ঢাকা

এসপির ঘোষণায় হকারমুক্ত নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

এসপির ঘোষণায় হকারমুক্ত নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত

এসপির কড়া নির্দেশের পর শনিবার সারাদিন হকারমুক্ত ছিল নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়ক- সমকাল

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ নগরীকে যানজট ও হকারমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদের ঘোষণার দুই দিনের মধ্যেই পাল্টে গেছে পুরো চিত্র। 

শুক্রবার হকারদের কারণে ফুটপাতে হাঁটা কঠিন হলেও শনিবারই তা ছিল হকারমুক্ত। পুলিশের এই ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছে নগরবাসী।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারে প্রেস ব্রিফিং করে বলেছিলেন, তিনি নারায়ণগঞ্জকে যানজট, হকার ও মাদকমুক্ত করবেন। ওই ঘোষণার পর গত দুই দিনে পুরো জেলায় বিভিন্ন অপরাধে ১১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সারাদিন নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকারদের দেখা যায়নি। পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করেছে।

ফুটপাতে হকারদের বসাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সড়কে নাসিক মেয়র আইভী ও তার অনুসারীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর নগরের ফুটপাতগুলো ধীরে ধীরে আবারও হকারদের দখলে চলে যায়।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের ঘোষণার পর নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ খোদ নাসিক মেয়র হকারদের বিরুদ্ধে সফল হননি। সেখানে পুলিশ সুপারের সফল হওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শনিবার থেকে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। 

বিল্লাল হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় অনেক সময় পথচারীরা বাধ্য হন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে। নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য ফুটপাতে হকারদের পণ্যের প্রয়োজন আছে। কিন্তু ফুটপাতে হকারদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফুটপাতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজ চক্রকেও দমন করতে হবে।

গত বছর হকারদের ফুটপাতে বসার দাবিতে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী জেলা সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দাবি জানিয়েছিলাম, ফুটপাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হকারদের বসতে দেওয়া হোক। বিকেল ৫টার পর থেকে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করার দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু একটি পক্ষ হকারদের ফুটপাতে বসতে দিতেই রাজি ছিল না। ওই পক্ষটির অনমনীয় মনোভাবের কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ থাকলেও তারাই ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে কঠোর নীতির কথা জানিয়েছে। আমরা আশা করব, পুলিশ ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে কাজ করবে। কয়েক মাস পর্যবেক্ষণ করার পর এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব হবে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা চলাচল করবে। এটি হকারদের দখলে থাকতে পারে না। আমরা এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করব।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

কোচিং সেন্টার বন্ধে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী


আরও খবর

ঢাকা

ফাইল ছবি

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, কোচিং সেন্টার বন্ধ করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোচিং সেন্টার বন্ধ নয়, নীতিমালা তৈরি করে ঢেলে সাজানো হবে। প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিক স্কুলগুলোতে ভবন দিয়েছি, বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দিয়েছি, ভালো শিক্ষক দিয়েছি। তাহলে ছেলেমেয়েরা কেন কোচিংয়ে আকৃষ্ট হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় যেসব বাধাবিঘ্ন ও সমস্যা রয়েছে, তা দূর করা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েরা যাতে সরকারি স্কুলগুলোতে পড়ে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাতে করেন।

এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহম্মেদ মঞ্জু, শেখ বাবুল, রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু, রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, কুড়িগ্রাম মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরাইয়া জাকির ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহাসহ রাজীবপুর এবং রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পরের
খবর

আ'লীগ নেতার দুই পা ভেঙে দিল মাদক কারবারিরা


আরও খবর

ঢাকা

  সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে মাদক কারবারিরা। 

শুক্রবার সকালে পিরোজপুর ইউনিয়নে মঙ্গলেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের কোবরানপুর গ্রামের রাসেলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। এক মাস আগে রুহুল আমিনের ছেলে লুৎফরকে মাদক দেওয়ার চেষ্টা করে রাসেল ও তার সহযোগী আবদুর রহিম। এ ঘটনায় রুহুল আমিন গালমন্দ করেন আবদুর রহিমকে। এরপর লুৎফরকে একা পেয়ে পিটিয়ে আহত করে আবদুর রহিম। এ ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে বিচার দাবি করেন রুহুল আমিন। এতে রাসেল ও তার সহযোগীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল রুহুল আমিনকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর শুক্রবার সকালে আবার দ্বিতীয় দফায় রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয়, কমল, সোলায়মান, আবদুর রহিম, নুরুদ্দিন, ইমরানসহ অর্ধশতাধিক লোক হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রুহুল আমিনের দুই পা ভেঙে দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাসেল বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গত বছর মাজহারুল ইসলাম নামের এক যুবককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে তারা। 

অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদকের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার এক বন্ধুকে পিটিয়ে আহত করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়েছে। 

সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, হামলার খবর শুনেছেন। অভিযোগ পেলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মরদেহে ঝুলছিল ‘আমি ধর্ষণ মামলার মূল হোতা’ লেখা চিরকুট


আরও খবর

ঢাকা

  নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

ঢাকার সাভারে গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার মামলার প্রধান আসামির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের খাগান এলাকার আমিন মডেল টাউনের ভেতরে একটি মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রিপনের (৩৯) গলায় ‘আমি ধর্ষণ মামলার মূল হোতা’ লেখা একটি কাগজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার ওই নারী শ্রমিককে গত ৫ জানুয়ারি দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওযার পর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা ওই পোশাক কারখানার কর্মী আবদুর রহিম, লাইন চিফ রিপন ও ক্যান্টিন মালিক শিপনসহ চারজনের নামে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেফতার করে।

সংশ্লিষ্ট খবর