অপরাধ

গাইবান্ধার ৫ রাজাকারের রায় যে কোনো দিন

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯

গাইবান্ধার ৫ রাজাকারের রায় যে কোনো দিন

  সমকাল প্রতিবেদক

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে গাইবান্ধা সদর এলাকার পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রোববার উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আসামিরা হলেন- গাইবান্ধা সদরের রাজাকার আব্দুল জব্বার মণ্ডল, তার ছেলে জাছিজার রহমান ওরফে খোকা, আব্দুল ওয়াহেদ মণ্ডল, মোন্তাজ আলী ব্যাপারী ওরফে মমতাজ ও রনজু মিয়া। আসামিদের মধ্যে রনজু মিয়া ছাড়া বাকি চার আসামি পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, নির্যাতন ও দেশত্যাগে বাধ্যকরণসহ চার ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৫ মে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন গাইবান্ধার পুলিশ রনজু মিয়াকে গ্রেফতার করে। ২৯ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে। একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক আসামি আজগর হোসেন খান মারা যাওয়ায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০১৮ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, তাস ক্রান্তি বল ও সাবিনা ইয়াসমীন খান মুন্নী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান।

প্রসিকিউটর বাদল সমকালকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় গাইবান্ধা সদর এলাকার নান্দিনা, দৌলতপুর, ভবানীপুর ও চকগয়েশপুর গ্রামের ২১ জনকে হত্যা, শতাধিক বাড়িঘর লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিচারে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

আসামিরা গাইবান্ধা সদরের নান্দিদা ও ফুলবাড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সবাই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। আসামিদের মধ্যে আব্দুল জব্বার, জাছিজার রহমান খোকা ও আব্দুল ওয়াহেদ মণ্ডল ১৯৭১ সালের আগে থেকেই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জব্বার ও খোকা মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৯৭২ সালে গ্রেফতার হলেও তাদের কোনো বিচার হয়নি। খোকার বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহিমপুর। তিনি ১৯৭৫ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১৪ সালে অবসর নেন। মমতাজ আলী ব্যাপারী মমতাজ ১৯৭৪ সালে কৃষি বিভাগে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১২ সালে অবসর নেন বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানায়।

মন্তব্য


অন্যান্য