অপরাধ

জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ওপর বাড়ছে নজরদারি

নির্বাচনে নাশকতার শঙ্কা

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ওপর বাড়ছে নজরদারি

  ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, জঙ্গি, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীসহ একাধিক মামলার দুর্ধর্ষ আসামিরা জামিন পাওয়ার পর কোথায়, কীভাবে অবস্থান করছে, সরকার তা তদারক করবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে— এমন আশঙ্কায় নীতিনির্ধারকরা তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ও জামিন পাওয়া দুর্ধর্ষ আসামিরা মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে কি-না বা তারা কতজন জামিনে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ অবস্থা কী— সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এর মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের এসব তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী ও শেখেরচরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নারীসহ দু'জন নিহত হয়। আরও দুই নারী জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। সূত্র জানায়, এই চারজনের মধ্যে তিনজনই জামিনে মুক্ত ছিল। ২০১৬ সালে র‌্যাব চার নারী জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। তাদেরই তিন জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি নরসিংদীতে আস্তানা গাড়ে। সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জামিন নিয়েছে কি-না বা নেওয়ার চেষ্টা করছে কি-না, সেসবের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আইন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আলোচিত মামলাগুলোতে কতজন আসামি জামিনে রয়েছে, তার পরিসংখ্যান করা হচ্ছে। তাদের কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, কতজন ঠিকানা পাল্টে আদালতে গর-হাজির রয়েছে, এসবেরও তালিকা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলা তদারকিতে বিশেষ সেল গঠন করা যায় কি-না তা নিয়ে দুই মন্ত্রণালয় আলোচনাও করছে।

অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত আসামি, দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও তালিকাভুক্ত  সন্ত্রাসীদের মধ্যে কতজন জামিনে রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। প্রতিদিন মহানগরগুলোর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও জেলাগুলোতে জজ কোর্টে কে কখন জামিন পাচ্ছেন, সে হিসাবও নিয়মিত রাখা হচ্ছে না। এমনকি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, আর কতজন গা-ঢাকা দিয়েছে, তাও কেন্দ্রীয়ভাবে জানা নেই। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সন্ত্রাসীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর রেওয়াজ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা হচ্ছে না। আদালতসমূহে নিয়োজিত সরকারি আইনজীবীদের ফাঁকি দিয়ে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সমকালকে বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে কে কীভাবে জামিন পাচ্ছে, তার হিসাব থাকা উচিত। এসব অপরাধী যাতে আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জামিন না পায়, সে ব্যাপারে সরকারের নিয়োজিত আইনজীবীদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তারা যাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জামিন না পায়, সেজন্য আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানাচ্ছে, অনেক দুর্ধর্ষ আসামি আইনের ফাঁকফোকর গলে জামিনে বেরিয়ে পুরনো পেশায় ফিরছে। কেউ কেউ সরকারবিরোধীদের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন এলাকায় নাশকতায় অংশ নিতে সচেষ্ট থাকছে। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল ও অবরোধের সময় নাশকতায় জড়িত অনেক আসামিও গত কয়েক বছরে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে গেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, আসন্ন একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ক্ষেত্রে তারা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সরকার তাই কঠোর নজরদারি করছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নাশকতা মামলার আসামি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জামিনের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীদের কঠোর নজরদারির নির্দেশনা রয়েছে। আইনের ফাঁক গলে তারা যাতে জামিন না পায়, সেজন্য তাদের সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ফরিদপুরে চাঁদাবাজির মামলায় আ'লীগ নেতা গ্রেফতার


আরও খবর

অপরাধ

ছবি: ফাইল

  ফরিদপুর অফিস

ফরিদপুরে চাঁদাবাজির মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা অমিতাভ বোসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ১১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে ফরিদপুর কারাগারে পাঠানো হয়। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অমিতাভ বোস ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।

কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অমিতাভের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়। এ মামলার বাদী শহরের গোয়ালচামট মহল্লার বাসিন্দা শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ পৌর কাঁচাবাজারের মাছের আড়তদার অপন দত্ত।

