অপরাধ

মাদক ব্যবসায়ীরা আবার চাঙ্গা

সুযোগ নিয়েছে পুলিশের 'নির্বাচনী ব্যস্ততা'র

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক ব্যবসায়ীরা আবার চাঙ্গা

  সাহাদাত হোসেন পরশ

টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পলাতক মাদক ব্যবসায়ীরা আবারও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। চেষ্টা করছে সারাদেশে ইয়াবা ব্যবসা চাঙ্গা করে তোলার। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দিয়েছিল তারা। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুলিশের 'নির্বাচনী ব্যস্ততা'র সুযোগ নিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ীই চাইছে সক্রিয় হতে। কেউ আবার রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অতীতের অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন বছরে মাদক নির্মূল করাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনকারী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল সমকালকে বলেন, গত দেড় মাসে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছিল এক নম্বর অগ্রাধিকার। তবে ইয়াবা কারবারিদের ওপরও নজর ছিল। নির্বাচনের পর নতুন বছরে আবারও মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর বার্তা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে র‌্যাব। যেসব মাদক ব্যবসায়ী ফের সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের চিরস্থায়ীভাবে নিষ্ফ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজারে র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন উদ্বোধন করা হবে। বর্তমানে সেখানে র‌্যাবের সাতটি অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন হলে কক্সবাজার, টেকনাফকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রতি নজরদারি আরও জোরদার করা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে 'হার্ড' এবং 'সফট' অ্যাপ্রোচ নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ। পুলিশের বিভিন্ন ফোরামে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে, কীভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। অনেক রাঘববোয়ালের কাছে এর মধ্যেই বার্তা পৌঁছেছে যে, তারা আগামীতে এ ব্যবসায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশ্রয় পাবে না।

হাল ছাড়ছে না মাদক ব্যবসায়ীরা! :গত বছরের ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ১৮ মে থেকে অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত মাদক-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৫৫২টি। গ্রেফতার হয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮০৩ জন। ২০১৮ সালে সব সংস্থার হাতে জব্দ হয় তিন কোটি ৪৯ লাখ ইয়াবা বড়ি। অভিযানে নিহত হয়েছে চার শতাধিক। চলতি মাসে এরই মধ্যে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে। গত সোমবার টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় হাফেজুর রহমান ও ছাব্বির হোসেন নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী। ২ জানুয়ারি ফেনীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় আরও দুই মাদক কারবারি। ৩ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় মারা যায় মাদক ব্যবসায়ী আবদুল বারেক।

এর পরও মাদক ব্যবসায়ীরা হাল ছাড়ছে না। কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া ও তার ভাই দিদার মিয়া তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা দুইজনই মাঝখানে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তারা প্রায়ই এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। অভিযানের সময় আত্মগোপন করা এমন অনেক তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এখন জনসমক্ষে আসতে শুরু করেছে।

তবে তালিকাভুক্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া গতকাল সমকালকে জানান, ষড়যন্ত্র করে তার নাম মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তার বাবা এবং ভাইয়ের নামও দেওয়া হয়েছে। আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে তাকে দুর্বল করতেই এ ষড়যন্ত্র। স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপ এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে ইয়াবাসহ অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অনেক গডফাদারের নামও জানা গেছে। তদন্তে যার নামই আসুক, তাকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। শাহজাহানের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন এসপি।

এদিকে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকায় ধরা পড়ছে ইয়াবার চালান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি লবণবোঝাই ট্রাক তল্লাশি করে ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জব্দ করে র‌্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তিন যুবককে। তারা হলেন- মাদারীপুরের শিবচরের মৌলভীকান্দির সাইফুল ইসলাম, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ফারুক ইসলাম ও একই জেলার গোবিন্দগঞ্জের এরশাদ হোসেন। এর আগের দিন ফেনীর মহিপাল ও রামপুরায় অভিযান চালিয়ে ২৭ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

যেভাবে আসছে ইয়াবা চালান :মাদকসহ গ্রেফতার একাধিক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, এই চক্রের একটি অংশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পৌঁছে দেয়। বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের হাতে রেখে তারা এ কাজ করে। দেশের ভেতর ইয়াবার চালান প্রথমে পৌঁছানো হয় ডিলারদের হেফাজতে। সাধারণত একেকটি চালানে তিন লাখ থেকে ১৫ লাখ ইয়াবা বড়ি থাকে।

পুলিশের হাতে গত বছর গ্রেফতার তিন ইয়াবা ব্যবসায়ী নারী সানজিদা, রোজিনা ও রাজিয়া জানান, তারা প্রত্যেকে বর্তমানে প্রতিটি ছোট ইয়াবার বড়ি ৩৫-৪০ টাকায় কিনে ঢাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয়। বড় প্রতিটি ইয়াবা বড়ি কেনা হয় ৭০-৭৫ টাকায়। মিয়ানমার থেকে প্রতি পিস ইয়াবার ছোট বড়ি কেনা হয় ২০-২২ টাকাতে। বড় বড়ি কেনা হয় ৩০-৩৫ টাকায়। ঢাকায় আসার পর প্রতি পিস ইয়াবা ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

কক্সবাজারে তালিকাভুক্ত ১২০ জন :গত বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে একাধিক সংস্থা। এতে নানাভাবে মাদকের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট চার হাজার ব্যক্তির নাম উঠে আসে। শুধু কক্সবাজারেই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ১২০ জন।

এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার মং চেন, মং উইন মজিবুর রহমান, আবদুস শুক্কুর, আমান, জাফর আহমেদ, শফিক ওরফে শফি, ফয়সাল, মো. ইসলাম, নূর আলম, মো. আলম, এমদাদ হোসেন, জহির আহম্মেদ, আলম ওরফে শাহ আলম, মেহেদী হাসান, তৈয়ব, আনোয়ার, নূর মোহাম্মদ, সৈয়দ আলম, ফরিদুল আলম, মাহামুদুল হক, আবদুল আজিজ, ফিরোজ আহমেদ, জসীম উদ্দীন, নুরুল বশার, আবুল হাশিম, সেলিম আহম্মেদ, শাহ আলম, রেদোয়ান, এমাদুল ইসলাম, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীপাড়ার মৃত আবদুস সত্তারের ছেলে একরামুল হক, শাহজাহান পারভেজ, মো. সুমন, রফিক, আলম, তিন সহোদর কেফায়েত উল্লাহ, রাহামাত উল্লাহ ও ছালামত উল্লাহ আমিন শরীফ, ইমান শরীফ, শাহজাহান মিয়া, দিদার মিয়া, মো. ইসমাইল, সৈয়দ আলম, আছু মিয়া, মো. ইসলাম, আরিফা বেগম প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত অনেক মাদক ব্যবসায়ীই আবার এলাকায় ফিরেছে। এ তালিকায় রয়েছে মো. মোর্শেদ, একরাম, আবদুর রহমান, রাশেদ, মো. জালাল প্রমুখ। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর তারা দেশ-বিদেশে পালিয়ে ছিল।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

হলি আর্টিজানে হামলার জন্য অস্ত্র ও অর্থ জোগাড় করেন রিপন


আরও খবর

অপরাধ

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আগে মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে আবু মুহাজির (৩০) ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে হামলার জন্য ভারত থেকে তিনি অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুর রশিদ রিপন গ্রেফতারের পর এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। শনিবার মধ্যরাতে তাকে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় একটি বাস থেকে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এসব কথা জানান। এ সময় মামুনুর রশিদ রিপনকে হাজির করা হয়।  

রিপনের স্বীকারোক্তির কথা তুলে ধরে মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারের সময় রিপনের কাছ থেকে একটি ডায়েরি, চারটি খসড়া মানচিত্র ও নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৫ টাকা পাওয়া গেছে। রিপনের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রামের শেখের মারিয়া গ্রামে। বাংলা মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। ঢাকার মিরপুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন রিপন। ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদ্রাসাতুল দারুল হাদিস থেকে দাওরায়ে হাদিসে পড়াশোনা শেষে বগুড়ার সাইবার টেক নামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স করে ওই প্রতিষ্ঠানেই চাকরি নেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ জানান, সাইবার টেকে চাকরি করার সময় জেএমবির একাংশের আমির ডা. নজরুলের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। তার সাংগঠনিক নাম দেওয়া হয় রিপন। এর আগে তিনি রশিদ নামে পরিচিত ছিলেন। মামুনুরের প্রাথমিক কাজ ছিল চাঁদা সংগ্রহ করে ডা. নজরুলের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরও জানান, সারওয়ার জাহান (পরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত) জেএমবির আমির হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে অর্থ সংগ্রহ ও দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। রিপন একটি বিকাশের দোকান লুট করে ছয় লাখ টাকা, সিগারেট বিক্রেতার টাকা ছিনতাই করে এক লাখ টাকাসহ মোট আট লাখ টাকা জোগাড় করে সারওয়ার জাহানের হাতে তুলে দেন। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তামিম চৌধুরী (পরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত) ও সারওয়ার জাহানের মধ্যে গোপন বৈঠক ও সমঝোতা হয়। ওই বৈঠকে রিপনের উপস্থিতিতে তাকে সুরা সদস্য করা হয়। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে রিপনের নেতৃত্বে একটি দল অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের জন্য ভারতে যায়। হলি আর্টিজানে হামলার আগে মামুনুর ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করে সারওয়ার জাহানকে দিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রিপন হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা ও অর্থ সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা ঘটেছিল তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। ওই সব হামলার নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী এ মামলায় গ্রেফতার আছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ৬ জন নিহত হয়। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক রেস্তোরাঁকর্মী।

এ হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গত বছরের ২৬ নভেম্বর মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। 

মামলায় রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এখন কেবল এজাহারভুক্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ পলাতক আছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হলি আর্টিজান মামলার পলাতক আসামি রিপন গ্রেফতার


আরও খবর

অপরাধ

মামুনুর রশিদ রিপন

  সমকাল প্রতিবেদক

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে গুলশানের হলি আর্টিজান মামলার পলাতক আসামি মামুনুর রশিদ রিপনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার মধ্যরাতে বোর্ডবাজার এলাকায় একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে র‌্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, রিপন হালুয়াঘাট থেকে ঢাকার দিকে আসছিল। রাত একটার দিকে বোর্ডবাজার এলাকায় একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব সূত্র জানায়, মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে রেজা নব্য জেএমবির প্রথম সারির নেতা। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সে অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের দায়িত্বে ছিল।

সংশ্লিষ্ট খবর