অপরাধ

প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা উধাও!

নেপথ্যে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা উধাও!

  ইন্দ্রজিৎ সরকার

লন্ডন প্রবাসী জগলুল বাশার চৌধুরীর ইসলামী ব্যাংকের দনিয়া শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার ওই হিসাব নম্বরে সাধারণত মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তার স্বাক্ষর করা একটি চেক ব্যাংকে জমা দেন শাহানা বেগম নামের এক নারী। দাপ্তরিক নিয়ম-কানুন শেষে জগলুলের হিসাব থেকে ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয় ওই নারী প্রাপকের হিসাবে। এর পাঁচ দিন পর আবারও ১২ লাখ টাকার চেক জমা পড়ে। এবারও প্রাপক একই নারী। এ পর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তারা প্রবাসীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন- কাউকে এরকম কোনো চেক দেননি জগলুল। পরীক্ষায় দেখা যায়, ব্যাংকে জমা দেওয়া চেক ও তাতে জগলুলের স্বাক্ষর, সবই নকল। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। এমন পাঁচটি ঘটনায় অন্তত এক কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক ইমাম আল মেহেদী সমকালকে জানান, জালিয়াতির এই চক্রে ছয় থেকে আট সদস্য রয়েছে। তাদের চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। এর আগে তাদের কেউ চেকদাতা গ্রাহক সেজে বিদেশ থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ফোন দেয় এবং ভুয়া ই-মেইল পাঠায়। ফলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রানা চৌধুরী বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত গ্রাহক পরিচয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে ফোন দিয়ে অ্যাকাউন্টের স্থিতি (কত টাকা জমা আছে) জানতে চায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, ফ্ল্যাটের দাম বাবদ বা অন্য কোনো কারণে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার চেক একজনকে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যেন তাকে সেই টাকা দিয়ে দেয়।

জগলুল বাশার চৌধুরীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার আগেও ফোন করে ও ই-মেইল পাঠিয়ে চেক দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতারকরা। এর ভিত্তিতে প্রথম দফায় শাহানা বেগমের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় দফায় টাকা তোলার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে তাকে পরদিন যেতে বলা হয়। তবে শাহানা ব্যাংকে যান ১ মার্চ। সেদিন তাকে আটকে রেখে র‌্যাব সদস্যদের কাছে সোপর্দ করা হয়। ২ মার্চ এ ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে সিআইডির ডেমরা ইউনিট মামলাটির তদন্ত করে। ধীরে ধীরে চক্রের সবাইকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতার করা হয় চক্রের সদস্য আবদুস সালাম মিলন, আবুল কালাম ওরফে রানা চৌধুরী ও তানিয়া আক্তার তানিশাকে। তানিয়ার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের সদর থানায় ২৫ লাখ ও টঙ্গিবাড়ী থানায় ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। চক্রের হোতা মোহাম্মদ হানিফ এখনও পলাতক।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে চক্রের সদস্যরা গ্রাহকের মূল ই-মেইল ঠিকানার প্রায় অনুরূপ একটি ঠিকানা খুলে নেয়। এ ক্ষেত্রে মূল ঠিকানার সঙ্গে একটি 'ডট' বা 'ড্যাশ' পার্থক্য থাকে; যা যাচাইকারীর চোখে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। চেক জালিয়াতির জন্য তারা আরেকটি কৌশল ব্যবহার করে। টার্গেট ব্যক্তি যে ব্যাংকের যে শাখার গ্রাহক, সেই শাখাতেই চক্রের একজন অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর তার পাওয়া চেক বইটির পাতা নিয়ে ঘষামাজা করে। এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে চেকটির মূল ক্রমিক নম্বর পাল্টে টার্গেট গ্রাহকের চেকের নম্বর বসিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত তারা মূল গ্রাহকের চেক বইয়ের শেষের দিকের পাতাগুলোর নম্বর ব্যবহার করে। এতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

তদন্ত সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা থেকে ৩২ লাখ, ইসলামী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে ২৫ লাখ, দনিয়া শাখা থেকে ১৫ লাখ ও অগ্রণী ব্যাংকের টঙ্গিবাড়ী শাখা থেকে ৪৫ লাখ টাকা তোলার কথা জানা গেছে। এ ছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১৬ অক্টোবর সাকিনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি একই কায়দায় নকল চেক দিয়ে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মাদক ব্যবসায়ীরা আবার চাঙ্গা


আরও খবর

অপরাধ
মাদক ব্যবসায়ীরা আবার চাঙ্গা

সুযোগ নিয়েছে পুলিশের 'নির্বাচনী ব্যস্ততা'র

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাহাদাত হোসেন পরশ

টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পলাতক মাদক ব্যবসায়ীরা আবারও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। চেষ্টা করছে সারাদেশে ইয়াবা ব্যবসা চাঙ্গা করে তোলার। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দিয়েছিল তারা। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুলিশের 'নির্বাচনী ব্যস্ততা'র সুযোগ নিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ীই চাইছে সক্রিয় হতে। কেউ আবার রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অতীতের অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন বছরে মাদক নির্মূল করাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনকারী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল সমকালকে বলেন, গত দেড় মাসে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছিল এক নম্বর অগ্রাধিকার। তবে ইয়াবা কারবারিদের ওপরও নজর ছিল। নির্বাচনের পর নতুন বছরে আবারও মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর বার্তা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে র‌্যাব। যেসব মাদক ব্যবসায়ী ফের সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের চিরস্থায়ীভাবে নিষ্ফ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজারে র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন উদ্বোধন করা হবে। বর্তমানে সেখানে র‌্যাবের সাতটি অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন হলে কক্সবাজার, টেকনাফকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রতি নজরদারি আরও জোরদার করা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে 'হার্ড' এবং 'সফট' অ্যাপ্রোচ নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ। পুলিশের বিভিন্ন ফোরামে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে, কীভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। অনেক রাঘববোয়ালের কাছে এর মধ্যেই বার্তা পৌঁছেছে যে, তারা আগামীতে এ ব্যবসায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশ্রয় পাবে না।

