ক্রিকেট

অভিষেকে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড আলিস ইসলামের

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

অভিষেকে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড আলিস ইসলামের

অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা আলিস ইসলাম।

  অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে স্বপ্নের মতো অভিষেক হয়েছে আলিস ইসলামের। কিন্তু মাঠে নেমে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু করেন তিনি। ঢাকা ডায়নামাইটস দলে তিনি সুযোগ পান ডানহাতি স্পিনার হিসেবে। ঢাকার দলে এমনিতে নারিন-সাকিবের মতো অলরাউন্ডার আছেন। আছেন শুভাগত। তাতে আনকোরা এই আলিস আহমেদকে স্পিনার হিসেবে খেলানো বিলাসিতা মনে হতে পারে। কিন্তু অধিনায়ক সাকিব যেমন আলিসকে দলে নেওয়ার কারণ জানালেন তেমনি বোঝালেন আলিস নিজে।

ঢাকা শুরুতে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে। ব্যাট হাতে মাঠে নামা হয়নি আলিসের। এরপর ফিল্ডিংয়ে নেমে এক ওভারে শুভাগতর বলে মিঠুনের দুই ক্যাচ ছাড়েন তিনি। সহজ ক্যাচ ছিল দুটোই। অভিষেক ম্যাচে তিনি যেন দর্শক কিংবা মাঠের হইহুল্লোড় নিতে পারছিলেন না। শট লেগে তার ক্যাচ মিস দুটি চোখে ফোটার মতো। 

কিন্তু তার চেয়ে সম্ভবত বেশি চোখে লেগে থাকবে তার দারুণ হ্যাটট্রিক। দলের হয়ে ১৮তম ওভারে নিজের  তৃতীয় ওভারে বল করতে আসেন তিনি। ম্যাচ বলতে গেলে তখন রংপুরের পকেটে। হাতে ৬ উইকেট। করতে হবে ১৮ বলে ২৬ রান। ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান মিঠুন। ক্যাচ মিসের প্রায়শ্চিত্ব করার দায়িত্বটা আলিস ওই ওভারে হাতে তুলে নিলেন। ক্যারম বল করে মিঠুন-মাশরাফিকে ফেরালেন। এরপর তুলে নিলেন ফরহাদ রেজাকে।

আলিসের হয়ে গেল হ্যাটট্রিক। টি-২০ অভিষেকে এর আগে আর কেউ হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়তে পারেননি। অভিষেকে আলিস ইসলাম তা করে দেখালেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাও ঢাকা জিতেছে মাত্র ২ রানে। আলিস ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। শেষ ওভারটাও বল করেছেন তিনি। হয়েছেন ম্যাচসেরা।

ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, আমরা জানতাম আলিসের দারুণ বল করার ক্ষমতা আছে। তাই তাকে দলে নেওয়া। দলের জন্য ভালো যে সে ভালো করেছে। আমরা কাছে অধিনায়কত্ব করার মজা এটাই। এমন ম্যাচ জিতলে আলাদা আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়।

যে আলিস ইসলামকে নিয়ে সাকিব আল হাসান কথা বললেন, তার ক্রিকেট প্রোফাইল ঘাটলে অবশ্য বিশেষ কিছুই পাওয়া যায় না। ডানহাতে অফস্পিন করেন। বয়স হয়েছে ২২ বছর ৩০ দিন। এমনকি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার তথ্যও মেলে না ইএসপিএন কিংবা ক্রিকবাজের মতো ক্রীড়া বিষয়ক সাইটে। মেলে কেবল ঢাকার হয়ে রংপুরের বিপক্ষে খেলা এই ম্যাচটির তথ্য। আনকোরা ক্রিকেটার থেকে রেকর্ড গড়া আলিস তাই শেষ অবধি হতে পারেন এবারের বিপিএলের বড় পাওয়া। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

