মন্তব্য

'প্রাণের টানেই বইমেলায় ছুটে যাই '

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

'প্রাণের টানেই বইমেলায় ছুটে যাই '

  অনলাইন ডেস্ক

ছোটদের জন্যই লিখেন তিনি। মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। কলকাতা থেকেও প্রকাশিত হয়েছে তার বই। এবারের বইমেলার আয়োজন, নিজের প্রকাশিত বই এবং বইমেলা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা সমকাল অনলাইনকে জানিয়েছেন শিশুসাহিত্যিক আশিক মুস্তাফা 

টেলিভিশন, অনলাইন কিংবা পত্রিকা পড়ে বইমেলাকে যারা বিচার করেন; তাদের বলবো, মেলায় এসে একবার ঘুরে যান; আপনার ধারণা বদলে যাবে। মানুষের বই কেনা দেখে আপনিও স্মৃতি হাতড়ে প্রিয় লেখকের নাম মনে করতে থাকবেন। পছন্দের স্টলে গিয়ে বই খুঁজতে থাকবেন নিজের অজান্তেই। ছোটদের কর্ণারে গিয়ে পাবেন অন্যরকম প্রশান্তি। 

মেলায় আমার তিনটি বই এসেছে শিশু গ্রন্থ কুটির ও বাংলা প্রকাশ থেকে। 'হাতির শুঁড়ে বৃষ্টি নামে' এই বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ। আর 'আঙুলেরা পাঁচ বোন' ও 'বৃষ্টিবু' এই বই দুটি প্রকাশ করেছে শিশু গ্রন্থ কুটির। 

ছোটরা আগে বড়দের কাছে গল্প শুনে নিজেদের কল্পনার জগৎ সাজাতো। এখন বড়দের ব্যস্ততার কারণে সেই সুযোগ তারা কমই পায়। আমরা ছোটদের দিকেই আঙুল তুলে বলি, তারা অনলাইনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমি সেটা মনে করি না। তাদের হাতে বই তুলে দিলে তবেই না তারা বই ভালবাসবে ,কল্পনার জগৎ তৈরি করতে পারবে।

এখনকার বাবা-মায়েদের অনেকেই তাদের ছোটবেলায় ওই বয়সীদের উপযোগী বই পেতেন না। সেই তুলনায় ছোটদের জন্য এখন প্রচুর বয়সভিত্তিক বই বের হচ্ছে। যারা এখনও পড়তে শিখেনি তাদের জন্যও বের হচ্ছে ছবির বই। 

ফরাসী লেখক একজুপেরির ভাষায়, বাগানের হাজারো গোলাপের চেয়ে নিজের পোষা গোলাপ অনেক বেশি কাছে টানে। আমার কাছেও বইমেলা অনেকটা পোষ মানানো গোলাপ গাছের মতো। প্রতিনিয়তই যে আয় আয় বলে ডাকে। বইমেলায় না গেলে আমার ভালো লাগে না। তাই অনিয়মিত হলেও প্রাণের টানে বইমেলায় ছুটে যাই। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার শিশু প্রহরে আমার যেতে ভাল লাগে।

ছোটরা বই নিয়ে স্টলেই পড়া শুরু করে। যেকোন লেখকের জন্য এটিই জগতের সবচেয়ে পবিত্রতম দৃশ্য। এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বইমেলায় যাওয়া সুযোগ হয়েছে। কিন্তু কোনটাই আমাদের বইমেলার মতো এতটা উৎসবমুখর মনে হয়নি।

বইমেলাকে ঘিরে যতো আয়োজন সবই বড়দের জন্য। আমার মতে, এখানে ছোটদের জন্যও আলাদা মঞ্চ করা উচিত। যেখানে লেখকরা আসবেন, ছোটদের সামনে বসে তাদের গল্প শোনাবেন। ছোটরা প্রিয় লেখকের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আলতো করে তাদের ছুঁয়ে দেখবে। আশা করছি, মেলা কর্তৃপক্ষ আগামীতে এ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেবেন। 


মন্তব্য


অন্যান্য