অপরাধ

দুর্নীতির দায়ে তিতাসের ৫ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির দায়ে তিতাসের ৫ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

  সমকাল প্রতিবেদক

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ অব্যবস্থাপনার কারণে তিনজন এবং বেনামে সিএনজি স্টেশন নির্মাণ করে মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস চুরির অভিযোগে দু'জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও দু'জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিচালনা পর্ষদে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে বলে তিতাসের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মো. মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে পাঁচজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বোর্ডের (পরিচালনা পর্ষদ) অনুমোদন প্রয়োজন।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ অব্যবস্থাপনার কারণে বহিস্কৃত তিন কর্মকর্তা হলেন- করপোরেট হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক হুমায়ন কবীর খান, হিসাব শাখার উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং বেতন ও তহবিল শাখার উপব্যবস্থাপক নাজমুল হক। মিটার টেম্পারিংয়ের অভিযোগে বরখাস্ত দুই কর্মকর্তার একজন প্রকৌশলী মহিদুর রহমান। তিনি মিটারিং অ্যান্ড ভিজিল্যান্স শাখা ও ইএসএস শাখার ব্যবস্থাপক। অন্য্যজন প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা খান। তিনি পাইপলাইন নির্মাণ বিভাগের ব্যবস্থাপক (কাস্টমার অ্যান্ড ফাইন্যান্স শাখা)।

পাঁচ কর্মকর্তাকে বহিস্কার করায় তিতাস কার্যালয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিতাসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আটজন কর্মকর্তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন তলবও করেছিল। তিতাসের একজন ব্যবস্থাপক সমকালকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। রহস্যজনক কারণে শুধু মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পেছনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় এখনও আনা হয়নি।

তিতাস সূত্রে জানা যায়, বহিস্কৃৃতদের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্দেশনা অমান্য করে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছেন। কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি ব্যাংকের পরিবর্তে অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্তির বিনিময়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় জমা রেখেছিলেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আইয়ুব খানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

সূত্র জানিয়েছে, একই অভিযোগে আরও দু'জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। আগামী বোর্ড সভায় তাদের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এদের মধ্যে একজন ঘটনার সময় তিতাসের পরিচালক ছিলেন। এখন পেট্রোবাংলার আরেক প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক পদে কর্মরত। অন্যজন ঘটনার সময় হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন; বর্তমানে ঢাকার একটি অঞ্চলের রাজস্ব বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপর দু'জন বহিস্কৃত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বেনামে গাজীপুরের কুনিয়া এলাকায় 'যমুনা সিএনজি' নামে একটি গ্যাস স্টেশনের মালিক। একই সঙ্গে তারা দু'জন মিটার টেম্পারিং করে গ্যাস বিক্রির সঙ্গে জড়িত। পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটি এ-সংক্রান্ত অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। অবৈধ মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে তারা দু'জন কোম্পানির সিএনজি ও ক্যাপটিভ খাত মিলিয়ে প্রায় চার কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন। যার মধ্যে সিএনজি খাতে চার কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার ও ক্যাপটিভ খাতে প্রায় চার লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মাদক ব্যবসায়ীরা আবার চাঙ্গা


আরও খবর

অপরাধ
মাদক ব্যবসায়ীরা আবার চাঙ্গা

সুযোগ নিয়েছে পুলিশের 'নির্বাচনী ব্যস্ততা'র

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাহাদাত হোসেন পরশ

টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পলাতক মাদক ব্যবসায়ীরা আবারও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। চেষ্টা করছে সারাদেশে ইয়াবা ব্যবসা চাঙ্গা করে তোলার। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দিয়েছিল তারা। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুলিশের 'নির্বাচনী ব্যস্ততা'র সুযোগ নিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ীই চাইছে সক্রিয় হতে। কেউ আবার রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অতীতের অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন বছরে মাদক নির্মূল করাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনকারী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল সমকালকে বলেন, গত দেড় মাসে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছিল এক নম্বর অগ্রাধিকার। তবে ইয়াবা কারবারিদের ওপরও নজর ছিল। নির্বাচনের পর নতুন বছরে আবারও মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর বার্তা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে র‌্যাব। যেসব মাদক ব্যবসায়ী ফের সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের চিরস্থায়ীভাবে নিষ্ফ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজারে র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন উদ্বোধন করা হবে। বর্তমানে সেখানে র‌্যাবের সাতটি অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন হলে কক্সবাজার, টেকনাফকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রতি নজরদারি আরও জোরদার করা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে 'হার্ড' এবং 'সফট' অ্যাপ্রোচ নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ। পুলিশের বিভিন্ন ফোরামে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে, কীভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। অনেক রাঘববোয়ালের কাছে এর মধ্যেই বার্তা পৌঁছেছে যে, তারা আগামীতে এ ব্যবসায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশ্রয় পাবে না।