মামলার এজাহার অনুযায়ী গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৮টার দিকে অমিতাভসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজন বাদীর আড়তে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অমিতাভসহ অন্যরা তার ক্যাশ বাপ ভেঙে নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যান।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে অমিতাভ বোসকে সিংপাড়া এলাকার একটি সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পরের
খবর

আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে পুত্রবধূর অভিযোগ


আরও খবর

অপরাধ

ফাইল ছবি

  আদালত প্রতিবেদক

গর্ভপাতের চেষ্টা, নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমসহ দু'জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জাল হোসেনের আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেন দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা।

মামলায় আপন রিয়েল এস্টেটের পরামর্শক মো. মোখলেছুর রহমানকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের পর সোমবারের অভিযোগের বিষয়ে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত নথি পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার আরজিতে ফারিয়া বলেছেন, ২০১৫ সালে সাফাতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর দিলদার আহমেদ তার ওপর নির্যাতন করে আসছেন। স্বামীর অনেক অনৈতিক কাজে তিনি বাধা দিলেও শ্বশুর উল্টো তাকে উৎসাহিত দিতেন এবং সহযোগিতা করতেন। স্বামী কয়েক মাস জেলহাজতে থাকার পর গত ৩১ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৭ নম্বর ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাফাতের জামিন বাতিল করে ফের কারাগারে পাঠান। এর পর থেকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিচ্ছেন শ্বশুরসহ অন্যরা।

গত ৫ মার্চ রাত ৮টার দিকে ফারিয়া ওষুধ ও স্বামীর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য নিকটস্থ মার্কেটে যান। বাসায় ফেরার পর দিলদার আহমেদ ও মোখলেছুর রহমান মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে তলপেটে লাথি মারার চেষ্টা করেন। পরে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা রেখে এক কাপড়ে বাসা থেকে বের করে দেন। আদালতে শুনানিতে বাদীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহম্মেদ গাজী, মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার ও সানোয়ার হক টিপু। ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্টি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ বর্তমানে কারাগারে।

পরের
খবর

আরও ৫০ ইয়াবা কারবারি চায় আত্মসমর্পণের সুযোগ


আরও খবর

অপরাধ
আরও ৫০ ইয়াবা কারবারি চায় আত্মসমর্পণের সুযোগ

টেকনাফে 'বন্দুকযুদ্ধ আতঙ্ক'

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাহাদাত হোসেন পরশ

টেকনাফকেন্দ্রিক ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে আরও অন্তত ৫০ জন আত্মসমর্পণ করতে চায়। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে। এদিকে, প্রথম দফায় আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারির সম্পদের তথ্য বিবরণীর খোঁজ নিতে সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া আত্মসমর্পণের দিন তাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় কীভাবে আইনি সহায়তা দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানায়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন সমকালকে বলেন, প্রথম দফায় আত্মসমর্পণের আগে অনেকের মধ্যে ধারণা ছিল পরবর্তী সময়ে কি-না কী ঘটে। তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে আরও অনেকে আত্মসমর্পণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির চার ভাইসহ ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিল। এরপর শুধু টেকনাফে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে আটজন। এর মধ্যে সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে চারজন নিহত হয়েছে। ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সেই থেকে কক্সবাজারেই 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে ৪৫ জন। এর মধ্যে শুধু টেকনাফের ৪২ জন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের পরবর্তী পরিস্থিতি কী হয়- এ নিয়ে টেকনাফে নানামুখী আলোচনা ছিল। যারা আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল তাদের ব্যাপারে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা হয়, তা নিয়ে ছিল অনেক জল্পনা-কল্পনা। তবে আত্মসমর্পণের পরও একের পর এক 'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনায় টেকনাফে এখন এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণে ইচ্ছুক ইয়াবা কারবারি অনেকে ইয়াবা বড়ি ও অস্ত্র ছাড়া আত্মসমর্পণ করতে চায়। তাদের ধারণা, ইয়াবা ও অস্ত্র নিয়ে আত্মসমর্পণ করলে তারা আইনি ঝামেলায় পড়তে পারে। তবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এরই মধ্যে আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সরকার মাদকের ব্যাপারে কঠোর নীতি নিয়ে সামনে এগোলেও ইয়াবা কারবারিদের তৎপরতা থেমে নেই। তবে টেকনাফ ঘিরে ইয়াবার রমরমা কারবার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। এখন নতুন নতুন রুট ব্যবহার করে কারবারিরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ইয়াবা কারবারের সঙ্গে মিয়ানমারের নাগরিকরা আরও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে এক লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে গ্রেফতার করেছে কোস্টগার্ড।