এবার চ্যাম্পিয়নদের হারাল সিলেট


আরও খবর

ক্রিকেট

ছবি: বিসিবি

  অনলাইন ডেস্ক

তলানিতে পড়ে থাকা দল রাজশাহীর কাছে এরআগে ম্যাচ হেরেছে গেলবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। এবার হারল আরেক তলানিতে থাকা দল সিলেট সিক্সার্সের কাছে। দারুণ এক দল নিয়েও বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে ঠিক পেরে উঠছিল না সিলেট। এবার ঘরের মাঠ আর দর্শকদের কানফাঁটা চিৎকারে ঘুম ভাঙলো তাদের। স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে-বোলিংয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলল বিদেশিরা। তাতে সিলেট ২৭ রানে জয় পেল রংপুরের বিপক্ষে।

বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১৮৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় সিলেট। দলের হয়ে ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা লিটন দাস এ ম্যাচে করেন ৪৩ বলে ৭০ রান। এছাড়া আরেক ব্যর্থ তারকা সাব্বির রহমান খেলেন ২০ বলে ২০ রানের ইনিংস। এরপর ডেভিড ওয়ার্নারের ৩৬ বলে হার না মানা ৬১ রান এবং নিকোলাস পুরানের ১৬ বলে ২৬ রানের সুবাদে ওই সংগ্রহ পায় সিলেট। 

জবাবে দলের ১১ রানের মাথায় গেইল, মেহেদি মারুফ এবং অ্যালেক্স হেলসকে হারায় রংপুর রাইডার্স। বিপিএলে এখন পর্যন্ত হাসেনি গেইলের ব্যাট। এছাড়া হেলসও ব্যর্থ এখন পর্যন্ত। তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাইলো রুশো এ ম্যাচেও খেলেন দারুণ এক ইনিংস। রুশো ৩২ বলে ৫৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলের একশ’ রানের মাথায় আউট হন। পরে মোহাম্মদ মিঠুন ২৯ বলে ৩৫ এবং মাশরাফি মর্তুজা ২৭ বলে ৩৩ রান করেন। তাতে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান তোলে রংপুর। 

সিলেটের হয়ে এ ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয় ২ উইকেট নেন তাসকিন। এরমধ্যে রুশো এবং মোহাম্মদ মিঠুনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দখল করেন এই পেসার। মেহেদি রানা পান ২ উইকেট। দারুণ বল করা সোহেল তানভির ৪ ওভারে ২২ রানে এক উইকেট নেন। এছাড়া নেপালের লেগ স্পিনার সন্দিপ লামিচানে ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় এক উইকেট পান। রংপুরের হয়ে শাফিউল ইসলাম ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট পান। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ডানহাতি ওয়ার্নার দর্শন


আরও খবর

ক্রিকেট
ডানহাতি ওয়ার্নার দর্শন

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

রংপুরের বিপক্ষে দারুণ ইনিংস খেলা সিলেট অধিনায়ক ওয়ার্নার।

  অনলাইন ডেস্ক

ছোটবেলা থেকেই বেজায় পিটিয়ে খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তাকে থামানো যায় না। ওয়র্নারের শৈশবের কোচ বিষয়টি নিয়ে মোটেও খুশি ছিলেন না। তাই ডানহাতি ওয়ার্নারকে তিনি বানিয়ে ফেললেন বামহাতি। অন্তত ওয়ার্নার নতুন ব্যাটিং স্টাইলে একটু রয়ে সয়ে খেলবে এই ছিল কোচের যুক্তি। কিন্তু ওয়ার্নার থামার নয়। তিনি সমানে পিটিয়েই খেলতেন। এছাড়া শুরুর দিকে মাঠেও ডান-বাম দুই হাতে ব্যাট করেছেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটের গতির সঙ্গে না যাওয়ায় তাকে যে কোন এক পজিশনে ব্যাট করার কথা বলেন মাঠের আম্পায়ার।  

মারকুটে এই ওয়ার্নার কতটা ভয়ঙ্কর তা জাতীয় দল এবং বিভিন্ন লিগে আগেই দেখিয়েছেন। এবার দেখালেন বিপিএলে। সঙ্গে আরও একটি জিনিস দেখালেন। আর তা হলো ওয়ার্নারের ডানহাতে ব্যাটিং। ডানহাতে ব্যাট করা ওয়ার্নার যে ভুলে যাননি তা আবার বিপিএল ভক্তদের সামনে তুলে ধরলেন।

