের সর্বত্র সহজলভ্য এবং দ্রুত সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চিয়তা থাকাতেই বাড়ছে ওয়ালটন টিভির বিক্রি।  এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে আগের বছরের (২০১৭ সাল) চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি টিভি বিক্রি হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও স্লিম ডিজাইনের নতুন নতুন মডেলের টিভি ছাড়ছে ওয়ালটন। 

সূত্রমতে, বড় পর্দায় ইউটিউব, ফেসবুক, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, গেমিং, মোবাইলে রক্ষিত অডিও, ভিডিও, ইমেজ ইত্যাদি উপভোগ, লার্জ ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল, হাই কন্ট্রাস্ট পিকচার, ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড, নয়েজ রিডাকশন ও আল্ট্রা স্লিম ডিজাইনের হওয়ায় বাজারে ওয়ালটন স্মার্ট টিভির গ্রাহক চাহিদাও বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান গ্রাহকচাহিদা পূরণে ওয়ালটন নিজস্ব কারখানায় স্মার্ট  টিভির উৎপাদন বাড়িয়েছে।  

ওয়ালটন টেলিভিশন বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, দেশেই নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ওয়ালটন টিভি। ওয়ালটন টিভি ইতোমধ্যে অর্জন করেছে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) ও স্ট্যান্ডার্ডস অরগানাইজেশন অব নাইজেরিয়া প্রোডাক্ট কনফরমিটি এ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম এর টেস্টিং সার্টিফিকেট। দেশের গন্ডী পেরিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ওয়ালটন টিভি রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

তিনি আরও জানান, আইএসও ক্লাস সেভেন ডাস্ট ফ্রি ক্লিন রুমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এইচএডিএস (হায়্যার এ্যাডভান্সড ডাইনামিক সুইচিং) এবং আইপিএস (ইন প্ল্যান সুইচিং) প্যানেল তৈরি করছে ওয়ালটন। যা প্যানেলের গুনগত মান ও দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিশ্চিত করে। এর ফলে দর্শকরা পান লার্জ ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল এবং হাই কন্ট্রাস্ট পিকচার। সেইসঙ্গে ওয়ালটন টিভি ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।  

কর্তৃপক্ষ জানায়, ওয়ালটন টিভিতে রয়েছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি সুবিধা। থাকছে টিভির প্যানেল ও খুচরা যন্ত্রাংশে দুই বছরের ওয়ারেন্টিসহ পাঁচ বছরের ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের আওতায় দেশব্যাপী বিস্তৃত সার্ভিস পয়েন্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছে ওয়ালটন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পরের
খবর

গণতন্ত্র, সুশাসন না থাকলে উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে- আকবর আলি খান


আরও খবর

অন্যান্য

অর্থনীতিবিদ সম্মেলন

গণতন্ত্র, সুশাসন না থাকলে উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে- আকবর আলি খান

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি, তাতে গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়ন একসঙ্গে হবে না। কিন্তু এই তিনটিই দরকার। সবার আগে দরকার গণতন্ত্র। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সুশাসন নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে। উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সুশাসন জরুরি।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় 'উন্নয়নের রাজনীতি' শীর্ষক পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের এ পর্বের আলোচনায় বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করেন। তারা বলেন, বর্তমানে দেশে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চলছে। ক্ষমতাসীন দল শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রেণিগুলোকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে ক্ষমতায় থাকছে। পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলকে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। আবার জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করার উদ্যোগে নতুন ধরনের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের আশঙ্কা রয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বাম দলগুলো সক্রিয় ভূমিকা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো রওনক জাহান।

আকবর আলি খান আরও বলেন, বাংলাদেশে দল ওপর থেকে পরিচালিত হয়। নিচে যারা থাকে, তারা হালুয়া-রুটি ভাগাভাগি করে। দলে বিরোধী মত থাকে, বিতর্ক থাকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে তা দেখা যায় না। এ জন্য দেশে গণতন্ত্র আছে কি-না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাবেক এই আমলা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে, তবে তা ত্রুটিপূর্ণ। এ মুহূর্তে মানুষের অধিকার রক্ষায় সংসদ ঠিকমতো কাজ করছে না। এ জন্য অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র দরকার। একই সঙ্গে রাজনীতির অমীমাংসিত প্রশ্নে গণভোট দরকার। তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই তৃতীয় শক্তির উত্থান চায় না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তার পরিবর্তন না হলে তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব হবেই। এই তৃতীয় শক্তি নাগরিক সমাজ নয়।

