মন্তব্য

‘আমরা যেন আরেকটা ট্র্যাজেডির জন্য অপেক্ষা করছিলাম’

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

‘আমরা যেন আরেকটা ট্র্যাজেডির জন্য অপেক্ষা করছিলাম’

  অনলাইন ডেস্ক

আবারও আগুনে পুড়ে মানুষের প্রাণহানি। আবারও রাসায়নিক কারখানা থেকে ছড়িয়ে যাওয়া আগুনের শিখা। বুধবার রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় একটি ভবনে আগুন। ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক কারখানা থাকায় দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের চারটি ভবনে। এতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা বাড়তে পারে। পুরান ঢাকায় রাসায়নিক কারখানা, এত মানুষের প্রাণহানি এবং করণীয় প্রসঙ্গে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন

বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কথা হচ্ছে। পুরান ঢাকার ভবনগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা লাগানো। ভূমিকম্প হলে এখানে আগুন লাগলে কোনভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে –এটাও গবেষণায় বলা হয়েছে। তারপরও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

একটা আবাসিক এলাকায় কখনোই রাসায়নিক কারখানা থাকতে পারে না। ২০১০ সালের নিমতলী ট্র্যাজেডির পর এগুলো সরানোর ব্যাপারে একটা তৎপরতা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা কমে গেছে। মনে হয়, আমরা যেন আরেকটা ট্র্যাজেডির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

এটার জন্য শুধু সরকারকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে বারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওখানকার ব্যবসায়ী, স্থানীয়রা জায়গা ছেড়ে যেতে চাননি। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় থাকার কারণে জায়গার মায়া তারা ছাড়তে চাননি। আজকের এই ঘটনার জন্য এলাকাবাসীর অসচেতনতাও দায়ী। সরকার হয়তো নির্দেশ দিয়েছে কিন্তু সেটা কার্যকর করার জন্য নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের তৎপরতায় ঘাটতি ছিল। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নির্দেশ থাকলেও এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রচারমাধ্যমের উচিত ছিল বিষয়টার ফলোআপ রাখা।

রাসায়নিক কারখানাগুলো সরানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা ছিল। সরকার এগুলো কেরানীগঞ্জ এবং জিঞ্জিরাতে সরানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু নিমতলী ট্রাজেডির ৮ বছর পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আর অপেক্ষা করার সময় নেই। নিমতলী এবং চকবাজারের মতো ঘটনা যেন বারবার না ঘটে এজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাসায়নিক কারখানাগুলো পুরান ঢাকা থেকে সরানোর উদ্যোগ নিতে হবে। 

মন্তব্য


অন্যান্য