মন্তব্য

'সামরিক শক্তি দিয়ে কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব না'

প্রকাশ : ০৫ আগষ্ট ২০১৯ | আপডেট : ০৫ আগষ্ট ২০১৯

'সামরিক শক্তি দিয়ে কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব না'

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

  অনলাইন ডেস্ক

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে যে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল সেটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে কাশ্মীর থেকে ভেঙে লাদাখকে আলাদা করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ মর্যাদাহারালো জম্মু-কাশ্মীর। উপত্যকায় রইল না আলাদা সংবিধান, আলাদা পতাকা। বদলে গেল ৬৯ বছরের ইতিহাস। ইতোমধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত বিলও উত্থাপন করা হয়েছে। কাশ্মির ইস্যু নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ   

জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আলাদা যে অধিকার ছিল দিল্লি সরকার তা আগে থেকেই মানছিল না। সংবিধানের ৩৭০ ধারায় রাজ্যটিকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হলেও কেন্দ্র শুরু থেকেই সেখানে হস্তক্ষেপ করছিল। এই ধারা বাতিল করে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করায় অবস্থার আসলে কোনো পরিবর্তন হলো না। জম্মু-কাশ্মীরে হস্তক্ষেপে আগে সাংবিধানিক যে বাধা ছিল ৩৭০ ধারা বাতিল করায় এখন সেই বাধা আর রইল না।

কিছুদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাশ্মীর সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। ভারত সেই প্রস্তাব নাকচ করেছে। এরপর কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। আমি মনে করি, অন্য কোনো শক্তি যাতে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে তার জন্যই রাজ্যটিকে কেন্দ্রের অধীনে নিয়ে আসলো বিজেপি সরকার। তবে এর মাধ্যমে তারা রাজ্যটিতে ৬৯ বছর ধরে চলা এই স্বায়ত্তশাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করলো।

জম্মু-কাশ্মীরে যারা স্বাধীনতাকামী, ভারত যাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী বলছে রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা হরণ করায় তাদের লড়াইটা আরও জোরালো হলো। কারণ তারা নিশ্চিত হলো, তাদের এতোদিনের যে লড়াই সেটি ঠিক ছিল। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে তাদের এই লড়াইকে নতুন করে উস্কে দিল সরকার।

কয়েক দিন আগে কাশ্মীর ছাড়তে বলা হয়েছে অমরনাথ তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের। আগের অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনার সঙ্গে আরও অতিরিক্ত ২৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি সরকার সামরিক চুক্তির মাধ্যমে সমাধান চাচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো সমাধান আসবে না। জম্মু-কাশ্মীরে এ পন্থায় শান্তি ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি না।

 

 

মন্তব্য


অন্যান্য