ঢাকা

প্রবল বর্ষণে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কে ভাঙন

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯ | আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯

প্রবল বর্ষণে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কে ভাঙন

বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে -সমকাল

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে প্রবল বর্ষনে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই সড়কের সোল্ডারে অন্তত ১৫টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যহত হচ্ছে। যেকোন মুহূর্তে সড়কটিতে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালক-যাত্রীরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণের সময় দু’ পাশে মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়। তার মাঝে বালু ফেলে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের পর থেকেই বর্ষণ হলেই  সড়কটির সোল্ডারে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে বালুর বস্তা ও মাটি ফেলে সড়কটির ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তবে যেভাবে ভাঙছে, প্রবল বর্ষণ হলে এই সড়ক টিকবে না।

গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ৩৬ কিঃমিঃ দীর্ঘ সড়কটি ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাঙ্গারহাট জনসভা থেকে উদ্বোধন করেন। তারপর যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেয়া হয়। চলতি বছর ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট সড়ক সংস্কার করা হয়। এছাড়া আগেও সড়কটি সংস্কারে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।

জানা গেছে, ঈদের দিন প্রবল বর্ষণে সড়কের তাড়াশী ব্রিজের পূর্ব পাশের সড়ক সোল্ডার থেকে ভেঙে যায়। পরে দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সদস্যরা গাছের ডাল ও বাঁশ দিয়ে রাস্তার ভাঙন কবলিত স্থান ঘিরে রাখেন। এছাড়াও তাড়াশী জ্ঞানের আলো পাঠাগারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে গুরুত্বপূর্ন এ সড়কের ভাঙন দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

এই সড়কে চলাচলকারী ট্রাক ড্রইভার সমশের শেখ বলেন, ভাঙন ও ফাটল দেখে এই সড়কে গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। ভাঙনের কারণে সড়কটি হুমকির মুখে পড়েছে। 

কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামের রেজাউল করিম দাড়িয়া বলেন, বালির বাঁধের ওপর গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বালুর বাঁধ সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে যায়। এ সড়কও বৃষ্টি হলেই ভাঙছে। এবছর বৃষ্টিতে সড়কের তাড়াশী এলাকায় সবচেয়ে বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। 

তাড়াশী গ্রামের কাজী বাবুল বলেন, নির্মাণের পর থেকেই বৃষ্টি হলেই সড়কের ধার ভেঙে যাচ্ছে। শ্রমিকরা সারা বছরই কাজ করে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে রাস্তা টিকিয়ে রাখছেন।

গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল আলম বলেন, বৃষ্টিতে এ সড়কের তাড়াশীতে বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অন্য ভাঙনগুলো তেমন আশংকাজনক নয়। এখানকার মাটি ধ্বস প্রবন। তাই এ ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। রাস্তা সচল ও চলাচলের উপযোগী রয়েছে। তবে রাস্তা  রক্ষায় আমরা স্লাব প্রটেকশনের টেন্ডার আহবান করছি। এ কাজ হলে সড়কটি বর্ষণজনিত ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে।

মন্তব্য


অন্যান্য