ক্রিকেট

বিশ্বকাপ ক্রিকেট

কন্ডিশনের কাছে হেরেছে ভারত

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

কন্ডিশনের কাছে হেরেছে ভারত

  কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত

ফাইনালে ওঠার জন্য নিউজিল্যান্ডকে আন্তরিক অভিনন্দন। দারুণ একটা সেমিফাইনাল দেখার সুযোগ হলো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা থাকায় ম্যাচটা উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। মূলত বৃষ্টির কারণেই এত নাটকীয়তা। দিনে দিনে খেলা শেষ করা গেলে অন্যরকম হতে পারত। বৃষ্টির জন্য খেলা গড়াল দ্বিতীয় দিন এবং ভারত হেরে যায়। এই যে দু'দিন ধরে সেমিফাইনাল ম্যাচটা হলো, এটাই ভারতের হারের মূল কারণ। খেলা বন্ধ হওয়ার পর মাঝে একটি রাত গেছে। একে তো পিচ কাভারের নিচে ছিল; উপরন্তু, পরের দিন আবহাওয়াও ছিল মেঘাচ্ছন্ন। ফলে কন্ডিশন পুরোপুরি বোলিংবান্ধব হয়ে ওঠে। বৃষ্টির সুবিধাটা নিউজিল্যান্ডের পক্ষে গেছে।

প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তিন ব্যাটসম্যানকেই দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠায়। এই তিন উইকেট নিয়ে কেউ যদি বলেন, ভারত বাজে ব্যাটিং করেছে আর বোলিং ভালো হয়েছে, তাদের উদ্দেশে আমি বলব, চমৎকার বোলিং করেছে নিউজিল্যান্ড। লোকেশ রাহুল, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি অসাধারণ ডেলিভারিতে আউট হয়েছে। প্রতিটি ডেলিভারিই ছিল আন্তর্জাতিক মানের এবং উইকেটটেকিং ডেলিভারি। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যানদের উইকেটগুলোই কিন্তু নিয়েছে তারা। সোজা কথা, ওই তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করে ভারতের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় নিউজিল্যান্ড। যদিও পরে খুবই ভালোভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে ভারত। মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজা বুদ্ধিদীপ্ত জুটি গড়ে তোলে। বিশেষ করে জাদেজা বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে যেভাবে ব্যাটিং করল, সেটা প্রশংসনীয়। সত্যিই সে দারুণ লড়াই করেছে। এক কথায় চমৎকার গেম খেলেছে। ধোনির সঙ্গে জুটি গড়ে ম্যাচটা জয়ের খুব কাছে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় জাদেজা। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। চমৎকার বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং করেছে সে।

কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্ব প্রশংসার দাবিদার। নিজেদের দুর্বলতা ও সবল দিকগুলো মাথায় রেখে ব্যাটিং ও বোলিং করেছে নিউজিল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে বড় শট খেলতে চেষ্টা করেনি। কারণ তারা জানে, কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলরই হলেন দলের মূল ব্যাটসম্যান। তারা খেলাটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে গেছে। কিউইরা ভালো করেই জানত, ওই দু'জন ক্রিজে থাকলে ২৫০ রান হবে। পরিকল্পনামতো তারা সেটা করতে পেরেছে এবং ম্যাচ জিতে ফাইনালে গেছে।

একই সঙ্গে যেটা বলব, উইলিয়ামসনের বোলিং রোটেড ছিল অতুলনীয়। জিমি নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ের দুর্বল জায়গায়। উইলিয়ামসন চেষ্টা করেছে এ দু'জনকে বোলিংয়ে কম আনতে। শুরুতেই উইকেট পাওয়ায় দু'জনকেই ভালোভাবে রোটেড করা সম্ভব হয়েছে তার পক্ষে। যে কারণে নিশাম ও গ্র্যান্ডহোমের দুর্বলতা ধরা পড়েনি। মিচেল সান্টনার দুর্দান্ত বোলিং করেছে। তবে ভারতের ব্যাটসম্যানরা বোধহয় একটু বেশিই সম্মান দেখিয়ে ফেলেছে তাকে। সান্টনারের বিপক্ষে আরও ইতিবাচক খেলা উচিত ছিল। ইতিবাচক বলতে মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে আসার কথা বলছি না। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে তাকে চাপে ফেলা যেত। ব্যাটসম্যানরা সেটা করতে পারেনি। তাই রানরেটও স্লো এগিয়েছে এবং ভারত শেষ পর্যন্ত চাপে পড়েছে।

বুধবার বৃষ্টির আগে ম্যাচ কিন্তু ভারতের হাতেই ছিল। ওই দিন পুরো খেলা হলে ভারত হয়তো জিতে যেত। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এই ম্যানচেস্টারেই ২৬০ রান করি আমরা। বৃষ্টির কারণে খেলা দ্বিতীয় দিনে গড়ালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে ম্যাচ জিতি। সাধারণত এক্ষেত্রে পরে বল করা দল সুবিধা পায়। ভারতের জন্য যেটা দুর্ভাগ্য হয়ে এসেছে এবার। তারা বিশ্বকাপ জিততে গিয়েছিল অথচ সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিল। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটতে দেখেছি। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকা ভারত সেমিফাইনালে হারে অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এবার সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে লীগ রাউন্ড শেষ করে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এটা হয় এবং এসব মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমার মনে হয় না, ভারতের এই দলে খুব বেশি পরিবর্তন করার আছে। শুধু মিডল অর্ডারে একটু নজর দিলে ভালো করবে। মিডল অর্ডারটাকে এখনও আমরা সুসমন্বিত করতে পারিনি। ঋশভ পান্ত ভালো, তবে পাঁচ নম্বরের জন্য ভালো একজনকে খুঁজতে হবে। দিনেশ কার্তিক, রবীন্দ্র জাদেজা এবং বিজয় শঙ্করকে তো পাঁচ নম্বরে দেখা হয়েছে। তারা নিজেদের কার্যকর প্রমাণ করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে নতুনদের থেকে একজনকে নিলেই হয়।

লেখক :ভারতের সাবেক ওপেনার

মন্তব্য


অন্যান্য