ঢাকা

গোপালগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এ কেমন আচরণ!

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

গোপালগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এ কেমন আচরণ!

গোপালগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেল -সমকাল

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

সম্প্রতি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দেশবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে নোয়াখালীবাসী। শুধু থাকার জায়গা নয়, নোয়াখালীতে গিয়ে বিনামূল্যে খাবার ও যাতায়াত করতে পেরেছেন প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী-অভিভাবক।

তবে এবার গোপালগঞ্জে গিয়ে বিপরীত অভিজ্ঞতা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে হোটেল ব্যবসায়ী ও ইজিবাইক চালকদের বিরুদ্ধে গলাকাটা ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

শিক্ষার্থদের অভিযোগ, শহরের নিম্নমানের আবাসিক হোটেলগুলোর ভাড়া ১৫০ থেকে ৩ শ’ টাকার স্থলে আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১১ শ’ টাকা। মধ্যম মানের হোটেলের ভাড়াও ৩ থেকে ৪ গুণ বাড়িয়ে আদায় করা হচ্ছে। এসব হোটেলগুলোতে সিঙ্গেল রুম এ্যাটাস্ট বাথরুমের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দেড় হাজার টাকা। আর ডাবল রুম থেকে আদায় করা হচ্ছে ২ হাজার টাকা। কিন্তু এসব রুমের প্রকৃত ভাড়া সিঙ্গেল ৪শ' টাকা আর ডবল ৬শ' টাকা। অন্যদিকে এসি রুমের ভাড়া দেড় হাজারের স্থলে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। 

চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী রাকবির রায়হান ও আরাফ বলেন, পরীক্ষা দিতে এসে গোপালগঞ্জ শহরের হিসাম হোটেলে ডাবল সিট নিতে গেলে ১১শ’ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়। কিন্তু রুম খুবই নিম্নমানের হওয়ায় সেখানে উঠিনি। হোটেল রাজ টাকা ডাবল রুমের ভাড়া চেয়েছে দেড় হাজার টাকা।

জয়পুরহাট থেকে যাওয়া পরীক্ষার্থী আব্দুল মোনেম বলেন, পরীক্ষা দিতে এসে হোটেল শিমুলে রাত কাটিয়েছি। রুমের ভাড়া নিয়েছে ১১শ’ টাকা। এ রুমের ভাড়া বড়জোর ৩শ’ টাকা হতে পারে। এই অন্যায় দেখার কেউ নেই।

হোটেল শিমুলের ম্যানেজার ইয়াছিন সিকদার ডাবল রুমে ৫ শ’ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। 

তবে হোটেল হিসামের মালিক আনিছ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত রুম ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়।

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গোপালগঞ্জে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অনেকটা জোর করেই বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলার মাহেন্দ্র চালকরা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মাত্র ৪ কিলোমিটার পথে তারা ১০ টাকার স্থলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন। ঘোনাপাড়া থেকে বিশ্বদ্যিালয় পর্যন্ত ২ কিঃ মিঃ রাস্তার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা।

এ বিষয়ে ইজিবাইক চালক গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি গ্রামের জোনাব আলী বলেন, শহরে বাইরে থেকে অনেক মানুষ এসেছে। এখন আয়ের সময়। তাই সুযোগ বুঝে দু’ থেকে তিন গুন বেশি ভাড়া আদায় করছি। শনিবার পরীক্ষা শেষ হলে রোববার থেকে আবার ন্যায্য ভাড়া নেব।

মাহেন্দ্র চালক টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি গ্রামের পাভেল শেখ বলেন, শহরের পুলিশ লাইন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ঘোনাপাড়া পর্যন্ত ব্যাপক যানজট। দিনে ২ থেকে ৩ ট্রিপের বেশি দেওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে একটু বেশি ভাড়া আদায় করছি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সরকারের সেবা পৌঁছে দিতে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ: এমপি সবুজ


