অপরাধ

দুর্নীতির দায়ে তিতাসের ৫ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির দায়ে তিতাসের ৫ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

  সমকাল প্রতিবেদক

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ অব্যবস্থাপনার কারণে তিনজন এবং বেনামে সিএনজি স্টেশন নির্মাণ করে মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস চুরির অভিযোগে দু'জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও দু'জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিচালনা পর্ষদে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে বলে তিতাসের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মো. মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে পাঁচজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বোর্ডের (পরিচালনা পর্ষদ) অনুমোদন প্রয়োজন।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ অব্যবস্থাপনার কারণে বহিস্কৃত তিন কর্মকর্তা হলেন- করপোরেট হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক হুমায়ন কবীর খান, হিসাব শাখার উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং বেতন ও তহবিল শাখার উপব্যবস্থাপক নাজমুল হক। মিটার টেম্পারিংয়ের অভিযোগে বরখাস্ত দুই কর্মকর্তার একজন প্রকৌশলী মহিদুর রহমান। তিনি মিটারিং অ্যান্ড ভিজিল্যান্স শাখা ও ইএসএস শাখার ব্যবস্থাপক। অন্য্যজন প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা খান। তিনি পাইপলাইন নির্মাণ বিভাগের ব্যবস্থাপক (কাস্টমার অ্যান্ড ফাইন্যান্স শাখা)।

পাঁচ কর্মকর্তাকে বহিস্কার করায় তিতাস কার্যালয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিতাসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আটজন কর্মকর্তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন তলবও করেছিল। তিতাসের একজন ব্যবস্থাপক সমকালকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। রহস্যজনক কারণে শুধু মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পেছনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় এখনও আনা হয়নি।

তিতাস সূত্রে জানা যায়, বহিস্কৃৃতদের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্দেশনা অমান্য করে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছেন। কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি ব্যাংকের পরিবর্তে অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্তির বিনিময়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় জমা রেখেছিলেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আইয়ুব খানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

সূত্র জানিয়েছে, একই অভিযোগে আরও দু'জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। আগামী বোর্ড সভায় তাদের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এদের মধ্যে একজন ঘটনার সময় তিতাসের পরিচালক ছিলেন। এখন পেট্রোবাংলার আরেক প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক পদে কর্মরত। অন্যজন ঘটনার সময় হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন; বর্তমানে ঢাকার একটি অঞ্চলের রাজস্ব বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপর দু'জন বহিস্কৃত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বেনামে গাজীপুরের কুনিয়া এলাকায় 'যমুনা সিএনজি' নামে একটি গ্যাস স্টেশনের মালিক। একই সঙ্গে তারা দু'জন মিটার টেম্পারিং করে গ্যাস বিক্রির সঙ্গে জড়িত। পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটি এ-সংক্রান্ত অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। অবৈধ মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে তারা দু'জন কোম্পানির সিএনজি ও ক্যাপটিভ খাত মিলিয়ে প্রায় চার কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন। যার মধ্যে সিএনজি খাতে চার কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার ও ক্যাপটিভ খাতে প্রায় চার লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

তিন জেলায় 'বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলিতে' নিহত ৪


আরও খবর

অপরাধ

  সিলেট ব্যুরো, টেকনাফ (কক্সবাজার) ও মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

কক্সাবাজারের টেকনাফ, মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী ও সিলেটের মোগলাবাজারে বন্দুযুদ্ধ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান খালাসকে কেন্দ্র করে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

বুধবার ভোরে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের জিরো পয়েন্ট এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত (৩৮) সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে ও আবদুল আমিন (৩৫) হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নয়াপাড়ার আমির হামজার ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মাদকসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। 

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে ইয়াবা খালাসকে কেন্দ্র করে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, এমন খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় পৌঁছালে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন লাশ দুটি নজির আহমদ ও আবদুল আমিনের বলে শনাক্ত করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪টি এলজি অস্ত্র, ৯ রাউন্ড গুলি ও ১০ হাজার ১৫০পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ইয়াবাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, দুজনই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে র‍্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' মারা গেছেন সন্দেহভাজন এক মাদক ব্যবসায়ী। খুলনার দৌলতপুর এলাকায় পলাতক এক সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় র‍্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ব সোনারং গ্রামের আলম শেখের বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব জানায়, নিহত আবুল হোসেন শেখ (৪৭) মাদক মামলার এক আসামি। তিনি একই উপজেলার কুন্ডের বাজার এলাকার মৃত নাজিম উদ্দিন শেখের ছেলে।

র‍্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর আশিক বিল্লাহ জানান, আবুল হোসেন তার বাহিনী নিয়ে সোনারং এলাকায় মিটিং করছিল- এমন গোপন সংবাদে  অভিযান চালানো হয়। এসময় তারা র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

