ঢাকা

১০ দিনেও সেই বৃদ্ধ মায়ের খোঁজ নেয়নি কেউ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

১০ দিনেও সেই বৃদ্ধ মায়ের খোঁজ নেয়নি কেউ

হাসপাতালে বৃদ্দা জোবেদা খাতুন - সমকাল

  মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর শহরের শকুনী লেকের পাড়ের রাস্তায় গভীর রাতে ফেলে যাওয়া বৃদ্ধ মা জোবেদা খাতুনকে (৭০) ১০ দিন হতে চললেও কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। শুক্রবার সকালে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বেডে ঘুমন্ত অবস্থায় আছেন।

জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর গভীর রাতে তার সন্তানরা মাদারীপুর শহরের শকুনী লেকের উত্তর পাড়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরদিন সকালে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বিলাশ হালদার ও মেহেদী ইসলাম হাটার সময় বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়। তারা গিয়ে দেখে হাতে-মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই বৃদ্ধা প্রথম দিন নিজের নাম আর সন্তান-বউ মিলে ফেলে রেখে যাওয়ার কথাটুকুই শুধু বলতে পেরেছিলেন। স্বামীর নাম অজয় মল্লিক, ছেলেদের নাম আলমগীর ও সোবাহান বলেছিলেন। তারপর থেকে তিনি আর কথা বলতে পারছেন না। কিছুটা স্মৃতিশক্তি হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বৃদ্ধা। হাসপাতালে ভর্তির পর মাঝে মাঝে ইশারা দিয়ে কথা বললেও শুক্রবার সকাল থেকে কোন সাড়া শব্দ নেই তার। হাসপাতালের বেডে ঘুমিয়ে আছেন।

হাসপাতালে পারভিন নামের এক নার্স জানান, যখন বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তার চেয়ে এখন শারীরিক অবস্থা একটু ভালো। ভর্তির পরে একদিন স্বামীর নাম অজয় মল্লিক, ছেলেদের নাম আলমগীর ও রসাবাহান বলেছিল। বাড়ি কোথায় তা বলেননি। এর পর থেকে আর কথা বলেননি। ইশারা দিয়ে মাঝে মাঝে কিছু বলার চেষ্টা করেন। শুক্রবার সকাল থেকে কোন ইশারাও দিচ্ছেন না।

মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. ফরিদ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে আমাদের তত্ত্বাবধানে আছে। শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও শুক্রবার সকাল থেকে আগের চেয়ে অবনতি হয়েছে। আমরা সঠিকভাবেই তার চিকিৎসা চালাচ্ছি। পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, এখনও বৃদ্ধার পরিচিত কেউ আসেনি। তার সন্তানরা এখনও তার মাকে নিয়ে গিয়ে সেবা-যত্ন করতে পারে। এছাড়া যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি বর্তমানেও বৃদ্ধাকে নিতে চায়, তাহলে তাদের জিম্মায় দেয়া হবে। আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

অ আ ক খ স্কুলে জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন


আরও খবর

ঢাকা

  অনলাইন ডেস্ক

অ আ ক খ স্কুলে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০১৯।

এ উপলক্ষে স্কুলের সাভার শাখায় রোববার নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আয়োজন শুরু হয়। 

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ছাত্রছাত্রীদের বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে শোনানো হয় এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এরপর খেলাধুলা, নাটক, অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, ছড়া ও গানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়। 

স্কুলের পরিচালক ডা. ইশরাত জাহান লামিয়া বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অধিকার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে আমাদের স্কুল। জাতীয় শিশু দিবসে এসব শিশুদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আমাদের এসব আয়োজন। ভবিষ্যতেও তাদের জন্য আমাদের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।  


পরের
খবর

ছাত্রীদের উত্যক্ত করার সময় আটক তারা


আরও খবর

ঢাকা

পুলিশের একটি দল সকালে অভিযান চালিয়ে শিমুল, শাহিন ও আবদুল্লাহ ও মাহমুদকে আটক করে -সমকাল

  সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ জিআর ইনিস্টিটিউশন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রীদের ইভটিজিং করার দায়ে ৩ যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এক যুবককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার সকালে তাদের আটকের পর সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কুমার সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এই আদেশ দেন। 

সোনারগাঁ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলা পৌর এলাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁ জিআর ইনিস্টিটিউশন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে এসে বখাটেরা ছাত্রীদের উত্যক্ত করে। এ বিষয়ে অভিভাবকরা অভিযোগ দায়ের করলে তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সকালে অভিযান চালিয়ে শিমুল, শাহিন ও আবদুল্লাহ ও মাহমুদকে আটক করে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কুমার সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শিমুলকে ৪ মাস, শাহিন ও আবদুল্লাহকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়াও আবদুল্লাহকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শিমুল সোনারগাঁ পৌরসভার নয়ামাটি গ্রামের মাইনউদ্দিনের ছেলে, শাহিন নোয়াইল বাজনাবাড়ি গ্রামের ছোবহান মিয়ার ছেলে ও আবদুল্লাহ বালুয়া দিঘিরপাড় গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ্‌ মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কুমার সরকার জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

টঙ্গীতে রিকশাচালকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ


আরও খবর

ঢাকা

টঙ্গীতে এক নারীকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে -সমকাল

  টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

টঙ্গীতে পারিবারিক কলহের জেরে রুহুল আমিন নামে এক রিকশাচালকের বিরুদ্ধে  স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে রুহুল আমিন পলাতক। 

রোববার রাতে পূর্ব আরিচপুর নদীবন্দর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম দুলালী বেগম (৩৪)। তিনি রংপুরের রাজারহাট উপজেলার সাতভিটা গ্রামের বাসিন্দা। নদীবন্দর এলাকায় মোছলেম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে চাকরি করতেন দুলালী।

পুলিশ জানায়, বিসিক এলাকায় একটি ডাইং কারখানায় কাজ করতেন দুলালী। বেতনের টাকা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিলো। এরই জেরে রোববার ফের কথা কাটাকাটির একপর্যায় স্ত্রী দুলালীকে গলাটিপে হত্যা করে রুহুল আমিন পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। 

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত রুহুল আমিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট খবর