ঢাকা

ভারত হয়ে নদীপথে নারায়ণগঞ্জে ভুটানের পাথরবাহী জাহাজ

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯

ভারত হয়ে নদীপথে নারায়ণগঞ্জে ভুটানের পাথরবাহী জাহাজ

অতিথিরা ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে নদীপথে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের উদ্বোধন করেছেন -সমকাল

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ভারত হয়ে নদীপথে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছেছে ভুটানের পাথরবাহী প্রথম জাহাজ। মঙ্গলবার জাহাজটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাটে পৌঁছায়। পরে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজের পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের নবযাত্রার সূচনা হয়।

ভুটানের ফুয়েন্ট শোলিং থেকে ১৬০ কিলোমিটার সড়কপথে ট্রাকে করে আসামের ধুবড়ি নৌ-বন্দরে পাথরগুলো আনা হয়। পরে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-কর্তৃপক্ষের একটি জাহাজ ওই পাথর নিয়ে ১২ জুলাই নারায়ণগঞ্জের দিকে রওনা হয়। ১৬ জুলাই তা নারায়ণগঞ্জ মেঘনা ঘাটে পৌঁছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটিতে এক হাজার টন পাথর আনা হয়েছে, যা বহন করতে ৫০টি ট্রাকের দরকার পড়ত। ভুটান থেকে ভারতীয় স্থলপথ ব্যবহার করে এসব পাথর আনা হয়ে থাকে। নৌপথ ব্যবহার করা হলে পাথরসহ অন্যান্য পণ্যের পরিবহন খরচ কমে যাবে প্রায় ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া স্থলপথের চেয়ে ৮-১০ দিন সময়ও কম লাগবে।

দুপুরে নৌপথে ভারত হয়ে ভুটানের পণ্য আমদানি শুরুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। অতিথি ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ, ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম টি রাবগি, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আতিকুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মাহাবুব উল ইসলাম ও বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক মিসেস সাফওয়ান সোবহান।

অনুষ্ঠানে হাইকমশিনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, ভুটান থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে নদীপথে পাথর আমদানি তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্যের নতুন সূচনা করল। এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। 

তিনি বলেন, আগামী দিনে তিন দেশের বাণিজ্য এভাবেই হওয়া উচিত। এতে তিন দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও উন্নতি ঘটবে। আমরা সেটাকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাব।

ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম টি রাবগি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে তিন দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। এতে ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্বাধীনতার পর আবারও নদীপথের ট্রানজিট সুবিধা চালু হলো। নদীপথের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার যোগাযোগ বাড়ানো ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

পরে অতিথিরা ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে নদীপথে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য


অন্যান্য