ঢাকা

দুই স্কুলছাত্রের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দেড়শ’ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

দুই স্কুলছাত্রের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দেড়শ’ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট

হামলাকারীরা উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের দোকানপাটসহ অন্তত দেড়শ’ বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় -সমকাল

  আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি বিদ্যালয়ে দুই ছাত্রের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে একপক্ষ আরেকপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে নারীসহ অন্তত ১৮ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে। হামলাকারীরা উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের দোকানপাটসহ অন্তত দেড়শ’ বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। 

শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার উপজেলার তেুতুইতলার কবি নজরুল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র চম্পক নগরের শিহাব ও দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্র কাকাইলমোড়ার রাজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাজন ও তার অনুসারীরা শিহাবকে পিটিয়ে আহত করে। বিষয়টির মিমাংসার জন্য শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে চম্পকনগরের পক্ষে ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম মেম্বার এবং কাইকাইল মোড়ার পক্ষে খাগকান্দা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার লোকমান হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন তার লোকজন নিয়ে বৈঠক বসেন। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে মারামারি হলে কোন মিমাংসা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এ খবর লোকমান মেম্বারের গ্রামে পৌঁছালে কাকাইলমোড়া, বাহেরচরসহ আশপাশের কয়েকশ’ গ্রামবাসী  সংঘবদ্ধ হয়ে দেশিয় ধারালো অস্ত্রসজ্জ নিয়ে চম্পকনগর গ্রামে হামলা চালায়। আতঙ্কে ওই গ্রামের নারী পুরুষ ঘর থেকে বেড়িয়ে নদী সাঁতরে পার হয়ে পাশের গ্রাম জাঙ্গালিয়ায় আশ্রয় নেয়। পরে হামলাকারী অন্তত দেড়শ’ বাড়িঘর ভাঙচুর করে ও লুটপাট চালায়। হামলায় আহত হয় নারীসহ অন্তত ১৮ জন। এদের মধ্যে মাকসুদা বেগম নামে একজনের হাত ভেঙে গেছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 

খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জানান, আড়াইহাজারের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেনি। একটি গ্রামের রাস্তা পাশের ও বাজারের দোকানপাটসহ সবগুলো বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের চিত্র দেখে তিনিও হতবাক হয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন থানার ওসি  আকতার হোসেন জানান, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত চম্পকনগর গ্রাম পুলিশ পরিদর্শন করেছে। এখনও ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আ'লীগ নেতার দুই পা ভেঙে দিল মাদক কারবারিরা


আরও খবর

ঢাকা

  সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে মাদক কারবারিরা। 

শুক্রবার সকালে পিরোজপুর ইউনিয়নে মঙ্গলেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের কোবরানপুর গ্রামের রাসেলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। এক মাস আগে রুহুল আমিনের ছেলে লুৎফরকে মাদক দেওয়ার চেষ্টা করে রাসেল ও তার সহযোগী আবদুর রহিম। এ ঘটনায় রুহুল আমিন গালমন্দ করেন আবদুর রহিমকে। এরপর লুৎফরকে একা পেয়ে পিটিয়ে আহত করে আবদুর রহিম। এ ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে বিচার দাবি করেন রুহুল আমিন। এতে রাসেল ও তার সহযোগীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল রুহুল আমিনকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর শুক্রবার সকালে আবার দ্বিতীয় দফায় রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয়, কমল, সোলায়মান, আবদুর রহিম, নুরুদ্দিন, ইমরানসহ অর্ধশতাধিক লোক হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রুহুল আমিনের দুই পা ভেঙে দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাসেল বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গত বছর মাজহারুল ইসলাম নামের এক যুবককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে তারা। 

অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদকের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার এক বন্ধুকে পিটিয়ে আহত করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়েছে। 

সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, হামলার খবর শুনেছেন। অভিযোগ পেলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মরদেহে ঝুলছিল ‘আমি ধর্ষণ মামলার মূল হোতা’ লেখা চিরকুট


আরও খবর

ঢাকা

  নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

ঢাকার সাভারে গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার মামলার প্রধান আসামির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের খাগান এলাকার আমিন মডেল টাউনের ভেতরে একটি মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রিপনের (৩৯) গলায় ‘আমি ধর্ষণ মামলার মূল হোতা’ লেখা একটি কাগজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার ওই নারী শ্রমিককে গত ৫ জানুয়ারি দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওযার পর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা ওই পোশাক কারখানার কর্মী আবদুর রহিম, লাইন চিফ রিপন ও ক্যান্টিন মালিক শিপনসহ চারজনের নামে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেফতার করে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এ কেমন বর্বরতা!


আরও খবর

ঢাকা
এ কেমন বর্বরতা!

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯

নিহত তানজিল

  সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জে বর্বরতার বলি হলো সাত বছরের এক শিশু। অভিযোগ উঠেছে বলাৎকারের পর তানজিল নামে এই শিশুকে হত্যা করে একটি স্ট্রোর রুমে ড্রামে ভরে রাখা হয়। 

ঘটনার ২০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগ এলাকার আলম খানের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন নাজমুল (৩০) ওই বাড়ির কেয়ারটেকার। সে পালিয়ে গেছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানজিল যশোর সদরের সুলতানপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। সে তার মা-বাবার সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগ এলাকার আলম খানের বাড়িতে ভাড়া থাকত। তার বাবা-মা স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক। মা-বাবা দু'জনে কাজ করায় সে বাসায় একা থাকত।

তানজিলের বাবা আনোয়ার জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে তার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ এসে খোঁজ-খবর নিয়ে চলে যায়। পরে বাসায় ফিরে সন্তানকে খুঁজতে থাকেন তিনি। যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন সেই বাড়ির একটি স্টোর রুমের দরজা ভেঙে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে একটি ড্রামের ভেতরে তানজিলের লাশ দেখতে পান। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। 

আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার সন্তানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই শামীম আহমেদ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রাম থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান। এ ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সংশ্লিষ্ট খবর