অপরাধ

সবজির বস্তায় মাদক যেত চট্টগ্রাম কারাগারে

রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সোহেল রানার

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

সবজির বস্তায় মাদক যেত চট্টগ্রাম কারাগারে

  সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ফেনসিডিল, নগদ অর্ধকোটি টাকা ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক-এফডিআরসহ আটক হওয়া কোটিপতি কারাধ্যক্ষ (জেলার) সোহেল রানা বিশ্বাস দু'দিনের রিমান্ডে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সাংবাদিকদের।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মজিদ জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে দু'দিনের রিমান্ডে আনা হয়। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বিভিন্ন অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন। সোহেল রানা পুলিশকে জানান, তিনি নিজেই একজন মাদকসেবী, কারাগারের অধিকাংশ দায়িত্বপ্রাপ্তরাও মাদক সেবনে জড়িত রয়েছেন। বিভিন্ন সময় কারা অভ্যন্তরে তারা মাদক সেবন করার কারণে টালমাটাল হয়ে যেতেন। তাদের সঙ্গে কয়েদি, কারারক্ষীসহ কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠিকাদারদের খাদ্য সরবরাহের পিকআপ ভ্যানে পেঁয়াজ, রসুন ও সবজির বস্তার ভেতর করে বন্দিদের কাছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পৌঁছাত। পরে কয়েদিদের মাধ্যমে তা বিক্রি করা হতো বন্দিদের কাছে। মাদক বিক্রির টাকা মাস শেষে স্টাফসহ কারাগারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝে পদমর্যাদা অনুযায়ী বণ্টন করা হতো। জেলার সোহেল রানার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত টাকাগুলো মাস শেষে বণ্টন থেকে প্রাপ্ত। বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি সেসব টাকা। প্রতি মাসে চট্টগ্রাম কারাগারে কোটি কোটি টাকার মাদক বন্দিদের মাঝে বিক্রি করে মোটা টাকা উপার্জন করা হতো।

এ ছাড়া বন্দিদের জিম্মি করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন জেলার সোহেল রানা। কারা অভ্যন্তরে বন্দিরা টাকা দিলে সশ্রম কারাদণ্ড হয়ে যেত বিনাশ্রম ও টাকা না দিলে বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়ে যেত সশ্রম। অন্যদিকে, বন্দিদের যারা টাকা দিত রাতে তাদের রাখা হতো হাসপাতালের বেডে। টাকা না দিলে ১শ'র অধিক বন্দিকে একসঙ্গে রাখা হতো ১২ ফুটের একটি কক্ষে। অভিযুক্ত জেলারের ভাষায় সেটাকে বলা হতো 'ইলিশ বেড'। পুলিশকে তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী পদে নিয়োগ বাণিজ্যের কথা। ওই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোথা থেকে কীভাবে টাকা আসবে সে তথ্যও দেন। কারাগারে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতদের অনেকের নাম প্রকাশসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি। তদন্তের স্বার্থে ওই নামগুলো পুলিশ আপাতত প্রকাশ করতে পারছে না বলে জানান ওসি।

ঘটনার দিন জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস বিজয় এক্সপ্রেসে ময়মনসিংহ শহরের ১১৯, আরকে মিশন রোডে তার বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় জিআরপি ট্রেনের একটি বগিতে সোহেল রানার শরীর ও ব্যাগ থেকে নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, স্ত্রী হোসনে আরা পপির নামে এক কোটি টাকার এফডিআর, শ্যালক রকিবুল হাসানের নামে ৫০ লাখ টাকার এফডিআর ও ১২ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভৈরব জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন ভূঞা জানান, জেলার সোহেল রানা অকপটে সবকিছু পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। মানি লন্ডারিং আইনের মামলাটি যেহেতু দুদক তদন্ত করবে, তাই আজ ১৬৪-এর জন্য আবেদন করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজনে ১৬৪ এবং রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হবে।

আদালত পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. তৌফিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে সিনিয়র বিচারিক হাকিম ইকবাল মাহমুদের আদালতে হাজির করে জামিনের প্রার্থনা করা হয়। কিন্তু আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর আটক ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। তদন্তের প্রয়োজনে রেলওয়ে পুলিশ আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ বিচারিক আদালত-২-এর বিচারক হাকিম ইকবাল মাহমুদ দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

তিন জেলায় 'বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলিতে' নিহত ৪


আরও খবর

অপরাধ

  সিলেট ব্যুরো, টেকনাফ (কক্সবাজার) ও মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

কক্সাবাজারের টেকনাফ, মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী ও সিলেটের মোগলাবাজারে বন্দুযুদ্ধ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান খালাসকে কেন্দ্র করে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

বুধবার ভোরে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের জিরো পয়েন্ট এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত (৩৮) সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে ও আবদুল আমিন (৩৫) হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নয়াপাড়ার আমির হামজার ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মাদকসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। 

