ঢাকা

গোপালগঞ্জে বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুলের ৪ শাবক উদ্ধার

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯

গোপালগঞ্জে বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুলের ৪ শাবক উদ্ধার

ছবি: সমকাল

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুলের ৪ শাবক উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্ধারকৃত শাবকগুলো খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ফরেস্টার ও ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান শাবক চারটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ফরেস্টার মো. মামুন-অর-রশীদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় ওই কেন্দ্রের আরও ৫ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বুধবার বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর মধ্যপাড়া গ্রামের ডাঙ্গার মধ্যে একটি তাল গাছের পাতা কাটতে ওঠে অপূর্ব নামের এক কিশোর। সেখানে ওঠার পর গন্ধগোকুল শাবকগুলোর মা তাল গাছ থেকে পালিয়ে যায়। পরে অপূর্ব ওই তাল গাছ থেকে গন্ধগোকুলের চারটি শাবক নিয়ে নিচে নামে। এরপর শাবকগুলো দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা শাবকগুলো উদ্ধার করি। এরপর খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে খবর দিই। সেখান থেকে ৬ সদস্যের একটি টিম গোপালগঞ্জে এসে গন্ধগোকুলের শাবকগুলো নিয়ে যায়।

ছবি: সমকাল

খুলনা বন্যপ্রাণী রক্ষা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ফরেস্টার মো. মামুন-অর-রশীদ জানান, উদ্ধার প্রাণীর গায়ের রং ও আকৃতি দেখে গন্ধগোকুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের ইংরেজি নাম এশিয়ান পাম সিভেট। উদ্ধারকৃত শাবকগুলোর বয়স ২৫-২৮ দিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে । এবকগুলোর দেহ ৯ ইঞ্চি লম্বা। লেজের দৈর্ঘ ১০ ইঞ্চি হবে। গায়ের রং ধূসর। শাবকগুলো সুস্থ আছে। জন্মের পর এরা মায়ের দুধ পান করে। আমরা দুধ দিয়েই এদের লালন-পালন করবো। ২/৩ মাস লালন-পালন করার পর এরা নিজেরাই আহার গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। এরপর পরিবেশবান্ধব স্থানে ওদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, গন্ধগোকুল মূলত নিশাচর প্রাণী। লোকালয়ের কাছাকাছি এ প্রাণী ঝোঁপ-জঙ্গলে বসবাস করে। এরা রাতের বেলায় লোকালয় থেকে মুরগী, কবুতরের বাচ্চা, ফল, সবজি, তাল, কীট-পতঙ্গ সংগ্রহ করে জীবনধারণ করে। গন্ধগোকুল ইঁদুর ও ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। অন্ধকারে অন্য প্রাণীর গায়ের গন্ধ শুঁকে তাকে চিনতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে গন্ধগোকুলের। গন্ধগোকুলের শরীর থেকে সুগন্ধী চালের গন্ধ ছড়ায়। এরা সাধারণত রান্নাঘরের কাঠ রাখার স্থান, বসত ঘরের মাচা, বিল্ডিংয়ের কার্নিশে বাসা বেঁধে বাচ্চা প্রসব করে। এরা তাল খাটাশ, গাছ খাটাশ, ভোন্দর, নোঙর, সাইরেল নামে পরিচিত। তালের রস বা তাড়ি পান করে বলে এদের তাড়ি বা টডি বিড়ালও বলা হয়।

মন্তব্য


অন্যান্য