মন্তব্য

‘এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সবসময়ই প্রশ্ন ছিল’

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯

‘এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সবসময়ই প্রশ্ন ছিল’

  অনলাইন ডেস্ক

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রোববার সকালে মারা যান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দেশের রাজনীতিতে বরাবরই তিনি আলোচিত ও বিতর্কিত। নয় বছরের শাসনামলে তার বিভিন্ন কাজ প্রভাব ফেলেছে পরবর্তী শাসনামলে। আবার তার অনেক কাজ হয়েছে নিন্দিত। এরশাদের শাসনামলের নানা বিষয় নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ  

হুসাইন মুহম্মদ এরশাদকে মূল্যায়ন করতে হলে নানান আঙ্গিকে তাকে দেখতে হবে। তার ক্ষমতা গ্রহণটা যে পদ্ধতিতে হয়েছিল সেটা বৈধ ছিল না। সেটা নিয়ে সবসময়ই প্রশ্ন ছিল, এখনও আছে। কিন্তু টানা নয় বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে তার শাসনামলের কিছু প্রতিফলন আছে। 

আমাদের দেশে দীর্ঘমেয়াদে কেউ যদি ক্ষমতায় থাকে তার পক্ষে অনেক ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেটা বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়। এরশাদের সময়ও সেটা হয়েছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে বিশ্লেষণ করলে এক ধরনের সিদ্ধান্তে আসতে হবে। আবার রাজনীতির বাইরে যদি তাকে বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে অন্যভাবে দেখা যাবে। 

এরশাদের সময় অনেক সংস্কারমূলক কাজ হয়েছে। প্রথম হচ্ছে, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ। অর্থাৎ উপজেলা তৈরি করা। মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা তার আমলেই হয়েছে। ১৯৯১ সালে এটা বাতিল না করলে আমরা হয়তো এক্ষেত্রে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতাম। 

এরশাদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো ওষুধ-নীতি প্রণয়ন। এটা খুবই উন্নয়নমূলক একটা কাজ। আগে বেশিরভাগ ওষুধ আমদানি করতে হতো। এখন স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমরা ওষুধ রপ্তানি করি। একটি শিল্পের উন্নয়ন হয়েছে।

এরশাদের আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়নও হয়েছে। বিশেষ করে  যমুনা বহুমুখী সেতু তৈরির প্রকৃত উদোক্তা এরশাদ সরকার। জনগণকে সংযুক্ত করে তারা কাজটি করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এ জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারও তখন জোগাড় করা হয়েছিল। 

ঢাকার অনেক রাস্তার সুন্দর নামও দিয়েছেন এরশাদ। 

হাইকোর্টের ছয়টি বেঞ্চ ঢাকার বাইরে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘনের একটা অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু এর একটা ইতিবাচক দিকও ছিল। বিচারবিভাগের বিন্দ্রেীকরণ। আমি মনে করি, এটা আসলে আলোচনার একটা বিষয়। সবকিছু এখন ঢাকাকেন্দ্রিক, এটা ঠিক নয়। যারা তারা বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিলেন তখন তারা হয়তো বিষয়টা খতিয়ে দেখেননি। এরশাদ বড় বড় আইনজীবীদের আধিপত্য ভেঙে দিয়েছিলেন; যার কারণে তারা খেপে গিয়েছিলে। 

তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে এরশাদ আমাদের ক্ষতি করেছেন। আমাদের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে এই সংবিধান অনেক দূরে। এটা নিয়ে কিন্তু সেরকম কোনো আন্দোলন হয়নি। ওই সময় এরশাদ ভেবেছিলেন, এই সংবিধান করে তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। 

সবচেয়ে অবাক লাগে আমাদের এই অঞ্চলে একজন সামরিক শাসক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনীতিতে ফিরে আসা এবং আবারও নির্বাচিত হওয়া। এরশাদ হচ্ছেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি এটা করতে পেরেছেন। 

এরশাদের তৈরি রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তার ওপরই এতদিন নির্ভরশীল ছিল। তার অবর্তমানে  দলটি কতটা টিকে থাকতে পারবে এখন এটাই প্রশ্ন?    


মন্তব্য


অন্যান্য