মূল প্রবন্ধে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিটিকস ক্লাস্টারের প্রধান মির্জা এম হাসান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে সর্বোচ্চ নেতৃত্বই সবকিছু ঠিক করে। যে কারণে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হয়নি। সংসদ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে ভারসাম্য নেই। তিনি বলেন, দেশে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে তাতে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা নেই। এ ধারা ২০১৩ সালে শুরু হয়নি, বরং ১৯৯১ সালেই শুরু হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমন, যার মাধ্যমে তৃতীয় শক্তি জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে। রাজনৈতিক দলগুলো অনিশ্চয়তার জন্য এই ব্যবস্থা পছন্দ করে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, আগে দ্বিদলীয় শাসন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতো। দুটি দল ঘুরেফিরে ক্ষমতায় আসত। এখন আর তা নেই। পাশাপাশি শাসন ব্যবস্থার পুরোটাই যে সরকারি দল নিজের পক্ষে নিতে পেরেছে, তা নয়। সরকার শাসন ব্যবস্থার তিন ব্লকে (রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলা) আটকা পড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, আগে বলতাম, দেশে গণতন্ত্রে ঘাটতি আছে। এখন বলছি, গণতন্ত্রে ত্রুটি আছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার সব সূচকেই পেছনে পড়েছে।

একটি পর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আলোচকদের প্রশ্ন করেন। তাদের প্রশ্নের মধ্যে ছিল মধ্যবিত্তরা কেন আন্দোলনে আসছে না। জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হলে সমাজ ও রাজনীতিতে প্রভাব কী হবে। অভিভাবকরা তরুণদের রাজনীতিতে নিরুৎসাহিত করছেন কেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রওনক জাহান বলেন, দেশে আন্দোলন হচ্ছে। তবে এসব আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি নেই। এমনকি নিরাপদ সড়ক, কোটা সংস্কারের মতো জনস্বার্থ সম্পৃক্ত আন্দোলনেও রাজনৈতিক শক্তি সম্পৃক্ত হচ্ছে না। এ অবস্থায় সবাই বাম দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। এটা অবশ্য ইতিবাচক।

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এম এম আকাশ বলেন, বিএনপি সক্রিয় নয়। বাম দলগুলো এতদিন বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন করেছে। এদিকে এক ধরনের ইসলামিক শক্তি এগোচ্ছে। বামপন্থিদের আসতে হলে একটা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য ফ্রন্ট দরকার।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

স্পিড নিয়ে এল 'বাংলায় লিখি বাংলায়' প্রতিযোগিতা


আরও খবর

অন্যান্য

  অনলাইন ডেস্ক

দেশের জনপ্রিয় বেভারেজ ব্র্যান্ড স্পিড নিয়ে এল ‘বাংলায় লিখি বাংলায়’ প্রতিযোগিতা। আসন্ন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এবং বাংলা ভাষার বিকৃতি নিয়ে তরুণ প্রজন্ম তথা মানুষেকে সচেতন করতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে স্পিড।

সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতাটি হবে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তার ফেসবুক প্রোফাইলের মাধ্যমে লগ-ইন করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা মাত্রই প্রতিযোগীর মোবাইল ফোন নম্বর এবং ইমেইল  অ্যাড্রেস চেয়ে অনুমতি নেয়া হবে।

এই সকল ধাপ পেরোনের পর প্রতিযোগী একটি ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন।যেখানে বাংলায় কিছু লেখা থাকবে।প্রতিযোগীকে সেই লেখাটি পুণরায় লিখতে হবে নিচের বাক্সে। উপরে একটি সময় পরিমাপক দেখা যাবে।  যেথানে প্রতিযোগী কত সময় নিয়েছেন তা নিজেই দেখতে পাবেন। 

দ্রুত সময়ে সফলভাবে লেখা শেষ হলে প্রতিযোগীকে সেরা তালিকা দেখানো হবে। যেখানে তিনি দ্রুত সময়ে লেখা শেষ করেছেন এমন শীর্ষ তিনজন এবং সারাদিনের সেরা ১০জনের নাম দেখতে পাবেন।

প্রতিদিন সেরা ১জন প্রতিযোগী পাকেন ১ কেস করে স্পিড ক্যান এবং প্রতিযোগিতা শেষে সেরা তিনজন পাবেন আকর্ষণীয় স্মার্টফোন। বিস্তারিত স্পিড এর ফেসবুক পেইজে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি