ঢাকা

সাবিনাকে হত্যার পর ধর্ষণ: র‌্যাব

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯ | আপডেট : ১২ জুন ২০১৯

সাবিনাকে হত্যার পর ধর্ষণ: র‌্যাব

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তারা- সমকাল

  নরসিংদী প্রতিনিধি

নতুন ঘর বাঁধার স্বপ্নে সরল বিশ্বাসে প্রেমিক সাইফুল ইসলামের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিল সাবিনা আক্তার। তার ভ্যানিটি ব্যাগে ছিল নতুন আয়না-চিরুনিসহ সাজগোজের নানা জিনিসপত্র; কিন্তু সেই প্রেমিকার হাতেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে।

সাইফুল মেয়েটিকে হত্যা করেই থামেনি, তার নিথর দেহটিকেও ধর্ষণ করেছে। ওই ঘটনার ছয় দিন পর নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর সাবিনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার শিবপুর থানার কলেজ গেট এলাকা থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকালে নরসিংদী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওইসব তথ্য জানান র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক কাজী শামসের আহম্মেদ।

র‌্যাব জানায়, গত ৬ জুন শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সাবিনা আক্তারকে একই উপজেলার দুলালপুর (খালপাড়) গ্রামের প্রেমিক সাইফুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে।

পরে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা করে তাকে স্থানীয় কাজীরচর পূর্বপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সাবিনা বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল নিজের জামা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহত সাবিনাকে ধর্ষণ করে লাশ কলাবাগানে ফেলে তার মোবাইল ফোন ও ভ্যনিটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় সাইফুল।

গত ৮ জুন স্থানীয়রা কলাবাগানে লাশ দেখতে পেয়ে শিবপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

র‌্যাব আরও জানায়, ওই ঘটনায় সাবিনার মা বাদী হয়ে শিবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ঘটনাটি জেনে র‌্যাব স্বপ্রণোদিত হয়ে এর তদন্তে নামে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার এএসপি আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হলে খুনি হিসেবে সাইফুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার শিবপুর থানার কলেজগেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেখানো মতে, তার বাড়ির বাথরুম থেকে সাবিনার মোবাইল ফোন এবং বাড়ির পাশের একটি নর্দমা থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি আলেপ উদ্দিন সমকালকে বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মস্পর্শী। মেয়েটি সরল মনে সাইফুলের সঙ্গে সংসার করতে গিয়েছিল। তার ব্যাগে ছিল নতুন চিরুনি, আয়না। সাইফুল শুধু মেয়েটিকে হত্যা করেই থামেনি; নিথর দেহটিকেও সে ধর্ষণ করেছে।

মন্তব্য


অন্যান্য