আরও খবর

ঢাকা

অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ

  গাজীপুর প্রতিনিধি

দুর্নীতিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে সরকারের সকল সেবা ৬ লাখ মানুষেকে নিয়ে গঠিত একটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ।

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন গাজীপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ সবুজ।

তিনি বলেন, পুরো সংসদীয় এলাকাই একটি পরিবার। এই পরিবারের তিনি একজন সদস্য। আমার কাছে জনগণের জমা রাখা পবিত্র আমানত জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জবরদখল ও নির্যাতনমুক্ত একটি উপশহর গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা সবুজ বলেন, শ্রীপুরে কোনো দুর্নীতি থাকতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সকল উন্নয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ। কোনও সরকারি কর্মকর্তা যদি দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতারের সভাপতিত্বে প্রশাসনের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তারা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।     
ইজাজ আহমেদ মিলন
গাজীপুর

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ইয়াবাসহ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতার


আরও খবর

ঢাকা

ভাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর রহমান মোল্লা

  ফরিদপুর অফিস

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর রহমান মোল্লাকে পিস্তল ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার গাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি এবং ২শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

লুৎফর রহমান মোল্লা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত্যু গিয়াস মউরীর ছেলে।

ভাঙ্গা থানার ওসি কাজী শাহিদুর রহমান বলেন, লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় মাদক মামলা রয়েছে। এর আগেও তাকে র‌্যাব আটক করেছিল।

ডিবি পুলিশের ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুৎফর রহমান মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন


আরও খবর

ঢাকা

ফাইল ছবি

   নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রথম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেসিক বা মূল মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে কাজে ফিরেছেন অধিকাংশ শ্রমিক। সোমবার সকালে নিজ নিজ কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে।

তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের টঙ্গি-আশুলিয়া মহাসড়কে পোশাক কারখানার কিছু শ্রমিক সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় কিছু কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, সকাল ৯টার দিকে অবরোধের চেষ্টা করে শ্রমিকরা। এখন পরিস্থতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

পুরো আশুলিয়া এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নজরদারি করতে দেখা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ে শ্রমিকদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, সরকার নতুন বেতন কাঠামো করেছেন। এখন যেসব শ্রমিক কাজ করবেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করুন। কেউ কাজ না করতে চাইলে বের হয়ে যান। কাজে বিঘ্ন ঘটাবেন না।

জানুয়ারিতে নতুন কাঠামোয় মজুরি পাওয়ার পর রাজধানী এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকদের অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার মালিকপক্ষের ৫ জন, শ্রমিকপক্ষের সমসংখ্যক সদস্য এবং শ্রম ও বাণিজ্য সচিবসহ মোট ২০ সদস্য নিয়ে মজুরি পর্যালোচনায় ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে সরকার।

শ্রম অসন্তোষের পেছনে শ্রমিকদের অন্যতম আপত্তি ছিল ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের বেসিক নিয়ে। বেসিক বাড়লে বোনাস, ওভারটাইমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ে। শ্রমিকদের দাবি, নতুন মজুরি কাঠামোয় বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যে হারে বেড়েছে; বেসিক সে হারে বাড়েনি।

মজুরি পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে প্রথম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেসিক বা মূল মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনায় ছয় গ্রেডের বেসিকই বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম গ্রেডের বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় যা ছিল ১০ হাজার ৪৪০ টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের ৮ হাজার ২২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৪৪ টাকা করা হয়েছে। তৃতীয় গ্রেডে ৫ হাজার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৩০ টাকা করা হয়েছে। চতুর্থ গ্রেডে বেসিক ৪ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৯৩০ টাকা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ হাজার ৬৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০৫ টাকা ও ষষ্ঠ গ্রেডে ৪ হাজার ৩৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৮০ টাকা হয়েছে। সপ্তম গ্রেডের বেসিক মজুরি বোর্ড নির্ধারিত ৪ হাজার ১০০ টাকা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর