মন্তব্য

'বইয়ের মানের ব্যাপারটা পাঠকের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত'

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

'বইয়ের মানের ব্যাপারটা পাঠকের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত'

  অনলাইন ডেস্ক

চলছে বাঙালির প্রাণের উৎসব 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা'। পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের সবচেয়ে বড় 'মিলন মেলা' এটি। প্রতি বছর এই মেলা এলেই বই প্রকাশের ধুম পড়ে যায়। এবারের বইমেলার পরিবেশ, আয়োজন এবং নিজের প্রকাশিত বই নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন লেখক তুষার আবদুল্লাহ

রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল কিংবা এ ধরনের কর্মসূচির প্রভাবে একসময় বইমেলায় লোক সমাবেশ কম হতো। সবাই অপেক্ষা করে থাকতেন কবে মেলা জমবে। কিন্তু এবার বইমেলা উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই যথেষ্ট লোক সমাবেশ ঘটছে। মেলায় আসা সব দর্শনার্থী বই স্পর্শ করছেন কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কিন্তু সবাই পরিবার নিয়ে উৎসবের আমেজে বইমেলায় আসছেন; এটা বেশ ইতিবাচক। বইমেলা হচ্ছে বইয়ের উদ্যান। বইয়ের আলাদা প্রাণ আছে। এই প্রাণের টানেই হয়তো সবাই একদিন বই পড়তে শুরু করবে।

এবারের বইমেলায় স্টল ও প্যাভেলিয়নের মাঝখানের বেশ প্রশস্ত জায়গা রয়েছে। তবে শিশু চত্বরটা আরও বিস্তৃত হলে ভাল হয়।

ছুটির দিন বাদে অন্যান্য দিন বইমেলা শুরুর জন্য সবাইকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।কিন্তু বাণিজ্যমেলা যদি সকাল থেকে শুরু হতে পারে, তাহলে বইমেলা শুরু হতে সমস্যা কোথায়? বইমেলা যদি সকাল ১১টায় শুরু হতো তাহলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী বা অন্য যারা সময়ের অভাবে মেলায় যেতে পারেন না তাদের আসাটা সহজ হতো। সেই সঙ্গে মানুষের ভিড়টাও নানা দিকে ছড়িয়ে যেত। আশা করছি, মেলা কর্তৃপক্ষ আগামীতে এই বিষয়গুলোতে নজর দেবে।

এবারের বইমেলায় আমার ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে শিশু-কিশোরদের জন্য বই-ই বেশি। এছাড়া টেলিভিশনে বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আমার করা সাক্ষাৎকারগুলো নিয়ে একটি বই এবং গণমাধ্যম বিষয়ক বইও রয়েছে। 

বইমেলায় প্রতিবছরই নতুন লেখকদের বই বের হচ্ছে। এসব বইয়ের মান নিয়ে অনেকেই অনেক সময় প্রশ্ন তোলেন। আমার কাছে মনে হয়, শুধু নতুন লেখক কেন, অনেক সময় পরিচিত লেখকের বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ কারণে মানের ব্যাপারটা পাঠকের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। 

অনেকেই আবার মৌসুমি লেখক।শুধু বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশকদের টাকা দিয়ে বই বের করছেন। এটা আমি ইতিবাচক ভাবেই দেখছি। কারণ ওই ব্যক্তি তার টাকা অন্যভাবেও অপচয় করতে পারতেন, বিদেশে ঘুরতে যেতে পারতেন। সেটা না করে তিনি একটা বই বের করছেন। হয়তো তিনি সত্যিই ভাল লেখেন। কিন্ত সেরকম সুযোগ পাচ্ছেন না, কোনও গোষ্ঠীর মধ্যে ঢুকতে পারছেন না। 

এক্ষেত্রে প্রকাশকদের বলবো, নতুন লেখকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বই বের করাই যেন কারও মূল ব্যবসা না হয়। প্রকাশকদের উচিত নতুনদের সুযোগ দেওয়া। সেক্ষেত্রে একটা ‘সম্পাদনা পরিষদ’ থাকলে বইয়ের মানও ভাল হবে।   

মন্তব্য


অন্যান্য