হাল ছাড়ছে না মাদক ব্যবসায়ীরা! :গত বছরের ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ১৮ মে থেকে অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত মাদক-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৫৫২টি। গ্রেফতার হয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮০৩ জন। ২০১৮ সালে সব সংস্থার হাতে জব্দ হয় তিন কোটি ৪৯ লাখ ইয়াবা বড়ি। অভিযানে নিহত হয়েছে চার শতাধিক। চলতি মাসে এরই মধ্যে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে। গত সোমবার টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় হাফেজুর রহমান ও ছাব্বির হোসেন নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী। ২ জানুয়ারি ফেনীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় আরও দুই মাদক কারবারি। ৩ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় মারা যায় মাদক ব্যবসায়ী আবদুল বারেক।

এর পরও মাদক ব্যবসায়ীরা হাল ছাড়ছে না। কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া ও তার ভাই দিদার মিয়া তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা দুইজনই মাঝখানে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তারা প্রায়ই এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। অভিযানের সময় আত্মগোপন করা এমন অনেক তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এখন জনসমক্ষে আসতে শুরু করেছে।

তবে তালিকাভুক্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া গতকাল সমকালকে জানান, ষড়যন্ত্র করে তার নাম মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তার বাবা এবং ভাইয়ের নামও দেওয়া হয়েছে। আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে তাকে দুর্বল করতেই এ ষড়যন্ত্র। স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপ এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে ইয়াবাসহ অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অনেক গডফাদারের নামও জানা গেছে। তদন্তে যার নামই আসুক, তাকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। শাহজাহানের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন এসপি।

এদিকে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকায় ধরা পড়ছে ইয়াবার চালান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি লবণবোঝাই ট্রাক তল্লাশি করে ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জব্দ করে র‌্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তিন যুবককে। তারা হলেন- মাদারীপুরের শিবচরের মৌলভীকান্দির সাইফুল ইসলাম, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ফারুক ইসলাম ও একই জেলার গোবিন্দগঞ্জের এরশাদ হোসেন। এর আগের দিন ফেনীর মহিপাল ও রামপুরায় অভিযান চালিয়ে ২৭ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

যেভাবে আসছে ইয়াবা চালান :মাদকসহ গ্রেফতার একাধিক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, এই চক্রের একটি অংশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পৌঁছে দেয়। বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের হাতে রেখে তারা এ কাজ করে। দেশের ভেতর ইয়াবার চালান প্রথমে পৌঁছানো হয় ডিলারদের হেফাজতে। সাধারণত একেকটি চালানে তিন লাখ থেকে ১৫ লাখ ইয়াবা বড়ি থাকে।

পুলিশের হাতে গত বছর গ্রেফতার তিন ইয়াবা ব্যবসায়ী নারী সানজিদা, রোজিনা ও রাজিয়া জানান, তারা প্রত্যেকে বর্তমানে প্রতিটি ছোট ইয়াবার বড়ি ৩৫-৪০ টাকায় কিনে ঢাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয়। বড় প্রতিটি ইয়াবা বড়ি কেনা হয় ৭০-৭৫ টাকায়। মিয়ানমার থেকে প্রতি পিস ইয়াবার ছোট বড়ি কেনা হয় ২০-২২ টাকাতে। বড় বড়ি কেনা হয় ৩০-৩৫ টাকায়। ঢাকায় আসার পর প্রতি পিস ইয়াবা ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

কক্সবাজারে তালিকাভুক্ত ১২০ জন :গত বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে একাধিক সংস্থা। এতে নানাভাবে মাদকের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট চার হাজার ব্যক্তির নাম উঠে আসে। শুধু কক্সবাজারেই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ১২০ জন।

এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার মং চেন, মং উইন মজিবুর রহমান, আবদুস শুক্কুর, আমান, জাফর আহমেদ, শফিক ওরফে শফি, ফয়সাল, মো. ইসলাম, নূর আলম, মো. আলম, এমদাদ হোসেন, জহির আহম্মেদ, আলম ওরফে শাহ আলম, মেহেদী হাসান, তৈয়ব, আনোয়ার, নূর মোহাম্মদ, সৈয়দ আলম, ফরিদুল আলম, মাহামুদুল হক, আবদুল আজিজ, ফিরোজ আহমেদ, জসীম উদ্দীন, নুরুল বশার, আবুল হাশিম, সেলিম আহম্মেদ, শাহ আলম, রেদোয়ান, এমাদুল ইসলাম, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীপাড়ার মৃত আবদুস সত্তারের ছেলে একরামুল হক, শাহজাহান পারভেজ, মো. সুমন, রফিক, আলম, তিন সহোদর কেফায়েত উল্লাহ, রাহামাত উল্লাহ ও ছালামত উল্লাহ আমিন শরীফ, ইমান শরীফ, শাহজাহান মিয়া, দিদার মিয়া, মো. ইসমাইল, সৈয়দ আলম, আছু মিয়া, মো. ইসলাম, আরিফা বেগম প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত অনেক মাদক ব্যবসায়ীই আবার এলাকায় ফিরেছে। এ তালিকায় রয়েছে মো. মোর্শেদ, একরাম, আবদুর রহমান, রাশেদ, মো. জালাল প্রমুখ। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর তারা দেশ-বিদেশে পালিয়ে ছিল।