অন্যান্য

প্রাইজবন্ডে প্রথম পুরস্কার জিতল ০৪২০২২৪ নম্বর

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৮

প্রাইজবন্ডে প্রথম পুরস্কার জিতল ০৪২০২২৪ নম্বর

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১০০ টাকা মূল্যমানের ৯৩তম 'ড্র' অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ড্র পরিচালিত হয়। 

এবারে প্রথম পুরস্কার জিতেছে প্রত্যেক সিরিজের ০৪২০২২৪ নম্বর এবং দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছে ০০৭৫৩৭৪ নম্বর। একক সাধারণ পদ্ধতি তথা প্রত্যেক সিরিজের একই নম্বরে প্রাইজবন্ডের ড্র পরিচালত হয়। এবারে ৫৩টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যার মোট দুই হাজার ৪৩৮টি নম্বর পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।

একশ' টাকা মূল্যমানের ড্রয়ে এবারে তৃতীয় পুরস্কার জিতেছে- ০৩২৮৬৪২ ও ০৬৮৫৭৫৫, চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী নম্বর ০৫২৪২৩৯ ও ০৫৮৩১১০ নম্বর। 

এছাড়া পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী প্রতিটি সিরিজের ৪০টি নম্বর হলো- ০০০৭৫৯১, ০২৯০৭৭৮, ০৪৮০৫৩৪, ০৬৭১৭৬১, ০৮৩৮০৫৭, ০০৩৯৮৯০, ০৩০৮৭৩২, ০৪৮৮০৯৮, ০৬৮৫৮৪৭, ০৮৯১৪৬২, ০০৭২৪২৭, ০৩৯৩০৭৫, ০৫২৬১৮৪, ০৬৯৩৩৭৮, ০৯১৩৫৯২, ০০৭৫৬৮৯, ০৪২২০৩৬, ০৫৩২২৮৯, ০৭৪১১৯৩, ০৯২৬২৪৪, ০১১২২৫৪, ০৪৩০০২১, ০৫৭২৯৯৯, ০৭৬৮১২৮, ০৯৩৪৮৪০, ০১১৮৩৫৪, ০৪৫২৫৫০, ০৬৫০৩৪০, ০৭৭৮৪০৫, ০৯৫২১৭৮, ০২১৫৫২৫, ০৪৫৬৭৩১, ০৬৫৩২৩৯, ০৭৯৪৩৬০, ০৯৮২১৬৫, ০২৬৬৩৬৭, ০৪৬৭৮৮৮, ০৬৫৩৯৮০, ০৮১৫৯৮৪ ও ০৯৮৮৭৭৯।

প্রথম পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে ৬ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীদের ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে দেয় সরকার। পর্যায়ক্রমে তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেকে পান এক লাখ টাকা, চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী ৫০ হাজার এবং পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ীরা ১০ হাজার টাকা করে। 

প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কারের জন্য ঘোষিত সংখ্যার প্রতিটি সিরিজের সেই সংখ্যার বন্ড প্রথম পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। একইভাবে অন্য পুরস্কারগুলোও দেওয়া হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, প্রতি তিন মাস অন্তর মাসের শেষ কর্মদিবসে প্রাইজবন্ডের ড্র হয়ে থাকে। আর ১৯৯৯ সালের জুলাই থেকে প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কাটার বিধান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প এগোচ্ছে না ঠিকমতো


আরও খবর

অন্যান্য
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প এগোচ্ছে না ঠিকমতো

৮ মাসে বরাদ্দের ৩% ব্যয় পদ্মা রেল সংযোগে, ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

ফাস্ট ট্র্যাক বা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া কয়েকটি প্রকল্পে এখনও ধীরগতি চলছে। চলতি অর্থবছরের আট মাস পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যয়ের হার খুবই নগণ্য। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বেশিরভাগ প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের হার সন্তোষজনক নয়। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে এ সময়ে বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রকল্পে গতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প থেকে যথাযথ সুফল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যমতে, পদ্মা রেল সংযোগ, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে কম হারে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দের তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় হয়েছে ওই আট মাসে। তবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ এরই মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, পদ্মা সেতুর জন্য ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইলিং নকশা নতুন করা হয়েছে। যথাসময়ে ঠিকাদারকে পাইলের নকশা সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বিলম্ব হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি করতেও অনেক দেরি হয়েছে। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে  ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের ভূমির দখল না পাওয়ায় অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও ডিপো ওয়ার্কশপ ও নিয়ন্ত্রণ ভবনের শুধু পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪৪৮টি পিয়ারের মধ্যে কেবল ২১২টি নির্মাণ হয়েছে।

ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সমকালকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামী ২১ মার্চ প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

পদ্মা রেল সংযোগে মাত্র ৩%: আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা খরচ করার কথা। অথচ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ নয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পে আর্থিক অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ। ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করে প্রকল্পটি ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৩%: সম্ভাব্য ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে হলে আগামী আট মাসে ব্যয় করতে হবে ১১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ৩৩ শতাংশ বা এক হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ: চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬৩ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২২ শতাংশ। বেশ কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

জানতে চাইলে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ার-উল-হক সমকালকে বলেন, নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বিলম্ব হওয়ায় অর্থ ব্যয়ে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় ভূমির মালিকরা বাধা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসক থেকে ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি। এতে প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে না।

মেট্রোরেল: চলতি অর্থবছরে রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে তিন হাজার ৯০২ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এর ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৭ শতাংশ।

প্রকল্পের উপপরিচালক মো, আবদুল ওয়াদুদ জানান, কর্মপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত পরিকল্পনায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থ ব্যয়ের গতি বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প: তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫০০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা বা ৩১%। শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: ১২০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য ছিল। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট অর্থ খরচ হয়েছে তিন হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। প্রকল্প ২০২০ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ আর আর্থিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ।

৮৪% ব্যয় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে: ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অর্থ ব্যয়ের গতি বেশ ভালো। দুই হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বা ৮৪ %।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চলতি অর্থবছরে এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে ১১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ১৫ শতাংশ।

পরের
খবর

ঋণে চক্রবৃদ্ধি সুদহার প্রথা থাকবে না


আরও খবর

অন্যান্য
ঋণে চক্রবৃদ্ধি সুদহার প্রথা থাকবে না

ব্যাংক পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিশ্বের কোথাও চক্রবৃদ্ধি হারে সুদহার হিসাব করা হয় না। বাংলাদেশেও ব্যাংক ঋণের সুদহার হিসাবের ক্ষেত্রে আগামীতে চক্রবৃদ্ধি প্রথা থাকবে না। সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল রোববার ব্যাংকের পরিচালক ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকে যে প্রক্রিয়ায় পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আগামীতে তা থাকবে না। ব্যাংকের পরিচালক হতে হলে তাকে কমপক্ষে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে আসতে হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি আগামী বাজেটের আগে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ বলে জানানো হয়। বৈঠকে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিচালকদের আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। বৈঠকে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিদ্যমান ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা সহজ করতে হবে। ডাউনপেমেন্ট ও মেয়াদের শর্ত শিথিল এবং খেলাপি ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে সময় বাড়াতে হবে। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে জানানো হয়, এ দাবিগুলোর বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবে চলতে পারে না। যেভাবে পর্ষদ গঠিত হচ্ছে, এটাও হতে পারে না। এখানে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সত্যিকারভাবে যারা ব্যাংকিং বোঝে তাদের পর্ষদে নিয়োগ দেওয়া হবে। চাকরি নেই বলে একটি ব্যাংকের পরিচালক বানিয়ে দিলাম, সেটা আর হবে না। এ জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে। আগামীতে পরিচালক করার আগে যারা প্রকৃতভাবে কাজ করতে পারবেন, ব্যাংকিং, হিসাববিজ্ঞান বা আইন বোঝেন, তাদের  মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, এসব বিষয়ে সুপারিশ নিয়ে আমার কাছে আসবেন না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে কিছু ক্রটি-বিচ্যুতি আছে। এটা পাঁচ বা সাত বছরে হয়েছে তেমন না। অনেক আগে থেকে বাড়তে বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে। এটা পরিস্কার করার জন্য এখন হাত দেওয়া হবে। আর এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকে বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যালেন্সশিটে কী পরিমাণ সম্পদ দেখানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা জানার জন্য এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যাংকে বিশেষ অডিট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ অডিটের মাধ্যমে জানা যাবে, যারা ঋণ নিয়েছে তাদের মধ্যে ভালো গ্রাহক কারা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কারা। ভালো ব্যবসায়ীদের সরকার সহযোগিতা করবে। খারাপদের সঙ্গে আপস করা হবে না। যেভাবেই হোক সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথাও বলেন, যারা বড় বড় কথা বলেন, তারা ১০ জনকে চাকরি দিতে পারেন না। আর ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নেন তারাই দেশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাংকিং খাতকে সাজানো। আগামী বাজেটে সেসব বিষয় আনা হবে। এ ছাড়া কোনো একজনের একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে সব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে একটার সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মিল করা যাবে না। একটা প্রতিষ্ঠানের কারণে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো যে অন্যায়গুলো করা হচ্ছে, তা আর হবে না।