তিনি জানান, পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আবুল হোসেনকে উদ্ধার করে টংগিবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় র‍্যাবের ২ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সিলেট: সিলেটের মোগলাবাজারে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' একজন নিহত হয়েছেন।

নিহত মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ মিয়া (৪১) দক্ষিণ সুরমা থানার তেলিবাজার আহম্মদপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, গোপন তথ্যে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়।

তিনি জানান, এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী শহীদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরের
খবর

সবজির বস্তায় মাদক যেত চট্টগ্রাম কারাগারে


আরও খবর

অপরাধ
সবজির বস্তায় মাদক যেত চট্টগ্রাম কারাগারে

রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সোহেল রানার

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ফেনসিডিল, নগদ অর্ধকোটি টাকা ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক-এফডিআরসহ আটক হওয়া কোটিপতি কারাধ্যক্ষ (জেলার) সোহেল রানা বিশ্বাস দু'দিনের রিমান্ডে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সাংবাদিকদের।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মজিদ জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে দু'দিনের রিমান্ডে আনা হয়। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বিভিন্ন অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন। সোহেল রানা পুলিশকে জানান, তিনি নিজেই একজন মাদকসেবী, কারাগারের অধিকাংশ দায়িত্বপ্রাপ্তরাও মাদক সেবনে জড়িত রয়েছেন। বিভিন্ন সময় কারা অভ্যন্তরে তারা মাদক সেবন করার কারণে টালমাটাল হয়ে যেতেন। তাদের সঙ্গে কয়েদি, কারারক্ষীসহ কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠিকাদারদের খাদ্য সরবরাহের পিকআপ ভ্যানে পেঁয়াজ, রসুন ও সবজির বস্তার ভেতর করে বন্দিদের কাছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পৌঁছাত। পরে কয়েদিদের মাধ্যমে তা বিক্রি করা হতো বন্দিদের কাছে। মাদক বিক্রির টাকা মাস শেষে স্টাফসহ কারাগারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝে পদমর্যাদা অনুযায়ী বণ্টন করা হতো। জেলার সোহেল রানার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত টাকাগুলো মাস শেষে বণ্টন থেকে প্রাপ্ত। বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি সেসব টাকা। প্রতি মাসে চট্টগ্রাম কারাগারে কোটি কোটি টাকার মাদক বন্দিদের মাঝে বিক্রি করে মোটা টাকা উপার্জন করা হতো।

এ ছাড়া বন্দিদের জিম্মি করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন জেলার সোহেল রানা। কারা অভ্যন্তরে বন্দিরা টাকা দিলে সশ্রম কারাদণ্ড হয়ে যেত বিনাশ্রম ও টাকা না দিলে বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়ে যেত সশ্রম। অন্যদিকে, বন্দিদের যারা টাকা দিত রাতে তাদের রাখা হতো হাসপাতালের বেডে। টাকা না দিলে ১শ'র অধিক বন্দিকে একসঙ্গে রাখা হতো ১২ ফুটের একটি কক্ষে। অভিযুক্ত জেলারের ভাষায় সেটাকে বলা হতো 'ইলিশ বেড'। পুলিশকে তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী পদে নিয়োগ বাণিজ্যের কথা। ওই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোথা থেকে কীভাবে টাকা আসবে সে তথ্যও দেন। কারাগারে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতদের অনেকের নাম প্রকাশসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি। তদন্তের স্বার্থে ওই নামগুলো পুলিশ আপাতত প্রকাশ করতে পারছে না বলে জানান ওসি।

ঘটনার দিন জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস বিজয় এক্সপ্রেসে ময়মনসিংহ শহরের ১১৯, আরকে মিশন রোডে তার বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় জিআরপি ট্রেনের একটি বগিতে সোহেল রানার শরীর ও ব্যাগ থেকে নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, স্ত্রী হোসনে আরা পপির নামে এক কোটি টাকার এফডিআর, শ্যালক রকিবুল হাসানের নামে ৫০ লাখ টাকার এফডিআর ও ১২ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভৈরব জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন ভূঞা জানান, জেলার সোহেল রানা অকপটে সবকিছু পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। মানি লন্ডারিং আইনের মামলাটি যেহেতু দুদক তদন্ত করবে, তাই আজ ১৬৪-এর জন্য আবেদন করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজনে ১৬৪ এবং রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হবে।

আদালত পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. তৌফিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে সিনিয়র বিচারিক হাকিম ইকবাল মাহমুদের আদালতে হাজির করে জামিনের প্রার্থনা করা হয়। কিন্তু আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর আটক ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। তদন্তের প্রয়োজনে রেলওয়ে পুলিশ আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ বিচারিক আদালত-২-এর বিচারক হাকিম ইকবাল মাহমুদ দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরের
খবর

প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা উধাও!


