ঢালিউড

সংগ্রামী জীবনের গল্প

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯

সংগ্রামী জীবনের গল্প

  বিনোদন ডেস্ক

এক সময় পাঁপড় বিক্রি করতেন রাস্তার ঠেলাগাড়িতে। এখন তিনিই কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে যান। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নেন। বলা হচ্ছে, ভারতের প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমারের কথা। এবার বিহারের আনন্দ কুমারের জীবন আধারে বলিউডে নির্মিত হলো 'সুপার ৩০'। সমাজের নিচুতলার ছেলেমেয়েদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য প্রস্তুত করতেন আনন্দ। ছবির মূল উপপাদ্য কীভাবে আনন্দ কুমার প্রতিবছর মাত্র ৩০ ছাত্রকে বেছে নেন তার অবৈতনিক পাঠশালায়, যারা আইআইটির ভর্তির পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার কৃতিত্ব দেখান। সেই আনন্দ কুমারের চরিত্রে এবার দেখা যাচ্ছে অভিনেতা হূত্বিক রোশনকে। বায়োপিক ছবিটির গল্প জানতে চাইলে তাই আনন্দ কুমারের জীবন কাহিনীর দিকে তাকালেই অনেকটা আঁচ পাওয়া যায়। নিতান্ত গরিব পরিবারে জন্ম হয় আনন্দের। তার বাবা পাটনায় পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন। খুব কম বেতনের চাকরি ছিল। কেমব্রিজে পড়াশোনার সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে সে সুযোগও নষ্ট হয়। দুস্থ শিশুরা যেন টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে কষ্ট পায়, সেজন্য খুলে ফেলেন সুপার ৩০ নামে স্কুল।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ আইআইটিতে স্থান করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। এরপর ধীরে ধীরে সুপার ৩০ প্রতিষ্ঠানের নামডাক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয় আনন্দ কুমারকে। শুধু তাই নিয়ে ছবি মুক্তিকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন তিনি। তাই সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'বায়োপিক মুক্তি পাওয়ার কারণে অনেক রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। অবশ্য সতেরো বছর ধরে এডুকেশনাল মাফিয়া আমাদের পেছনে পড়ে রয়েছে। বায়োপিক আসছে বলে আমার ভাইকে ট্রাকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল। আমাদের এক ভলান্টারি কর্মীকে জেলে ঢোকানো হয়েছিল। পরে নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় ডিজিপির হস্তক্ষেপে সে ছাড়া পায়। আসলে রাজনৈতিক নেতারা কখনও চান না, গরিবের ছেলেমেয়েরা একটা ভালো জায়গায় দাঁড়াক।' এমন ঘটনার মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে ছবিটি নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কারণ একে তো আনন্দ কুমারের জীবনসংগ্রাম এতে উঠে এসেছে, পাশাপাশি তার ভূমিকায় অভিনয় করবেন হূত্বিক রোশন। তবে ছবিটিকে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না।

কখনও প্রযোজনা সংস্থা ভেঙে যাচ্ছে, তো কখনও পরিচালক যৌন হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া বারবার বদলেছে 'সুপার থার্টি'র মুক্তির দিন। তবে ছবির ট্রেলার প্রকাশ পাওয়ার পর এটা স্পষ্ট, এগুলোর কোনোটিই ছবির গুণগত মানে ছাপ ফেলতে পারেনি। সব মহলেই উচ্চ প্রশংসিত হূত্বিক রোশনের এ ছবি। এদিকে গত দু'বছর হূত্বিকের কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। নতুন নায়কদের ভিড়ে হূত্বিক খানিকটা কোণঠাসাই বলা যায়। 'সুপার ৩০' দিয়ে নিজের হারানো জায়গাটা উদ্ধার করতে চাইছিলেন অভিনেতা, যে কারণে প্রতিটি বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে ছবিটি বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। ভেঙে যাওয়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্যান্টম ফিল্মসের এটাই শেষ ছবি। বিকাশ বহেলের বিরুদ্ধে #মিটুর অভিযোগ ওঠায়, হূত্বিক দাবি তোলেন, পরিচালকের নাম ছবি থেকে বাদ দেওয়ার। তদন্তে বিকাশের বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণিত না হওয়ায় পরিচালক হিসেবে শেষ পর্যন্ত তার নামই যাচ্ছে। 'সুপার থার্টি' এবং নিজের ক্যরিয়ার বাঁচানোর তাগিদে কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে সংঘর্ষও এড়িয়েছেন হূত্বিক। ঠিক ছিল জানুয়ারিতে 'সুপার ৩০' মুক্তি পাবে; কিন্তু কঙ্গনা ওই দিনই 'মণিকর্নিকা'র মুক্তি ঘোষণা করেন। সম্মুখ সমর এড়িয়ে হূত্বিক ছবি পিছিয়ে দেন। তারপর আবারও কঙ্গনার 'মেন্টাল হ্যায় কেয়া'র সঙ্গে ছবিটির মুক্তি নিয়ে জটিলতা হয়। এবারও হূত্বিক নিজের অবস্থান বদলান। নিজের প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে কোনো উটকো ঝামেলাকে তিনি প্রাধান্য দিতে চাইছেন না।

কারণ এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে হূত্বিকের আবেগ কতখানি, তা এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনেতার সাম্প্রতিক একটি পোস্ট দেখলেই বোঝা যায়। সেখানে তিনি বলেন, 'এই সিনেমা আমার ও সারা পৃথিবীর সব সন্তানকে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে। তোমরা অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখো। তোমার স্বপ্নে কীভাবে পৌঁছাবে, তা আমাদের ওপর ছেড়ে দাও। আমরাই তোমাদের জন্য সে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিতে চাই।' হূত্বিক আরও বলেন, 'একজন বাবা হিসেবে এই পিতৃত্বের অনুভূতিটাই দৃঢ়তার সঙ্গে অনুভব করি। আর এ অনুভূতিটা এত সুন্দর, যে, আমার মনে হয় এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী আবেগের জায়গা।' অবশ্য অভিনেতা হূত্বিকের কাছে এ ছবিটি বড় পরীক্ষা। গ্ল্যামারাস খোলস ছেড়ে আনন্দের চেহারার ছাঁচে নিজেকে ঢেলে তৈরি করেছেন তিনি। গলার স্বর বদলেছেন। এখন তার এই প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর তা দেখছেন সবাই। 

১২ জুলাই ছিল বলিউড তারকা হৃতিক রোশনের জন্য একটা বিশেষ দিনই বলা যায। কারণ, প্রায় দেড় বছর পর মুক্তি পেলো তার ছবি, সেখানে ৪৬ বছর বয়সী ‘ম্যাথ জিনিয়াস’ আনন্দ কুমারের ভূমিকায় দেখা যাবে ৪৫ বছর বয়সী হৃতিক রোশনকে। এই ছবিতে আনন্দ কুমারের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ম্রুণাল ঠাকুর। বীরেন্দ্র স্যাক্সেনাকে দেখা গেছে আনন্দ কুমারের বাবার ভূমিকায়। আনন্দ কুমারের ভাইয়ের চরিত্রে নন্দীশ সিং। আর সিআইডির ইন্সপেক্টর অভিজিৎ, অর্থাৎ আদিত্য বাস্তবকে দেখা গেছে কোচিংয়ের মালিকের ভূমিকায়।

মন্তব্য


অন্যান্য