ব্যাংক খাতের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক দেশেই ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। ব্যাংক একেবারে খারাপ হলে অর্থনীতি এভাবে এগোত না। সুতরাং ব্যাংক নিয়ে যা শোনা যায়, সব সঠিক না। এখানে হিসাবায়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। আবার কিছু ক্রটি-বিচ্যুতিও আছে। অর্থায়ন সমস্যার সমাধানে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে। বন্ড মার্কেটে ভালো ব্যবস্থা থাকলে অর্থায়নে কোনো সমস্যা হতো না। পৃথিবীর কোনো দেশে স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হয় না বলেও জানান তিনি।

তার মতে, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ৬২টি ব্যাংক আছে। এটা বেশি না। কেননা, এখানকার বেসরকারি সব ব্যাংকের বিনিয়োগের সমান দেশের বাইরে একটি ব্যাংক। সুতরাং সংখ্যা বড় বিষয় না। যদি ঠিকভাবে চালানো যায় কোনো সমস্যা না। এ ছাড়া শস্যবীমা চালু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পে অর্থায়নে আগামী বাজেটে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পরের
খবর

দারাজ অ্যাপের নতুন ফিচার ‘শেক শেক’


আরও খবর

অন্যান্য

  অনলাইন ডেস্ক

দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেড (daraz.com.bd) এই প্রথমবারের মতো গ্রাহকদের জন্যে নিয়ে এসেছে দারাজ অ্যাপের নতুন এক ফিচার-‘শেক শেক’।

ভিন্নধর্মী এই ফিচারটি উদ্বোধন করা হয় ১২ মার্চ (মঙ্গলবার)। চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে দারাজ অ্যাপে লগইন করে মোবাইল ফোনটি শেক করলে বা ঝাঁকালে নানা ধরনের ভাউচার পাবেন ক্রেতারা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে আই লাভ ভাউচার, ব্র্যান্ড ভাউচার ও বিভিন্ন অঙ্কের ডাবল টাকা ভাউচার।

‘শেক শেক’ ফিচার ব্যবহার করবেন যেভাবে-

ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিদিন এক ঘণ্টার জন্য করে তিনবার তিনটি টাইম স্লটে ভাউচার পাওয়া যাবে-বেলা ১২টা, বিকেল ৪টা ও রাত ৮টা।

অফার চলাকালীন সময়ের নির্দিষ্ট টাইম স্লটে গ্রাহক নিজের মোবাইলের দারাজ অ্যাপটি ওপেন করবেন। এরপর হোমপেইজে 'ড্যাজ' হাজির হলে স্মার্টফোনটিকে ঝাঁকাতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি পপআপের মাধ্যমে ভাগ্যবান বিজয়ী ক্রেতাকে তার জিতে নেওয়া ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত সব তথ্য জানানো হবে। ভাউচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে।

একজন গ্রাহক প্রতিবার একটি নির্দিষ্ট সংখ্যকবার পর্যন্ত শেক করতে পারবেন। একজন ক্রেতা একাধিক ভাউচার জিতে নিতে পারলেও একটি নির্দিষ্ট ভাউচার দ্বিতীয়বার জিততে পারবেন না এবং নির্দিষ্ট টাইম স্লটের মধ্যে একের অধিক ভাউচার জিততে পারবেন না।

শেক শেক ফিচার-এর মাধ্যমে ‘আই লাভ ভাউচার’

শেক শেক ফিচার-এর মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ‘আই লাভ ভাউচার’ জিতে নিতে পারবেন ক্রেতারা। কিন্তু এই ভাউচার ব্যবহারের সময়সীমা ২৮ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

‘শেক শেক’ ফিচারে ডাবল টাকা ভাউচার

ক্যাম্পেইন চলাকালে শুধুমাত্র ‘শেক শেক’-এর মাধ্যমে ১০০০, ২০০০, ৫০০০ ও ১ ০ হাজার টাকার ডাবল টাকা ভাউচার কেনার কোড পাওয়া যাবে। বিজয়ী ক্রেতারা ১৬ মার্চ পর্যন্ত ভাউচারের নির্দিষ্ট টাকা পরিশোধ করে ডাবল টাকা ভাউচার কিনে রাখতে পারবেন। আর এই ডাবল টাকা ভাউচার ব্যবহার করার সময়সীমা ২৮ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 

সংশ্লিষ্ট খবর