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে ইয়াবা খালাসকে কেন্দ্র করে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, এমন খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় পৌঁছালে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন লাশ দুটি নজির আহমদ ও আবদুল আমিনের বলে শনাক্ত করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪টি এলজি অস্ত্র, ৯ রাউন্ড গুলি ও ১০ হাজার ১৫০পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ইয়াবাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, দুজনই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে র‍্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' মারা গেছেন সন্দেহভাজন এক মাদক ব্যবসায়ী। খুলনার দৌলতপুর এলাকায় পলাতক এক সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় র‍্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ব সোনারং গ্রামের আলম শেখের বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব জানায়, নিহত আবুল হোসেন শেখ (৪৭) মাদক মামলার এক আসামি। তিনি একই উপজেলার কুন্ডের বাজার এলাকার মৃত নাজিম উদ্দিন শেখের ছেলে।

র‍্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর আশিক বিল্লাহ জানান, আবুল হোসেন তার বাহিনী নিয়ে সোনারং এলাকায় মিটিং করছিল- এমন গোপন সংবাদে  অভিযান চালানো হয়। এসময় তারা র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

তিনি জানান, পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আবুল হোসেনকে উদ্ধার করে টংগিবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় র‍্যাবের ২ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সিলেট: সিলেটের মোগলাবাজারে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' একজন নিহত হয়েছেন।

নিহত মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ মিয়া (৪১) দক্ষিণ সুরমা থানার তেলিবাজার আহম্মদপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, গোপন তথ্যে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়।

তিনি জানান, এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী শহীদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরের
খবর

প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা উধাও!


আরও খবর

অপরাধ
প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা উধাও!

নেপথ্যে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইন্দ্রজিৎ সরকার

লন্ডন প্রবাসী জগলুল বাশার চৌধুরীর ইসলামী ব্যাংকের দনিয়া শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার ওই হিসাব নম্বরে সাধারণত মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তার স্বাক্ষর করা একটি চেক ব্যাংকে জমা দেন শাহানা বেগম নামের এক নারী। দাপ্তরিক নিয়ম-কানুন শেষে জগলুলের হিসাব থেকে ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয় ওই নারী প্রাপকের হিসাবে। এর পাঁচ দিন পর আবারও ১২ লাখ টাকার চেক জমা পড়ে। এবারও প্রাপক একই নারী। এ পর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তারা প্রবাসীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন- কাউকে এরকম কোনো চেক দেননি জগলুল। পরীক্ষায় দেখা যায়, ব্যাংকে জমা দেওয়া চেক ও তাতে জগলুলের স্বাক্ষর, সবই নকল। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। এমন পাঁচটি ঘটনায় অন্তত এক কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক ইমাম আল মেহেদী সমকালকে জানান, জালিয়াতির এই চক্রে ছয় থেকে আট সদস্য রয়েছে। তাদের চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। এর আগে তাদের কেউ চেকদাতা গ্রাহক সেজে বিদেশ থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ফোন দেয় এবং ভুয়া ই-মেইল পাঠায়। ফলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রানা চৌধুরী বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত গ্রাহক পরিচয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে ফোন দিয়ে অ্যাকাউন্টের স্থিতি (কত টাকা জমা আছে) জানতে চায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, ফ্ল্যাটের দাম বাবদ বা অন্য কোনো কারণে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার চেক একজনকে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যেন তাকে সেই টাকা দিয়ে দেয়।

জগলুল বাশার চৌধুরীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার আগেও ফোন করে ও ই-মেইল পাঠিয়ে চেক দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতারকরা। এর ভিত্তিতে প্রথম দফায় শাহানা বেগমের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় দফায় টাকা তোলার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে তাকে পরদিন যেতে বলা হয়। তবে শাহানা ব্যাংকে যান ১ মার্চ। সেদিন তাকে আটকে রেখে র‌্যাব সদস্যদের কাছে সোপর্দ করা হয়। ২ মার্চ এ ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে সিআইডির ডেমরা ইউনিট মামলাটির তদন্ত করে। ধীরে ধীরে চক্রের সবাইকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতার করা হয় চক্রের সদস্য আবদুস সালাম মিলন, আবুল কালাম ওরফে রানা চৌধুরী ও তানিয়া আক্তার তানিশাকে। তানিয়ার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের সদর থানায় ২৫ লাখ ও টঙ্গিবাড়ী থানায় ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। চক্রের হোতা মোহাম্মদ হানিফ এখনও পলাতক।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে চক্রের সদস্যরা গ্রাহকের মূল ই-মেইল ঠিকানার প্রায় অনুরূপ একটি ঠিকানা খুলে নেয়। এ ক্ষেত্রে মূল ঠিকানার সঙ্গে একটি 'ডট' বা 'ড্যাশ' পার্থক্য থাকে; যা যাচাইকারীর চোখে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। চেক জালিয়াতির জন্য তারা আরেকটি কৌশল ব্যবহার করে। টার্গেট ব্যক্তি যে ব্যাংকের যে শাখার গ্রাহক, সেই শাখাতেই চক্রের একজন অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর তার পাওয়া চেক বইটির পাতা নিয়ে ঘষামাজা করে। এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে চেকটির মূল ক্রমিক নম্বর পাল্টে টার্গেট গ্রাহকের চেকের নম্বর বসিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত তারা মূল গ্রাহকের চেক বইয়ের শেষের দিকের পাতাগুলোর নম্বর ব্যবহার করে। এতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