হাল ছাড়ছে না মাদক ব্যবসায়ীরা! :গত বছরের ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ১৮ মে থেকে অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত মাদক-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৫৫২টি। গ্রেফতার হয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮০৩ জন। ২০১৮ সালে সব সংস্থার হাতে জব্দ হয় তিন কোটি ৪৯ লাখ ইয়াবা বড়ি। অভিযানে নিহত হয়েছে চার শতাধিক। চলতি মাসে এরই মধ্যে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে। গত সোমবার টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় হাফেজুর রহমান ও ছাব্বির হোসেন নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী। ২ জানুয়ারি ফেনীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় আরও দুই মাদক কারবারি। ৩ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় মারা যায় মাদক ব্যবসায়ী আবদুল বারেক।

এর পরও মাদক ব্যবসায়ীরা হাল ছাড়ছে না। কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া ও তার ভাই দিদার মিয়া তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা দুইজনই মাঝখানে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তারা প্রায়ই এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। অভিযানের সময় আত্মগোপন করা এমন অনেক তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এখন জনসমক্ষে আসতে শুরু করেছে।

তবে তালিকাভুক্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া গতকাল সমকালকে জানান, ষড়যন্ত্র করে তার নাম মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তার বাবা এবং ভাইয়ের নামও দেওয়া হয়েছে। আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে তাকে দুর্বল করতেই এ ষড়যন্ত্র। স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপ এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে ইয়াবাসহ অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অনেক গডফাদারের নামও জানা গেছে। তদন্তে যার নামই আসুক, তাকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। শাহজাহানের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন এসপি।

এদিকে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকায় ধরা পড়ছে ইয়াবার চালান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি লবণবোঝাই ট্রাক তল্লাশি করে ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জব্দ করে র‌্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তিন যুবককে। তারা হলেন- মাদারীপুরের শিবচরের মৌলভীকান্দির সাইফুল ইসলাম, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ফারুক ইসলাম ও একই জেলার গোবিন্দগঞ্জের এরশাদ হোসেন। এর আগের দিন ফেনীর মহিপাল ও রামপুরায় অভিযান চালিয়ে ২৭ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

যেভাবে আসছে ইয়াবা চালান :মাদকসহ গ্রেফতার একাধিক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, এই চক্রের একটি অংশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পৌঁছে দেয়। বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের হাতে রেখে তারা এ কাজ করে। দেশের ভেতর ইয়াবার চালান প্রথমে পৌঁছানো হয় ডিলারদের হেফাজতে। সাধারণত একেকটি চালানে তিন লাখ থেকে ১৫ লাখ ইয়াবা বড়ি থাকে।

পুলিশের হাতে গত বছর গ্রেফতার তিন ইয়াবা ব্যবসায়ী নারী সানজিদা, রোজিনা ও রাজিয়া জানান, তারা প্রত্যেকে বর্তমানে প্রতিটি ছোট ইয়াবার বড়ি ৩৫-৪০ টাকায় কিনে ঢাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয়। বড় প্রতিটি ইয়াবা বড়ি কেনা হয় ৭০-৭৫ টাকায়। মিয়ানমার থেকে প্রতি পিস ইয়াবার ছোট বড়ি কেনা হয় ২০-২২ টাকাতে। বড় বড়ি কেনা হয় ৩০-৩৫ টাকায়। ঢাকায় আসার পর প্রতি পিস ইয়াবা ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

কক্সবাজারে তালিকাভুক্ত ১২০ জন :গত বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে একাধিক সংস্থা। এতে নানাভাবে মাদকের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট চার হাজার ব্যক্তির নাম উঠে আসে। শুধু কক্সবাজারেই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ১২০ জন।

এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার মং চেন, মং উইন মজিবুর রহমান, আবদুস শুক্কুর, আমান, জাফর আহমেদ, শফিক ওরফে শফি, ফয়সাল, মো. ইসলাম, নূর আলম, মো. আলম, এমদাদ হোসেন, জহির আহম্মেদ, আলম ওরফে শাহ আলম, মেহেদী হাসান, তৈয়ব, আনোয়ার, নূর মোহাম্মদ, সৈয়দ আলম, ফরিদুল আলম, মাহামুদুল হক, আবদুল আজিজ, ফিরোজ আহমেদ, জসীম উদ্দীন, নুরুল বশার, আবুল হাশিম, সেলিম আহম্মেদ, শাহ আলম, রেদোয়ান, এমাদুল ইসলাম, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীপাড়ার মৃত আবদুস সত্তারের ছেলে একরামুল হক, শাহজাহান পারভেজ, মো. সুমন, রফিক, আলম, তিন সহোদর কেফায়েত উল্লাহ, রাহামাত উল্লাহ ও ছালামত উল্লাহ আমিন শরীফ, ইমান শরীফ, শাহজাহান মিয়া, দিদার মিয়া, মো. ইসমাইল, সৈয়দ আলম, আছু মিয়া, মো. ইসলাম, আরিফা বেগম প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত অনেক মাদক ব্যবসায়ীই আবার এলাকায় ফিরেছে। এ তালিকায় রয়েছে মো. মোর্শেদ, একরাম, আবদুর রহমান, রাশেদ, মো. জালাল প্রমুখ। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর তারা দেশ-বিদেশে পালিয়ে ছিল।