অপরাধ

নুসরাতের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সোনাগাজীতে বিক্ষোভ

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৯

নুসরাতের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সোনাগাজীতে বিক্ষোভ

নুসরাতের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে সোনাগাজীতে বিক্ষোভ

  সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকালে রাফির নিজ গ্রাম উত্তর চরছান্দিয়ায় চট্টগ্রাম সমাজের উদ্যোগে উপজেলার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

কর্মসূচিতে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও তার দোসরদের ফাঁসির দাবি জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে জড়িতদের ‌ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। বিক্ষোভের পর আল হেলাল একাডেমি মাঠে সিরাজের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 

প্রায় একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করে নবাবপুর আমিরাবাদ বিসিলাহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিকেলে জিরো পয়েন্টে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে রাফি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

উপজেলা ছাত্রলীগ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন সন্ধ্যায় একই রকম কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে।

গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলায় ওইদিনই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর গত ৬ এপ্রিল আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাত সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বোরকা পরা ৪/৫ জন। এতে নুসরাতের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজকে সাময়িক বরখাস্ত করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। 

গত ৭ এপ্রিল নুসরাতের চিকিৎসায় নয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর ওপর এমন নির্মমতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এরইমধ্যে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নুসরাতের ভাই ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।  


মন্তব্য


অন্যান্য