ঢাকা

উত্তরায় উবারের গাড়ি থেকে চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯

উত্তরায় উবারের গাড়ি থেকে চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি সেবার নেটওয়ার্ক উবারের একটি প্রাইভেককার থেকে মোহাম্মদ আরমান ওরফে আমান (৪২) নামে এক চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উত্তরা-১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরমান পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন ফতে মোপুরের মৃত আব্দুল আব্দুল হাকিমের ছেলে। সে ঢাকায় মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার ১১-১২ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর লেনের ১৬ নম্বর বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকত।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল সমকালকে বলেন, নিহত ব্যক্তির কোনো কিছুই খোয়া যায়নি। ছিনতাইয়ের ঘটনা হলে তেমন কিছু আলামত পাওয়া যেত। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয় তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

গাড়িটির মালিকের ভাই অন্তর সাংবাদিকদের জানান, উবারে দেওয়া তাদের সাতটি গাড়ির একটি চালাতেন আরমান। বছরখানেক ধরে তিনি কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা দু'জন একসঙ্গে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খান। এরপর অন্তরকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যান আরমান। রাত ১১টা ২১ মিনিটে তিনি রামপুরার ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে যাত্রী নিয়ে উত্তরা-১৪ নম্বর সেক্টরে যান। রাত ১২টা ৪ মিনিটে তিনি গন্তব্যে পৌঁছান। এরপরই তার মিরপুরে ফেরার কথা ছিল। তবে রাত ১টা পর্যন্ত তিনি না আসায় তার নম্বরে কল করেন অন্তর। অপরিচতি কেউ কল রিসিভ করে জানান, ফোনের মালিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান অন্তর। সেখানে গিয়ে গাড়ির ভেতর আরমানের গলা কাটা লাশ দেখতে পান।

উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেছন থেকে আরমানের কাঁধে আঘাত করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে উঠে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে শেষপর্যন্ত ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যার পর পালিয়ে যায়।

নিহতের খালাতো ভাই আরিফ হোসেন জানান, আরমান তার বড় বোনের ননদের মেয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার নারায়ণগঞ্জে যান। এরপর বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরে গাড়ি চালান। বিয়ে উপলক্ষে শুক্রবার সকালে তার আবারও নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই এমন নির্মম ঘটনা ঘটল। আরমান এর আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন।

নিহত আরমান স্বজনরা বলেছেন, আরমানের কারো সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। তাই কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা ধারণা করতে পারছেন না কেউ। গাড়িটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ফতেমোহাম্মদপুরে আরমানের গ্রামের বাড়িতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য


অন্যান্য