মন্তব্য

বিশেষ মন্তব্য

এতকিছুর পরও সেবা সংস্থাগুলো চিন্তিত নয়

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

এতকিছুর পরও সেবা সংস্থাগুলো চিন্তিত নয়

  অধ্যাপক নজরুল ইসলাম

নগরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার, এমনকি সেবা সংস্থাগুলোও খুব একটা চিন্তিত নয়। সেটা যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রেই হোক অথবা পরিবেশ-স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেই হোক। সবকিছুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা হালকাভাবে নেন। তাদের কেমন যেন গা-ছাড়া ভাব। এই গা-ছাড়া ভাব থাকার কারণ হলো, তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। এ কারণে কত বড় ক্ষতি যে হতে পারে, নিমতলীর পর চকবাজার তার প্রমাণ। সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকেও যে চাপ দেওয়ার বিষয়, সেটাও দেওয়া হয় না। ছাত্ররা মাঝে মধ্যে আন্দোলন করে। তবে সাধারণ মানুষ ওইভাবে দাবি জানাতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের সেবা সংস্থাগুলোর কর্তাব্যক্তিরা দুর্নীতিগ্রস্ত থাকেন। পয়সা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে নিম্ন শ্রেণির কর্মচারীরাও দুর্নীতিগ্রস্ত থাকেন। ফলে ওপর থেকে নিম্নপর্যায়ের কর্মচারীদের জবাবদিহিও ঠিকমতো হয় না। কেউ কারও কথা শোনেন না। সিটি করপোরেশন, রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর যে প্রতিষ্ঠানই বলি না কেন, সবাই প্রায় একই চরিত্রের।

তাদের বললে তারা বলেন জনবলের অভাব। যে জনবল আছে, সেটা দিয়েও যে সেবা দেওয়া সম্ভব, তারা সেটাও দেন না। তারা বেশি আগ্রহী থাকেন কাজের চেয়ে দুর্নীতির দিকে। যে কাজ এমনিতেই হওয়ার  কথা, সেটা দেখা যায় না। আবার টাকা দিলেই কাজ হয়ে যায়। এ রকম অবস্থা চলছেই।

এ ছাড়া সুশাসন ও নেতৃত্বের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। তবে দেখা যায়, আমাদের কর্তাব্যক্তিরা এমনকি মন্ত্রীও যে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন। এখানে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকার তো প্রয়োজন নেই। নিমতলীর ঘটনার পর অনেক কমিটি গঠিত হলো। কিছু সুপারিশও এসেছিল। সে সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত কেন হয়নি। তখন বলা হয়েছিল স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া একটি মহাপরিকল্পনা করতে হবে। সে মহাপরিকল্পনাও এতদিনে করতে পারেনি আমাদের সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে দাহ্য পদার্থের গোডাউনগুলো সরানোর যে সুপারিশ ছিল, সেটা এতদিনে বাস্তবায়িত হলো না কেন। পরিকল্পনা করেও সেটা বাস্তবায়িত হয় না। আর মহাপরিকল্পনা কবে হবে এবং সেটা কবে বাস্তবায়ন হবে- সেটাই এখন বিষয়। যখন একটি কারখানা গড়ে ওঠে, শুরুতে বাধা দিলে প্রতিরোধ করা সহজ হয়ে যায়। একবার যখন হয়ে যায় তখন সরানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। একের পর এক নদী দখল হচ্ছে। যখন দখল হয়েছিল, তখন বাধা দিলে এত নদী দখলকারী সৃষ্টি হতো না। বাধা না দেওয়ার কারণেই এখন দখলদারদের উচ্ছেদ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে আশপাশের প্রশস্ত রাস্তা ছিল। খুব সহজেই সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছতে পেরেছে। পরিকল্পিত ভবনের কারণে দ্রুতই রোগীদের বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। অথচ পুরান ঢাকায় এটা সম্ভব নয়। পুরান ঢাকাকে জরুরি ভিত্তিতে রিডেভেলপ করতে হবে। পুরো এলাকা এক ধাপে সম্ভব না হলে ধীরে ধীরে এলাকাভিত্তিক রিডেভেলপ করতে হবে। সিঙ্গাপুরে এভাবে রিডেভেলপ করা হয়েছে। কাজটি কঠিন হলেও করতে হবে।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রতিষ্ঠাতা নগর গবেষণা কেন্দ্র

মন্তব্য


অন্যান্য