আরও খবর

অপরাধ
প্রবাসীদের অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা উধাও!

নেপথ্যে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইন্দ্রজিৎ সরকার

লন্ডন প্রবাসী জগলুল বাশার চৌধুরীর ইসলামী ব্যাংকের দনিয়া শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার ওই হিসাব নম্বরে সাধারণত মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তার স্বাক্ষর করা একটি চেক ব্যাংকে জমা দেন শাহানা বেগম নামের এক নারী। দাপ্তরিক নিয়ম-কানুন শেষে জগলুলের হিসাব থেকে ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয় ওই নারী প্রাপকের হিসাবে। এর পাঁচ দিন পর আবারও ১২ লাখ টাকার চেক জমা পড়ে। এবারও প্রাপক একই নারী। এ পর্যায়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তারা প্রবাসীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন- কাউকে এরকম কোনো চেক দেননি জগলুল। পরীক্ষায় দেখা যায়, ব্যাংকে জমা দেওয়া চেক ও তাতে জগলুলের স্বাক্ষর, সবই নকল। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। এমন পাঁচটি ঘটনায় অন্তত এক কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক ইমাম আল মেহেদী সমকালকে জানান, জালিয়াতির এই চক্রে ছয় থেকে আট সদস্য রয়েছে। তাদের চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রতারকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। এর আগে তাদের কেউ চেকদাতা গ্রাহক সেজে বিদেশ থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ফোন দেয় এবং ভুয়া ই-মেইল পাঠায়। ফলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রানা চৌধুরী বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত গ্রাহক পরিচয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে ফোন দিয়ে অ্যাকাউন্টের স্থিতি (কত টাকা জমা আছে) জানতে চায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, ফ্ল্যাটের দাম বাবদ বা অন্য কোনো কারণে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার চেক একজনকে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যেন তাকে সেই টাকা দিয়ে দেয়।

জগলুল বাশার চৌধুরীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার আগেও ফোন করে ও ই-মেইল পাঠিয়ে চেক দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতারকরা। এর ভিত্তিতে প্রথম দফায় শাহানা বেগমের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় দফায় টাকা তোলার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে তাকে পরদিন যেতে বলা হয়। তবে শাহানা ব্যাংকে যান ১ মার্চ। সেদিন তাকে আটকে রেখে র‌্যাব সদস্যদের কাছে সোপর্দ করা হয়। ২ মার্চ এ ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে সিআইডির ডেমরা ইউনিট মামলাটির তদন্ত করে। ধীরে ধীরে চক্রের সবাইকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতার করা হয় চক্রের সদস্য আবদুস সালাম মিলন, আবুল কালাম ওরফে রানা চৌধুরী ও তানিয়া আক্তার তানিশাকে। তানিয়ার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের সদর থানায় ২৫ লাখ ও টঙ্গিবাড়ী থানায় ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। চক্রের হোতা মোহাম্মদ হানিফ এখনও পলাতক।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে চক্রের সদস্যরা গ্রাহকের মূল ই-মেইল ঠিকানার প্রায় অনুরূপ একটি ঠিকানা খুলে নেয়। এ ক্ষেত্রে মূল ঠিকানার সঙ্গে একটি 'ডট' বা 'ড্যাশ' পার্থক্য থাকে; যা যাচাইকারীর চোখে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। চেক জালিয়াতির জন্য তারা আরেকটি কৌশল ব্যবহার করে। টার্গেট ব্যক্তি যে ব্যাংকের যে শাখার গ্রাহক, সেই শাখাতেই চক্রের একজন অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর তার পাওয়া চেক বইটির পাতা নিয়ে ঘষামাজা করে। এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে চেকটির মূল ক্রমিক নম্বর পাল্টে টার্গেট গ্রাহকের চেকের নম্বর বসিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত তারা মূল গ্রাহকের চেক বইয়ের শেষের দিকের পাতাগুলোর নম্বর ব্যবহার করে। এতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

তদন্ত সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা থেকে ৩২ লাখ, ইসলামী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে ২৫ লাখ, দনিয়া শাখা থেকে ১৫ লাখ ও অগ্রণী ব্যাংকের টঙ্গিবাড়ী শাখা থেকে ৪৫ লাখ টাকা তোলার কথা জানা গেছে। এ ছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১৬ অক্টোবর সাকিনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি একই কায়দায় নকল চেক দিয়ে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।


File:- লন্ডন প্রবাসী জগলুল বাশার চৌধুরীর ইসলামী ব্যাংকের দনিয়া শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার ওই হিসাব নম্বরে সাধারণত মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়।