তদন্ত সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা থেকে ৩২ লাখ, ইসলামী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে ২৫ লাখ, দনিয়া শাখা থেকে ১৫ লাখ ও অগ্রণী ব্যাংকের টঙ্গিবাড়ী শাখা থেকে ৪৫ লাখ টাকা তোলার কথা জানা গেছে। এ ছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১৬ অক্টোবর সাকিনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি একই কায়দায় নকল চেক দিয়ে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।


File:- লন্ডন প্রবাসী জগলুল বাশার চৌধুরীর ইসলামী ব্যাংকের দনিয়া শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার ওই হিসাব নম্বরে সাধারণত মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়।

পরের
খবর

জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ওপর বাড়ছে নজরদারি


আরও খবর

অপরাধ
জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ওপর বাড়ছে নজরদারি

নির্বাচনে নাশকতার শঙ্কা

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, জঙ্গি, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীসহ একাধিক মামলার দুর্ধর্ষ আসামিরা জামিন পাওয়ার পর কোথায়, কীভাবে অবস্থান করছে, সরকার তা তদারক করবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে— এমন আশঙ্কায় নীতিনির্ধারকরা তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ও জামিন পাওয়া দুর্ধর্ষ আসামিরা মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে কি-না বা তারা কতজন জামিনে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ অবস্থা কী— সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এর মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের এসব তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী ও শেখেরচরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নারীসহ দু'জন নিহত হয়। আরও দুই নারী জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। সূত্র জানায়, এই চারজনের মধ্যে তিনজনই জামিনে মুক্ত ছিল। ২০১৬ সালে র‌্যাব চার নারী জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। তাদেরই তিন জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি নরসিংদীতে আস্তানা গাড়ে। সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জামিন নিয়েছে কি-না বা নেওয়ার চেষ্টা করছে কি-না, সেসবের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আইন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আলোচিত মামলাগুলোতে কতজন আসামি জামিনে রয়েছে, তার পরিসংখ্যান করা হচ্ছে। তাদের কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, কতজন ঠিকানা পাল্টে আদালতে গর-হাজির রয়েছে, এসবেরও তালিকা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলা তদারকিতে বিশেষ সেল গঠন করা যায় কি-না তা নিয়ে দুই মন্ত্রণালয় আলোচনাও করছে।

অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত আসামি, দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও তালিকাভুক্ত  সন্ত্রাসীদের মধ্যে কতজন জামিনে রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। প্রতিদিন মহানগরগুলোর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও জেলাগুলোতে জজ কোর্টে কে কখন জামিন পাচ্ছেন, সে হিসাবও নিয়মিত রাখা হচ্ছে না। এমনকি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, আর কতজন গা-ঢাকা দিয়েছে, তাও কেন্দ্রীয়ভাবে জানা নেই। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সন্ত্রাসীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর রেওয়াজ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা হচ্ছে না। আদালতসমূহে নিয়োজিত সরকারি আইনজীবীদের ফাঁকি দিয়ে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সমকালকে বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে কে কীভাবে জামিন পাচ্ছে, তার হিসাব থাকা উচিত। এসব অপরাধী যাতে আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জামিন না পায়, সে ব্যাপারে সরকারের নিয়োজিত আইনজীবীদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তারা যাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জামিন না পায়, সেজন্য আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানাচ্ছে, অনেক দুর্ধর্ষ আসামি আইনের ফাঁকফোকর গলে জামিনে বেরিয়ে পুরনো পেশায় ফিরছে। কেউ কেউ সরকারবিরোধীদের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন এলাকায় নাশকতায় অংশ নিতে সচেষ্ট থাকছে। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল ও অবরোধের সময় নাশকতায় জড়িত অনেক আসামিও গত কয়েক বছরে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে গেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, আসন্ন একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ক্ষেত্রে তারা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সরকার তাই কঠোর নজরদারি করছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নাশকতা মামলার আসামি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জামিনের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীদের কঠোর নজরদারির নির্দেশনা রয়েছে। আইনের ফাঁক গলে তারা যাতে জামিন না পায়, সেজন্য তাদের সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে।


File:- রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, জঙ্গি, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীসহ একাধিক মামলার দুর্ধর্ষ আসামিরা জামিন পাওয়ার পর কোথায়, কীভাবে অবস্থান করছে, সরকার তা তদারক করবে।