মন্তব্য

‘অনাস্থা, ক্ষোভ, ক্ষমতাহীনতা মানুষকে হিংস্র করে তুলছে’

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯

‘অনাস্থা, ক্ষোভ, ক্ষমতাহীনতা মানুষকে হিংস্র করে তুলছে’

  অনলাইন ডেস্ক

পদ্মা সেতুতে মাথা লাগার গুজবে কিছুদিন ধরেই সারাদেশে ছেলেধরা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের একা ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন। ছেলেধরা সন্দেহে গত কয়েকদিনে গণপিটুনির শিকার হয়ে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে নারী, বাক প্রতিবন্ধী মানুষও রয়েছেন। সমাজে কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং মানুষ কেনই বা এতটা হিংস্র হয়ে উঠেছে তা নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 

দেশে যে হারে মাদকাসক্ত, খুন, ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ বাড়ছে- গণপিটুনি তারই একটা অংশ। মানুষ হিংস্র হয়ে উঠছে। 

অধিকাংশ মানুষের হাতে কোনও ক্ষমতা নেই। বেকার হয়ে কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ বা ছোট দোকান দিয়ে বসেছে। যখন তারা কাউকে পিটাতে পারে তখন তার মনে হয় তার হাতে ক্ষমতা আছে। 

আরেকটা হলো মানুষের মধ্যে একটা ক্ষোভ, ক্রোধ কাজ করছে। যখন কাউকে মারার সুযোগ আসে তখন এই মার দেওয়ার মাধ্যমে তার সব ক্ষোভ বেরিয়ে আসে। এগুলো হচ্ছে গণপিটুনি প্রবণতার মনস্তাত্ত্বিক দিক।

অন্যদিকে কাউকে অপরাধী মনে হলে মানুষ তাদেরকে পুলিশে দিচ্ছে না। ওই ব্যক্তি অপরাধী কিনা তা প্রমাণিত না হলেও তারা যখন কাউকে অপরাধী মনে করছে তখন আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। কারণ তারা দেখছে অনেক অপরাধীকে পুলিশ ধরলেও আদালত থেকে জামিন নিয়ে তারা বেরিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীর শাস্তি হচ্ছে না। আইনের প্রতি মানুষের একটা অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা ভাবছে, অপরাধীকে আইনে দিয়েও লাভ হবে না। 

সব মিলিয়ে অনাস্থা, ক্ষোভ, ক্রোধ, ক্ষমতাহীনতা মানুষকে হিংস্র করে তুলছে। 

সমাজে এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, কেউ মনুষ্যত্বের প্রকাশ দেখছে না। সকলেই সকলকে শত্রু মনে করছে। এ ভাবনা থেকেই একজন আরেক জনের সঙ্গে মিশে কাউকে মারতে পেরে নিজেকে ক্ষমতাশীল মনে করছে। 

এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। 

অন্যদিকে মানুষের মধ্যে এখন কোনও সহনশীলতা নাই। কারও কোনও সামাজিক জীবন নাই। ইন্টারনেট, মোবাইল নিয়ে সবাই এক ধরনের বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছে।

সবাই এখন একটা অসুস্থ পরিবেশের মধ্যে বাস করছে। সব জায়গা ভরাট করে শুধু ভবন তৈরি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে এলাকায় এলাকায় পার্ক তৈরি করতে হবে, শিশুদের খেলাধূলার ব্যবস্থা করতে হবে। এলাকায় এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। আরেকটা হলো, দেশে কোনও রাজনীতি নেই, রাজনৈতিক আন্দোলনও নেই। আগে সভা-সেমিনার হলে মানুষ সেখানে বসে কথা শুনতো। এখন সে অবস্থাও নেই। 

মানুষ তো পশু না; কিন্তু বিচ্ছিন্ন জীবনযাপনের কারণে সে একটা বন্য প্রাণির মতো হয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে মানুষের জায়গায় তাদের ফিরিয়ে আনতে হলে দেশে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য