টেকনাফের একাধিক বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১০২ জন ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণের পর তাদের ব্যাপারে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হয়, সেদিকে অনেকেই নজর রাখছে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত যেসব কারবারি আত্মসমর্পণ করেনি তারাই বেশি খোঁজ নিচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আত্মসমর্পণকারীরা দ্রুত কারাগার থেকে ছাড়া পেলে আরও অনেকে আত্মসমর্পণ করতে পারে। এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত ইয়াবার যেসব গডফাদার বিদেশে পালিয়েছে, তারাও এ বিষয়ে তথ্য নিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হলেও নিয়মিত অভিযানে কোনো ধরনের শিথিলতা থাকবে না। আত্মসমর্পণের আওতায় না এসে কারবারিরা কৌশলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের পরিণতি হবে 'ভয়াবহ'। উদ্যোগটি মাদক প্রতিরোধের 'সফট' অ্যাপ্রোচ হিসেবে দেখা হলেও 'হার্ড' অ্যাপ্রোচও বন্ধ হবে না। যেকোনো মূল্যে ইয়াবা কারবার বন্ধ করবে সরকার- এই বার্তা দিতে চায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারের কয়েকটি সংস্থা মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের মদদদাতা, সহযোগীদের তালিকা তৈরি করে থাকে। এ তালিকায় কক্সবাজারেই ১ হাজার ১৫১ জনের বিরুদ্ধে পাঁচশ'র মতো মামলা রয়েছে। তালিকায় থাকা যে কারবারিরা এখনও আত্মসমর্পণ করেনি তাদের মধ্যে রয়েছে- সাবেক এমপি বদির ভাই মজিবুর রহমান, নির্মল ধর, রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আলম, ডাকাত আবদুল হাকিম, সাইফুল, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ জাফর আহমদ, মোহাম্মদ জাফর, সাইফুল করিম, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ আজিজ, নুর কামাল, মোহাম্মদ মুজিব, আবদুর রহমান, রাশেদ মাহামুদ আলী, মাহাবুব মোর্শেদ, এসকে আনোয়ার, আবুল হোসেন, আবদুল হামিদ, মোহাম্মদ হেলাল, মোহাম্মদ হুমায়ুন প্রমুখ।

শুক্রবার টেকনাফে নিহত চার ইয়াবা কারবারির মধ্যে নজির আহমেদ একজন। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ার জানে আলমের ছেলে। নজিরের ভাই আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবার ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। হাকিম টেকনাফের এক ধরনের ত্রাস। সে রোহিঙ্গা। দীর্ঘদিন ধরে গহীন পাহাড়ে আত্মগোপন করে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে হাকিম। তার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক আনসার সদস্যকে হত্যা করে অস্ত্র লুট করার অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে জানায়, টেকনাফে ইয়াবারোধে কড়াকড়ি জারি থাকায় মাদক কারবারিরা রুট পরিবর্তন করছে। এখন মিয়ানমার থেকে সরাসরি সমুদ্র পথে ও অন্যান্য রুটে ইয়াবা বড়ি কক্সবাজার, মহেশখালী, চট্টগ্রাম, পতেঙ্গা, আনোয়ারা, কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছায়। এর সঙ্গে মিয়ানমারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। গত ২১ ফেব্রুয়ারি এ চক্রের ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে কোস্টগার্ড। তাদের কাছে পাওয়া গেছে ১ লাখ ইয়াবা বড়ি। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে টেকনাফ থানায় মামলা করা হয়েছে।