ডানহাতে ব্যাটিং করা ওয়ার্নার। 

সিলেটের ইনিংসের ১৯তম ওভারের কথা। বামহাতে ৩২ বল খেলে ফেলেছেন ওয়ার্নার। রানও তুলেছেন বেশ ভালো গতিতে। কিন্তু গেইলের করা ওই ওভারে হুট করে মারতে পারছেন না ওয়ার্নার। প্রথম বলে দুই রান নেওয়ার পরের দুই বল ডট। ওয়ার্নার তার ব্যাটিং স্টাইল বদল করলেন। তিনি বামহাতি হওয়ায় গেইল ডানহাতি স্পিনে কিছুটা সুবিধা নিচ্ছিলেন। ওয়ার্নার তাই ডানহাতি বনে গেলেন। পরের তিন বলে অজি তারকা নিয়েছেন ১৪ রান। চারের মার দুটি, একটি ছক্কা।

আর রংপুরের বিপক্ষে ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ বলে ৬১ রানের হার না মানা ইনিংস। ওয়ার্নার ওই ইনিংস খেলার পথে ছক্কা মেরেছেন দুটি। আর চারের মার মেরেছেন ছয়টি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

লিটন-ওয়ার্নারের ব্যাটে বড় রান সিলেটের


আরও খবর

ক্রিকেট

ওপেনিংয়ে নেমে ভালো জুটি গড়েন লিটন দাস এবং সাব্বির রহমান।

  অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা পর্বে ওয়ার্নার সাবধানী এক ইনিংস খেলে জানান দিয়েছেন তিনি ফুরিয়ে যাওয়ার নন। বল টেম্পারিং কান্ডে আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া নিষেধাজ্ঞায় আছেন তিনি। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপ জয়ী লিজেন্ড। আর লিজেন্ডদের প্রমাণের কিছু থাকে না। রংপুরের বিপক্ষে অপরাজিতা এক ইনিংস খেলে সেটারই জানান দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার আগে লিটন দাস এবারের আসরে দেখিয়েছেন তার হাতেও খেলা আছে। তাদের দু'জনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাশরাফিদের সামনে ১৮৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে সিক্সার্স।

সিলেটের হয়ে শুরুতে এ ম্যাচে ওয়ার্নারের বদলে ওপেন করতে নামেন সাব্বির রহমান। তার সঙ্গী লিটন দাস। দু'জনে শুরু করেন ভালো। সাব্বির ২০ বলে ২০ করে যখন ফিরেছেন সিলেটের রান ততক্ষণে ৭.৩ ওভারে ৭৩। এরপর সাব্বির ফিরে গেলেও ঝড় থামেনি লিটনের ব্যাটে। তিনি খেলেছেন ৪৩ বলে ৭০ রানের দারুণ এক ইনিংস।

ওই ইনিংস খেলার পথে দারুণ সব শট খেলেছেন লিটন দাস। চারের মার মেরেছেন নয়টি। আর ছক্কা একটি। তার সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওয়ার্নারও দারুণ শুরু করেন। দু'জনে মিলে ১২ ওভারের মধ্যে দলের রান একশ' পূর্ণ করেন। এরপর লিটন দাস আউট হয়ে ফিরলেও রান বাড়িয়ে নেওয়ার কাজ এগিয়ে নেন ওয়ার্নার।

অজি তারকা করেন ৩৬ বলে ৬১ রান। ছয়ের মার মারেন দুটি। এছাড়া চার আছে ছয়নি। এরমধ্যে আবার গেইলের করা এক ওভারের প্রথম তিন বলে মাত্র ২ রান নিতে পারেন ওয়ার্নার। ওমনি হুট করে ডানহাতে ব্যাট করতে শুরু করেন ওয়ার্নার। তাতে গেইলের ওভারের শেষ তিন বলে দুটি চার এবং একটি ছক্কা হাঁকান এই তারকা। শেষ পর্যন্ত তার দল ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানে থামে। 

সংশ্লিষ্ট খবর